Software। Tutorial। App Reviews। Help । Post । Technology & BD124.com https://bd124.com/rss/author/ohidul Software। Tutorial। App Reviews। Help । Post । Technology & BD124.com bd Copyright © 2022 i&Tech Bangla & All Rights Reserved. 15 August Poster Design PLP And PSD | 15 আগস্ট পোস্টার ডিজাইন PLP এবং PSD | https://bd124.com/post-211 https://bd124.com/post-211 15 আগস্ট শোক দিবসের পোস্টার ডিজাইন টেমপ্লেট বিনামূল্যে Plp ফাইল PixelLab মোবাইল অ্যাপের জন্য ডাউনলোড করুন। পিক্সেল্যাবের জন্য শোক দিবসের Plp ফাইল অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিনামূল্যে ডাউনলোড করুন।


আপনি যদি আপনার মোবাইলে 15 আগস্ট শোক দিবসের পোস্টার ডিজাইন করতে চান তবে আপনি এখান থেকে এই বিনামূল্যের পিক্সেল্যাব পিএলপি প্রকল্প ফাইলটি ডাউনলোড করতে পারেন। এই পিএলপি ফাইলটি পিক্সেল্যাব অ্যাপ ব্যবহার করে। এই নকশাটি রাজনৈতিক ব্যক্তির জন্য 15 আগস্ট শোক দিবসের জন্য তৈরি করে৷ আপনি এই PLP ফাইলটি আপনার ব্যক্তিগত প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করতে পারেন৷ এটি সকলের জন্য ডাউনলোড করা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে৷ PixelLab-এর জন্য বিনামূল্যে plp ফাইল ডাউনলোড করুন। Plp ফাইল বিনামূল্যে ডাউনলোড এবং সম্পূর্ণরূপে কাস্টমাইজযোগ্য.


15 আগস্ট পোস্টার ডিজাইন PLP এবং PSD | বিনামূল্যে ডাউনলোড |

ফাইলগুলো একইসাথে মোবাইল এবং কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর সাহায্যে এডিট করে। অনলাইনে পোস্ট করতে পারেন। কিভাবে এডিট করবেন । কিভাবে ফটোশপের সাহায্যে কম্পিউটার দিয়ে। পিক্সেল অ্যাপসের সাহায্যে মোবাইল দিয়ে। এডিট করবেন, এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিডিও এখানে রয়েছে। চাইলে দেখে নিতে পারেন।


15 ই আগস্ট শোক দিবস পোস্টার ডিজাইন ডাউনলোড |

দুই মিনিটেই একটা পোস্টার ডিজাইন করে ফেলতে পারবেন |  শুধু আপনার হাতে থাকা স্মার্ট ফোনের সাহায্যে | কিংবা ল্যাপটপ এর সাহায্যে ,ডিজাইন করে ফেলতে পারেন | ডিজাইনগুলো করা রয়েছে | শুধু আপনার নাম এবং ইমেজ বা ফটো রিপ্লেস করে। ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করতে পারেন।

15 ই আগস্ট এর ইতিহাস।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একদল সদস্য সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডি ৩২-এর বাসভবনে সপরিবারে হত্যা করে। পরে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক আহমেদ অঘোষিতভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হন।


15 আগস্ট শোক দিবস পোস্টার ডিজাইন।

এখানে যতগুলো পোস্টার ডিজাইন করা আছে পোস্টাল গুলো ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন সুযোগ-সুবিধা বা ডিজাইনের প্রিভিউ উল্লেখ করা হলো।


01 শোক দিবস পোস্টার ডিজাইন

02 শোক দিবস পোস্টার ডিজাইন

03 শোক দিবস পোস্টার ডিজাইন

04 শোক দিবস পোস্টার ডিজাইন

05 শোক দিবস পোস্টার ডিজাইন

]]>
Sat, 13 Aug 2022 19:02:24 +0600 BD124.com
Adobe Photoshop 7.0 Free Download Windows 10/11 https://bd124.com/post-210 https://bd124.com/post-210 পিসির জন্য Adobe Photoshop 7.0 Free Download Windows 10,7,8 (32/64bits) আপনার ছবি বা নথি সম্পাদনার জন্য তীক্ষ্ণ বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে। এটি সংগঠিত করার জন্য একটি ফাইল ব্রাউজার উইন্ডো ব্যবহার করে এবং চিত্রগুলির ধরন এবং র‍্যাঙ্ক সনাক্ত করে৷ দ্রুত টুল ব্যবহার করার সময় খুব দ্রুত স্কেচ, লাইন এবং শেড আঁকুন। ছবি লোড করা এবং খুব দ্রুত সম্পাদনা করার জন্য গ্রাফিক এডিটরদের পাশাপাশি অ্যাডোব ব্যবহারকারীদের জন্য একটি পছন্দনীয় সংস্করণ।

Adobe Photoshop 7.0 এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি সহজে সম্পাদনা করার জন্য:

অটো কালার কারেকশন এবং লেয়ার- এই ফিচারটি পুরো ইমেজ থেকে ব্যবহার করে আপনি কালার কাস্ট থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তাছাড়া, এর কাস্টম ওয়ার্কস্পেস আপনাকে আপনার প্রকল্পগুলিকে সহজেই কাস্টমাইজ করতে এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পগুলি করতে আপনার সময় বাঁচাতে দেয়। আপনার ইমেজ জুড়ে, আপনি স্তরগুলিও ব্যবহার করতে পারেন।

স্তরগুলি ব্যবহার করে, ব্যবহারকারীরা তাদের প্রকল্পে যে কোনও কিছু পরিবর্তন করতে পারে এবং সাধারণত এই স্তরগুলির মধ্যে একটি স্পেড এবং সান ব্রাশ ব্যবহার করা হয়। আপনি ব্রাশের একটি অ্যারে ইনস্টল করতে পারেন। এমন অনেক স্টোর রয়েছে যেখানে ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে এবং অর্থপ্রদানকারী উভয় ব্রাশ ইনস্টল করতে পারেন।

পেইন্ট ইঞ্জিন- এটি আপনাকে আকর্ষণীয়ভাবে নতুন পেইন্টব্রাশ তৈরি এবং ডিজাইন করতে দেবে। ক্রপ অপশন টুল আপনাকে লেআউটে প্রজেক্ট এডিট করতে দেবে। উপরন্তু, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার উদ্দেশ্যে পাসওয়ার্ড প্রয়োগ করুন; তাই Acrobat 5.0 নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করুন।

কিভাবে এডোবি ফটোশপ 7.0 ডাউনলোড করব।

অ্যাডবি ফটোশপ,একটি পেইড সফটওয়্যার। আপনাকে টাকা দিয়ে কিনে, সফটওয়্যার টি ব্যবহার করতে হবে। আর আপনি য,দি বিনামূল্যে পুরাতন ভার্সন টি ব্যবহার করতে চান । তাহলে নিচের লিংক থেকে এটি ডাউনলোড সংগ্রহ করে নিবেন। এটার ভিতর একটা সিরিয়াল নাম্বার দিয়ে ভেরিফাই করতে হয় ।সিরিয়াল নাম্বারটি ভিতরে দেওয়া রয়েছে। (এডোবি ফটোশপ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক)

এডোবি ফটোশপ কিভাবে ইন্সটল করা হয়।

এডোবি ফটোশপ 7.0 যেহেতু একটি পুরাতন সফটওয়্যার । সফটওয়্যার টি ডাউনলোড করে, নিজের কম্পিউটারে নিয়ে আনজিপ করে নিতে হবে। কারণ জিপ আকারে,এই সফটওয়্যার টি ডাউনলোড করতে হবে । আনজিপ করার পরে, সফটওয়্যার ভিতরে প্রবেশ করতে হবে। এখানে সেট আপ নামে, একটি ফাইল থাকে, ডাবল ক্লিক করে ওপেন করে নেবেন। কোন সমস্যা হলে ভিডিওটি অনুসরণ করতে পারেন। Video Tutorial Link

এডোবি ফটোশপ ডাউনলোড করতে সমস্যা হলে।

আমাদের ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই অ্যাডবি ফটোশপ এক ক্লিকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। যদি ডাউনলোড করতে সমস্যা হয়, তাহলে একটা ভিপিএন কানেক্ট করে, পেজটি ভিজিট করে ডাউনলোড করে নিবেন।

Adobe Photoshop 7.0 Technical Setup Details:

Here given some really important technological setup details help you know everything about this software and you can experience before using Adobe Photoshop 7.

  • Setup File Title: Adobe Photoshop 7.0
  • Setup File Title: Adobe_Photoshop_7_0_zip
  • Full Setup Size: 160 MB.
  • Setup Installing Type: An Offline Installer and Standalone File.
  • Compatibility Architecture: x86 (32-Bit) & x64 (64-Bit).
  • Software License: Free Trial.
  • Software Developers: Adobe

Adobe Photoshop 7.0 System Requirements:

Before you start downloading Adobe Photoshop 7.0, you have to be sure that your computer has the least system requirements that are given herewith.

  • Operating System (OS): Windows 7, 8, 8.1, 10, Vista, XP SP3 for 32-Bit &7, 8, 8.1, 10 for 64-Bit.
  • Memory (RAM): RAM needed 1.00 GB.
  • Hard Disk Space (HDD/SSD): Free space needed 300 MB.
  • Processor (CPU): N/A.

Download Now 

]]>
Fri, 12 Aug 2022 13:13:54 +0600 BD124.com
bijoy 52 free download 2022 https://bd124.com/Bijoy 52 Free Download https://bd124.com/Bijoy 52 Free Download বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন, আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি bd124.com । আসুন আমরা জেনে নেই, কিভাবে বিজয় বায়ান্ন সফটওয়্যার ডাউনলোড করব। 


বিজয় বায়ান্ন কি? কাজ করা হয়।

বিজয় 52 একটি বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার। ওয়ার্ড এক্সেল পাওয়ারপয়েন্টে বা বিজয় 52 সহ যেকোনো প্রোগ্রামে বাংলা টাইপ করুন। বিজয়ের সাথে বাংলা টাইপ করার জন্য SutonnyMJ একটি জনপ্রিয় ফন্ট। ক্লাসিক বাংলা টাইপিংয়ের জন্য ctrl+alt+b ব্যবহার করুন। এছাড়াও বিজয় 52 ইউনিকোড বাংলা বাইপিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে। নিকোশ ফন্ট হল ইউনিকোড টাইপিংয়ের জন্য জনপ্রিয় ফন্ট। ctrl+alt+v ইউনিকোড টাইপিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। বিজয় 52 ডাউনলোড করুন এবং পিসিতে ইনস্টল করুন এবং এটি বিনামূল্যে। এই সফ্টওয়্যারটি অ্যাক্টিভেশন কী সহ নতুন বিজয় 52 সংস্করণ। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্যও বিজয় বাংলা টাইপিং অ্যাপ ডাউনলোড করুন।


বিজয় বায়ান্ন কম্পিউটার টাইপিং সফটওয়্যার।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি জগতের কিংবদন্তী, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোস্তাফা জব্বার ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য পরিচিত হলেও তাঁর কর্মকাণ্ড কেবল এই জগতেই সীমিত নয় । তিনি নিজগ্রামসহ দেশব্যাপী সাধারণ শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপারেও অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর মাইলফলক কাজের মাঝে রয়েছে কম্পিউটারে বাংলা ভাষার প্রয়োগ, প্রচলন ও বিকাশের যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করা, শিক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার।

তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - এর লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয়ী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির একজন সৈনিক হিসেবে কাজ করে তিনি অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির ও সাধারণ বিষয়ের ওপর অনেকগুলো বইয়ের লেখক, কলামিস্ট ও সমাজকর্মী জনাব মোস্তাফা জব্বার এরই মাঝে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেকগুলো পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।


“বিজয়” সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাংলা টাইপ।

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এ বাংলা টাইপ করার জন্য বিজয় সফটওয়্যার টি আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল থাকতে হবে। ইন্টারনেট থেকে বিজয় সফটওয়্যার টি খুব সহজেই ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে পারেন  । ডাউনলোড করার জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে হবে। এটা একটা পেইড সফটওয়্যার, টাকা দিয়ে কিনে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।


বাংলা টাইপিং করার পদ্ধতি। 

ল্যাপটপ বা দেক্সটপ কম্পিউটারে খুব সহজে, বাংলা টাইপ করতে পারেন। আশা করি আপনি আপনার কম্পিউটারে, বিজয় সফটওয়্যার টি ইন্সটল করে নিয়েছেন। বিজয় সফটওয়্যার মাধ্যমে,ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার কিংবা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম বা অ্যান্ড্রয়েড এর মাধ্যমে। খুব সহজে বাংলা টাইপ করতে পারেন।


ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে বাংলা টাইপ করার শর্টকাট।

বিজয়ে মূলত তিন ধরনের টাইপিং মোড রয়েছে। টুলবারের ড্রপডাউন লিস্ট থেকে বিভিন্ন মোড সিলেক্ট করা যায়। আবার কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করেও টাইপিং মোড পরিবর্তন করা যায়।

English: ইংরেজিতে টাইপ করতে হলে এ মোড ব্যবহৃত হয়। এটি বিজয়ের ডিফল্ট মোড।

Bijoy Classic: এ মোডে এনসি (ANSI) এনকোডিং ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও ইংরেজি/ল্যাটিন বর্ণ ও চিহ্ন টাইপ হয়। উপযুক্ত ফন্ট ব্যবহার করলে ঐ চিহ্নগুলো বাংলা বর্ণ, যুক্তবর্ণ ও অন্যান্য চিহ্নের আকারে দেখায়। অন্য মোড থেকে Bijoy Classic মোডে যেতে হলে Ctrl + Alt + B কি’গুলো একসাথে চাপতে হবে। Bijoy Classic মোডে থাকা অবস্থায় পুনরায় Ctrl + Alt + B কি’ত্রয় একসাথে চাপলে English মোডে চলে যাবে।

Unicode: এ মোডে ইউনিকোড এনকোডিং ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সরাসরি বাংলায় টাইপ হয়। এবং ইউনিকোড সাপোর্টেড বাংলা ফন্ট ব্যবহার করে বর্ণের ধরন (Style) পরিবর্তন করা যায়। অন্য মোড থেকে Unicode মোডে যেতে হলে Ctrl + Alt + V কি’গুলো একসাথে চাপতে হবে। Unicode মোডে থাকা অবস্থায় পুনরায় Ctrl + Alt + V কি’ত্রয় একসাথে চাপলে English মোডে চলে যাবে।


বিজয় বায়ান্ন শর্টকাট বা বর্ণমালা টাইপিং।

বিজয় সফটওয়্যার এর কিছু শর্টকাট ব্যবহার করে। আপনি খুব সহজেই কম্পিউটারে বাংলা টাইপ করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে অনেক কিবোর্ড পাওয়া যায়, বাংলা লেখা যুক্ত যদি, বাংলা লেখা যুক্ত কিবোর্ড ব্যবহার করেন। তাহলে কিবোর্ড থেকেই,আপনি দেখে নিতে পারবেন। কিভাবে বাংলা বর্ণমালা অর্থাৎ যুক্তবর্ণ অক্ষর টাইপ করতে হয়।


বিজয় সফটওয়ারের হিডেন যুক্তবর্ণ অক্ষর।

আপনি হয়তো বা জানেন বিজয় সফটওয়্যার এর কিছু যুক্তবর্ণ অক্ষর হিডেন করা থাকে। যেগুলো সাধারণ কিবোর্ডে দেখা যায় না । অর্থাৎ যুক্ত করে বর্ণমালা গুলো উঠাতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনেকে জানিনা যদি না। জেনে থাকেন তাহলে আপনি আমার। এই পোস্টটি দেখতে পারেনএই ভিডিওটি দেখতে পারেন। খুব সহজেই যেকোনো জায়গায় বাংলা শুদ্ধভাবে লিখতে পারবেন । সম্পূর্ণ বর্ণমালা অক্ষর গুলো মুখস্ত করতে পারবেন।


]]>
Thu, 11 Aug 2022 19:24:37 +0600 BD124.com
মানুষ কিভাবে সৃষ্টি https://bd124.com/post-207 https://bd124.com/post-207

ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি মানুষের উৎপত্তি নিয়ে অদ্ভুত এবং অবৈজ্ঞানিক তথ্য। আমাদের পূর্বপুরুষ,নাকি বানর তথা শিম্পাঞ্জি ছিল সেখান থেকেই মানুষের উৎপত্তি। আমার কথা হল আমরা যদি বানর কিংবা শিম্পাঞ্জি থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকি। বানর কেন পৃথিবীতে এখনো বানর রয়ে গেল অর্থাৎ তারা এখনো কেন মানুষ হয়নি। এখনো শিম্পাঞ্জি কেন, শিম্পাঞ্জি রয়েই গেলো। অর্থাত্ মানুষ কেন হতে পারিনি?


আসুন এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য জেনে নিন । মানুষ কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে,মানুষ পৃথিবীতে কিভাবে আসছে। এ ব্যাপারে বিজ্ঞান কি বলে। 


আধুনিক বিজ্ঞান মানবদেহের ব্যাপারে কি বলে।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে ‘মানব ক্লোন’। এই ক্লোন পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দিতে গেলে পুরুষের জীব কোষের প্রয়োজন। অর্থাৎ একজন পুরুষের জীব কোষ বা শুক্রাণু ব্যতীত একজন নারী সন্তান জন্ম দানে অক্ষম। কেননা নারীর ডিম্বাণু ক্রমোজম (XX) ও পুরুষের শুক্রাণু ক্রমোজম (XY) পুত্র-কন্যা সন্তান গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

সৃষ্টি–বিবর্তন বিতর্ক, মানবতা, ও অন্যান্য জীবের উৎপত্তি সম্পর্কিত একটি চলমান, পুনরাবৃত্তিমূলক সাংস্কৃতিক, ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্ক। খ্রিস্টান বিশ্বে সৃষ্টিবাদকে একসময় বিশাল পরিসরে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করা হত। কিন্তু ১৯ শতকের মাঝামাঝি  সময় থেকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন একটি পরীক্ষিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তবে পৃথিবীতে বিবর্তন তত্ত্বের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমশঃ হ্রাস পাচ্ছে এবং স্কুলে বিবর্তন পড়ানো কমছে।

অষ্টাদশ শতকে ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় সৃষ্টি–বিবর্তন বিতর্ক শুরু হয়, যখন ভূতাত্ত্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো প্রাচীন পৃথিবী সংক্রান্ত বিভিন্ন নতুন ব্যাখ্যা সামনে নিয়ে আসা শুরু করে, এবং বিভিন্ন ফসিল জিওলজিকাল সিকোয়েন্সের সাহায্যে প্রাপ্ত বিলুপ্ত প্রজাতিসমূহ বিবর্তনের প্রাথমিক ধারণাগুলো যেমন ল্যামার্কিজমের জন্ম দেয়।


ডারউইনের মতবাদ।

উনিশ শতকের শেষের দিকে সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে পরিবর্তনের মাধ্যমে সকল জীবের আবির্ভাব ঘটে - এই মৌলিক বিবর্তনীয় মতবাদের কোন গুরুতর বৈজ্ঞানিক বিরোধিতা ছিল না। ১৮৫৯ সালে ডারউইনের অন দ্য অরিজিন অফ স্পিসিজ এর প্রকাশ বিবর্তনের উপর বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দেয়, এবং এটাকে একটি সম্মানিত শিক্ষার বিষয়ে পরিণত করে।

যদিও ডারউইনের বইতে কোন রকম ধর্মীয় ব্যাপারে কথা ছিল না, এরপরও এসেস এন্ড রিভিউজ (১৮৬০) গ্রন্থের উচ্চতর সমালোচনা নিয়ে যে ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্কের সূচনা হয় তা খুব ভালভাবেই চার্চ অফ ইংল্যান্ডের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সসক্ষম হয়। সেই রচনার কোন কোন উদারপন্থী লেখক ডারউইনের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন, অনেক ননকনফরমিস্টও ডারউইনকে সমর্থন করেন, যেমন রেভারেন্ড চার্ল কিংগসলে এই ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন যে, ঈশ্বর বিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টির সব জীবকে তৈরি করেছেন।

পরবর্তীতে গ্রে যুক্তরাষ্ট্রে ডারউইনের অন্যতম সমর্থকে পরিণত হন, এবং তার অনেক রচনাকে সংগ্রহ করে একটি প্রভাবশালী গ্রন্থ তৈরি করেন, যার নাম ছিল ডারউইনিয়ানা (১৮৭৬)। এ এই রচনাগুলোতে ডারউইনীয় বিবর্তন এবং আস্তিক্যবাদী মতবাদসমূহের মধ্যকার মীমাংসা নিয়ে কিছু যুক্তিপূর্ণ লেখালেখি ছিল। আর এটা সেইসময়কার ঘটনা যখন দুই পক্ষেরই অনেক ব্যক্তি এই দুটো বিষয়কে পরষ্পর স্বতন্ত্র বলে মনে করতেন।


প্রাকৃতিক নির্বাচন।

চার্লস ডারউইনের প্রায় এক হাজার বছর আগে ইরাকে একজন মুসলিম দার্শনিক ছিলেন যিনি প্রাকৃতিক নিয়মে প্রাণীকুলের মধ্যে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে তার উপর একটি বই লিখেছিলেন। এই দার্শনিকের নাম ছিল আল-জাহিজ। যে পদ্ধতিতে এই পরিবর্তন ঘটে তিনি তার নাম দিয়েছিলেন প্রাকৃতিক নির্বাচন।

তার আসল নাম ছিল আবু উসমান আমর বাহার আলকানানি আল-বাসরি, তবে ইতিহাসে তিনি আল জাহিজ নামেই বেশি পরিচিত। তার এই নামের অর্থ এমন একজন ব্যক্তি যার চোখের মণি বেরিয়ে আসছে। আধুনিক বিজ্ঞানের যতগুলো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার তার অন্যতম ব্রিটিশ বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের তত্ত্ব।

এরকম অর্থের কারণে কাউকে এই নামে ডাকা হয়তো শোভন নয়, কিন্তু এই আল-জাহিজ নামটিই বিখ্যাত হয়ে আছে তারই লেখা প্রজনন সংক্রান্ত একটি বই-এর কারণে। গ্রন্থটির নাম কিতাব আল-হায়ওয়ান অর্থাৎ প্রাণীদের বিষয়ে বই।

তার জন্ম হয়েছিল ৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে, দক্ষিণ ইরাকের বাসরা শহরে, মুতাজিলাহ আন্দোলনের সময়। এসময় ধর্মতাত্ত্বিক কিছু মতবাদ জনপ্রিয় হচ্ছিল যেখানে মানুষের যুক্তির চর্চার উপর জোর দেওয়া হচ্ছিল। তখন ছিল আব্বাসীয় খেলাফত বা শাসনের চরম সময়। সেসময় জ্ঞান বিজ্ঞানের অনেক বই গ্রিক ভাষা থেকে আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হতো। জোরালো বিতর্ক হতো ধর্ম, বিজ্ঞান এবং দর্শন বিষয়ে। এসবের কেন্দ্র ছিল বাসরা শহর। এসব আলোচনা থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল আল-জাহিজের চিন্তাধারা।

চীনা বনিকেরা ততদিনে ইরাকে কাগজের ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন তত্ত্ব লিখিত আকারে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলো। তরুণ আল-জাহিজ তখন নানা বিষয়ে লেখালেখি করতে শুরু করেন। যেসব বিষয়ে তার খুব বেশি আগ্রহী ছিল সেগুলোর মধ্যে ছিল বিজ্ঞান, ভূগোল, দর্শন, আরবি ব্যাকরণ এবং সাহিত্য। ধারণা করা হয় তার জীবদ্দশাতেই তিনি দুশোর মতো বই প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তার মাত্র এক তৃতীয়াংশ এই আধুনিক কাল পর্যন্তও টিকে রয়েছে।


দ্য বুক অফ অ্যানিমেলস।

তার বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে দ্যা বুক অফ অ্যানিমেলস বা প্রাণী বিষয়ক বইটি। এটি একটি এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো যাতে সাড়ে তিনশো প্রাণীর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এই বইটিতে তিনি এমন কিছু ধারণা তুলে ধরেছেন যার সাথে আধুনিক কালের বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদে তত্ত্বের চমকপ্রদ অনেক মিল পাওয়া যায়।

আল-জাহিজ তার বইতে লিখেছেন, "টিকে থাকার জন্যে প্রাণীদেরকে লড়াই করতে হয়। লড়াই করতে হয় তাদের খাদ্যের জন্যেও, এবং তারা নিজেরাই যাতে অপরের খাদ্য না হয়ে যায় সেটা নিশ্চিত করার জন্যে। এমনকি, প্রজননের জন্যেও তাদেরকে সংগ্রাম করতে হয়।" নিজেদের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে গিয়ে পরিবেশের নানা কারণে প্রাণীরা নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং এভাবেই তারা নতুন নতুন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়।"

তিনি আরো লিখেছেন, "যেসব প্রাণী প্রজনন ঘটাতে টিকে থাকতে পারে তারা তাদের সফল বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে পারে।" আল-জাহিজের কাছে এটা অত্যন্ত পরিষ্কার ছিল যে এসব প্রাণীকুলকে টিকে থাকার জন্যে অনবরত সংগ্রাম করতে হয়। এবং একটি প্রজাতি সবসময়ই আরেকটি প্রজাতির চেয়ে শক্তিশালী।

টিকে থাকার জন্যে খাবার সংগ্রহের লড়াই-এ প্রাণীদের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়। অন্যের খাবার হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং সন্তান জন্মদান করতেও তাদের সংগ্রাম করতে হয়। এসব কারণে তারা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে রূপান্তর ঘটাতে বাধ্য হয়।

আল-জাহিজের এসব ধারণা তার পরবর্তী অন্যান্য মুসলিম চিন্তাবিদদেরকেও প্রভাবিত করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আল-ফারাবি, আল-আরাবি, আল বিরুনী এবং ইবনে খালদুন। পাকিস্তানের 'আধ্যাত্মিক পিতা' মোহাম্মদ ইকবাল, যিনি আল্লামা ইকবাল নামেই অনেক বেশি পরিচিত তিনিও আল জাহিজের এসব তত্ত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। ১৯৩০ সালে প্রকাশিত তার বক্তব্যের একটি সঙ্কলনে তিনি বলেছিলেন, "আল-জাহিজ দেখিয়ে দিয়েছেন অভিবাসন এবং পরিবেশে পরিবর্তনের কারণে প্রাণীদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে।"


'মোহাম্মদীয় তত্ত্ব'

বিবর্তনবাদের ধারণায় মুসলিম বিশ্বের অবদান বিংশ শতাব্দীর ইউরোপীয় পণ্ডিতদের কাছে গোপনীয় কোন বিষয় নয়। এমনকি, চার্লস ডারউইনের একজন সমসাময়িক বিজ্ঞানী উইলিয়াম ড্রেপার ১৮৭৮ সালে "বিবর্তনবাদের মোহাম্মদীয় তত্ত্ব" নিয়ে কথা বলেছিলেন। তবে যাই হোক, চার্লস ডারউইন মুসলিম বিজ্ঞানী আল-জাহিজের চিন্তাধারা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন কিনা কিম্বা তিনি আরবি বুঝতেন কিনা তার পক্ষে কোন তথ্য প্রমাণ নেই।

ব্রিটিশ এই বিজ্ঞানী প্রকৃতি ও পরিবেশের উপর বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে বিবর্তনবাদের তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছেন যেখানে প্রাণীর টিকে থাকার সংগ্রামের কথা বিশদ ও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 


ক্রিয়েশনিজম।

তিনি আরো বলেন, দশম শতাব্দীর ইরাকে, যখন বাসরা ও বাগদাদ ইসলামিক সভ্যতা ও শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তখনও ক্রিয়েশনিজমের ধারণা খুব একটা জোরালো ছিল না। ক্রিয়েশনিজম হচ্ছে এমন এক ধর্মীয় বিশ্বাস যাতে মনে করা হয় "ঐশ্বরিক কোন ঘটনা থেকে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ও প্রাণের সৃষ্টি" হয়েছিল যা প্রকৃতির বিবর্তনবাদের ধারণার বিরোধী।

এহসান মাসুদ ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে লিখেছেন, "বিজ্ঞানীরা তখন নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করার লক্ষ্যে বাইরে বের হয়ে পড়তেন।"এই জ্ঞানের অন্বেষণ করতে গিয়েই মুসলিম দার্শনিক আল-জাহিজের মৃত্যু হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে যে ৯২ বছর বয়সী আল-জাহিজ যখন একটি আলমারি থেকে বই নামাতে গিয়েছিলেন তখন আলমারিটি তার গায়ের ওপরে পড়ে গেলে তিনি মারা গিয়েছিলেন।

মানব বিবর্তন ।

মানব বিবর্তন বা মানুষের উৎপত্তি বলতে বিবর্তন এর মাধ্যমে অন্যান্য হোমিনিড থেকে একটি আলাদা প্রজাতি হিসেবে হোমো স্যাপিয়েন্স-দের উদ্ভবকে বোঝায়। এই বিষয়টি নিয়ে অধ্যয়ন করতে হলে বিজ্ঞানের অনেক শাখার সাহায্য নিতে হয়, যেমন: নৃবিজ্ঞান, প্রাইমেটবিজ্ঞান, জীবাশ্মবিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব এবং জিনতত্ত্ব।

"মানুষ" বা "হিউম্যান" শব্দটি দ্বারা এখানে প্রকৃতপক্ষে কেবল হোমো গণের অন্তর্ভুক্ত প্রাণীদেরকে বোঝানো হচ্ছে, যদিও মানব বিবর্তন গবেষণা করতে গিয়ে অস্ট্রালোপিথেকাস গণের অনেক প্রজাতি নিয়ে অধ্যয়ন করতে হয়- স্বভাবত সেগুলোর আলোচনাও এই বিষয়ের অধীনেই হয়। আনুমানিক ২৩ লক্ষ থেকে ২৪ লক্ষ বছর পূর্বে আফ্রিকাতে হোমো গণটি অস্ট্রালোপিথেকাস গণ থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল।

হোমো গণে অনেক প্রজাতিরই উদ্ভব ঘটেছিল যদিও একমাত্র মানুষ ছাড়া তাদের সবাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ ধরনের বিলুপ্ত মানব প্রজাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে হোমো ইরেক্টাস যারা এশিয়ায় বাস করতো এবং হোমো নিয়ানডার্টালেনসিস যারা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে ছিল। আর্কায়িক হোমো স্যাপিয়েন্স-দের উদ্ভব ঘটেছিল আনুমানিক ৪০০,০০০ থেকে ২৫০,০০০ পূর্বের সময়কালের মধ্যে। আর্কায়িক বলতে হোমো স্যাপিয়েন্সদের প্রাচীনতম সদস্যদের বোঝানো হয় যারা প্রজাতিগত দিক দিয়ে এক হলেও আধুনিক মানুষের চেয়ে কিছু ক্ষেত্রে পৃথক ছিল।

দেহের অভ্যন্তরীন গড়নের দিক থেকে সম্পূর্ণ আধুনিক মানুষের উদ্ভব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অনুকল্প হচ্ছে "আউট অফ আফ্রিকা" বা "আফ্রিকা থেকে বহির্গমন" অনুকল্প যার সারকথা হচ্ছে আমরা আফ্রিকাতে উদ্ভূত হওয়ার পর আনুমানিক ৫০,০০০-১০০,০০০ বছর পূর্বে বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছি।


বিজ্ঞানের ভুল ব্যাখ্যা।

ডিস্কভারি ইন্সটিটিউটের একটি "ডারউনিজমের বৈজ্ঞানিক " শিরোনামের একটি "আনুষ্ঠানিক ঘোষণা" রয়েছে। অবশ্য অনেক জীববিজ্ঞান এবং ভূতত্ত্বর সাথে সম্পর্কহীন মানুষেরা এতে স্বাক্ষর করেছেন।এমন অনেক জীববিদ্যা গবেষক এতে স্বাক্ষর করেছেন, যাদের কাজ বিবর্তনের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়। এমনকি কোন ক্ষেত্রে কিছু জীববিদ্যা গবেষকদের সাথে ভণ্ডামি করে স্বাক্ষর আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে, যার প্রতিবাদে প্রজেক্ট স্টিভ কার্যকর হয়। বিজ্ঞানীরা ভুল তথ্য দিয়েছে । ভুল তথ্যর বিনিময় টাকা গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

আধুনিক বিজ্ঞান এটাকে সমর্থন করে না বলে বই-পুস্তক থেকে ডারউইনের বিবর্তন বাদ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক দেশে ডারউইনের বিবর্তন বাদ দেওয়া হয়েছে। ডারউইনের বিবর্তন সম্পূর্ণ সঠিক তথ্যের উপরে নির্ভরশীল ছিল না বলে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন। তারা এও বিশ্বাস করেন,ডারউইনের বিবর্তন অনেকটা, মনগড়া তথ্য উপরে ভিত্তি করে রয়েছে যা, আধুনিক বিজ্ঞান সমর্থন করে না।

তা ছাড়া আধুনিক জৈব রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও এখনো পরীক্ষাগারে কোনো জড় পদার্থের প্রাণে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়ে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, এত রকমের ঘটনা, ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া এ বিষয়টির সাথে জড়িত যে, এর তল খুঁজে পাওয়া কঠিন।

তাই মাঝে মধ্যে প্রাণের উৎপত্তিকে মনে হয় যেন অলৌকিক ঘটনা। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত গ্রন্থ খরভব ওঃংবষভ-এ তিনি বলেন, হয়তো পৃথিবীতে প্রথম প্রাণ (ঙৎমধহরংস) আমদানি করেছিল অন্য কোনো গ্রহের অজানা বুদ্ধিমান প্রাণীরা। অবশ্য তার এর সিদ্ধান্ত প্রাণের উদ্ভব ও আবির্ভাববিষয়ক তত্ত্বকে আরো রহস্যময় করে তোলে এবং বহির্বিশ্বের অন্য কোথাও থেকে প্রাণের আগমন যে ঘটেছেÑ এটি অনেকটা সুনিশ্চিত করে।

নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত এ উপমহাদেশের বিজ্ঞানী আবদুস সালামের মতেÑ প্রাণের উৎপত্তি এ পৃথিবীতে নয়। তিনি এটা প্রমাণের চেষ্টায় আত্মনিয়োজিত ছিলেন জীবনের শেষ অবধি। তাদের এ উক্তিদ্বয় পবিত্র কুরআনে বর্ণিত তথ্যের সাথে সমঞ্জস্যপূর্ণ। প্রথম মানব-মানবী জান্নাত বা বেহেশত নামীয় প্রাণসজীব ভিন্ন এক জগৎ হতে সুনির্দিষ্ট কারণে এ পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন।

প্রথম মানুষ সৃষ্টি কিভাবে হলো।

এ মহাবিশ্বে প্রথম মানুষ কোথায় কিভাবে সৃষ্টি হলেন, বিজ্ঞানে এটি জটিল প্রশ্ন যেটি গবেষক দার্শনিকদেরও অশেষ ভাবিয়ে তোলে। তার সঠিক সমাধান জ্ঞাত বিজ্ঞানে আজো নেই। এ বিষয়ের সমাধানকল্পে অনেক মতবাদের জন্ম হয়েছে। অতি বিতর্কিত ডারউইনের মতবাদটিতে শুধু জীবের বিবর্তনের ধারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে; কিন্তু এর মূল উদ্ভব বা প্রাণের আদিসত্তার উৎপত্তিসংক্রান্ত সঠিক কোনো ব্যাখ্যা ও মৌলিক আলোচনা নেই। পক্ষান্তরে, প্রাণের উৎস ও মানব জীবনের উদ্ভব নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা অব্যাহত থাকলেও এর যথার্থ সমাধান বা সর্বজনগ্রাহ্য কোনো তত্ত্ব তারা দিতে পারেননি আজো।

অজানা গন্তব্য থেকে আমরা কি এখানে মহাজাগতিক সফরে বনভোজনে এসেছিলাম? তাই যদি হয়, আমাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে। অতএব, এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে জাগিয়ে তুলুন মহাকালের অফুরন্ত জীবনের প্রত্যাশা এবং প্রত্যয়দীপ্ত সঠিক পথের পথিককে। 

]]>
Tue, 09 Aug 2022 22:23:15 +0600 BD124.com
জনপ্রিয় কম্পিউটার ঢাকা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড – ফ্রি https://bd124.com/post-206 https://bd124.com/post-206 প্রিয় বন্ধু ঢাকা ভাইস সিটি একটা জনপ্রিয় গেম। যেটা নির্মাণ করেছে রকস্টার গেমিং কোম্পানি। বাংলা ভার্সনের রূপান্তরিত করেছে আমাদের বাংলার ছেলেরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসাবে এই গেমটি বাংলা ভাষণ দিতে পেরেছেন। তৎকালীন সময়ে এই গেমটি খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। এই গেমসটি উপভোগ করেন নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল।এত ঈদ জনপ্রিয় ছিল এই গেমসটি। এখন বর্তমান সময়ে আমরা কিংবা আমাদের বাচ্চারা এই গেমটি খেলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।

জিটিএ ঢাকা ভাইস সিটি গেম কোথায় পাব।

এই গেমটি বাজার থেকে বা দোকান থেকে কিনে ডিক্সের মাধ্যমে আমাদের কম্পিউটারে ইন্সটল করে গেম খেলতাম। যেহেতু এখন বর্তমান সময়ে ডিক্স,প্রয়োজন হয় না। আমরা ইন্টারনেট থেকে ফাইল গুলো সংগ্রহ করতে পারি। সেহেতু ফাইলগুলো ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে আমাদের কম্পিউটারে আমরা ব্যবহার করতে পারি। 

জিটিএ ভাইস সিটি । ঢাকা ভাইস সিটি কিভাবে ডাউনলোড করব।

ডাউনলোড করা খুব সহজ,নিচে গিয়ে লিঙ্কে ক্লিক করে, খুব সহজেই ডাউনলোড করুন ।  আপনার কম্পিউটারে ইনস্টল করে ব্যবহার করতে পারেন। যদি ডাউনলোড করতে কোন সমস্যা মনে করেন, তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটে হেল্প সেন্টারে গিয়ে যোগাযোগ করবেন। আমরা আপনাকে হেল্প করার চেষ্টা করব । খুব সহজে এখান থেকে. গেমটি ডাউনলোড করে। আপনি আপনার কম্পিউটারে উপভোগ করতে পারেন।

ঢাকা ভার্সিটি কিভাবে ইন্সটল করব।

প্রথমে ঢাকা ভাইস সিটি ডাউনলোড বা সংগ্রহ করে নিবেন। ফাইলটি ডাউনলোড করার পরে ,ডাবল ক্লিক করে, নেক্সটে নেক্সট এ ক্লিক করে, ইন্সটল করে নিবেন। আপনি যদি ইন্সটল করতে না পারেন । তাহলে এই লিঙ্কে ক্লিক করে ভিডিও দেখে, হেল্প নিয়ে ডাউনলোড করতে পারেন । আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে দেখতে পারেন এখানে gta-vice-city অনেকগুলো ভার্সন আপলোড করা হয়েছে। ( LInk Here )

জিটিএ ঢাকা ভাইস সিটি রিকোয়ারমেন্ট বা প্রয়োজনীয়তা।

কম্পিউটারে যে কোন গেম ইন্সটল করে খেলার জন্য অবশ্যই কম্পিউটারে কিছু প্রয়োজনীয়তা আছে। যেগুলো প্রয়োজন এবং আপনার কম্পিউটারে এগুলো না থাকলে, আপনি গেমটি ইন্সটল করে খেলতে পারবেন না। বিষয়টি খেয়াল করবেন এবং আশা করি আপনি খুব সহজেই এই গেমটি আপনার যেকোনো কম্পিউটারে উপভোগ করতে পারেন।

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম প্রয়োজন। আপনার কম্পিউটারে যে কোন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ থাকলেই আপনি এই গেমটি খেলতে পারবেন।

জিটিএ ভাইস সিটি খেলার জন্য অবশ্যই ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার প্রয়োজন হবে। মনে রাখবেন, আপনার কম্পিউটারে নিম্নতম এক জিবি র্যাম এবং 2 জিবি হার্ডডিস্ক মেমোরি এবং কম্পিউটার ডিসপ্লে রেজুলেশন এটি অবশ্যই প্রয়োজন হবে বর্তমানে গেম গুলো আপনার কম্পিউটারে উপভোগ করার জন্য।

জিটিএ ভাইস সিটি গেম খেলার জন্য গ্রাফিক্স কার্ড কি প্রয়োজন।

গ্রাফিক্স স্কার্ট তথা আপনার কম্পিউটারে নিম্নতম গ্রাফিক্স রেজুলেশন সেটআপ থাকতে হবে। না হলে এই কম্পিউটারে গেম খেলতে পারবেন না। অনেকে জানেন কম্পিউটারে যদি, মাদারবোর্ড সিডি বা ডিক্স গ্রাফিক্স না থাকে, তাহলে কম্পিউটার দেখতে,রেজুলেশন দুর্বল হয়ে,গেমস গুলো উপভোগ করা যায় না । তাই আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটারে, এই রেজুলেশন সেটআপ করে নিতে হবে।

Laptop Or  Computer PC
Operating System: Windows : 7 / 8 / 8.1 / 10 / 11
Processor (core CPU) Dual-core CPU with SSE3 (Intel® Pentium® D 3GHz / AMD 
 Memory: RAM.  2 GB
Graphics: Microsoft® DirectX® 9 (linkHere)
Display Resolution 640px
Memory or Hard Disk 2 GB

Download Now 
]]>
Tue, 09 Aug 2022 20:35:32 +0600 BD124.com
greycstoration filter for photoshop | painting effect plugin | https://bd124.com/post-205 https://bd124.com/post-205 আমরা যারা ফটোশপের মাধ্যমে,নিজেদের ছবিকে কাটুন বানাতে চাই। অথবা নিজেদের ছবি থেকে কিছু নয় রিমুভ করতে চাই । তাদের জন্য এই ফিল্টারটি, খুবই কার্যকরী এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিল্টার। যার মাধ্যমে নিজের ছবি কিংবা অন্যের ছবি, কাটুন রূপান্তরিত করতে পারবেন। এমনকি ছবিগুলো থেকে নয়েস রিমুভ এবং ছবি পরিষ্কার করতে পারেন।

ফটোশপের সাহায্যে কিভাবে ইমেজ রেজুলেশন বাড়াবেন |

আমাদের নরমাল ইমেজ অনেক সময় বড় করার প্রয়োজন হয় | সে ক্ষেত্রে ইমেজগুলো অনেকাংশে ফেটে যায় | অর্থাৎ দেখতে খারাপ লাগে | আপনি চাইলেই, আপনার ইমেজগুলো, ভেক্টরের রূপান্তিত করতে পারেন | অর্থাৎ জুম করলে, ইমেজগুলো ফাটবে না | রেজুলেশন ঠিক থাকবে | তাদের জন্য এই ফিল্টারটি  অনুসরণ করে, খুব সহজেই ইমেজ রেজুলেশন বাড়িয়ে নিতে পারেন |

ছবির গুণমান বর্ধিতকরণ: এই প্লাগইনের সম্ভাব্যতা পুরোপুরি উপভোগ করতে, পার্থক্য দেখতে আপনার ফটোগুলি জুম করা উচিত!

আমি কি ফটোশপের সাহায্যে ইমেজ কার্টুন বানাতে পারব |

উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ আপনি চাইলেই নিজেই ফটোশপের সাহায্যে এই ফিল্টার ব্যবহার করে খুব সহজেই নিজের ইমেজ কাঠুন বানিয়ে নিতে পারেন |

ফটোশপ ইফেক্ট ফিল্টার কিভাবে ব্যবহার করবেন |

প্রথমে এই ফিল্টারটি সংগ্রহ করবেন তারপর আনজিপ করবেন অর্থাৎ ফিল্টার বাপ লাজিম এটা জিপ আকারে থাকে এই যে ফাইলটি আনজিপ করে নিতে হবে তারপর সিলেট করতে হবে অর্থাৎ আপনার কম্পিউটারে যদি 32bit থাকে তাহলে 32bit ফোল্ডারে ঢুকতে হবে যদি 64 থাকে তাহলে 64 বিত ফাইলগুলো কপি করতে হবে সি ড্রাইভে ফাইল প্রোগ্রামে অ্যাডবি ফটোশপ প্লাগইন এর ভিতর পেস্ট করে দিতে হবে|

কিভাবে এডোবি ফটোশপ ফিল্টার ইন্সটল করতে হয় |

2. Copy the extracted files on below path(s)
    For 64Bit: C:\Program Files\Adobe\Adobe Photoshop CS5 (64 Bit)\Plug-ins
    For 32Bit: C:\Program Files (x86)\Adobe\Adobe Photoshop CS5\Plug-ins
3. Run Adobe Photoshop
4. Select Noise >> GREYCstoration 

কিভাবে ফটোশপ ইফেক্ট বা ফিল্টার ব্যবহার করতে হয় |

প্রথমে আপনার অ্যাডবি ফটোশপ ওপেন করুন | তারপর ফিল্টার অপশনে যান, সেখানে নয় অপশনে গিয়ে | দেখতে পারেন ফিল্ড এটি ব্যবহার করার বেশ কয়েকটি নিয়ম রয়েছে যদি না বুঝতে পারেন তাহলে ভিডিও দেখুন ভিডিওটি অনুসরণ করে ফেলতে এটি ব্যবহার এবং ইন্সটল এবং ডাউনলোড সেরে নিতে পারেন | আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না |

 

]]>
Sun, 07 Aug 2022 22:56:42 +0600 BD124.com
ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার https://bd124.com/post-204 https://bd124.com/post-204 আপনি কি জানেন এরকম অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যা দিয়ে আপনি মোবাইলে ক্রিকেট খেলা দেখতে পারবেন? হ্যাঁ আজ আমি জানাবো আপনাদের এমন কিছু সফটওয়্যার ব্যাপারে যার মাধ্যমে আপনি যেখানে খুশি ইচ্ছে বসে ক্রিকেট খেলা দেখতে পারবেন লাইভ। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার সম্পর্কে।


আপনি যদি একজন খেলা ভক্ত মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে খেলা দেখার বিভিন্ন উপায় আপনার জানা থাকা দরকার। বর্তমানে বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলছে, আর আপনি খেলা মিস করবেন তা কি হয়? মোবাইলে খেলা দেখার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমনঃ আপনি বাইরে বা কাজের জন্য বাসায় থাকতে পারছেন না, এমনতাবস্থায় খেলা চললে আপনি বাইরে বসেই মোবাইলে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়াও আপনার বাড়িতে টিভি না থাকলে বা আপনি টিভিতে অভ্যস্ত না থাকলে মোবাইলেই খেলা উপভোগ করতে পারেন।


কিভাবে জি টিভি স্পোর্টস লাইভ দেখবেন।

ঘরে বসে খুব সহজেই,জি টিভির মাধ্যমে, বিশ্বের যেকোন জায়গা থেকে। মোবাইল ফোন অথবা স্মার্ট টিভির, মাধ্যমে খেলা দেখতে পারেন। শুধু ইন্টারনেট কানেক্ট থাকলে । এর জন্য আমাদের যা করতে হবে। প্রথমে গুগল প্লে কনসোলে যেতে হবে,অথবা এই লিংকে ক্লিক করে, (Link Here)গুগলে সার্চ করে, অ্যাপসটি ইন্সটল করে,দেখতে পারেন । অথবা আমাদের এই ভিডিওটি অনুসরণ করতে পারেন। আশা করি খুব সহজেই ঘরে বসেই, জিটিভি লাইভ খেলা দেখতে পারেন।


বিশ্বের যেকোন জায়গা থেকে লাইভ খেলা দেখার উপায়।

জি টি ভি এস ফোর্স এর মাধ্যমে খেলা দেখতে পারেন। অথবা স্ট্রিম লাইভ ইন্ডিয়া অ্যাপের মাধ্যমে খেলা দেখতে পারেন। অথবা সনি এইচডি লাইভ টিভি অ্যাপ এর মাধ্যমে খেলা দেখতে পারেন। অথবা ইয়াহু খেলা দেখা অ্যাপস এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন জায়গা থেকে লাইভ দেখতে পারেন।এবং আরো একটি জনপ্রিয় অ্যাপস g5 যার মাধ্যমে খুব সহজেই খেলা দেখতে পারেন যেকোন জায়গা থেকে একদম বিনামূল্যে।


ক্রিকেট খেলা দেখার আপ্পস।

ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য অনেকেই মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে থাকেন। মোবাইলে ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য এই অ্যাপস গুলো খুবই উপকারী। উপরেই মোবাইলে ক্রিকেট খেলার সফটওয়্যার বা আপস সম্পর্কে বলা হয়েছে। ওই অ্যাপস গুলো ই লাইভে ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য যথেষ্ট। খুব সহজে মোবাইলের গুগল প্লে স্টোর থেকে ফ্রি তে ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে পারবেন।  আপনাদের সুবিধার জন্য ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার বা অ্যাপস গুলোর নাম


  • G TV Live sports 
  • live sports TV streaming 
  • Live Sports HD Tv
  • SonyLiv
  • BINGE 
  • Yahoo Sports
  • ZEE5

জিটিভি লাইভ খেলা সরাসরি।

ওয়ার্ল্ডের যেকোনো ম্যাচ দেখার জন্য জিটিভি খুব জনপ্রিয় ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার।  এর জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, প্রথমেই আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের গুগল প্লেট স্টোরে যেতে হবে। সার্চ বক্সে  live cricket TV HD লিখে সার্চ দিন। উপরেই দেখবেন live cricket TV HD নামে একটি অ্যাপ চলে আসছে।

 

এবার এটাকে ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিবেন। ব্যস, এরপর এটাকে ওপেন করে খুব সহজেই চলমান লাইভ খেলা দেখতে পারবেন। আপনি খেলা দেখতে পছন্দ করলে এই অ্যাপটির মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠিত  ক্রিকেট খেলা দেখতে পারবেন। তাই এই অ্যাপটি খেলা ভক্তদের জন্য দুর্দান্ত একটি অ্যাপ।


]]>
Sun, 07 Aug 2022 14:48:20 +0600 BD124.com
কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড – ফ্রি উইথ ইসলামিক গজল https://bd124.com/post-202 https://bd124.com/post-202 কম্পিউ টারবাংলা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড – ফ্রি উইথ ইসলামিক গজল

এখন আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো জনপ্রিয় কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম। গেমটি আপনি খুব সহজে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে আপনার সকল উইন্ডোজ কম্পিউটার ও উইন্ডোজ ল্যাপটপ এ খেলতে পারবেন। গেমটির গ্রাফিক্স কোয়ালিটি মোটামুটি মানের আশাকরি গেমপ্লে ও গ্রাফিক্স কোয়ালিটি আপনার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগবে।


কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড অপশন নিচে দেওয়া আছে এখনি দেরি না করে গেম ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করে গেমটি ডাউনলোড করে খেলা শুরু করে দিন। কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেমটি আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এ খেলার জন্য ন্যূনতম কিছু রিকমেন্ডেশন রয়েছে।


যেমন :- আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকতে হবে উইন্ডোজ 7/8 অথবা 10 অপারেটিং সিস্টেম। পাশাপাশি আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এর নূন্যতম 2GB+ RAM থাকতে হবে যত বেশি হবে তত ভালো।


আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এ 3GB ন্যূনতম স্টোরেজঃ থাকতে হবে। সবকিছুই যত বেশি হবে তত ভালো কিন্তু ন্যূনতম আপনার কম্পিউটার না থাকলে ঢাকা ভাইস সিটি গেম টা আপনি ভালভাবে খেলতে পারবেন না।


জিটিএ ভাইস সিটি গেম বাংলা ইনস্টল করার জন্য নিম্নতম প্রয়োজনীয়তা।

র্যাম বা মেমরি: 2 GB
স্পেস বা হার্ডডিক্স: 3 GB
অপারেটিং সিস্টেম: Windows 7/8/10/11
ডিসপ্লে রেজুলেশন: গ্রাফিক্স ড্রাইভ সেটআপ 

কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড


কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড :- গেম ডাউনলোড করার জন্য সবার প্রথমে নিচে থাকা গেম ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করতে হবে। গেম ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করার সাথে সাথে আপনাকে নিয়ে যাবে গুগল ড্রাইভে।


গুগল ড্রাইভে যাওয়ার পরে আমাদের সামনে নতুন একটি ডাউনলোড অপশন চলে আসবে। গুগল ড্রাইভে নতুন ডাউনলোড অপশন ক্লিক করার কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যেই গেমটি ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে।


আপনার ইন্টারনেট স্পিড যদি ভাল হয় তাহলে গেমটি তাড়াতাড়ি ডাউনলোড হবে আর যদি খারাপ ইন্টারনেট স্পিড থাকলে তাহলে কিন্তু গেমটি ডাউনলোড করতে অনেক সময় লাগবে বাংলা ভাইস সিটি গেম নিচে ডাউনলোড অপশন দেওয়া হল। গেম ডাউনলোড করতে আপনার যদি কোন প্রকার সমস্যা হয় অবশ্যই আপনার সমস্যার কথা নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাবেন।


জিটিএ ঢাকা ভাইস সিটি গেম ইনফরমেশন।

গেমের নাম: জিটিএ ভাইস সিটি বাংলা
জিটিএ ভাইস সিটি ডেভলপার: রকস্টার গেম কোম্পানি
গেমস ডাউনলোড সাইজ: 638 MB
বর্তমান ভার্সন: 2022

জিটিএ ভাইস সিটি বাংলা কিভাবে ডাউনলোড করবেন। 

জিটিএ ভাইস সিটি বাংলা ভার্শন টি কিভাবে ডাউনলোড করবেন। প্রথমে এই লিঙ্ক ভিজিট করুন । যেখানে ফাইল নামে দেওয়া রয়েছে। তারপরে আপনার কম্পিউটারে ডাউনলোড করুন। ডাউনলোড শেষ হলে, যেখানে ডাউনলোড করে বা সেভ করে রেখেছেন। সেখানে গিয়ে সফটওয়্যারটি ডাবল ক্লিক করে ওপেন করে, নেক্সটে নেক্সট এ ক্লিক করে, ইনস্টল করে নিতে হবে । এখানে একটা সিরিয়াল নাম্বার,দিয়ে ভেরিফাই করতে হবে । সিরিয়াল নাম্বারটি নিচে দেখুন...(FileLink)


গেমসটি কয়েকটা পদ্ধতি ডাউনলোড করতে পারেন। জিটিএ ভাইস সিটি গেমস

সরাসরি ডাউনলোড, টরেন্ট এর মাধ্যমে ডাউনলোড। আরেকটা কথা বলে রাখি। যদি ডাউনলোড না হয়। তাহলে ভিপিএন, কানেক্ট করে ডাউনলোড এ ক্লিক করুন। ডাউনলোড করে নিন, কয়েকটা লিংক দেওয়া থাকবে যে, কোন একটি লিংক অনুসরন করে ফাইলটি ডাউনলোড করে নিবেন। যদি সমস্যা হয়, তাহলে টরেন্ট এর মাধ্যমে ইজিলি ডাউনলোড করতে পারেন, কোন ঝামেলা হবে না । ফাইলটি নিরাপদ এবং সিক্রেট।


জিটিএ ভাইস সিটি ভেরিফিকেশন সিরিয়াল নাম্বার। 

কেন? ইনস্টলেশন উইজেট,সিরিয়াল নাম্বার ব্যবহার করা হয়। সিরিয়াল নাম্বার ব্যবহার করার, একটাই কারণ । সিকিউরিটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এ ফাইলগুলো, নিরাপদ রাখার স্বার্থে, সিরিয়াল নম্বর ব্যবহার করা হয়। সিরিয়াল নাম্বার একদম বিনামূল্যে এবং গেমটিও বিনামূল্যে, গেম /সিরিয়াল নম্বর ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন। পার্সোনাল ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে, আপনি কিংবা আপনার বাচ্চাকে, এই গেমটি উপভোগ করার সুযোগ করে দিতে পারেন। কপি পেস্ট করে সিরিয়াল নাম্বার ব্যবহার করুন।

Serial Mumber 01

Serial Mumber 02


জিটিএ ভাইস সিটি গেম লিংক

Download Now 
]]>
Mon, 01 Aug 2022 18:14:58 +0600 BD124.com
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম দশটি পাখির তালিকা https://bd124.com/post-201 https://bd124.com/post-201

জীববৈচিত্র্যে ভরপুর পৃথিবীর আনাচে-কানাচে বিভিন্ন জঙ্গল,জীববৈচিত্র্য প্রাণীতে ভরপুর আমাদের এই পৃথিবী। তেমনি সুন্দর এবং রহস্যময় 10 টি প্রাণী দেখুন এই ভিডিওতে। ভিডিওটি দেখলে সত্যিই আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না।সুন্দর পৃথিবীতে কতই না সুন্দর বৈচিত্র্যময়।কতইনা রহস্যময় আমাদের এই পৃথিবী। কতইনা অজানা তথ্য রয়েছে যা জানার আগ্রহের শেষ নেই।


পাখির রূপে মুগ্ধ হয় না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। দেশ হোক বা বিদেশ, পাখির রূপ নিয়ে চর্চা চলে সর্বত্র। পৃথিবীতে দশ হাজারের বেশি প্রজাতির পাখির খোঁজ মিলেছে এখনও পর্যন্ত। চারপাশে উড়তে থাকা এবং কিচিরমিচির করা পাখি দেখে চাপমুক্ত হয় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশ-সহ প্রায় সব দেশেই পাখির সমাহার দেখা যায়।

পাখির ধরন বিভিন্ন। পাখিদের মধ্যে বিশেষত পরিযায়ীরা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এরা বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করে একস্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। এই ধরনের স্থানান্তর থেকে বেশি দেখা যায় স্বল্পদৈর্ঘ্যের অনিয়মিত গতিবিধি। বেশিরভাগ পাখিই সামাজিক জীব। এরা দৃষ্টিগ্রাহ্য সংকেত এবং ডাক বা শিষের মাধ্যমে একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ করে।


10- নিকোবর কবুতর

নিকোবর কবুতর আন্দামান, নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, ভারত, মালয় দ্বীপপুঞ্জ, পালাউ এবং সলোমন দ্বীপপুঞ্জের ছোট দ্বীপ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দা।

এটি একটি বড় আকারের কবুতর, যার দৈর্ঘ্য 40 সেমি (16 ইঞ্চি) পর্যন্ত। এটি একটি ধূসর রঙের মাথা আছে, উপরের মাথার প্লামেজের মতো, যা আকর্ষণীয় তামা এবং সবুজ রঙের হ্যাকলে পরিণত হয়। লেজ খাঁটি সাদা এবং খুব ছোট।

এই পাখিরা ঝাঁকের আকারে দ্বীপ থেকে দ্বীপে ঘুরে বেড়ায়। তারা তাদের দিন কাটায় যেখানে ভাল খাবারের প্রাপ্যতা রয়েছে, এমনকি মানব অধ্যুষিত এলাকায়ও, যেখানে ঘুমানোর জন্য তারা উপকূলীয় দ্বীপগুলিতে যায় যেখানে কোনও শিকারী পাওয়া যায় না। শস্য পাওয়া যায় এমন এলাকায় তারা আকৃষ্ট হয়। তাদের খাদ্য প্রাথমিকভাবে ফল, কুঁড়ি এবং বীজ গঠিত।

9- টোকো টোকান

টোকো টোকান হল টোকান পরিবারের বৃহত্তম এবং জনপ্রিয় প্রজাতি, যা সাধারণ টোকান বা দৈত্য টোকান নামেও পরিচিত। এই পাখিটি মধ্য ও পূর্ব দক্ষিণ আমেরিকার আধা-খোলা আবাসস্থলের বাসিন্দা। টোকো টোকান চিড়িয়াখানায় একটি সাধারণ আকর্ষণ।
এটি একটি আকর্ষণীয় এবং সুন্দর প্লামেজ রয়েছে, প্রধানত কালো শরীর, একটি সাদা গলা এবং বুক, সাদা উপরের লেজ-ঢাকা, যেখানে লেজের নীচে লাল। চোখের চারপাশে নীল ত্বকের একটি পাতলা স্তর নীল আইরিসের চেহারা দেয়, যা সাধারণত ছোট দল বা জোড়ায় দেখা যায়।

টোকো টোকান বেশিরভাগ ফলই খায়, তবে ব্যাঙ, পোকামাকড়, ছোট সরীসৃপ, ছোট পাখি এবং তাদের ডিমও খায়। এর দীর্ঘ বিল এমন জিনিসগুলিতে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত হয় যা অন্যথায় অনুপযোগী হবে। এই পাখিরা নিজেদের এবং তাদের বাচ্চাদের খুব রক্ষা করে।

8- ভিক্টোরিয়া ক্রাউনড কবুতর

ভিক্টোরিয়া কবুতর হল একটি বড়, নীলাভ-ধূসর কবুতর যার একটি মার্জিত প্লামেজ রয়েছে। এই পাখির লাল আইরিস, মেরুন স্তন এবং একটি নীল মতো ক্রেস্ট রয়েছে। এই পাখি নিউ গিনি অঞ্চলের স্থানীয় এরিয়ায় পাওয়া যায়।
পাখিটিকে সহজেই তার ক্রেস্টের অনন্য সাদা টিপস দ্বারা চেনা যায়, যা তার মাথায় সুন্দর মুকুটের চেহারা দেয়। খাবারের খোঁজে এরা সাধারণত জোড়া বা ঝাঁকে ঝাঁকে ভ্রমণ করে।
তারা ডুমুর খেতে পছন্দ করে, কিন্তু তাদের খাবারে সাধারণত পতিত ফল থাকে। উপরন্তু, তারা মাঝে মাঝে খাদ্য পরিপূরক হিসাবে বীজ এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণী খায়। বন্য অঞ্চলে, এই পাখিগুলি পশ্চিমা মুকুটযুক্ত কবুতরের চেয়ে শীঘ্র, তবে কখনও কখনও শান্তভাবে কাছে যেতে পারে।

7- গোল্ডেন ফিজ্যান্ট

গোল্ডেন ফিজেন্ট হল পশ্চিম চীনের বনাঞ্চল এবং পাহাড়ি অঞ্চলের একটি পাখি, তবে কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, জার্মানির মতো অনেক দেশেও এটি পাওয়া যায়। , ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের আকার দৈর্ঘ্যে 90-105 সেমি (35-41 ইঞ্চি), যার লেজ মোট শরীরের দৈর্ঘ্যের দুই-তৃতীয়াংশ হয়ে থাকে। পুরুষের একটি সোনালি ক্রেস্ট রম্প এবং উজ্জ্বল লাল শরীর সহ একটি উজ্জ্বল, রঙিন চেহারা রয়েছে।

অপরদিকে, স্ত্রী তিতির কম জমকালো, একটি নিস্তেজ বাদামী প্লামেজ সহ। তিনি পুরুষের চেয়ে ছোট, আনুপাতিকভাবে ছোট লেজ সহ, যা তার 60-80 সেমি (24-31 ইঞ্চি) দৈর্ঘ্যের অর্ধেক।


এরা বেশির ভাগই মাটিতে খায় এবং রাতে গাছে চড়ে বেড়ায়। তাদের খাদ্যের মধ্যে থাকে পাতা, শস্য এবং পোকামাকড় ইত্যাদি। শীতকালে তারা আশেপাশের মানুষের বসতি, বীজ এবং গমের পাতা গ্রহণ করে।

6- স্কারলেট ম্যাকাও

স্কারলেট ম্যাকাও ম্যাকাও নামে পরিচিত নিওট্রপিকাল প্যারোটের একটি বড় দলের সদস্য। এটি একটি বৃহৎ মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকান তোতাপাখি প্রধানত একটি লাল, হলুদ এবং নীল বরই। এই পাখিটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় দক্ষিণ এবং মধ্য আমেরিকার আর্দ্র চিরহরিৎ বনের স্থানীয়।

একটি প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় 81 সেন্টিমিটার (32 ইঞ্চি), যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সূক্ষ্ম লেজ যা সমস্ত ম্যাকাওর বৈশিষ্ট্য, তবে লাল রঙের ম্যাকাও অন্যান্য বড় ম্যাকাওগুলির তুলনায় একটি বড় লেজ রয়েছে।

তাদের বেশিরভাগই বাগ, শামুক এবং পাতা খেতে দেখা যায়, তবে তারা পোকামাকড় এবং লার্ভা খেতে পছন্দ করে। তারা সম্পূরক খাদ্য হিসেবে তাদের খাদ্যতালিকায় ফুল যোগ করে।

৫- ওরিয়েন্টাল দ্বার্ফ কিংফিশার

ওরিয়েন্টাল ডোয়ার্ফ কিংফিশার হল একটি ছোট -আকারের পাখি, এবং এটি কালো-কিংফিশার বা তিন পায়ের কিংফিশার নামেও পরিচিত। এটি একটি আংশিক অভিবাসী পাখি যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারতীয় উপমহাদেশ জুড়ে স্থানীয় পরিবেশে পাওয়া যায়।

এটি সবচেয়ে ছোট পরিচিত কিংফিশার প্রজাতির একটি। এটি বিল এবং লেজ সহ দৈর্ঘ্যে 12.5-14 সেমি পর্যন্ত পরিমাপ করে এবং এটি একটি মাঝারি আকারের হামিংবার্ডের চেয়ে সামান্য বড়।
এটি সাধারণত নিম্নভূমির বন, পুকুর বা স্রোতের কাছাকাছি বাস করে যেখানে এটি পোকামাকড়, কীট, মাকড়সা, কাঁকড়া, ব্যাঙ, টিকটিকি এবং মাছ খাওয়াতে পারে। ওরিয়েন্টাল ডোয়ার্ফ কিংফিশার এর লাল বিল, লিলাক-রুফাস উপরের অংশ, হলুদ-কমলা নীচের অংশ এবং নীল-কালো পিঠের কারণে তার পরিবারের অন্যান্য পাখিদের থেকে সহজেই আলাদা করা যায়।

৪- হিমালয়ান মোনাল

হিমালয়ান মোনাল হল হিমালয়ের গুল্মভূমি এবং পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, চীন, দক্ষিণ তিব্বত এবং ভুটানে 2100-2400 মিটার উচ্চতায় পাওয়া বনাঞ্চলের একটি তিতির। পাখিটি ইম্পিয়ান মোনাল বা ইম্পিয়ান ফিজ্যান্ট নামেও পরিচিত।

এটি একটি অপেক্ষাকৃত বড় আকারের পাখি, যার দৈর্ঘ্য প্রায় 70 সেমি (28 ইঞ্চি)। একজন পুরুষ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের আরও আকর্ষণীয় এবং রঙিন পালঙ্ক থাকে,পিঠে তামা রঙের পালক এবং একটি বিশিষ্ট সাদা পালক থাকে, যা বেশিরভাগ পাখির উড়ার সময় দৃশ্যমান হয়।

হিমালয় মোনাল তৃণভোজীর পাশাপাশি মাংসাশীও। তারা বেশিরভাগ পোকামাকড়, কন্দ, বীজ, শিকড় এবং ভক্ষণ করে থাকেন।

৩- ফর্মেশন মাগপিয়ে

তাইওয়ান ব্লু  ফরমোসান ব্লু ম্যাগপাই, তাইওয়ান ম্যাগপাই বা লম্বা-লেজ পর্বত পরিবার নামেও পরিচিত। এই প্রজাতিটি তাইওয়ানের স্থানীয় এবং কাক পরিবারের অন্তর্গত।
পুরুষ ও স্ত্রী পাখি একই পালক ভাগ করে নেয়। মাথা, ঘাড় এবং স্তন কালো, চোখ হলুদ, এবং বিল এবং পা লাল রঙের, যেখানে বাকী অংশগুলি প্রায় নীল।
তাইওয়ানের নীল ম্যাগপাইরা মানুষকে ভয় পায় না এবং প্রায়শই মানুষের বসতির কাছাকাছি, নতুন চাষ করা জমিতে বা পাহাড়ে পাওয়া যায়। এদের সাধারণত তিন থেকে বারোটি পাখির দলে পাওয়া যায়।

তারা স্কেভেঞ্জার ,তাদের খাদ্যের মধ্যে রয়েছে ইঁদুর, পোকামাকড়, সাপ, ডিম এবং অন্যান্য পাখির বাচ্চা, ক্যারিয়ান, গাছপালা, বীজ এবং ফল। এরা মানুষের অবশিষ্ট খাবারও খায়।

2- কোয়েটজাল

কোয়েটজাল ট্রোগন পরিবারের অন্তর্গত। এটি মেক্সিকো, চিয়াপাস থেকে পশ্চিম পানামা পর্যন্ত পাওয়া যায়। কোয়েটজাল গুয়াতেমালার জাতীয় পাখি, এবং এর ছবি দেশের পতাকায় পাওয়া যায়। দেশটির মুদ্রা, গুয়াতেমালান কোয়েটজাল, এর নামও রাখা হয়েছে।
প্রজাতির আকার দৈর্ঘ্যে প্রায় 36 থেকে 40 সেমি (14-16 ইঞ্চি) এবং পুরুষদের মধ্যে 65 সেমি (26 ইঞ্চি) পর্যন্ত লেজ। এর ওজন প্রায় 210 গ্রাম। এই পাখিটি একটি দুর্বল উড়ন্ত পাখি, তাই প্রায়শই বাজপাখি, সোনালী ঈগল, পেঁচা এবং অন্যান্য বাজপাখির শিকার হয়।
কুয়েটজাল ফল ভক্ষক হিসাবে পরিচিত, যদিও তারা তাদের খাদ্যের সাথে ওয়াপস, পিঁপড়া, পোকামাকড়, লার্ভা, টিকটিকি এবং ব্যাঙের সাথে মিশ্রিত করে। এই পাখিগুলি তাদের সুন্দর এবং রঙিন প্লামেজের জন্য সুপরিচিত।

1- গ্রেটার বার্ড-অফ-প্যারাডাইস >

একে স্বর্গের পাখি বলা হয়, প্যারাডাইসিয়া গোত্রের বৃহত্তম প্রজাতি। পাখিটি প্রধানত দক্ষিণ-পশ্চিম নিউ গিনি, ইন্দোনেশিয়া এবং আরু দ্বীপপুঞ্জের পাহাড়ি বন ও নিম্নভূমিতে দেখা যায়।

গ্রেটার বার্ড-অফ-প্যারাডাইস ,একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির আকার 43 সেমি (17 ইঞ্চি), লেজের অংশ বাদ দিয়ে। মহিলাটি পুরুষের চেয়ে বড়, 48 সেমি (19 ইঞ্চি)।
গ্রেটার বার্ড-অফ-প্যারাডাইস,বৃহত্তর পাখি প্রধানত বীজ, ফল এবং ছোট পোকামাকড় খায়। তাদের স্ত্রীদেরকে প্রায়শই অন্যান্য প্রজাতির বার্ড-অফ-প্যারাডাইস এবং এমনকি অন্যান্য প্রজাতির পাখির সাথে চড়তে বা ঘুরতে দেখা যায়।
]]>
Sat, 30 Jul 2022 15:09:07 +0600 BD124.com
তবে কি এলিয়েনরা পৃথিবী দখল করবে। সত্যিই অবাক করে দেওয়া তথ্য । https://bd124.com/post-200 https://bd124.com/post-200
তবে কি পৃথিবী কে আক্রমণ করতে পারে এলিয়েন আসলেই কি এটা সত্য।তবে কি পৃথিবীবাসী আতঙ্কিত। আদৌ কি এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী,আমাদের এই গ্রহে, আক্রমণ করতে পারে। এব্যাপারে বিজ্ঞান ও তাদের গবেষণা কি বলে । আর কেনই বা মানুষ এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী নিয়ে এত আতঙ্কিত। আসুন জেনে নেই বিস্তারিত তথ্য। 

আপনি কি জানেন পৃথিবীতে এলিয়েন রয়েছে। পৃথিবীতে এলিয়েন থাকলেও কোথায় আছে। এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী, আদৌ কি এই পৃথিবীতে রয়েছে।এই বিষয়টি নিয়ে সিনেমা কিংবা গল্প বহুল প্রচলিত রয়েছে। বাস্তবেও এলিয়েন দেখার অনেক প্রমাণ রয়েছে।


এলিয়েন কি এই পৃথিবী কে দখল করতে পারে। কিংবা মানুষের কোন ক্ষতি এলিয়েন করতে পারবে কিনা তা জানুন এই প্রতিবেদনে। এ ব্যাপারে বিজ্ঞান ও তাদের গবেষণা কি বলে।সত্যি তথ্য জানলে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না।


এলিয়েন কি এই পৃথিবী কে দখল করতে পারে। কিংবা মানুষের কোন ক্ষতি এলিয়েন করতে পারবে কিনা তা জানুন এই প্রতিবেদনে। সত্যি তথ্য জানলে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না।


 এলিয়েনদের সম্পর্কে জানতে পৃথিবীর বাইরে বিভিন্ন সাংকেতিক বার্তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাসা। অতিদ্রুতই নীল গ্রহের গণ্ডি পেরিয়ে তা বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ডে পৌঁছে যাবে। ভিনগ্রহীদের সম্পর্কে জানতে নাসার এই আগ্রহ গোটা বিশ্বের জন্যই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারেই বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীদের একাংশ।


অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে নাসার এই কাজে গোটা বিশ্বের বিপদ বাড়তে পারে। মহাকাশে নাসার পাঠানো বার্তায় পৃথিবীর অবস্থান সহজেই জানা যাবে। অবস্থান জানতে পারলেই এলিয়েনরা পৃথিবী আক্রমণ করতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অক্সফোর্ডের ওই বিজ্ঞানীরা।


বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়েছে, পৃথিবীর বাইরে কোন প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কিনা। এটা জানার জন্য তারা পৃথিবীর বাইরে বিভিন্ন সংকেত পাঠিয়ে যাচ্ছে। যাতে পৃথিবীর বাইরে কোন প্রাণীর, অস্তিত্ব আছে কি নাই। তা জানতে পারে।ইতিমধ্যেই বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েকটি সিগন্যাল পাঠিয়েছে। বেশ কয়েকটি সিগন্যাল বিজ্ঞানীরা রিসিভ করেছে ,যাতে বিজ্ঞানীরা অবাক করা সব তথ্য পেয়েছে।


বাইনারি কোড যুক্ত “Beacon in the Galaxy” নামের যে বার্তা নাসার তরফে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে তাতে পৃথিবীর অবস্থানের পাশাপাশি মানুষের ডিএনএ ও মানবদেহের ডিজিটাল ছবিও রয়েছে। অক্সফোর্ডের ফিউচার অব হিউম্যানিটি ইনস্টিটিউটের সিনিয়ির বিজ্ঞানী অ্যান্ডার্স স্যান্ডবার্গ জানিয়েছেন, এই ধরনে তথ্য পাঠালে পৃথিবীর বিপদ বাড়বে।

যদিও বিআইটিজি মেসেজ মহাকাশে পাঠানো প্রথম বার্তা নয়, ১৯৭৪ সালে প্রথমবার রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে পুয়ের্তো রিকো থেকে আরেসিবো বার্তা মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। যদিও স্যান্ডবার্গের মতে, এই বার্তা ভিনগ্রহীদের সমাজে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম, তবে ঝুঁকি থেকেই যায়।
মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন গ্রহে যে প্রাণ থাকতে পারে, এমনকী মানুষের মতোই বুদ্ধিমান প্রাণী থাকতে পারে, দীর্ঘদিন ধরে এই কথা বলে আসছিল নাসা। সম্প্রতি ভিনগ্রহীদের আকর্ষণ করতে নাসার তরফে মহাকাশে মানুষের নগ্ন ছবিও পাঠানো হয়েছিল।
এলিয়েনদের বিষয়ে আরও জানতে তাই এবার বিআইটিজি বার্তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাসা। নাসার এই পদক্ষেপে এলিয়েনরা আদৌ পৃথিবী আক্রমণ করে কি না অথবা এর অন্য কোনও প্রভাব পড়ে কিনা সেটাই এখন দেখার।
স্পেনের এক গবেষক জানিয়েছেন, পৃথিবীর কাছাকাছি ১৯ আলোকবর্ষ দূরে ভিনগ্রহীদের পক্ষে বাসের উপযুক্ত স্থান রয়েছে। গত শতাব্দীতে বিশ্বের আক্রমণের ইতিহাস, জড়িত দেশগুলির সামরিক সক্ষমতা এবং শক্তি খরচের বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধির হারের উপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ১৯৭৪ সালে নক্ষত্রমণ্ডলে একটি রেডিয়ো বার্তা পাঠান। কিন্তু এই বার্তা কোনও সাধারণ ব্যক্তির পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। বি়জ্ঞানীরা ভবিষ্যতে আরও এক বার রেডিয়ো বার্তা পাঠানোর কথা ভাবছেন। তবে, এ বার তা আগের চেয়েও বেশি সরল হবে, মানুষের ডিএনএ গঠনের সংকেতও পাঠানো হবে ওই বার্তার সঙ্গে।
আকাশগঙ্গা ছায়াপথেই ভিনগ্রহীরা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গবেষক। একটি নয়, কমপক্ষে চারটি গ্রহ এমন রয়েছে যা ভিনগ্রহীদের বাসযোগ্য। কিন্তু তাঁদের পৃথিবীতে আক্রমণ করার সম্ভাবনা খুবই কম। মানব সভ্যতা যখন শক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বাইরের নক্ষত্র থেকে শক্তি সংগ্রহ করে সঞ্চয় করতে সক্ষম হবে, তখন ভিনগ্রহীদের আক্রমণের সম্ভাবনা প্রবল। তবে,সেই পরিস্থিতিতে পৌঁছতে পৃথিবীর আরও একশো থেকে দু’শো বছর সময় লাগবে।
বন্ধুরা আপনাদের কেমন লাগলো,সেটি কমেন্টের মাধ্যমে জানান,ভিডিওটি ভালো লাগলে, একটি লাইক দিন, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। নিত্যনতুন, রহস্য রোমাঞ্চ ভরা তথ্যবহুল ভিডিও পেতে, বেল আইকন ক্লিক করে রাখুন।  Subscribe Now

]]>
Sat, 30 Jul 2022 12:16:05 +0600 BD124.com
বিশ্বের সেরা ১০টি বিমানবন্দর https://bd124.com/post-199 https://bd124.com/post-199

বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর কোনটি? এমন প্রশ্নে একেক রকম উত্তর মিললেও আজ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো, আসলেও কোন বিমানবন্দরটি বিশ্বসেরা। বিশ্বের সেরা বিমানবন্দরের তালিকা নির্ধারণ করে থাকে স্কাইট্র্যাক্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৯ সালে ‘ওয়ার্ল্ডস বেস্ট এয়ারপোর্ট অ্যাওয়ার্ড’ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।


সেরা বিমানবন্দর নির্ধারণের জন্য বেশ কিছু বিষয়কে ভিত্তি ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে জরিপ চালায়। সেরা বিমানবন্দর নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, কর্মীদের সেবাপরায়ণতা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, কেনাকাটার সুবিধা, ব্যাগেজ ডেলিভারি, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, ট্রানজিট প্যাসেঞ্জারদের সুযোগ সুবিধা, বিনোদনের ব্যবস্থা, খরচ ইত্যাদি বিষয়।


২০১৮ সালের সেরা বিমানবন্দর নির্বাচনের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জরিপ চালায়। বিশ্বের প্রায় ৫৫০টি বিমানবন্দরের ১৩.৭৩ মিলিয়ন ডেটা জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে স্কাইট্র্যাক্স ২০১৮ সালের সেরা যে বিমানবন্দরগুলো নির্বাচিত করেছে, তার মধ্য থেকে সেরা ১০টি বিমানবন্দর নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি।



১০. ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্ট (জার্মানি) >

ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টটি জার্মানির সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর। এটি ইউরোপের ৩য় এবং সারা পৃথিবীর মধ্যে ১৩তম ব্যস্ত বিমানবন্দর। ফ্রাঙ্কফুর্ট শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। এটি প্রায় ৫ হাজার একর জমি জুড়ে বিস্তৃত। এই বিমানবন্দরের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন যাত্রী ২৫০টিরও বেশি গন্তব্যে যাতায়াত করে থাকে। এই বিমানবন্দর থেকে বিশ্বের ১০৫টি দেশে যাওয়া যায়। বিমানবন্দরটিতে ২টি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল রয়েছে। ৩য় টার্মিনালটি নির্মাণাধীন রয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যেই ৩য় টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।



৯. জুরিখ এয়ারপোর্ট (সুইজারল্যান্ড) >

সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে জুরিখ এয়ারপোর্ট। জুরিখ শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। এতে ৩টি টার্মিনাল এবং ৩টি রানওয়ে রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৬৭টি দেশের ২০৩টি গন্তব্যে এখান থেকে বিমান ছেড়ে যায়।



৮. লন্ডন হিথ্রো এয়ারপোর্ট (যুক্তরাজ্য)

যুক্তরাজ্যের প্রধান এবং ব্যস্ততম বিমানবন্দর এটি। যাত্রী সংখ্যার দিক থেকে এটি ইউরোপের ব্যস্ততম বিমানবন্দর। এটি ‘লন্ডন হিথ্রো’ নামেও পরিচিত। লন্ডন শহরের কেন্দ্র থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ২০১৮ সালে এই বিমানবন্দরটির মাধ্যমে ৮০.১ মিলিয়ন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। বিমানবন্দরটিতে ২টি রানওয়ে এবং ৫টি টার্মিনাল রয়েছে। তবে ১ নং টার্মিনালটি এখন আর ব্যবহৃত হয় না। বিশ্বের ৮৪টি দেশের ১৮৫ গন্তব্যে এই বিমানবন্দর থেকে প্লেন ছেড়ে যায়।



৭. চুবু সেন্ট্রায়ার নাগয়া (জাপান)

বিমানবন্দরটির নাম চুবু সেন্ট্রায়ার নাগয়া এয়ারপোর্ট হলেও সাধারণত এটি ‘সেন্ট্রায়ার’ নামেই পরিচিত। ২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এর যাত্রা শুরু হয়। নাগয়া শহর থেকে এর দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। একটি কৃত্রিম দ্বীপের উপর এটি তৈরি করা হয়েছে। নাগয়া শহর থেকে এই বিমানবন্দরে যেতে ট্রেনে লাগে ২৮ মিনিট এবং গাড়িতে লাগে ৪০ মিনিট।


পুরো বিমানবন্দরটি দেখার জন্য এখানে ৩০০ মিটার লম্বা একটি ডেক রয়েছে। এটিকে বলা হয় ‘স্কাই ডেক’। এখান থেকে শুধু যাত্রীরা নয়, দর্শনার্থীরাও প্লেনগুলোকে কাছ থেকে দেখার সুবিধা পেয়ে থাকেন। ২০১৮ সালে এই বিমানবন্দরটি আভ্যন্তরীণ রুটের সেরা বিমানবন্দর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ২০১৪ সালে এই বিমানবন্দরটির মাধ্যমে ৯.৮ মিলিয়ন যাত্রী যাতায়াত করেছে।



৬. মিউনিখ এয়ারপোর্ট (জার্মানি)

মিউনিখ এয়ারপোর্ট জার্মানির দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর। ২০১৮ সালে ইউরোপের সেরা বিমানবন্দর হিসেবে নির্বাচিত হয় এটি। এখানে ১৫০টি রিটেইল স্টোর এবং ৫০টি জায়গা রয়েছে যেখানে খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় পাওয়া যায়। এই বিমানবন্দরটি অনেকটা সিটি সেন্টারের মতো। এটি মিউনিখ শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে ৩টি টার্মিনাল এবং ২টি রানওয়ে রয়েছে। ৩৮৯২ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত এটি। ২০১৪ সালে ৩৯.৭ মিলিয়ন যাত্রী এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছেন।



৫. হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (কাতার)

কাতারের দোহা শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের অবস্থান। বিমানবন্দরটি তৈরির পরিকল্পনা করা হয় ২০০৩ সালে। ২০০৬ সাল থেকে এই বিমানবন্দরের কাজ শুরু হয়। ২০১৪ সাল থেকে এর যাত্রা শুরু হয়। বছরে প্রায় ৩০ মিলিয়ন যাত্রী এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করে থাকে। এটি স্থাপত্যের দিক থেকে অন্যতম সেরা। এটিকে বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল বিমানবন্দর হিসেবেও ভাবা হয়। ২০১৮ সালে এটি মধ্যপ্রাচ্যের সেরা বিমানবন্দর হিসেবে নির্বাচিত হয়। এটিতে ২টি টার্মিনাল এবং ২টি রানওয়ে রয়েছে।



৪. হংকং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (হংকং)

বিশ্বের প্রায় ২২০টি গন্তব্যে হংকং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে প্লেন ছেড়ে যায়। এটি বিশ্বের সেরা ট্রানজিট এয়ারপোর্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলো। ২০১৮ সালে এটি ডাইনিং সুবিধার জন্য সেরা বিমানবন্দর হিসেবে নির্বাচিত হয়। বিমানবন্দরটিতে ২টি টার্মিনাল এবং ৩টি রানওয়ে সিস্টেম রয়েছে। এটি ১২৫৫ হেক্টর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। ‘হংকং এয়ার অথরিটি’ দ্বারা এর পরিচালনা করা হয়।



৩. টোকিও হানেডা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (জাপান)

এটি টোকিও স্টেশন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এশিয়ার দ্বিতীয় এবং ২০০৯ সালে বিশ্বের চতুর্থ ব্যস্ততম বিমানবন্দর এটি। টোকিও অ্যাভিয়েশন ব্যুরো, ভূমি অবকাঠামো ও পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল এই বিমানবন্দরটি পরিচালনা করে থাকে।


এখানে মোট ৩টি টার্মিনাল রয়েছে। ১ নম্বর এবং ২ নম্বর টার্মিনাল দুটি আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াকওয়ে দ্বারা সংযুক্ত। ৩ নম্বর টার্মিনালটি ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে চালু করা হয়। এই বিমানবন্দরে মোট ৪টি রানওয়ে রয়েছে। এখানে ১১৫.৭ মিটার উচ্চতার একটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার রয়েছে। বছরে প্রায় ৬০ মিলিয়ন যাত্রী টোকিও হানেডা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ব্যবহার করেন। ২০১৮ সালে এটি বিশ্বের পরিচ্ছন্ন এবং বিশ্বের আভ্যন্তরীণ সেরা এয়ারপোর্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়।



২. ইঞ্চিয়ন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (দক্ষিণ কোরিয়া)

ইঞ্চিয়ন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর। ‘সিউল-ইঞ্চিয়ন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ হিসেবেও এটি পরিচিত। সিউল থেকে ৩২ মাইল দূরে এটির অবস্থান। পূর্বের গিম্পো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ২০০১ সালের মার্চ মাসে এই বিমানবন্দরটির যাত্রা শুরু হয়। এটি বিশ্বের ষষ্ঠ কার্গো বিমানবন্দর। এটি ২.৭ মিলিয়ন টন কার্গো বহনে সক্ষম। বিমানবন্দরটিতে দু'টি টার্মিনাল রয়েছে। ২০১৮ সালে এটি ওয়ার্ল্ডস বেস্ট এয়ারপোর্ট স্টাফ খেতাব লাভ করে।



১. চাঙ্গি এয়ারপোর্ট (সিঙ্গাপুর)

গত দুই দশকে চাঙ্গি এয়ারপোর্টটি ৯ বার বিশ্বের সেরা বিমানবন্দরের খেতাব অর্জন করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০০টি গন্তব্যে এই বিমানবন্দর থেকে প্লেন যাতায়াত করে। চাঙ্গি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে উত্তর-পূর্বে ১৭.২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এটি। চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপ এই বিমানবন্দর পরিচালনা করে।


৮০টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সপ্তাহে প্রায় ৫ হাজার উড্ডয়ন এবং অবতরণ হয় এই বিমানবন্দরে। ২০১৭ সালে বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের ৬০ মিলিয়ন যাত্রী এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করে। এটি কানটাস এয়ারওয়েজ এর দ্বিতীয় প্রধান কেন্দ্র। কানটাস এয়ারওয়েজ এই বিমানবন্দরের সবচেয়ে বড় বিদেশি এয়ারলাইন্স। এই বিমানবন্দরটিতে ৪টি টার্মিনাল রয়েছে।


চতুর্থ টার্মিনালটি পরিচালিত হয় অটোমেশন পদ্ধতিতে। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ইমিগ্রেশন পদ্ধতি অটোমেশনের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়। বিমানবন্দরটিতে চব্বিশ ঘণ্টা আপডেটেড ব্লকবাস্টার সিনেমা প্রদর্শিত হয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে এই বিমানবন্দরটি ৫০০ এরও অধিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। চাঙ্গি বিমানবন্দরের ছাদে রয়েছে সুইমিংপুল। এয়ারপোর্ট জুড়ে রয়েছে সানফ্লাওয়ার গার্ডেন। কয়েক’শ প্রজাপতি নিয়ে রয়েছে বাটারফ্লাই গার্ডেন। আর এই এয়ারপোর্টের খাবার নিমেষেই জিভে জল এনে দেয়।



বন্ধুরা আপনাদের কেমন লাগলো,সেটি কমেন্টের মাধ্যমে জানান,ভিডিওটি ভালো লাগলে, একটি লাইক দিন, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। নিত্যনতুন, রহস্য রোমাঞ্চ ভরা তথ্যবহুল ভিডিও পেতে, বেল আইকন ক্লিক করে রাখুন।  Subscribe Now

 

]]>
Fri, 29 Jul 2022 22:18:45 +0600 BD124.com
বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকা প্রকাশ https://bd124.com/post-198 https://bd124.com/post-198

বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর ধনী ১% মানুষের যত সম্পদ আছে তা পৃথিবীর বাকি ৯৯% মানুষের মোট সম্পদের চাইতেও বেশী। সাধারণ মানুষের মাঝে সেই ১ ভাগ মানুষদের নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই।


সেই আগ্রহের ভিত্তিতেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট বছর বছর প্রকাশ করে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তির তালিকা। তেমনই দুইটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ফোর্বস(Forbes) এর “রিয়েল টাইম বিলিয়নিয়ার” এবং ব্লুম্বার্গের(Bloomberg) এর প্রকাশিত


“বিশ্বের ১০০ জন ধনী ব্যক্তি” নামক রিপোর্ট এর ভিত্তিতে আমরা আলোচনা করবো পৃথিবীর শীর্ষ ১০ ধনী মানুষ সম্পর্কে। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক সেই সব সিংহাসন এবং মুকুট বিহীন সম্রাটদের পরিচয় ও সম্পদ পরিমাণ।


১০। স্টিভ বল্মারঃ


আমেরিকার মিশিগানে থাকা এই ব্যাবসায়ী রয়েছেন ধনীদের তালিকায় দশম অবস্থানে আছেন ৯৮ বিলিয়ন সম্পদ নিয়ে। বিভিন্ন ব্যাবসার সাথে সংযুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি মাইক্রোসফটের একজন ইনভেস্টর । তিনি মাইক্রোসফটে সাবেক সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


৯। ল্যারি এলিসনঃ

ল্যারি এলিসন সফটওয়্যার কোম্পানি ওরাকলের নির্মাতা ও প্রাক্তন সি ই ও। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০১ বিলিয়ন। তার কোম্পানি অনেক সফটওয়্যার বানিয়ে বিশ্বকে টেকনোলজির দিক থেকে অনেক দূরে নিয়ে এসেছে।


মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এর ডাটাবেজও এলিসনের তৈরি করা। তিনি একজন বড় মনের দাতাও বটে। তিনি পড়াশোনার উন্নতির জন্য কোটি কোটি টাকা দান করেছেন।


৮। ওয়ারেন বাফেটঃ

ওয়ারেন বাফেট এই সময়ের একজজ জনপ্রিয় উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বক্তা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০৫ বিলিয়ন ডলার। তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে তার প্রথম বিনিয়োগ করেন। তার এখন ৬০ টিরও বেশী কোম্পানি রয়েছে। 


৭। সার্জি ব্রায়ান

১১১ বিলিয়ন ডলার নিয়ে সার্জি ব্রায়ান বিশ্বের সপ্তম শীর্ষ ধনী মানুষ। তিনি গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৫ সালে স্টেন ফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা কালীন সময় বন্ধু ল্যারি পেজের সাথে মিলে প্রতিষ্ঠত করেন একটি ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন।


৬। ল্যারি পেজঃ

১১৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে আছেন ধনীদের তালিকায় ৬ নাম্বারে । তাঁর প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছে যতটা পরিচিত তিনি ঠিক ততটাই আড়াল রেখেছেন নিজেকে।

ক্যালিফরনিয়া নিবাসী এই তরুণ উদ্যোগতা তাঁর বন্ধুকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন আপনাদের সবার পছন্দের “গুগল” । ১৯৯৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি এবং তাঁর বন্ধু সার্জি ব্রায়ন একটি সার্চ ইঞ্জিন তৈরির পরিকল্পনা করেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি গুগলের সিইওর দায়িত্ব পালন করেন।


৫। মার্ক জুকারবার্গঃ

জুকারবার্গ ফেসবুকের একজন উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন ডলার। মার্ক জুকারবার্গ সবচেয়ে কম বয়সে বিলিয়নিয়ার হওয়া মানুষ দের মধ্যে একজন।

তার কলেজের ক্যাম্পাসে ছোট পরিসরে তিনি ফেসবুক চালু করেন আজকে ফেসবুক বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হয়ে গিয়েছে।



৪। বিল গেটসঃ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪৮ বিলিয়ন ডলার নিয়ে আছেন শীর্ষ ধনীর তালিকায় চার নাম্বারে।টেকনোলজি বিপ্লবের প্রথম দিকে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীর পদটি দখল করে ছিলেন অনেক দিন।

এখনও সবচেয়ে ধনী মানুষের নাম আসলে সবার মুখে বিল গেটস এর নাম চলে আসে। ১৯৭৫ সালে বিল গেটস ও পল এলেন মাইক্রোসফট শুরু করেন। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাইক্রোসফটের ম্যানাজিং ডিরেক্টর পদে ছিলেন। এখন তিনি একজন বোর্ড মেম্বার হিসেবে আছেন। তিনি এখন অনেক রকম সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত আছেন।



৩। বার্নার্ড আর্নল্টঃ

বিশ্বের সবথেকে ধনী মানুষদের তালিকায় ৩য় স্থানে আছেন ফ্রান্সের প্যারিস থাকা বিশ্বের খ্যাতনামা ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান লুই ভিটনের সি ই ও আর্নল্ট । তাঁর এবং পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬৯ বিলিয়ন ডলার।

তাঁর আয়ের বিভিন্ন উৎস রহেছে এর মাঝে সিংহ ভাগ আসে কসমেটিক্স এবং ফ্যাশন নির্ভর ব্যাবসা থেকে। তিনি তার জীবনের প্রথমে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। এরপর নিজের পরিবারের ব্যবসায় ডিরেক্টর পদে অংশগ্রহন করে আজকে বর্তমান পৃথিবীর সেরা ধনীদের একজন।



২। জেফ বেজোসঃ

বিশ্বের ধনী ব্যক্তির তালিকায় জেফ বেজোসকে পিছনে ফেলে কিছুদিন আগেই এক নাম্বারে উঠে এসেছেন ইলন মাস্ক।

বিশ্বের ২য় ধনী জেফ বেজোস, বয়স ৫৮ , আমেরিকার সিএটেল এর বাসিন্দা।

জেফ বেজোস
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইকমার্স ওয়েবসাইট এমাজনের উদ্যোক্তা ও সিইও জেফ বেজোস কিছুদিন আগেও ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯৫ বিলিয়ন ডলার। আজকের ডলারের রেট অনুযায়ী ১ বিলিয়ন ডলার = ৮৪,৭৩৭,৫১০,০০০.০০ টাকা।এবার নিজে তার অর্থের পরিমাণ বের করে ফেলুন।



১। ইলন মাস্কঃ

আপনি যখনই এই ভিডিওটি দেখতে শুরু করেছেন তখনই আপনার মাথায় যে, প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল তা হচ্ছে বর্তমানে ২০২২ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে? আপনার উত্তর হচ্ছে ইলন মাস্ক। এলন মাস্কের।


৫০ বছর বয়সী এই দারুন প্রতিভাবান মানুষটি বর্তমানে রয়েছেন বিশ্বের সের ১০ ধনীর তালিকার ১ম নাম্বারে।


খুব ছোটবেলায় লোকটির জীবনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। দুটি ঘটনার একটি আনন্দের, অপরটি কষ্টের। ১৯৮৪ সালে তাঁর বয়স যখন ১২ বছর, তখন তিনি ‘ব্লাস্টার’ নামে একটি ভিডিও গেম নির্মাণ করেন এবং কোন এক ম্যাগাজিনের কাছে সেই গেম বিক্রি করে ৫০০ ডলার আয় করেন। কষ্টের ঘটনাটি হচ্ছে, কিছু দুষ্টু ছেলে তাকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দেয় এবং পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে চলে যায়। ১২ বছর বয়সেই ভিডিও গেম নির্মাণ করা সেই বিস্ময় বালক হলেন আজকের বিখ্যাত ইলন মাস্ক।


চলতি বছরের ১১ মার্চ পর্যন্ত, ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২১৯ বিলিয়ন ডলার ছিল। কারণ গত বছর বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ার দর ৩৩ শতাংশ বাড়ায় ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ৬৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ জেফ বেজোসের তুলনায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার বেশি। খুচরা জায়ান্ট অ্যামাজন এর শেয়ার ৩ শতাংশ কমে যাওয়ায় জেফ বেজোস চার বছরে প্রথমবারের মতো তালিকার দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছেন। এছাড়া দাতব্য দান বাড়ানোর কারণে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ বিলিয়ন কমে গেছে।



 

এই হচ্ছে বর্তমানে বিশ্বের সের ১০ ধনী মানুষের তালিকা ২০২২। এবং তাদের সম্পর্কে সামান্য পরিচিতি। তাদের জীবনের অনুপ্রেরণা মূলক গল্প , তাদের মোটিভেশনাল উক্তি , এবং জীবনী আমরা সাইটে প্রকাশ করছি। যা আপনারা উপরের লিংক গুলোতে পাবেন।


 

]]>
Thu, 28 Jul 2022 22:45:03 +0600 BD124.com
মানব সৃষ্টি সম্পর্কে ইসলাম ও বিজ্ঞানের ভাষ্য https://bd124.com/post-197 https://bd124.com/post-197

মানবজাতির সৃষ্টি হওয়ার রহস্য >

পৃথিবীর সব কিছু সৃষ্টির মূল উপাদান পানি। এই মৌলিক উপাদান পৃথিবীর সব জীবদেহের মধ্যে বিদ্যমান। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি থেকে’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৩০)। জীববিজ্ঞানের মতে, সাগরের অভ্যন্তরের পানিতে যে প্রটোপ্লাজম বা জীবনের আদিম মূলীভূত উপাদান রয়েছে তা থেকেই সব জীবের সৃষ্টি।


আবার সব জীবদেহ কোষ দ্বারা গঠিত। আর এই কোষ গঠনের মূল উপাদান হচ্ছে পানি। ভিন্নমতে, পানি অর্থ শুক্র। (কুরতুবি) তা ছাড়া আকাশ ও পৃথিবী বন্ধ ছিল, অর্থাৎ আগে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হতো না এবং জমিনে তরুলতা জন্মাত না। আল্লাহর ইচ্ছায় বৃষ্টি বর্ষিত হলো এবং মাটি তা থেকে উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করে। (ইবনে আব্বাস)


পৃথিবীর জীবকোষের মূল উপাদান যেমন পানি, তেমনি এই পানিই মাটির উৎপাদন ক্ষমতা লাভের প্রধান উপাদান। মহান আল্লাহ এই ধরণিতে মাটি থেকে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করেন এবং তারপর তা থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এই মানবজাতি। মহান আল্লাহর ভাষায়, ‘হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। আর তোমাদের বিভিন্ন বংশ ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যেন তোমরা পরস্পরে পরিচিতি লাভ করতে পারো। ’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১৩)


আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে ‘মানব ক্লোন’। এই ক্লোন পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দিতে গেলে পুরুষের জীবকোষের প্রয়োজন। অর্থাৎ একজন পুরুষের জীবকোষ বা শুক্রাণু ব্যতীত একজন নারী সন্তান জন্মদানে অক্ষম। কেননা নারীর ডিম্বাণু ক্রমোজম (XX) ও পুরুষের শুক্রাণু ক্রমোজম (SY) পুত্র-কন্যা সন্তান গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।


এখানে ঈসা (আ.)-এর জন্ম সম্পর্কে প্রশ্ন হতে পারে, কিন্তু মহান আল্লাহ এ প্রশ্নের সমাধান পবিত্র কোরআনে যথাযথভাবে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত হচ্ছে আদমেরই মতো। তাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন অতঃপর তাকে বলেছিলেন, হয়ে যাও, সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেল। ’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৫৯) আদি মানব-মানবী ও তাদের সন্তান সৃষ্টির পূর্ব ও পরের রহস্য নিয়ে নিম্নে আলোকপাত করার প্রয়াস পাব, ইনশাআল্লাহ।


মানব সৃষ্টির আদি কথা > 

আদি পিতা আদম (আ.)-এর সৃষ্টি নিয়ে বিভিন্ন বস্তুবাদী গবেষক, দার্শনিক নানা বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছেন। যেমন—আদি মানব সম্প্রদায় বানর ছিল! কালের আবর্তনে পর্যায়ক্রমে বানর থেকে মানবে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বর্তমান যুগে কি বিশ্বের কোথাও একটি বানর মানবে রূপান্তরিত হয়ে জীবন যাপন করছে? কিংবা কোনো বানরের গর্ভ থেকে মানব সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে ও বেঁচে আছে? এর জবাব হলো নেতিবাচক। এটা সকলের জানা। আদি মানব কী বস্তু থেকে সৃষ্টি তা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে ‘কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা। ’ (সুরা সাজদাহ, আয়াত : ৭),


অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আমি মানবের পচা কাদা থেকে তৈরি বিশুদ্ধ ঠনঠনে মাটি। ’ (সুরা হিজর, আয়াত : ২৬)  অন্য আয়াতে এসেছে, ‘পোড়া মাটির মতো শুষ্ক মাটি থেকে (মানুষকে) সৃষ্টি করেছি। ’ (সুরা আর-রহমান, আয়াত : ১৪) 


আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। ’ (সুরা সোয়াদ, আয়াত : ৭৫) আদম (আ.) মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি। কিন্তু মা হাওয়া (আ.) কী দিয়ে সৃষ্টি—সে সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তিনি তার (আদম) থেকে তার যুগল (হাওয়াকে) সৃষ্টি করেছেন। ’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৬)


অন্যত্র বলেন, ‘তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীকে, তোমাদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। ’ (সুরা রুম, আয়াত : ২১)  মহান আল্লাহ আদম (আ.)-এর পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে মা হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে।


আর পাঁজরের হাড়ের মধ্যে একেবারে ওপরের হাড়টি অধিক বাঁকা। যদি তা সোজা করতে যাও, ভেঙে ফেলবে। আর যদি তা ছেড়ে দাও, তবে সব সময় বাঁকাই থাকবে। সুতরাং তোমরা নারীর সঙ্গে উত্তম ও উপদেশমূলক কথাবার্তা বলবে। ’ (বুখারি হাদিস : ৩০৮৫)


পৃথিবীতে প্রথম মানব আদম (আ.) মাটি থেকে এবং প্রথম মানবী হাওয়া (আ.) আদমের পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি। এতদ্ব্যতীত সকল মানব-মানবী এক ফোঁটা অপবিত্র তরল পদার্থ (বীর্য) থেকে অদ্যাবধি সৃষ্টি হয়ে চলেছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।


এরপর বীর্য থেকে, জমাট বাঁধা রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণ আকৃতি ও অপূর্ণ আকৃতি বিশিষ্ট গোশতপিণ্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করি। ’ (সুরা হজ্জ, আয়াত : ৫) এভাবে আজও মানব বংশবিস্তার অব্যাহত আছে বিবাহ-বন্ধন ও স্বামী-স্ত্রীর মিলন ব্যবস্থার মাধ্যমে, যাতে মহান আল্লাহর মহৎ উদ্দেশ্য সফল হয়।



মানবীয় মর্যাদার বিভিন্ন দিক >

মানবীয় মর্যাদার বিভিন্ন দিক আছে। প্রথমত, যে আকার-আকৃতি ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক কাঠামো মহান আল্লাহ মানুষকে দান করেছেন, তা অন্য কোনো সৃষ্টবস্তুকে দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয়ত, যে জ্ঞান মানুষকে দেওয়া হয়েছে, যার দ্বারা তারা নিজেদের জীবন গতিশীল করার জন্য নিত্যনতুন বস্তু আবিষ্কার করেছে, অন্য কোনো সৃষ্টবস্তুকে তা দেওয়া হয়নি। তৃতীয়ত, মানুষকে আসমানি ওহি দেওয়া হয়েছে।


এই জ্ঞান দিয়ে তারা কল্যাণ-অকল্যাণ, উপকারী-অপকারী ও ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম। চতুর্থত, মানুষকে একধরনের বিশেষ জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সে আল্লাহর অন্য সৃষ্টবস্তু থেকে উপকৃত হতে ও বশে রাখতে সক্ষম।


আল্লাহর কিছু সৃষ্টবস্তু এমন আছে, যেগুলোর শক্তিমত্তার কথা ভেবেও মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ়। অথচ মহান আল্লাহ সেগুলোও মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন। যেমন—চাঁদ, সূর্য, বাতাস, পানি মানুষের বশে নেই, কিন্তু দিব্যি এগুলো মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত।


মানুষের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হলো, তিনি তাকে বিশেষ দেহ-কাঠামো দান করেছেন। সুন্দর চেহারা, সুষম দেহ, উপযুক্ত প্রকৃতি ও অঙ্গসৌষ্ঠব আল্লাহর বিশেষ দান। ইরশাদ হয়েছে, ‘অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে। ’ (সুরা ত্বিন, আয়াত : ৪)


মানুষকে দুই পায়ে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছ। হাত দিয়ে খাওয়ার শক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্য প্রাণীরা চার পায়ে হাঁটে। মুখ দিয়ে খায়। মানুষকে যে চোখ, কান ও অন্তর দেওয়া হয়েছে, মানুষ এসব সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে।


গর্ভে সন্তান গঠনের রহস্য >

গর্ভে সন্তান গঠনের চক্র সাধারণত দীর্ঘ ২৮০ দিন যাবত চলতে থাকে। যা ৪০ দিন অন্তর সুনির্দিষ্ট সাতটি চক্রে বিভক্ত। নারী-পুরুষের যৌন মিলনের সময় নারীর ডিম্বনালির ফানেলের মতো অংশে ডিম্বাণু নেমে আসে। ওই সময় পুরুষের নিক্ষিপ্ত বীর্যের শুক্রাণু জরায়ু বেয়ে ওপরে উঠে আসে এবং তা ডিম্বনালিতে প্রবেশ করে।


প্রথমে একটি শক্তিশালী শুক্রাণু ডিম্বাণুটির দেহে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে অন্য কোনো শুক্রাণু প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে নারীর ডিম্বাণু নিষিক্ত (Fertilization) হয় এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুটি জরায়ুতে নেমে প্রোথিত (Embedded) হয়। (গাইনোকলজি শিক্ষা, পৃষ্ঠা : ২২)


তা ছাড়া নারীর ডিম্বাণুর বহিরাবরণে প্রচুর সিয়ালাইল-লুইস-এক্সসিকোয়েন্স নামের চিনির অণুর আঠালো শিকল শুক্রাণুকে যুক্ত করে পরস্পর মিলিত হয়। আর এই শুক্রাণু দেখতে ঠিক মাথা মোটা ঝুলে থাকা জোঁকের মতো। জোঁক যেমন মানুষের রক্ত চুষে খায়, শুক্রাণু ঠিক তেমনি ডিম্বাণুর মধ্যে প্রবেশ করে মায়ের রক্তে থাকা প্রোটিন চুষে বেড়ে ওঠে।


নিষিক্ত ডিম্বাণুটি সন্তান জন্মের রূপ নিলে সাধারণত নিম্নে ২১০ দিন ও ঊর্ধ্বে ২৮০ দিন জরায়ুতে অবস্থান করে। ওই সময়ের মধ্যে ডিম্বাশয়ে নতুন করে কোনো ডিম্বাণু প্রস্তুত হয় না। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমরা মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমরা তাকে শুক্রবিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত আধারে (জরায়ুতে) স্থাপন করেছি।


এরপর শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে গোশতপিণ্ডে পরিণত করেছি, এরপর গোশতপিণ্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে গোশত দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুনরূপে করেছি। ’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ১২-১৪)


তিনি আরো বলেন, ‘এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত, অতঃপর আমরা একে গঠন করেছি পরিমিতভাবে, আমরা কত সুনিপুণ স্রষ্টা। ’ (সুরা মুরসালাত, আয়াত : ২২-২৩)।


আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন এবং তাতে রুহ সঞ্চার করেন। ’ (সুরা সাজদাহ, আয়াত : ৯)


এখানে মানব সৃষ্টির সাতটি স্তর উল্লেখ করা হয়েছে। স্তরগুলো হলো মাটির সারাংশ, বীর্য, জমাট রক্ত, গোশতপিণ্ড, অস্থি পিঞ্জর, অস্থিতে গোশত দ্বারা আবৃত্তকরণ ও সৃষ্টির পূর্ণত্ব অর্থাৎ রুহ সংহারণ। (তাফসিরে মা’আরেফুল কুরআন, পৃষ্ঠা ৯১৪)


রাসুলুল্লাহ (সা.) মাতৃগর্ভে মানবশিশু জন্মের স্তর সম্পর্কে এভাবে বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান আপন মাতৃগর্ভে বীর্যের আকারে ৪০ দিন, জমাট বাঁধা রক্তে পরিণত হয়ে ৪০ দিন, গোশত আকারে ৪০ দিন। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে পাঠান এবং চারটি বিষয়ে আদেশ দেন যে, তার (শিশুর) আমল, রিজিক, আয়ুষ্কাল ও ভালো না মন্দ—সব লিপিবদ্ধ করো। অতঃপর তার মধ্যে রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়। ’ (বুখারি, হাদিস : ২৯৬৮)


অন্যত্র এসেছে, ‘আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফেরেশতা মোতায়েন করেন। ফেরেশতা বলেন, হে রব! এখনো তো ভ্রূণ মাত্র। হে রব! এখন জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। হে রব! এবার গোশতের টুকরায় পরিণত হয়েছে।


আল্লাহ যদি তাকে সৃষ্টি করতে চান, তখন ফেরেশতাটি বলেন, হে আমার রব! (সন্তানটি) ছেলে না মেয়ে হবে, পাপী না নেককার, রিজক কী পরিমাণ ও আয়ুষ্কাল কত হবে? অতএব এভাবে তার তাকদির মাতৃগর্ভে লিপিবদ্ধ করে দেওয়া হয়। ’ (বুখারি, হাদিস : ৩০৮৭)


নারী ও পুরুষের বীর্যের সংমিশ্রণ ঘুরতে থাকে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর চতুর্দিকে একটি আবরণের সৃষ্টি হয়। যাতে করে ভ্রূণটি ধ্বংস হতে না পারে। এরপর আস্তে আস্তে একবিন্দু রক্তকণায় পরিণত হয় এবং সেই রক্তকণা গোশতপিণ্ডে ও অস্থিমজ্জায় পরিণত হয়, এভাবেই সৃষ্টি হয় মানবশিশু। (মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, বিজ্ঞান না কুরআন, পৃষ্ঠা ১০৯-১১০)


মাতৃগর্ভে শিশুকে সংরক্ষণের জন্য মাতৃজঠরের তিনটি পর্দা বা স্তরের কথা কোরআনে বলা হয়েছে। যথা—পেট বা গর্ভ, রেহেম বা জরায়ু এবং ভ্রূণের আবরণ বা ভ্রূণের ঝিল্লি গর্ভফুল (Placenta)


এই তিন স্তর সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভে—পর্যায়ক্রমে, একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে। ’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৩৯/৬)


আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে পবিত্র কোরআনে যে ‘ত্রিবিধ অন্ধকারের’ কথা বলা হয়েছে। এই তিনটি অন্ধকার হলো, ১. রেহেম, ২. মাশীমা বা গর্ভফুল এবং ৩. মায়ের পেট।


রেহেমে রক্তপিণ্ড ছাড়া সন্তানের আকার-আকৃতি কিছুই তৈরি হয় না। আর গর্ভফুল (Placenta) ভ্রূণ বৃদ্ধি, সংরক্ষণ, প্রতিরোধ ইত্যাদি কাজে অন্যতম ভূমিকা রাখে। গর্ভফুল মায়ের শরীর থেকে রক্তের মাধ্যমে নানা পুষ্টি ভ্রূণের দেহে বহন করে, খুব ধীর গতিতে রেচন পদার্থ মায়ের দেহের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।


গর্ভফুলের সাহায্যে ভ্রূণ অক্সিজেন (02) গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ত্যাগ করে মায়ের ফুসফুসের মাধ্যমে, জীবাণু (Infection) থেকে ভ্রূণকে রক্ষা করে। এ ছাড়া ভ্রূণটি ঠিকমতো জরায়ুতে আটকে রাখা, পুষ্টি সঞ্চয়, সম্পর্ক রক্ষা, হরমোন সৃষ্টি ইত্যাদি কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখে।


এভাবে ভ্রূণটি জরায়ুতে বেড়ে উঠতে থাকে ও ১২০ দিন অতিবাহিত হলে শিশুর রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়। আর শিশু নড়েচড়ে ওঠে ও আঙুল চুষতে থাকে এবং পূর্ণ-পরিণত হওয়ার পরে সেখান থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়। (সুরা আবাসা, আয়াত : ১৮-২০)


পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘ঠেলে দেওয়া হয়। ’ অর্থাৎ ২১০ দিন পর একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার উপযুক্ত হয়। আর সন্তানটির যখন ভূমিষ্ঠ হওয়ার উপযুক্ত সময় হয়ে যায়, তখন Overy-Placenta থেকে একধরনের গ্রন্থিরস নিঃসৃত হয়, যা প্রসব পথ পিচ্ছিল ও জরায়ুর মুখ ঢিলা করে দেয়। আর মানব সন্তান ওই সময় বিভিন্নভাবে নড়াচড়া করতে থাকে এবং প্রসব পথ পিচ্ছিল থাকায় বাচ্চা অনায়াসে বেরিয়ে আসে। সবচেয়ে মজার কথা হলো মানবশিশুর যে অঙ্গ সর্বপ্রথম গঠিত হয় তা হলো কর্ণ। আর সন্তান গর্ভে ধারণ


আর সন্তান গর্ভে ধারণের ২১০ দিন পর চক্ষু গঠিত হয় এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মানবশিশুতে পরিণত হয়।


পুত্র-কন্যাসন্তান সৃষ্টির রহস্য > 

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদের পুত্র-কন্যা উভয় দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। ’ (সুরা শুরা, আয়াত : ৪৯-৫০)


এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পুরুষের বীর্য স্ত্রীর বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করলে পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। আবার স্ত্রীর বীর্য পুরুষের বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করলে কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। ’ (মুসলিম, মিশকাত, হাদিস : ৪৩৪)


আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের মতে, জরায়ুতে যদি কন্যা ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, তাহলে করটিকস কম্পোন্যান্টগুলো (Cortics Componant) বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকে এবং মেডুলার কম্পোন্যান্টগুলো (Medullar Componant) কমতে থাকে। পক্ষান্তরে জরায়ুতে যদি পুত্র ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, তাহলে করটিকস কম্পোন্যান্টগুলো (Cortics Componant)


কমতে থাকে এবং মেডুলার কম্পোন্যান্টগুলো (Medullar Componant) বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাকে। তা ছাড়া মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট ২৩ জোড়া ক্রমোজম থাকে। তন্মধ্যে ২২ ঝোড়া অটোজম এবং এক জোড়া সেক্স (Sex) ক্রমোজম।


নারীর ডিম্বাণুতে XX ক্রমোজোম এবং পুরুষের শুক্রাণুতে XY ক্রমোজম থাকে। সুতরাং নারীর ডিম্বাণুর X ক্রমোজমকে যদি পুরুষের শুক্রাণুর X ক্রমোজম নিষিক্ত করে, তবে জাইগোটের ক্রমোজম হবে XX এবং কন্যাসন্তানের জন্ম হবে।


পক্ষান্তরে নারীর ডিম্বাণুর X ক্রমোজমকে যদি পুরুষের শুক্রাণুর Y ক্রমোজম নিষিক্ত করে, তবে জাইগোটের ক্রমোজম হবে XY এবং পুত্রসন্তান জন্ম হবে। [মাধ্যমিক সাধারণ বিজ্ঞান, জীবকোষের গঠন ও প্রকৃতি অধ্যায়, (ঢাকা : নব পুথিঘর প্রকাশনী), পৃষ্ঠা : ১৬১]


মোদ্দাকথা, যখন ডিম্বাণুর ও শুক্রাণুর জাইগোটের ক্রমোজম একই গোত্রীয় (XX) হয়, তখন কন্যাসন্তান এবং যখন ডিম্বাণুর ও শুক্রাণুর জাইগোটের ক্রমোজম একই গোত্রীয় (XY) না হয়, তখন পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। [J.N. Ghoshal, Anatomy Physiology, (Calcata print) P. 479]


অতএব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নির্ভর করে পুরুষের দেহে উৎপন্ন শুক্রাণুর ওপর। আর যমজ সন্তান জন্মদানের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা স্ত্রীর। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, নারীর ডিম্বাশয় থেকে যখন একটি ডিম্বাণু জরায়ুতে নেমে আসে, তখন একটি শক্তিশালী শুক্রাণু তাতে প্রবেশ করে একটি সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু যদি দুটি ডিম্বাণু জরায়ুতে নেমে আসে, তখন দুটি শক্তিশালী শুক্রাণু তাতে আলাদা আলাদা প্রবেশ করে। ফলে যমজ সন্তানের জন্ম হয়। (গাইনোকলজি শিক্ষা, পৃষ্ঠা ১৫)


আবার সন্তানের আকৃতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পুরুষ যখন স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করে তখন যদি পুরুষের বীর্য প্রথমে স্থলিত হয়, তাহলে সন্তান পিতার আকৃতি পায়। পক্ষান্তরে যদি স্ত্রীর বীর্য প্রথমে স্থলিত হয়, তাহলে সন্তান মায়ের আকৃতি লাভ করে। ’ (বুখারি, হাদিস : ৩০৮৩) এভাবেই সন্তান সৃষ্টির গূঢ় রহস্য বেরিয়ে এসেছে।


শেষ কথা > 

আল্লাহ তাআলা সুনিপুণ করে সুন্দর আকৃতিতে মনোরম কাঠামোতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আধুনিক বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন গবেষণা করে আল্লাহর সৃষ্টির নিগূঢ় রহস্য উদ্যাটন করে চলেছে। এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা! তোমরা গবেষণা ও শিক্ষা গ্রহণ করো। ’ (সুরা হাশর, আয়াত : ২)


যুগে যুগে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে মানুষ সৃষ্টির চেয়ে মহাকাশ সৃষ্টিকে অতীব বিস্ময়কর মনে করেছেন। দিন দিন নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কারে বিস্মিত হয়েছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তা উপলব্ধি করে না। ’ (সুরা মুমিন, আয়াত : ৫৭)


আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করার অনুমতি আছে। আমাদের সবার উচিত আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করে মহত্ত্ব ঘোষণা করা। বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে নতুন নতুন তথ্য উদ্ধার করছেন। অথচ অনেক আগেই এই তথ্য মানব কল্যাণে মহান আল্লাহ তাঁর রাসুলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন।


বলা যেতে পারে, কোরআনই সুশৃঙ্খল কল্যাণকর অকৃত্রিম বিস্ময়কর এলাহি বিজ্ঞান এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বকালের যুগশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তা উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



 

]]>
Fri, 22 Jul 2022 17:39:02 +0600 BD124.com
পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে কত বছর আগে বা মানুষ কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল? https://bd124.com/post-196 https://bd124.com/post-196

পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে কত বছর আগে বা মানুষ কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল?

এমন কোন ঘটনা ঘটেছিল যার জন্য পৃথিবীর এরকম একটা গঠন তৈরি হলো তাহলে চলুন সময়ের অনেকটা অতীতে ফিরে যাওয়া যাক । আর পৃথিবীর উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল সেই রহস্যের উপর থেকে পদ্মা আমরা এখন প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে তখন এখানে ছিল কেবল মাত্র পাথর আর পাথর । মেকে মহাকর্ষ বল এক জায়গায় একত্রিত করেছিল তাই মেঘের বেশিরভাগ অংশ একই জায়গায় এসে একত্রিত হয়েছিল । এই মেঘের অংশগুলি পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে একটা নক্ষত্রের জন্ম দেয় ।


আর তারপরে ধীরে ধীরে সূর্য তৈরি হয় এই মেঘের মধ্যে থাকা ৯৯.৯% ধূলিকণা কে নিজের মধ্যে নিয়ে নেয় ।আর বাকি ধারণ করে তারপর সূর্যের চারপাশে পাথরের টুকরো প্রদক্ষিণ করতে থাকে এখনো পর্যন্ত কোন গ্রহের সৃষ্টি হয়নি । কিন্তু ধীরে ধীরে আজ থেকে ৪৫০ কোটি বছর আগে সূর্যের চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ধুলোর পাথরের টুকরো মহাকর্ষ বলের কারণে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হচ্ছিল । আর কয়েক লক্ষ কোটি বছর কেটে যাওয়ার পর এই পাথরের টুকরো মিলে একটা গোলাকার আকার ধারণ করে ।


এর মধ্যে একটা পাথরের সূর্য থেকে একটা বিশেষ জায়গায় পৃথিবী তখন আমাদের পৃথিবী ছিল একটি আগুনের মতন কল্পনা করা মুশকিল ছিল । যে সে দিনের সেই পৃথিবী আজ একটা বসবাসযোগ্য গ্রহ পরিণত হবে যখন পৃথিবী সৃষ্টি হয় তখন তার অবস্থানকে চেয়েও খারাপ ছিল ।


তখন যদি এসপেস ছাড়া আমরা এই পৃথিবীতে নামতাম তাহলে আমাদের শরীর জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যেত । তখন পৃথিবীর পুরোভাগে পরিপূর্ণ ছিল সেখানে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা তো দূরের কথা তারা খাড়া হওয়া সাধ্য ছিল না । পৃথিবীতে তখন কোন বায়ুমণ্ডল ছিলনা ছিলনা কোন স্থিতিশীল জলবায়ু কিন্তু আজ থেকে ৪৫০ কোটি বছর আগে আমাদের পৃথিবীতে এমন একটা ঘটনা ঘটে যে আমাদের পৃথিবীতে সম্পূর্ণ বদলে দেয় ।


তখন ব্রহ্মাণ্ডের অন্য একটা গ্রহ পৃথিবী ধ্বংস করে দেয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল তারা ছিল মঙ্গলগ্রহের মতই কিন্তু কেউ জানত না যে পরবর্তীকালে এই ঘটনায় পৃথিবীর জন্য ভালো হবে । যার জন্য পৃথিবীর সম্পূর্ণ বদল ঘটতে চলেছে তার প্রতি সেকেন্ডে ১৫ কিলোমিটার গতিবেগে সেটা পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে এই গোটা পৃথিবীতে এসে ধাক্কা দেয় ।


এই সংঘর্ষের ফলে হালকা ব্রহ্মান্ডে ছড়িয়ে পড়ে আর পৃথিবীর চারদিকে পাথরের টুকরো ছড়িয়ে পড়ল এবং সেগুলো পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে এক টাকার ধারণ করল । পরবর্তীকালে মহাকর্ষ বলের জন্য সেগুলো একত্রিত হয়ে একটা গোলাকার পিণ্ড সৃষ্টি করলো


পৃথিবী কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল >


আমাদের চাঁদ সে সময় যদি পৃথিবীর সাথে এই ঘটনা ঘটত তাহলে আজ আমাদের চাদের কোনো অস্তিত্ব থাকত না । আর চাঁদ না থাকলে একটা স্থিতিশীল নিয়মিত জলবায়ুর পরিমণ্ডলে তৈরি হতো না ।পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন ঘটতো না ৪৫০ কোটি বছর আগে যাদের বয়স খুব একটা বেশি ছিল না ।


আর তখন পৃথিবী ছিল একটা নবগ্রহ তখন পৃথিবীতে ছিল শুধুই লভা r5v কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পর এই পৃথিবী ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে শুরু করল। কঠিন হতে শুরু করল কিন্তু নাইট্রোজেন কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের কারণে আমাদের পৃথিবীতে ছিল তখনও পর্যন্ত পৃথিবীর জীবজগতের বসবাসের উপযোগী ।


একটা মজবুত বাস্তুতন্ত্র তৈরি করে উঠতে পারেনি আর তখন পৃথিবীতে কোন চিহ্ন ছিল না ।এদিকে সৌরমণ্ডলের বিভিন্ন নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করছিল আর এই পরিবর্তনের জন্য সৌরমণ্ডলের গ্রহাণু উল্কাপিণ্ড এবং তাদের মধ্যে একটা মাধ্যাকর্ষণজনিত তৈরি হচ্ছিল ।


মানুষ কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল?

তখন সমুদ্রের গভীরে তাপমাত্রা অনেক কম ছিলো আর এখানে সূর্যের উষ্ণতা পৌঁছে ছিল না তারপর সমুদ্রের গভীরে থাকে এবং রাসায়নিক পদার্থগুলো মিলেমিশে তৈরি করে ।এগুলো ছিল এককোষী জীব এদের বলা যেতে পারে এগুলো কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিল ।


কিন্তু তারপরেই ব্যাকটেরিয়াগুলো সংখ্যায় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে যে ব্যাকটেরিয়া পরিপূর্ণ হয়ে যায় কোটি কোটি বছর পরে এই ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি পায় । তারা পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটা পাথরের মত বানিয়ে নেয় ।কিন্তু আজকের মত পৃথিবীতে ওঠার জন্য একটা বিশাল পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল আর তার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন অক্সিজেন আসবে কোথা থেকে ওই সময় সমুদ্রের গভীরে কিছু অদ্ভুত বিক্রিয়া করতে শুরু করে ।


এই ব্যাকটেরিয়াগুলো সূর্যের রশ্মি নিয়ে সেগুলো বিশ্লেষিত করে তা থেকে অক্সিজেন তৈরি করতে শুরু করে দেয় ।এভাবেই পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন তৈরি করত । তা যথেষ্ট ছিল না কিন্তু কোটি কোটি বছর ধরে যে অক্সিজেন তৈরি করেছিল তা নেহাত কম ছিল না ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অক্সিজেনের পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে ।


কিন্তু তারপরেও কয়েকশো কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে জীবনের কোনো অস্তিত্ব ছিলনা ।আর পৃথিবীতে এতটাই পরিপূর্ণ ছিল পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছিল কিন্তু কিছু কিছু বদল ঘটতে থাকে ফলে ভূপৃষ্ঠে চলাচল করতে শুরু করে তার ফলে সবাই পরস্পরের সাথে জুড়তে শুরু করে।


এবং সুপেরকন্টিনেন্ট তখন পৃথিবীর উষ্ণতা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিন্তু সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে আজ থেকে প্রায় ৭৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীর দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় । এরপর থেকেই ধীরে ধীরে পৃথিবীর অবস্থায় রূপান্তরিত হতে শুরু করে।

বন্ধুরা আপনাদের কেমন লাগলো,সেটি কমেন্টের মাধ্যমে জানান,ভিডিওটি ভালো লাগলে, একটি লাইক দিন, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। নিত্যনতুন, রহস্য রোমাঞ্চ ভরা তথ্যবহুল ভিডিও পেতে, বেল আইকন ক্লিক করে রাখুন।  Subscribe Now


মানুষ সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে জানুন 

 

]]>
Fri, 22 Jul 2022 16:52:27 +0600 BD124.com
ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার । লাইভ ক্রিকেট খেলা দেখার লিংক https://bd124.com/post-195 https://bd124.com/post-195

সরাসরি ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার । আপনি কি জানেন এরকম অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যা দিয়ে আপনি মোবাইলে ক্রিকেট খেলা দেখতে পারবেন? হ্যাঁ আজ আমি জানাবো আপনাদের এমন কিছু সফটওয়্যার ব্যাপারে যার মাধ্যমে আপনি যেখানে খুশি ইচ্ছে বসে ক্রিকেট খেলা দেখতে পারবেন লাইভ। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার সম্পর্কে।


আপনি যদি একজন খেলা ভক্ত মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে খেলা দেখার বিভিন্ন উপায় আপনার জানা থাকা দরকার। বর্তমানে বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলছে, আর আপনি খেলা মিস করবেন তা কি হয়? মোবাইলে খেলা দেখার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমনঃ আপনি বাইরে বা কাজের জন্য বাসায় থাকতে পারছেন না, এমনতাবস্থায় খেলা চললে আপনি বাইরে বসেই মোবাইলে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়াও আপনার বাড়িতে টিভি না থাকলে বা আপনি টিভিতে অভ্যস্ত না থাকলে মোবাইলেই খেলা উপভোগ করতে পারেন।


মোবাইলে খেলা দেখার উপায় । সরাসরি ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার ।


আপনি কি জানেন এরকম অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যা দিয়ে আপনি মোবাইলে ক্রিকেট খেলা দেখতে পারবেন? হ্যাঁ আজ আমি জানাবো আপনাদের এমন কিছু সফটওয়্যার ব্যাপারে যার মাধ্যমে আপনি যেখানে খুশি ইচ্ছে বসে ক্রিকেট খেলা দেখতে পারবেন লাইভ। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক বিভিন্ন ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার সম্পর্কে।


আপনি যদি একজন খেলা ভক্ত মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে খেলা দেখার বিভিন্ন উপায় আপনার জানা থাকা দরকার। বর্তমানে বিশ্বকাপ ক্রিকেট চলছে, আর আপনি খেলা মিস করবেন তা কি হয়? মোবাইলে খেলা দেখার অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমনঃ আপনি বাইরে বা কাজের জন্য বাসায় থাকতে পারছেন না, এমনতাবস্থায় খেলা চললে আপনি বাইরে বসেই মোবাইলে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়াও আপনার বাড়িতে টিভি না থাকলে বা আপনি টিভিতে অভ্যস্ত না থাকলে মোবাইলেই খেলা উপভোগ করতে পারেন।


এবার আসল কথায় আসি, মোবাইলে খেলা দেখার উপায়। বিভিন্ন ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি যেকোনো খেলা মোবাইলে লাইভ দেখতে পারবেন। অ্যাপ মোবাইলের প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে খেলা উপভোগ করবেন। লাইভ ক্রিকেট খেলা দেখার লিংক, সফটওয়্যার ও বিভিন্ন অ্যাপ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হয়েছে। ভালোভাবে ধারণা নিতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। 


লাইভ ক্রিকেট খেলা দেখার লিংক 

 


লাইভে ক্রিকেট খেলা দেখা অনেকের খুব পছন্দের। লাইভে না দেখলে খেলাই জমে ওঠে না অনেকের কাছে। হাতের কাছের এন্ড্রয়েডের মাধ্যমে খেলা দেখতে পারলে তো কথাই নাই। ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার রয়েছে। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হয়েছে। ক্রিকেট খেলা লাইভে দেখার লিংক রয়েছে যেগুলো দিয়ে আপনি ক্রিকেট খেলা উপভোগ করতে পারবেন। সরাসরি সম্প্রচারিত ক্রিকেট খেলা দেখার কয়েকটি লিংক নিচে দেওয়া হলঃ


ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার

ক্রিকেট খেলা দেখার মোবাইলে কিছু সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। আপনি চাইলেই মোবাইলে সেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে লাইভ খেলা উপভোগ করতে পারবেন। নিচে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত সফটওয়্যারগুলো দেওয়া হলো। আপনি চাইলে আপনার এন্ড্রয়েড মোবাইলে সফটওয়্যারগুলো দিয়ে লাইভ খেলা দেখতে পারবেন। খুব সহজ প্রক্রিয়া।

জাস্ট মোবাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে ফ্রিতে ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিবেন। ঝামেলা নেই, একদম সহজে এবং এবং ফ্রি তে আপনি খেলা দেখতে পারবেন। সবচেয়ে প্রিয় কয়েকটি ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার এর নাম নিচে দেওয়া হলোঃ



  • G TV Live sports 
  • live sports TV streaming 
  • Live Sports HD Tv
  • SonyLiv
  • BINGE 
  • Yahoo Sports
  • ZEE5

এগুলো মোবাইলে ব্যবহার করা যায় এমন সফটওয়্যার। এগুলো আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের গুগল প্লে স্টোর থেকে ফ্রি তে ডাউনলোড করে খুব সহজেই সরাসরি খেলা দেখতে পারবেন। তাই এইগুলো সবার অধিক প্রিয় ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার।


ক্রিকেট খেলা দেখার আপ্পস


ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য অনেকেই মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে থাকেন। মোবাইলে ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য এই অ্যাপস গুলো খুবই উপকারী। উপরেই মোবাইলে ক্রিকেট খেলার সফটওয়্যার বা আপস সম্পর্কে বলা হয়েছে। ওই অ্যাপস গুলো ই লাইভে ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য যথেষ্ট। খুব সহজে মোবাইলের গুগল প্লে স্টোর থেকে ফ্রি তে ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে পারবেন। আপনাদের সুবিধার জন্য ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার বা অ্যাপস গুলোর নাম আরো একবার উল্লেখ করা হলঃ


জিটিভি লাইভ খেলা সরাসরি

ওয়ার্ল্ডের যেকোনো ম্যাচ দেখার জন্য জিটিভি খুব জনপ্রিয় ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার। এর জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, প্রথমেই আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের গুগল প্লেট স্টোরে যেতে হবে। সার্চ বক্সে live cricket TV HD লিখে সার্চ দিন। উপরেই দেখবেন live cricket TV HD নামে একটি অ্যাপ চলে আসছে।

এবার এটাকে ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিবেন। ব্যস, এরপর এটাকে ওপেন করে খুব সহজেই চলমান লাইভ খেলা দেখতে পারবেন। আপনি খেলা দেখতে পছন্দ করলে এই অ্যাপটির মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠিত ক্রিকেট খেলা দেখতে পারবেন। তাই এই অ্যাপটি খেলা ভক্তদের জন্য দুর্দান্ত একটি অ্যাপ।


উত্তরঃ সবচেয়ে বেশি উপকারী এবং সুবিধাজনক সফটওয়্যার বা অ্যাপ হচ্ছে G TV Live sports. কারন এটি সহজেই যেকোনো এন্ড্রয়েড মোবাইল এর গুগল প্লে স্টোর থেকে ফ্রি তে ডাউনলোড করে ইন্সটল করে লাইভ ক্রিকেট খেলা উপভোগ করা যায়।


প্রশ্নঃ ৪: কিভাবে জিটিভি এর মাধ্যমে ক্রিকেট খেলা দেখা যায়?

উত্তরঃ আপনার তো নিশ্চয়ই একটি এন্ড্রয়েড ফোন রয়েছে যেটা দিয়ে আপনি লাইভ ক্রিকেট খেলা উপভোগ করতে চান। সেই মোবাইলের গুগল প্লে স্টোর থেকে live cricket TV HD লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবে। উপরে আসা অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে খুব সহজেই লাইভ খেলা উপভোগ করতে পারবেন।


উপসংহার: আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি আপনি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং এবং এটি খুব উপভোগ করেছেন। এবং আপনি নিশ্চয়ই এটিও খুব ভালো হবে বুঝতে পেরেছেন যে মোবাইল দিয়েও চাইলে ক্রিকেট খেলা দেখা যায়।


এখন অনেক ক্রিকেট খেলা দেখার সফটওয়্যার রয়েছে যা দিয়ে আপনি মোবাইলেই ক্রিকেট খেলা দেখতে পারবেন লাইভ। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়া শেষ করে যদি আপনাদের এটি নিয়ে আর কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আমাদের তা কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।


Stream India live apps download 

Link 

]]>
Fri, 22 Jul 2022 16:07:52 +0600 BD124.com
মহাকাশের রহস্য সংকেত https://bd124.com/post-194 https://bd124.com/post-194

আমাদের এই মহাবিশ্ব বেশ অদ্ভুত আর রহস্যে ঘেরা। পৃথিবী নামের গোল বলের উপরিভাগে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন রকমের গাছপালা, আর চলে-ফিরে বেড়াচ্ছে প্রাণীরা। প্রায় গোলাকৃতির এই বলের ওপর পাহাড় আছে, আছে সমুদ্র। আবার এই বল মানে পৃথিবীর বাইরের দুনিয়া তো আরও জটিল।


আমরা সবে মাত্র চাঁদ পর্যন্ত পাদর্পন করতে পেরেছি এবং ভীন গ্রহের প্রানির খোঁজে (Probes) ভোয়েজার ১ (Voyager 1) সবে মাত্র আমাদের সৌর জগৎ এর গন্ডি পার করেছে। এবং এখন পর্যন্ত আমরা Deep Space সম্মন্ধে যা জেনেছি তার সব টুকুই টিলিস্কোপের মাধ্যমে দেখে এবং Space থেকে পৃথিবীতে পতিত বিভিন্ন বস্তু যেমন উল্কাপাত থেকে।


অনেকে বলে থাকেন, এটি এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী ,কিন্তু এটাও একটা রহস্যময় ঘটনা, আবার অনেকে বর্ণনা দিয়ে থাকেন, এটি স্যাটেলাইট এর ধ্বংসাবশেষ। তবে গবেষণায় উঠে এসেছে,এটি কেন রহস্যময় ,বিজ্ঞানীরা যার সমাধান এখনো খুঁজছে। আসুন বিস্তারিত জেনে নিন।


কৃষ্ণ গহবর (Black Holes) >

ব্ল্যাক হোল হলো একটি চূড়ান্ত মহাজাগতিক চোরাবালি । ব্ল্যাক হোল গঠিত হয় যখন একটি বড় নক্ষত্র ভেঙ্গে একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে তীব্র মাধ্যাকর্ষণ তৈরি করে, এমনকি পার্শ্ববর্তী আলো পর্যন্ত চুষে নেয়।

এর অর্থ হল, যদিও আমরা একটা ধারনা পেয়েছি কিভাবে ব্ল্যাক হোল কাজ করে, আমরা এখনও বাস্তবে একটিও দেখতে পাইনি কারণ এদের টেলিস্কোপে দেখা যায় না, বৈদ্যুতিন চৌম্বকীয় বিকিরণ, আলো বা এক্স-রে যাহ কিছুই এদের সামনে আসুক তা চুষে নেয়। আমরা শুধু আন্দাজ করতে পারি ব্ল্যাক হোলের ভিতরটা দেখতে কেমন।


The Giant Void >

Black Hole এর বিপরিতে, Giant Void মহাকাশে কোন গহ্বর না – তার বদলে এটি একটি অদ্ভুদ রকমের ফাঁকা অন্চল, এখানে কোন Matter ও নেই Dark Matter ও নেই। এবং এটি ব্ল্যাক হোল থেকে ভিন্ন, আলো এই অদ্ভুদ ফাঁকা/শুন্যতার ভিতর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে, যদিও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এতে ডার্ক এনার্জি রয়েছে। এটি মহাকাশে একমাত্র Void বা শুন্যতা নয়, যদিও এটি সবচেয়ে বড়, যার আনুমানিক ব্যাস ১.৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ।


ডার্ক ম্যাটার >

Dark Matter এখনও একটি রহস্য, কিন্তু আমরা এটির উপর নির্ভর করছি মহাবিশ্বের কিছু অজানা তথ্য জানার জন্য। Cosmologists রা বিশ্বাস করেন যে মহাবিশ্বের অন্তত পক্ষে ২৭% হলো Dark Matter. মহাবিশ্বের ডার্ক ম্যাটার সমুহের উৎপত্তি আদিম ব্ল্যাক হোল (primordial black holes) থেকে।

ব্রহ্মাণ্ডের ২৭% ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি বলে ধারনা করা হয়, কিন্তু ব্রহ্মাণ্ডের বেশিরভাগই ডার্ক এনার্জি দিয়ে তৈরি, যা আমাদের চারপাশের সব কিছুর প্রায় ৬৮%। আমাদের চারপাশে যেসব ম্যাটার দেখি তা ব্রহ্মাণ্ডের মাত্র ৫%।


ডার্ক এনার্জি >

ডার্ক ম্যাটারের মত আমরা ডার্ক এনার্জি সম্পর্কেও তেমন কিছু জানি না, কিন্তু বর্তমানে অনুমান করা হয় যে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বৃদ্ধির পিছনে ডার্ক এনার্জির ভুমিকা আছে। (যদিও ডার্ক ম্যাটার সম্প্রসারণকে ধীর করে)।

Dark Matter এবং Energy সম্পর্কে আমরা ধারনা পাই Cosmic Microwave Background থেকে। Big Bang এর পর পরই (৩৮০,০০০ বছর) মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ এর ফলে যখন হাইড্রোজেন পরমাণু প্রথম গঠিত হয়।

২২০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে সত্যিই আকর্ষণীয় কিছু একটা আছে, এবং এটা আমাদের পুরো ছায়পথ (Galaxy) কে তার দিকে টেনে নিচ্ছে ।


ডার্ক ম্যাটার >

Dark Matter এখনও একটি রহস্য, কিন্তু আমরা এটির উপর নির্ভর করছি মহাবিশ্বের কিছু অজানা তথ্য জানার জন্য। Cosmologists রা বিশ্বাস করেন যে মহাবিশ্বের অন্তত পক্ষে ২৭% হলো Dark Matter. মহাবিশ্বের ডার্ক ম্যাটার সমুহের উৎপত্তি আদিম ব্ল্যাক হোল (primordial black holes) থেকে।

ব্রহ্মাণ্ডের ২৭% ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি বলে ধারনা করা হয়, কিন্তু ব্রহ্মাণ্ডের বেশিরভাগই ডার্ক এনার্জি দিয়ে তৈরি, যা আমাদের চারপাশের সব কিছুর প্রায় ৬৮%। আমাদের চারপাশে যেসব ম্যাটার দেখি তা ব্রহ্মাণ্ডের মাত্র ৫%।


রহস্যময় রেডিও সিগন্যাল: >

দূর কোনও গ্রহমণ্ডল থেকে ভেসে আসছে রহস্যময় সংকেত। কানাডার একটি টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে সেই মিলিসেকেন্ডের রেডিও বার্তা। সেই বার্তা ঠিক কী ধরনের বা ঠিক কোথা থেকে আসছে তা জানা সম্ভব হয়নি।

এফআইবি নামে পরিচিত ১৩টি দ্রুত রেডিও সংকেতের এই সংকেতটি বারবার আসছে। তা আসছে পনেরো কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে। এর আগেও আরেকটি টেলিস্কোপে এমন সংকেত ধরা পড়েছিল।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এখন এই মহাকাশ রহস্য উন্মোচনে ব্যস্ত। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার চাইম পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চারটি ১শ মিটার লম্বা টেলিস্কোপ আছে, যা দিয়ে পুরো উত্তর আকাশ প্রতিদিন পর্যবক্ষণ করা হয়। এখানেই ১৩টি রেডিও সিগন্যাল পাওয়া গেছে। এই দ্রুতগতির রেডিও সংকেতগুলো ৭শ মেগাওয়াটের। আবার কানাডায় রেকর্ড করা কিছু সংকেত ৪শ মেগাওয়াটেরও।


এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ৬০টি দ্রুতগতির রেডিও সংকেত পেয়েছেন। তার মধ্যে দুটি বারবার এসেছে। এক দলের ধারণা, হয়তো খুব বেশি চৌম্বক শক্তি সম্পন্ন একটি নিউট্রন তারা দ্রুগতিতে ঘুরছে অথবা দুটি নিউট্রন তারা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

তবে অন্য আরেক দলের মতে, এটা ভিনগ্রহের প্রাণির মহাকাশযান থেকে পাঠানো সংকেত। আরও সংকেত আসবে বলেও আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। যত সংকেত আসবে ততই জানার সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করেন তারা।


বন্ধুরা আপনাদের কেমন লাগলো,সেটি কমেন্টের মাধ্যমে জানান,ভিডিওটি ভালো লাগলে, একটি লাইক দিন, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। নিত্যনতুন, রহস্য রোমাঞ্চ ভরা তথ্যবহুল ভিডিও পেতে, বেল আইকন ক্লিক করে রাখুন।  Subscribe Now


মানুষ সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে জানুন 

 

]]>
Thu, 21 Jul 2022 23:31:02 +0600 BD124.com
সূরা আল বাকারার শেষ দুই (২৮৫ &২৮৬ ) আয়াতের ফজিলত বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ https://bd124.com/post-193 https://bd124.com/post-193

সূরা আল বাকারা (سورة البقرة) পবিত্র কুরআন শরীফের দ্বিতীয় সূরা। সূরাটির আয়াত সংখ্যা ২৮৬। সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ সূরাটির শেষ দুটি (২৮৫ -২৮৬ ) আয়াতের রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্য। অনেক সহীহ হাদিস রয়েছে এর শেষ দুটি আয়াত নিয়ে। সূরা আল বাকারা শেষ দুটি আয়াতে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। আসুন  সহি শুদ্ধভাবে শিখিনি আয়াতগুলোর বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ জেনে নেওয়া  যাক।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন জিবরাঈল (আ.) হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসা ছিলেন, তখন তিনি ওপরের থেকে একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন। ফলে তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, এটা আসমানের একটি দরজা, যা আজকে খোলা হয়েছে। এর আগে কখনও খোলা হয়নি।

এরপর সেখান থেকে একজন ফেরেশতা অবতরণ করলেন, অতঃপর বললেন, এই ফেরেশতা আজকের আগে আর কখনও জমিনে অবতরণ করেনি। ফেরেশতা সালাম দিয়ে বললেন, দুটি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনার আগে আর কোনো নবীকে দেয়া হয়নি। একটি হলো ফাতেহাতুল কিতাব আর অন্যটি সুরা বাকারার শেষ আয়াত। সহি মুসলিম ৮০৬ নাসাঈ ২/১৩৮

হজরত আবুজর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা সুরা বাকারাকে এমন দুই আয়াতের মাধ্যমে শেষ করেছেন, যা আমাকে তাঁর আরশের নিচের ভাণ্ডার থেকে দান করা হয়েছে। সুতরাং নিজেরা তা শিখো এবং তোমাদের স্ত্রী-সন্তানদের শেখাও, কেননা এই আয়াতগুলো হলো দোয়া-দুরুদ ও কোরআন। মুসতাদরাকে হাকেম ২/৩১৫

হজরত নুমান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা জমিন ও আসমান সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে একটি কিতাব লিপিবদ্ধ করেছেন। তার থেকে দুটি আয়াত সুরা বাকারার মাধ্যমে শেষ করেছেন। যে ঘরে তিন দিন এটা পড়া হবে না, শয়তান সেই ঘরের নিকটবর্তী হয়ে যাবে। জামে তিরমিজি হাদিস নং-২৮৮৫ সহি ইবনে হিব্বান হাদিস নং-৭৮২

اعوذ بالله من الشيطان الرجيم بسم الله الرحمن الرحيم

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللّهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ وَقَالُواْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ

আ-মানাররাছূলু বিমাউনঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মু’মিনূনা কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুছুলিহী লা-নুফাররিকুবাইনা আহাদিম মির রুছুলিহী ওয়া কা-লূ ছামি‘না ওয়াআতা‘না গুফরা-নাকা রাব্বানা-ওয়া ইলাইকাল মাসীর।

لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لاَ تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلاَ تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَآ أَنتَ مَوْلاَنَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

(286)   লা-ইউকালিলফুল্লা-হু নাফছান ইল্লা-উছ‘আহা-লাহা-মা কাছাবাত ওয়া ‘আলাইহা-মাকতাছাবাত রাব্বানা-লা-তুআ-খিযনা ইন নাছীনা-আও আখতা’না-রাব্বানা ওয়ালা-তাহমিল ‘আলাইনা-ইসরান কামা-হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা-রাব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-তা-কাতা লানা-বিহী ওয়া‘ফু‘আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

কোরআনে কারিম মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান। প্রত্যেক নবী ও রাসুলকে আল্লাহতায়ালা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য কিতাব দান করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করা হয় কোরআন মাজিদ। সৃষ্টিকূলের ওপর যেমন স্রষ্টার সম্মান ও মর্যাদা অপরিসীম, তেমনি সব বাণীর ওপর পবিত্র কোরআনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অতুলনীয়।

কোরআন পড়া উত্তম সম্পদ অর্জন >

কোরআন পড়া বা শিক্ষা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত থাকা উত্তম সম্পদ অর্জন করার অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ কেন সকালে মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কোরআন হতে দু’টি আয়াত পড়ে না বা শিক্ষা দেয় না?

]]>
Thu, 21 Jul 2022 17:19:29 +0600 BD124.com
পৃথিবীর 10 টি অমীমাংসিত রহস্যময় ঘটনা ও রহস্যময় জায়গা https://bd124.com/পৃথিবীর-10-টি-অমীমাংসিত-রহস্যময়-ঘটনা-ও-রহস্যময়-জায়গা https://bd124.com/পৃথিবীর-10-টি-অমীমাংসিত-রহস্যময়-ঘটনা-ও-রহস্যময়-জায়গা

আমাদের এই মহাকাশ যেমন রহস্যময়,তেমনি পৃথিবীতেও এমন অনেক ঘটনা ঘটে চলেছে যার কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞানী এমনকি কেউ দিতে পারেনি। আজকে আলোচনা করবো পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা নিয়ে। পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা, জিনিস, বিষয় রয়ে গেছে যার সমাধান এখনো পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব হয়নি। শুরু করা যাক পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা ও রহস্যময় জায়গা কে কেন্দ্র করে।


১০। জোডিয়াক কিলার >

জুদিয়াক ছিলেন একজন সিরিয়াল কিলার যিনি ১৯৬০ সালের পর থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষ খুন করেছেন। এখন পর্যন্ত এই খুনির পরিচয় জানা যায়নি। জুদিয়াক ডিসেম্বর ১৯৬৮ ও অক্টোবর ১৯৬৯ সালের মধ্যে বেনিসিয়া, ভ্যালিযু, লেক ব্যারিসা এবং সান ফ্রান্সিসকোতে সক্রিয় ছিলেন।

জোডিয়াক কিলার ইতিহাসে সবচেয়ে কুখ্যাত নিখোঁজ হত্যাকারীর একজন। ১৯৬৯ সালে সান ফ্রান্সিসকো এলাকায় কমপক্ষে পাঁচ জনকে হত্যা করার জন্য তিনি দায়ী ছিলেন। বিষয়টিকে আরও খারাপ করার জন্য, খুনী নিজেকে বেশ কয়েকটি হত্যায় আহ্বান জানায়, সংবাদপত্রগুলোতে সাংকেতিক চিঠি পাঠায় এবং এমনকি একটি রক্তাক্ত শার্টের টুকরোতেও পাঠানো হয়। কিন্তু তাকে কখনও ধরা যায়নি। বেশ কয়েকজন সন্দেহ ভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, কিন্তু মামলাটি কখনোই সমাধান করা হয়নি। 


৯। পোলক টুইনস >

১৯৫৭ সালে, দুই বোন, জোয়ানা (১১) এবং জ্যাকলিন (৬) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এক বছর পর, তাদের মা জমজ সন্তানের জন্ম দেন একজন জেনিফার ও গিলিয়ান। তারপর তিনি একটি অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করেন। জেনিফারের দেহে জন্ম চিহ্ন ছিল যা জ্যাকলিনের মতোই। তাদের মা তাদের নিয়ে একটি গেম খেলেন। যেখানে জেনিফার এবং গিলিয়ান, জোয়ানা এবং জ্যাকলিন যেভাবে মারা যায় তারা ঠিক সেই দৃশ্যের মতোই খেলছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো বাবা মা কখনোই মেয়েদের সাথে দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেননি। ঘটনা শুনে মনোবিজ্ঞানী ডাঃ ইয়ান স্টিভেনসন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সম্ভবত এই যমজ তাদের বোনদের পুনরুত্থান ছিল।



৮। নাচের মহামারী >

নাচের মহামারী, কথাটির মধ্যেই কেমন জানি একটা রহস্য রহস্য ভাব আছে। ১৫১৮ সালের জুলাই মাসে অদ্ভুত এক ঘটনার সাক্ষী হয় পৃথিবী। মিসেস ত্রোফফেয়া নামের এক নারী নাচতে শুরু করেন। কিছুতেই তার নাচ থামছিলো না। ১ সপ্তাত ধরেই চলতে থাকে তার নাচ। সপ্তাহ পরেই আরো ৩৪ জন ব্যক্তি তার সাথে নাচতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে সবাই যোগ হতে থাকে। অবিরাম এক মাস পর্যন্ত চলতে থাকে তাদের নাচ। ধারণা করা হয় ক্লান্তি, হার্ট অ্যাটার্ক, উচ্চ রক্তচাপের কারনে প্রাণ হারায় ৪০০ জন ব্যক্তি। দীর্ঘ এক মাস নাচতে থাকা প্রায় অসম্ভব। আর এসব বিভিন্ন জটিলতার কারনে আজও বিজ্ঞানীরা এর রহস্য উন্মোচন করতে পারেন নি।



৭। রহস্যময় সবুজ রঙের ভাই বোন >

দ্বাদশ শতাব্দীতে হঠাৎ করেই ইংল্যান্ডের উলপিটে একজোড়া ভাই বোনের উদয় হয়। তারা সবদিক থেকেই সাধারণ মানুষের মতো ছিল। তবে তাদের গায়ের রং ছিল অস্বাভাবিক সবুজ রঙের। তারা দুই ভাই বোন অজানা ভাষায় কথা বলতো, অদ্ভুত পোশাক পরিধান করতো এবং খাবার হিসেবে শুধু কাঁচা শিম খেতো।


কিছুদিন পর অবশ্য তাদের মধ্যে ছেলেটি মারা যায় কিন্তু মেয়েটি বেঁচে ছিল। মেয়েটি পরবর্তীতে ইংরেজি ভাষা আয়ত্ত করেছিল এবং অন্যান্য খাবার খাওয়া শিখেছিল। ধীরে ধীরে মেয়েটি তার গায়ের সবুজ রং হারাতে শুরু করে। সে অন্যদের বলেছিল যে, তারা দুই ভাই বোন সেন্ট মার্টিন্স ল্যান্ড থেকে এসেছে। তার ভাষ্য মতে, সেন্ট মার্টিন্স একটি ভূগর্ভস্থ এলাকা যেখানে সবাই সবুজ গাত্র বর্ণের অধিকারী।


এই গল্পের ভিত্তি পরিষ্কার নয়। কেউ কেউ এটিকে নিছক পরীর গল্প মনে করেন। কেউ আবার মনে করেন সত্য গল্পের কিছুটা রদবদল হয়েছে। কেউ আবার এখনো মনে করেন তারা হয়তো আসলেই ভূগর্ভস্থ পৃথিবীর কোনো অশরীরী প্রাণী ।



৬। মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ফ্লাইট এমএইচ ৩৭০ >

সবচেয়ে সাম্প্রতিক নিখোঁজ রহস্যগুলোর মধ্যে একটি হলো মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ফ্লাইট এমএইচ ৩৭০, যা শনিবার ৮ মার্চ, ২০১৪ তারিখে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। মালয়েশিয়ার থেকে বেইজিং পর্যন্ত একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছিল এটি।


২২৭ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু সদস্যকে বহন করেছিল। উড়োজাহাজটি বিমানের ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে তার শেষ ভয়েস যোগাযোগটি করে টেক অফের এক ঘণ্টা এবং রাডারে পর্দা থেকে নিখোঁজ হয় কয়েক মিনিটের কম সময়ের মধ্যে। মালয়েশীয় সামরিক রাডারটি প্রায় এক ঘণ্টার পর বিমানটি ট্র্যাক করে, এটি তার উড়োজাহাজ থেকে বিচ্যুত হওয়ার পর থেকে আন্দামান সাগর পর্যন্ত রাডারের পরিসীমা বজায় রেখেছিল।


বিমানটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগে কোনো সংকটের সংকেত, খারাপ আবহাওয়ার সতর্কবাণী বা প্রযুক্তিগত – কোনো সমস্যার কথা বলা হয়নি। অনেকেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, ভারত মহাসাগরে এই ফ্লাইট শেষ হয়েছে এবং এখনও অনুসন্ধান চলছে, সেখানে কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি।



৫। রহস্য দ্বীপ বাল্ট্রা >

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরের নিকটবর্তী ১৩ টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ। তারমধ্যে একটি দ্বীপের নাম হল বাল্ট্রা দ্বীপ। ঐ দ্বীপপুঞ্জের ১২টি দ্বীপ ঠিক থাকলেও বাল্ট্রা দ্বীপ শুধু ব্যতিক্রম। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চল হওয়ায় সেখানে প্রায়ই বৃষ্টিপাত হয়।


কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বৃষ্টির একটি ফোঁটাও বাল্ট্রা দ্বীপে পড়ে না। এই দ্বীপে অবস্থান করার সময় অভিযাত্রী নাবিকদের কম্পাস অস্বাভাবিকভাবে স্থির হয়ে থাকে অথবা শুধু একদিকে কাত হয়ে থাকে অথবা ভুল দিক প্রদর্শন করে। প্লেনে থাকাকালীন সময়েও একই আচরন করে।


এখান থেকে চলে গেলে আবার ঠিক হয়ে যায়। এই দ্বীপে কোন গাছ কিংবা পশুপাখি নেই। উড়ন্ত পাখিরা উড়ে এসে বাল্ট্রার কাছে এসে আবার ফিরে যায়। যেন কোন অদৃশ্য দেয়ালে বাঁধা পড়ে। অনেকে মনে করেন এই দ্বীপে অস্বাভাবিক কোন শক্তির অস্তিত্ব রয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কেউ এর কোন সুরাহা করতে পারেননি।



৪। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল >

মিয়ামি, বারমুডা, ফ্লোরিডা এবং পুয়ের্তো রিকোর মধ্যবর্তী উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি রহস্যময় অংশ। যেখানে অনেক জাহাজ, বিমান এখানে এসে কোথায় নিখোঁজ হয়ে গেছে এখনো জানা সম্ভব হয়নি।


সবগুলো ঘটনার মধ্যে অন্যতম যে ঘটনাটি এখনো মানুষের আলোচনায় রয়ে গেছে তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বোমারু বিমানের চিরতরে নিখোঁজ হওয়া। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নামক মহাসাগরের এই অংশে এসেই পাইলট হঠাৎ করেই বিচলিত বোধ করা শুরু করে, যা জানা যায় কন্ট্রোল রুম কক্ষ থেকে। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল প্রায় ৫,০০,০০০ বর্গমিটার মহাসাগর জুড়ে বিস্তৃত। যা অমীমাংসিত পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা ও জায়গা এর মধ্যে অন্যতম।


ক্রিস্টোফার কলোম্বাস সাগরপথে পৃথিবী ভ্রমনের সময় এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল সম্পর্কে একটি রিপোর্ট করেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক রাতের মধ্যেই আগুনের বৃহৎ শিখা ( যাকে উল্কা বলা হয়) সমুদ্রের মধ্যে বিধ্বস্থ হয় এবং সেই থেকেই এই অঞ্চলে আলোর দৃষ্টিগোচর হয়। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘দ্য টেম্পেস্ট’ নাটকেও বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে জাহাজডুবি নিয়ে লেখা হয়েছে যা নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই রহস্যে। বিশ শতকের আগে এ অঞ্চল নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা ছিলো না।


কিন্তু ১৯১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বার্বাডোজ ও সেপাসি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়। জাহাজটিতে ৩০০ জন মানুষ ও প্রায় ১০,০০০ টন ম্যাঙ্গানিজ ছিলো। যা হঠাৎ করেই কোনো সংকেত ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে যায়। যা নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে এবং ছড়িয়ে পড়ে সারা পৃথিবীতে। এরপরই আবার ১৯৪১ সালেও দুটি সাইক্লোপস জাহাজ নিখোঁজ হয়ে যায় কোনো কারন ছাড়াই। আর সেই থেকেই মানুষ বিশ্বাস করে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল দিয়ে কোনো জাহাজ গেলে হয়ে হারিয়ে যায় না হয় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।



৩। মারফা লাইট, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র >

রহস্যময় আলোর খেলা ঘটে চলেছে টেক্সাসের মারফা নামের একটি জায়গায়। সেই আলোকে ”ভৌতিক আলো হিসেবে” আখ্যায়িত করা হয়। কারন, এই জায়গার উপরে ৬ ধরনের আলোর দল আকাশের উপরে ঘোরাঘুরি করছে। অনেকটা ভৌতিক ব্যাপার।


১৮৮৩ সালে প্রথম এ আলোর নৃত্য দেখতে পায় পাশের অঞ্চলে কাজ করা কিছু মানুষে চোখে। স্থানীয় আমেরিকানরা এ আলোকে ধারণা করছে, মহাকাশ থেকে যে তারা পতিত হয়, সেসব তারার কারনেই এ ধরনের আলো দল বেধেঁ আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এর পরে আর যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার আর কোনো ব্যাখ্যা নেই তাদের কাছে।


আধুনিক যুগে মারফা লাইট (Marfa Light) এর উপস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট করতে থাকে। আলো গুলোর সাইজ প্রথমে বাস্কেটবলের মতো থাকে। তারপর বিভিন্ন আকার গঠন করতে থাকে। এ পর্যন্ত ৬ টি আলোর দল প্রতিনিয়ত আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঐ জায়গাকে কেন্দ্র করে। সাদা, লাল, নীল, হলুদ, কমলা এবং সবুজ কালারের আলোর দল। তবে এ আলো কোনো ধরনের বিপদ বা বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করতে দেখা যায়নি এখনো।


এয়ারফোর্স, আবহাওয়াবিদ,পদার্থবিদ ও গবেষকেরা এ ”মারফা লাইট” সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছে কিন্তু কেউ কারো সাথে একমত নয়। অনেকে ব্যাখ্যা দিয়েছে এ ধরনের আলো স্পেসশিপগুলোর কারনে ঘটতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী এই আলোর রহস্য খুব তাড়াতাড়ি বের করতে সক্ষম হবে তারা। আরো বলেছে পৃথিবীর রহস্যময় কিছু ঘটনা ও রহস্যময় জায়গা নিয়েও তারা গবেষণা চালাচ্ছে।



২। ভয়নিখের রহস্যময় পান্ডুলিপি >

আজ থেকে ১০০ বছর আগে রহস্যময় এই পান্ডুলিপিটি পাওয়া যায়। পোলিশ-আমেরিকান পুস্তক বিক্রেতা প্রত্নতাত্ত্বিক উলফ্রিড ভয়নিখ ১৯১২ সালে এক নিলামের মাধ্যমে এই পান্ডুলিপিটি ক্রয় করেন।উইলফ্রিড ভয়নিখ এর মালিক বিধায় এর নামকরন হয় ভয়নিখের পান্ডুলিপি।


কিন্তু এর ভিতরের কোন লেখার মর্মার্থ তো দূরের কথা একটি বর্ণও কেউ পড়তে পারেনি। কি নেই এই পান্ডুলিপিটিতে? ফুল,ফল, সংখ্যা, জ্যামিতিক নকশা, গ্রহ, নক্ষত্র, ছবি। এ যেন এক মহা দুর্বোধ্য ধাঁধা।


প্রথমদিকে এর লেখক কে তা বের করতেই হিমশিম খেতে হয়েছিল। পরবর্তীতে বহু চেষ্টা তদবীর করে এর লেখক রজার বেকন এর নাম জানা গেলেও এটাতে তিনি কোন বিষয়ে কি লিখে গেছেন তা জানা জায়নি। কেউ মনে করেন এটাতে তিনি সোনা তৈরীর পদ্ধতি লিখে গেছেন।


আবার কেউ মনে করেন এটাতে তিনি আত্মার গোপন রহস্য বলে গেছেন। কারো মতে এটাতে মৃত্যুর ওপারের কথা কিংবা অমরত্বের কথা লেখা আছে ইত্যাদি। কেউ আবার দাবি করেছেন এর চৌদ্দটি বর্ণ তিনি বুঝতে পেরেছেন। কেউ আবার এর দশটি শব্দ বুঝেছেন বলেও দাবি করেছেন। কিন্তু আজ অবধি কেউ এর পরিপূর্ণ মর্ম উদঘাটন করতে সক্ষম হননি। এই পান্ডুলিপিটি মানুষের নিকট অমীমাংসিত রহস্যই রয়ে গেছে।



১। পিরামিড তৈরীর রহস্য >

বহুভুজের উপর অবস্থিত যে ঘনবস্তুর একটি শীর্ষবিন্দু থাকে এবং যার পার্শ্বতল গুলো প্রত্যেকটি ত্রিভুজাকার তাকে পিরামিড বলে। মিশরে মোট ৭৫ টি পিরামিড আছে। সবচেয়ে বড় পিরামিডটি হলো গিজার পিরামিড যা খুফু’র পিরামিড হিসেবেও পরিচিত। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ বছর পূর্বে এই গিজার পিরামিডের সৃষ্টি বলে ধারনা করা হয়।


এর উচ্চতা ৪৮১ ফুট এবং এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর অবস্থিত। প্রায় বিশ বছর ধরে এক লাখ শ্রমিকের দ্বারা এটি তৈরি করা হয়। এই পিরামিডটি তৈরি হয় বিশাল বিশাল পাথর দিয়ে যার প্রত্যেকটির ওজন প্রায় ৬০ টন এবং দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট।


প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নতির ছোঁয়ায় বর্তমানে হয়তো এত ভারী পাথর উত্তোলনের যন্ত্র বের হয়েছে। কিন্তু প্রায় সাত হাজার বছর পূর্বে যখন প্রযুক্তির কোন ছোঁয়া ছিল না সেই সময়ে এত ভারী পাথর দিয়ে কিভাবে এই পিরামিড নির্মাণ করা হয়েছিল সেই রহস্য আজও মানুষের নিকট অমীমাংসিত।



বন্ধুরা কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন। অমীমাংসিত রহস্যময় ঘটনা ও রহস্যময় জায়গা  আপনার রহস্যময়  মনে হল । কোন ঘটনাটি অদ্ভুত বলে মনে হয়। কোন ঘটনা অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর মনে হল। পৃথিবীর কোন তথ্য জানার জন্য আপনি আগ্রহী । কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না ।

নতুন হয়ে থাকলে ,সাবস্ক্রাইব করে পাশের বেল Icon-এ ক্লিক করে রাখবেন। নিত্য নতুন অদ্ভুত এবং রহস্যময় ভিডিও পাওয়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।

 

]]>
Tue, 19 Jul 2022 21:21:29 +0600 BD124.com
উচ্চারণসহ সুরা ফাতিহার আমল ও বৈশিষ্ট্য https://bd124.com/post-191 https://bd124.com/post-191

সুরা ফাতিহা।

একসঙ্গে নাজিল হওয়া পূর্ণাঙ্গ সুরা। এ সুরাটি মানুষের অন্যতম দোয়া ও শেফা। সুরা ফাতিহার আমলে রয়েছে চমৎকার ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য। সুরাটি বিশুদ্ধভাবে শেখার সুবিধার্থে উচ্চারণসহ এর আমল ও ফজিলতগুলো তুলে ধরা হলো। সুরা ফাতিহা


সুরা ফাতিহার বিশেষত্ব >


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত পাপ্তির শুরুর দিকেই সুরা ফাতিহা একসঙ্গে নাজিল। নামাজের জন্য এ সুরাটি পড়া বাধ্যতামূলক। এ সুরাটি পড়া ছাড়া নামাজ হয় না। সুরাটি মুমিন মুসমানের জন্য সব ধরনের দোয়া। এ কারণেই কুরআন পড়া শুরু করলেই সবাইকে এ সুরাটি দিয়েই শুরু করতে হয়। এটি এক দিকে যেমন উম্মুল কুরআন। আবার এটি কুরআনের ভূমিকাও বটে।



সুরা ফাতিহার আমলের বৈশিষ্ট্য >


সুরা আল-ফাতিহা সব রোগের মহৌষধ। এ সুরার আমলের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সুরা ফাতিহার আমলের অন্যতম বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-


> হজরত জাফর সাদেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, সুরা ফাতিহা ৪০ বার পাঠ করে পানির ওপর দম করে কোনো জ্বরে আক্রন্ত লোকের মুখমণ্ডলে ছিঁটিয়ে দিলে, এ সুরার বরকতে আল্লাহ তাআলা জ্বর দূর করে দেন।


> ফজরের সুন্নত ও ফরজ নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে ৪১ বার সুরা ফাতেহা পড়ে চোখে ফুঁ দিলে চোখের ব্যাথা দূর হয়।

> শেষ রাতে সুরা ফাতিহা ৪১ বার পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেন।


> ৪০ দিন নিয়মিত সুরা ফাতিহা পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে পান করালে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির অসুস্থতা দূর করে দেন। কেউ কেউ সুরাটি গোলাপ, জাফরান এবং কস্তুরি দিয়ে চিনির রেকাবিতে লিখে তা পানি দ্বারা ধুয়ে ৪০ দিন পান করালেও রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।


> দাঁতের ব্যথা, পেটের ব্যথা, মাথা ব্যথার জন্যে ৭ বার এ সুরা পাঠ করে দম করলেই আল্লাহ তাআলা এসব ব্যথা দূর করে দেন।


সুরা ফাতিহার প্রমাণিত আমল >


সুরা ফাতিহার আমল প্রমাণিত। যে কোনো রোগে এ সুরার আমল কার্যকরী। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-


> হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, (একবার) সাহাবাদের একটি দল (পানির জন্য) এক পানির কুপওয়ালার কাছে গেলেন। তাদের (সে সময় কুপওয়ালাদের) একজনকে বিচ্ছু অথবা সাপে দংশন করেছিল। কুপওয়ালাদের এক ব্যক্তি এসে বলল, আপনাদের মধ্যে কোনো মন্ত্র জানা লোক আছে কি? এ পানির ধারে বিচ্ছু বা সাপে দংশন করা একজন লোক আছে।


সাহাবাদের মধ্য থেকে একজন (হজরত আবু সাঈদ খুদরি) গেলেন এবং কয়েকটি ভেড়ার বিনিময়ে তার উপর সুরা ফাতিহা পড়ে ফুঁ (দম করলেন) দেন। এতে সে (সাপ কিংবা বিচ্ছুর দংশনে আক্রান্ত ব্যক্তি) ভাল হয়ে গেল এবং তিনি ভেড়াগুলো নিয়ে সঙ্গীদের কাছে আসলেন।


তারা (সাহাবারা) এটা অপছন্দ করল এবং বলতে লাগল, আপনি কি আল্লাহর কিতাবের বিনিময় গ্রহণ করলেন?
অবশেষে তারা মদিনায় পৌঁছে বিশ্বনবিকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি আল্লাহর কিতাবের বিনিময় গ্রহণ করেছেন।


তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা যেসব জিনিসের বিনিময় গ্রহণ করে থাক, তার মধ্যে আল্লাহর কিতাব অধিকতর উপযোগী।’ (বুখারি)


> অন্য বর্ণনায় আছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমরা ঠিক করেছ। ছাগলের একটি ভাগ আমার জন্য রাখ।' (বুখারি ও মুসলিম)


সুরা ফাতিহা বাংলা উচ্চারণ | বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ- 

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

অনুবাদ : শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ -লামি-ন।

অনুবাদ : যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : আররহমা-নির রাহি-ম।

অনুবাদ : যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ

উচ্চারণ : মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন।

অনুবাদ : বিচার দিনের একমাত্র অধিপতি।

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

উচ্চারণ : ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাসতাই’-ন

অনুবাদ : আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

উচ্চারণ : ইহদিনাস সিরাতা’ল মুসতাকি’-ম

অনুবাদ : আমাদের সরল পথ দেখাও।

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

উচ্চারণ : সিরাতা’ল্লা যি-না আনআ’মতা আ’লাইহিম গা’ইরিল মাগ’দু’বি আ’লাইহিম ওয়ালা দ্দ-ল্লি-ন।

সূরা ফাতিহা বাংলা উচ্চারণ ছবি



সুরা ফাতিহর গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য >


মুমিন মুসলমানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ কুরআনি দোয়া ও আমল হচ্ছে সুরা ফাতিহা। আল্লাহ তাআলা এ সুরায় নিজের ও বান্দার মধ্যে সব করণীয় ভাগ করে নিয়েছেন। তাই সুরা ফাতিহা ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করাও সম্ভব নয়। এ সুরার গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসের একাধিক বর্ণনা রয়েছে-


> হজরত উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ উম্মুল কুরআনের মতো তাওরাত ও ইঞ্জিলে কিছু্ নাজিল করেননি। এটিকেই বলা হয়, ‘আস-সাবউল মাছানি’ (যা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত), যাকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। আর আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, সে যা চাইবে’। (নাসাঈ, মুসনাদে আহমদ)


> হজরত সাঈদ ইবনে মুআল্লা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ডাকলেন। কিন্তু তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দেননি। অতপর নামাজ শেষ হলে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমি নামাজ পড়ছিলাম।


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ কি বলেননি? ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তোমাদের ডাকা হয়।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ২৪)


অতঃপর আমাকে বললেন, মসজিদ থেকে তোমার বের হওয়ার আগেই আমি তোমাকে অবশ্যই কুরআনের সবচেয়ে মহান সুরাটি শিখিয়ে দেব। তারপর তিনি আমার হাত ধরলেন। যখন তিনি মসজিদ থেকে বের হতে চাইলেন, তখন আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলাম, আপনি কি আমাকে বলেননি যে, তোমাকে আমি কুরআনের সবচেয়ে মহান সুরাটি শিখিয়ে দেব?


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সুরাটি হচ্ছে- الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ । এটিই সাবউল মাছানি এবং কুরআনুল আজিম। যা আমাকে দেয়া হয়েছে।' (নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ)


হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিবরিল আলাইহিস সালাম উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ জিবরিল আলাইহিস সালাম ওপর দিকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, এ হচ্ছে আকাশের একটি দরজা যা আগে কখনো খোলা হয়নি।


সে দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, ‘আপনি দুটি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। তা আপনার আগে আর কোনো নবিকে দেয়া হয়নি। তাহলো-


- সুরা ফাতেহা এবং


- সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত।
আপনি সে দু’টি থেকে কোনো অক্ষর পড়লেই তার প্রতিদান আপনাকে প্রদান করা হবে।’ (মুসলিম, ইবনে হিব্বান)


সুতরাং আমল-ইবাদত ও রোগ-মুক্তিতে মুমিন মুসলমানের উচিত, সুরা ফাতিহার আমলে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা। বিশুদ্ধভাবে সুরা ফাতিহা শিখে নেয়া। কেননা সুরা ফাতিহা ছাড়া নামাজ হয় না। আর তা নামাজের প্রতিটি রাকাআতে পড়তে হয়।


আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা ফাতিহার তেলাওয়াত ও আমলের মাধ্যমে অসুস্থতা ও সমস্যা থেকে মুক্তির পাশাপাশি সুরাটি যাবতীয় ফজিলত ও বরকত লাভ করার তাওফিক দান করুন। সুরার হক অনুযায়ী ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



]]>
Mon, 18 Jul 2022 13:05:38 +0600 BD124.com
স্বপ্নদোষ কি এবং কেন হয়? স্বপ্নদোষ ইসলাম কি বলে । সপ্নদোষ হলে কি পাপ হবে? https://bd124.com/shopnodosh-ki https://bd124.com/shopnodosh-ki

স্বপ্নদোষ হলো একজন পুরুষের ঘুমের মধ্যে বীর্যপাতের অভিজ্ঞতা। এটাকে ‘ভেজাস্বপ্ন’ও বলা হয়। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেদের এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রাথমিক বছরগুলোতে স্বপ্নদোষ খুব সাধারণ। তবে বয়ঃসন্ধিকালের পরে যেকোনো সময় স্বপ্নদোষ হতে পারে।


এটার সাথে যৌন উত্তেজক স্বপ্নের সম্পর্ক থাকতে পারে, আবার নাও পারে। আবার পুরুষদের উত্থান ছাড়াই স্বপ্নদোষ ঘটতে পারে। ঘুম থেকে জাগার সময় কিংবা সাধারণ ঘুমের মধ্যে যে স্বপ্নদোষ হয়, তাকে কখনো কখনো ‘সেক্স ড্রিম’ বলে। মহিলাদের ঘুমের মধ্যে চরম পুলক লাভের অভিজ্ঞতা ঘটতে পারে।



স্বপ্নদোষের মাত্রা >

স্বপ্নদোষের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। কিছু পুরুষের টিনএজারদের মতো বেশিসংখ্যক স্বপ্নদোষ হয়, আবার অনেক পুরুষের একবারও হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ৮৩ শতাংশ পুরুষের জীবনে কখনো না কখনো স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা ঘটে। পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরের দেশগুলোতে ৯৮ শতাংশ পুরুষের স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা ঘটে।


অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে, ১৫ বছর বয়সী ছেলেদের সপ্তাহে ০.৩৬ বার থেকে শুরু করে ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের সপ্তাহে ০.১৮ বার স্বপ্নদোষ হয়। বিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ১৯ বছর বয়সী ছেলেদের সপ্তাহে ০.২৩ বার থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষদের সপ্তাহে ০.১৫ বার হয়।



প্রশ্ন, সপ্নদোষ হলে কি পাপ হবে?।
উত্তরঃইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নদোষ থেকে বাঁচার উপায় জেনে নিন বয়ঃসন্ধিকালকে ইসলামে বুলুগ ও বয়ঃস্বন্ধিতে পৌছানো ছেলেকে বালেগ ও মেয়েকে বালেগা বলা হয়ে থাকে।

বয়ঃসন্ধিকাল থেকে নারী ও পুরুষের যৌন বৈশিষ্টসমূহ সক্রিয় হতে শুরু করে। তাই এই সময় থেকেই ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য মনোদৈহিক ভারসাম্য, স্থিরতা ও নিরাপত্তার জন্য নামাজ, রোজা, নিজ নিজ আওরাহ ও পবিত্রতার বিধান ফরজবা বাধ্যতামুলক করা হয়। স্বপ্নদোষ ইসলামী তথ্যলিপিসমূহে স্বপ্নদোষ অতি সাধারণ ও স্বাভাবিক ঘটনা বলে প্রতীয়মান হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নদোষ কোন গুনাহ বা পাপ নয় |


এছাড়া স্বপ্নদোষের ফলে সাওম ভঙ্গ হয় না | নিজের যৌবন গোপানঙ্গ কত টা হেফাজতে রাখা যায় এবং পাক পবিত্র থাকা যায় তা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে … স্বপ্নদোষ হলে গোসল করে পবিত্রতা অর্জনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বপ্নদোষ হলে গোসল না করে সমস্ত কাপড় পরিবর্তন করে ওযু করে নামায আদায় করলে হবে কি? জবাব وعليكم السلام ورحة الله وبركاته بسم الله الرحمن الرحيم না, হবে না। গোসল করতে হবে।

গোসল না করে যতই কাপড় পরিবর্তন করা হোক নামায পড়া জায়েজ হবে না। يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا ۚ وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا [٤:٤٣] হে ঈমানদারগণ!


তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক,তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা,যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ,আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়,তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল। {সূরা নিসা-৪৩}


স্বপ্নদোষ স্বভাবতই সবারই হয় ,কিন্তু যারা বাজে চিন্তা ভাবনা করে ,মেয়েদের সাথে মেলামেশা বেশি তাদের গণ গণ হয়ে। এজন্য এই সব বাজে চিন্তা ভাবনা দূর করতে হবে , নিয়মিত সালাত আদায় করতে হবে সব সময় পাক পবিত্র থাকতে হবে , গুমানোর বিছানা পবিত্র রাখতে হবে এবং ঘুমানোর আগে যতটুক সম্ভব দুরুদ শরীফ ও সূরা এখলাস পরে ঘুমাবেন



উম্মু সালামাহ (রাঃ)>

তিনি বলেন, উম্মু সুলামাহ একদা রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আল্লাহ তা‘আলা হক কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। তাই মহিলাদের যখন স্বপ্নদোষ হয় তখন কি তার উপর গোসল করা জরুরী? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃহ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখবে। (এ কথা শুনে) উম্মু সালামা (রাঃ) বললেন, “ইয়া রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! মহিলাদেরও কি স্বপ্নদোষ হয়”? তিনি বললেন, তোমার উভয় হাত ধুলিময় হোক! তাহলে তার সন্তান কেমন করে তার সদৃশ হয়? (ই.ফা. ৬০৩, ই.সে. ৬১৯)



আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) >

তিনি বলেন, এক মহিলা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ঐ মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, যে পুরুষ লোক ঘুমের মধ্যে যা দেখতে পায় সেও তাই। তখন রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃপুরুষের যা হয় (স্বপ্নদোষ) মহিলাদেরও এমন হলে সে গোসল করবে। (ই.ফা. ৬০২, ই.সে. ৬১৮)



‘আয়িশাহ (রাঃ)>

এক মহিলা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করল যে, কিভাবে সে তাঁর হায়িয থেকে গোসল করবে? হাদীসের রাবী বলেন, ‘আয়িশাহ(রাঃ) উল্লেখ করেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভদ্রমহিলাকে সে কিভাবে গোসল করবে, তা শিখিয়ে দিলেন তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা ব্যবহার করবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে।


সে বলল, এ সুগন্ধযুক্ত কাপড় দ্বারা আমি কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? তিনি বললেন, তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ্‌! (এত সোজা কথাও বুঝ না)। এরপর তিনি (মুখ) সরিয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) সুফ্‌ইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ্‌ নিজ মুখের উপর হাত দিয়ে আমাদেরকে ইশারা করে দেখালেন। ‘আয়িশাহ(রাঃ) বলেন, আমি তাঁকে আমার দিকে টেনে আনলাম।


আর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা আমি বুঝে ফেললাম। অতঃপর আমি মহিলাটিকে বললাম, তুমি তা (সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা) রক্তের স্থানে (লজ্জাস্থানে) বুলিয়ে নিবে। ইবনু ‘উমার তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, তিনি বলেনঃ আমি বললাম, রক্তের স্থানে সুগন্ধযুক্ত কাপড়টি বুলিয়ে দিন। (ই.ফা. ৬৩৯, ই.সে. ৬৫৪)



 

]]>
Sun, 17 Jul 2022 19:39:07 +0600 BD124.com
Gta Vice City Bangla Download | জিটিএ ভাইস সিটি বাংলা ডাউনলোড https://bd124.com/post-188 https://bd124.com/post-188

এখন আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো জনপ্রিয় কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম।গেমটি আপনি খুব সহজে বিনামূল্যে ডাউনলোড করে আপনার সকল উইন্ডোজ কম্পিউটার ও উইন্ডোজ ল্যাপটপ এ খেলতে পারবেন। গেমটির গ্রাফিক্স কোয়ালিটি মোটামুটি মানের আশাকরি গেমপ্লে ও গ্রাফিক্স কোয়ালিটি আপনার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগবে। কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড অপশন নিচে দেওয়া আছে এখনি দেরি না করে গেম ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করে গেমটি ডাউনলোড করে খেলা শুরু করে দিন।



কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেমটি আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এ খেলার জন্য ন্যূনতম কিছু রিকমেন্ডেশন রয়েছে। যেমন :- আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকতে হবে উইন্ডোজ 7/8 অথবা 10 অপারেটিং সিস্টেম। পাশাপাশি আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এর নূন্যতম 2GB+ RAM থাকতে হবে যত বেশি হবে তত ভালো। আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এ 3GB ন্যূনতম স্টোরেজঃ থাকতে হবে। সবকিছুই যত বেশি হবে তত ভালো কিন্তু ন্যূনতম আপনার কম্পিউটার না থাকলে ঢাকা ভাইস সিটি গেম টা আপনি ভালভাবে খেলতে পারবেন না।


 

কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড

 


কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড :- গেম ডাউনলোড করার জন্য সবার প্রথমে নিচে থাকা গেম ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করতে হবে। গেম ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করার সাথে সাথে আপনাকে নিয়ে যাবে গুগল ড্রাইভে


গুগল ড্রাইভে যাওয়ার পরে আমাদের সামনে নতুন একটি ডাউনলোড অপশন চলে আসবে। গুগল ড্রাইভে নতুন ডাউনলোড অপশন ক্লিক করার কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যেই গেমটি ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে। আপনার ইন্টারনেট স্পিড যদি ভাল হয় তাহলে গেমটি তাড়াতাড়ি ডাউনলোড হবে আর যদি খারাপ ইন্টারনেট স্পিড থাকলে তাহলে কিন্তু গেমটি ডাউনলোড করতে অনেক সময় লাগবে বাংলা ভাইস সিটি গেম নিচে ডাউনলোড অপশন দেওয়া হল।

গেম ডাউনলোড করতে আপনার যদি কোন প্রকার সমস্যা হয় অবশ্যই আপনার সমস্যার কথা নিচে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাবেন।

gta vice city bangla download


কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম ডাউনলোড

আগে থেকে একটা কথা বলে রাখি আপনি যে ফাইলটি ডাউনলোড দিয়েছেন সেই ফাইলটি কিন্তু একটি জিপ ফাইল। গেমটি ইন্সটল দেওয়ার আগে আপনাকে জিপ ফাইলকে আনজিপ করতে হবে। জিপ ফাইলকে আনজিপ করার জন্য একটি সফটওয়্যার প্রয়োজন হবে। সফটওয়্যার টি ডাউনলোড লিংক নিচে দেওয়া হল।সফটওয়্যার টি ডাউনলোড কমপ্লিট করার পর নরমাল সফটওয়্যার ইন্সটল দিয়ে নিবেন।


জিপ ফাইলটি আনজিপ করা একবার শহর। জিপ ফাইলকে আনজিপ করার জন্য প্রথমে আমাদের জিপ ফাইল সফটওয়্যার টি ইন্সটল দিতে হবে। তারপর নিচে থাকা ইমেজটিকে লক্ষ্য করুন। ইমেজ এর ভিতর কিভাবে জিপ ফাইলকে আনজিপ করবেন তা নিয়ম দেওয়া আছে। তাহলে এখনি ইমেজটিকে ভালো করে দেখুন।



কম্পিউটার বাংলা ভাইস সিটি গেম ইনস্টল নিয়ম :- বাংলা ভাইস সিটি গেমটি ইন্সটল দেওয়ার জন্য প্রথম আমাদের। প্রথমে জিপ ফাইলকে আনজিপ করতে হবে। আপনার যদি উইন্ডোজ টেন হয়ে থাকে তাহলে আপনার কোন সফটওয়্যার ডাউনলোড দিতে হবে না। আপনার যদি ইউন্ডোজ ট্রেনের নিচে ভাষন হয় তাহলে আপনাকে একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড ইন্সটল দিতে হবে ডাউনলোড লিংক দেওয়া আছে।


ফাইলটি ওপেন করে ভিতর অনেকগুলো ফাইল থাকবে। GTAV  এবার এই ফাইল টি তে ক্লিক করতে হবে তাহলে খেলা শুরু হয়ে যাবে। এভাবেজিটিএ সান আন্দ্রিয়াস গেম  ডাউনলোড দেওয়ার নিয়ম অনুসরণ করলে আপনি GTAV ডাউনলোড দিতে পারবেন।


 

]]>
Sat, 16 Jul 2022 00:07:15 +0600 BD124.com
যে আয়াত পড়লে রাতে ভয় ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না https://bd124.com/post-186 https://bd124.com/post-186

কুরআনুল কারিম মানুষের জন্য পথ প্রদর্শক। কল্যাণ ও বরকত লাভের পাথেয়। মানুষের সুন্দর জীবন-যাপনের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে এ পবিত্র কিতাবে। হাদিসে পাকে কুরআনুল কারিমের অনেক সুরা ও আয়াতের রয়েছে বিশেষ ফজিলত।


রাতের বেলায় ভয় ও অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে বাঁচতেও রয়েছে কুরআনি আমল এবং দোয়া। হাদিসের বর্ণনা মতে কুরআনের নিয়মিত আমল মানুষকে দুনিয়ার যাবতীয় অনষ্টিতা থেকে মুক্তি দেয়। হাদিসে এসেছে-



হজরত আবু মাসউদ বদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতের বেলায় সুরা বাকারার শেষ আয়াত দুটি তেলাওয়াত করবে, তার জন্য এ দুটিই যথেষ্ট।’ (বুখারি)


অর্থাৎ সুরা বাকারা শেষ আয়াত দুটির তেলাওয়াত সে রাতের অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে। আর তাহলো-


آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ - كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ - وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ - لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا - لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ - رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا - رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا - رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ - وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا - أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

উচ্চারণ : আমানার রাসুলু বিমা উংযিলা ইলাইহি মিররাব্বিহি ওয়াল মুমিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালায়িকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিমমির রুসুলিহি। ওয়া কালু সামিনা ওয়া আত্বানা গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির।


লা ইকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা – লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত – রাব্বানা লা তুআখিজনা ইন-নাসিনা আও আখত্বানা – রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিং ক্বাবলিনা – রাব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাকাতা লানা বিহি – ওয়াফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা – আংতা মাওলানা ফাংচুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরিন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৮৫-২৮৬)


সুরা বাকারার শেষ আয়াত দুটি নিয়ে হাদিসে আরও অনেক ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। আর তাহলো-

> হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন জিবরিল আলাইহিস সালাম নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসা ছিলেন। এমন সময় উপরের দিকে একটি শব্দ হলো।


তিনি (জিবরিল) বললেন, এটি আসমানের একটি দরজা খোলার শব্দ। যা আজ খোলা হলো। এ দরজাটি আগে কখনও খোলা হয়নি।
এ দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা দুনিয়াতে আগমন করেছেন। যিনি এর আগে কখনও দুনিয়াতে আসেনি। সে ফেরেশতা এসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাম দিলেন এবং বললেন-

‘আপনি দুটি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোনো নবিকে দেয়া হয়নি। (জ্যোতি দুটি হচ্ছে)- ‘সুরা ফাতেহা ও সুরা বাকারার শেষ আয়াতসমূহ। এর মধ্য থেকে যে বর্ণটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেয়া হবে।’ (মুসলিম)


> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের ঘর-বাড়িগুলো কবরে পরিণত করো না। কেননা যে বাড়িতে সুরা বাকারা পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে।’ (মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত রাতের যাবতীয় ভয় ও অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে মুক্ত থাকতে এবং হাদিসে ঘোষিত কল্যাণ লাভে সুরা ফাতেহা ও সুরা বাকারার শেষ আয়াত দুটি তেলাওয়াত করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা বাকারার শেষ আয়াত দুটি যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। এ আমলের মাধ্যমে রাতের বেলার যাবতীয় ভয় ও অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।


 

]]>
Fri, 15 Jul 2022 22:00:14 +0600 BD124.com
কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াতের ফজিলত https://bd124.com/post-187 https://bd124.com/post-187

কুরআন আল্লাহর কিতাব। এতে রয়েছে ১১৪ টি সুরা ও ৬৬৬৬ আয়াত। প্রত্যেকটি আয়াতই আলাদা আলাদা ফজিলত বহন করে। প্রয়োজনের তাগিদে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছে এ আয়াতগুলো। এর কোনোটির তেলাওয়াতে কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আবার কোনোটির নিয়মিত আমলে মিলে অসীম নেয়ামতের স্থান জান্নাত।


প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত কোনটি? কোনটির আমল নিয়মিত করলে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত লাভ করা যাবে। হ্যাঁ এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বর্ণনা করেছেন কোন আয়াতগুলি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং এই আয়াতগুলো পাঠে কী ধরনের নেয়ামত অর্জন করবে বান্দা।


ফজিলত ও নেয়ামতে ভরপুর সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি। কুরআনের সর্ববৃহৎ ও দ্বিতীয় সূরা ‘সূরা আল-বাক্বারা’র ২৫৫ নম্বর আয়াত। আয়াতটিতে মহাবিশ্বের ওপর আল্লাহর ক্ষমতার কথা বর্ণিত হয়েছে।


হজরত আবু জর জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি নাজিলকৃত সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন আয়াত কোনটি? তিনি বলে, আয়াতুল কুরসি। (নাসাঈ)


এ আয়াতটি ‘আয়াতুল কুরসি’ নামেই সব মুসলিমের কাছে পরিচিত। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এর ফজিলত কী। এ আয়াত পাঠে কেমন সওয়াব হয়। আসুন জেনে নেই আয়াতটির গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত-


>> হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না। (নাসাঈ)



>> হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় থাকে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি শোয়ার আগে পড়বে আল্লাহ তার ঘর, প্রতিবেশীর ঘর এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। (বায়হাকি)



>> হজরত উবাই বিন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে কুরআন মাজিদের কোন আয়াতটি সর্বশ্রেষ্ঠ? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু আল্ হাইয়্যুল কাইয়্যুম) তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাত তার বুকে রেখে বলেন, আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ। (মুসলিম)


>>হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সুরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, সেটি হলো আয়াতুল কুরসি। যে ঘরে এটি পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। (মুসতাদরাকে হাকিম)


পরিশেষে...
আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলিম বান্দাকে আয়াতুল কুরসির ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। কুরআন পড়ার ও কুরআন বুঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।


 

]]>
Thu, 14 Jul 2022 22:13:23 +0600 BD124.com
জীবনে প্রশান্তি ও সৌভাগ্য লাভে যে আমল করবেন https://bd124.com/post-185 https://bd124.com/post-185

মুসলমানের মূল্যবান ও একমাত্র সম্বল ঈমান। দুনিয়া ও পরকালের সব কিছুর সঙ্গেই মানুষের ঈমান জড়িত। ঈমানবিহীন যে কোনো কাজই আল্লাহর কাছে মূল্যহীন। তাইতো মানুষ জীবনের অন্তিম মুহূর্তে ঈমান নিয়ে হলেও মৃত্যুবরণ করতে চায়। কেননা ঈমানি মৃত্যুতেই রয়েছে চিরকালীন মুক্তি।


ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করা একজন মুমিন মুসলমানের জন্য প্রশান্তি ও সৌভাগ্যের বিষয়। এর অন্যতম উপায় হলো কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন পরিচালনা করা। বিশেষ করে-



> কুরআন-সুন্নাহর দিক-নির্দেশনা মেনে চলা
আল্লাহ ও তার রাসুলের দেয়া বিধান, হুকুম-আহকামগুলো যথাযথ মেনে চলা। কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন পরিচালনাই ঈমানি মৃত্যু লাভ ও পরকালের প্রশান্তির জীবন লাভের অন্যতম উপায়। কুরআনের ধারণ বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন-
‘তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না, যখন তোমরা দুটো জিনিসকে আঁকড়ে ধরবে। আর তার একটি হলো আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো তার রাসুলের সুন্নাহ।’


> আমলে সালেহ তথা নেক আমলে করা
যে ব্যক্তি যে কাজে নিজের জীবন অতিবাহিত করবে, সে কাজের ওপরই তার মৃত্যু হবে। যদি কেউ কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন-যাপন করে তবে তার মৃত্যুও কুরআন-সুন্নাহর আলোকে হবে। এ কারণেই দুনিয়ার জীবনে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নেক আমলে জীবন সাজানো।


> সত্যবাদী বা সাদেক্বিনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা
যারা সত্যের ওপর অটল অবিচল। দ্বীন ও ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত। কুরআন-সুন্নাহর প্রতিনিধিত্ব করে, সেসব লোকদের সংস্পর্শ ও কথা মতো জীবন পরিচালনা করাও ঈমানি মৃত্যু লাভের অন্যতম উপায়। আল্লাহ বলেন-
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং (তাকে ভয় করার মাধ্যম হিসেবে) সাদেক্বিন বা সত্যবাদীদের সঙ্গে চলাফেরা কর।’


> আল্লাহকে স্মরণ করা
আল্লাহকে স্মরণ করার যত মাধ্যম আছে, সব ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করা। দুনিয়াতে যারা আল্লাহর জিকিরে নিজের জীবন পরিচালনা করে, দুনিয়াতেই তাদের ঈমান বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আর মৃত্যুর সময় তারাও প্রশান্তি সৌভাগ্যের মৃত্যু লাভ করেন। এ কারণেই সাহাবায়ে কেরামের জিজ্ঞাসার জবাবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
‘তোমরা তোমাদের ঈমানকে নবায়ন কর। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, ‘কীভাবে ঈমান নবায়ন করব? হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেন, বেশি বেশি- لَا اِلَهَ اِلَّا الله ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’পড়তে থাকা।’



> মেসওয়াক করা
প্রশান্তির মৃত্যু লাভে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় আমল মেসওয়াকও একটি। হাদিসে পাকে বিশ্বনবি তার উম্মতকে এ উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন-
‘আমার উম্মাতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ করতাম।’

ইসলামিক স্কলাররা মেসওয়াকের ২০টি উপকারিতা বর্ণনা করেছেন। সর্বনিম্ন উপকারিতা হলো মুখের ময়লা দূর হওয়া আর সর্বোচ্চ উপকারিতা হলো মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব হওয়া।’


> নির্জনে আল্লাহর কাছে ধরনা দেয়া
জীবনের অন্তিম মুহূর্তে ঈমান ও প্রশান্তির মৃত্যুর জন্য আল্লাহর কাছে গোপনে আবেদন-নিবেদন করা। রোনাজারি করা। চোখের পানি ফেলে দোয়া করা। এ জন্য বিশ্বনবি কিছু দোয়া শিখিয়েছেন। আর তাহলো-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ
উচ্চারণ :‘ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আলামু, ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আলামু।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার জানামতে আপনার প্রতি শিরক হয় এমন ভয়াবহ অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার আশ্রয় চাই। আর আমার অজানায় ঘটে যাওয়া শিরক থেকেও ক্ষমা প্রার্থনা করি।

اَللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা মুছাররিফাল কুলুবি ছাররিফ কুলুবানা আলা ত্বাআতিকা।
অর্থ : হে (মানুষের) অন্তর পরিবর্তনকারী আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে আপনার আনুগত্যের দিকে পরিবর্তন করে দিন।’ (মুসলিম, মিশকাত)

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّت قَلْبِىْ عَلَى دِيْنِكَ
উচ্চারণ : ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত কালবি আলা দিনিকা।’
অর্থ : ‘হে (মানুষের) অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর দৃঢ় রাখ। (তিরমিজি, মিশকাত)

رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমিন।’
অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের ধৈর্যদান করুন এবং মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন।’

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বানা লা তুযেগ কুলুবানা বাদা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আংতাল ওয়াহহাব।’
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য লংঘনে ধাবিত করো না; এবং তোমার কাছ থেকে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর; নিশ্চয় তুমিই সবকিছুর দাতা।’

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফিতানি মা জাহারা মিনহা ওয়া মা বাত্বান।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! যে ফেতনাগুলো দেখা যায় আর যেগুলো দেখা যায় না, সব ধরনের ফেতনা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।’

সর্বোপরি আল্লাহর কাছে এ ধরনা বেশি দেয়া-

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
উচ্চারণ : ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকিম। সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়া লাদ্দাল্লিন।’
অর্থ : ‘আমাদের সহজ সরল পথের হেদায়েত দিন। যে পথে চলা লোকদের ওপর আপনি নেয়ামত দান করেছেন। অভিশপ্ত ও গোমরাহির পথ থেকে বিরত রাখেন।’

আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে প্রশান্তি ও সৌভাগ্যের মৃত্যুদানে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। ঈমানের ওপর অটল ও অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। সাদেক্বিন-সত্যবাদীদের সঙ্গে চলার এবং সুসম্পর্ক রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।



 

]]>
Tue, 12 Jul 2022 14:48:36 +0600 BD124.com
surah muzammil। সূরা মুজাম্মিল । https://bd124.com/post-184 https://bd124.com/post-184

সুরা মুজাম্মিল পবিত্র কুরআনের ৭৩ তম সুরা। মক্কায় নাজিল হওয়া এ সুরায় ২০ আয়াত ও দু'টি রুকু রয়েছে। মুজাম্মিল শব্দের অর্থ বস্ত্রাবৃত বা চাদরে আবৃত ব্যক্তি। এ সুরায় মুজাম্মিল বলতে মহানবী (সা)-কে বোঝানো হয়েছে।


ইসলামী বর্ণনায় এসেছে যখন বিশ্বনবী যখন প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেয়া শুরু করেন তখন কুরাইশরা দারুন্‌নাদওয়া নামে খ্যাত পরামর্শ-সভা কেন্দ্রে সমবেত হয়ে এই দাওয়াত প্রতিরোধের উপায় নিয়ে ফন্দি আঁটতে লাগল।


অবিশ্বাসী কুরাইশদের কেউ কেউ বলল,মুহাম্মাদকে গণক বলে প্রচার করব! অন্য একদল এই ফন্দির বিরোধিতা করে বলল,না,তাঁকে পাগল বলে প্রচার করতে হবে! অনেকে বলল, না,এটাও ঠিক হবে না;মুহাম্মাদকে জাদুকর বলে প্রচার করাটাই হবে তার দাওয়াত প্রতিরোধের জন্য বেশি কার্যকর!।


সমবেত কুরাইশরা এই শেষোক্ত প্রস্তাব মেনে নেয়। তারা বৈঠক শেষ করল এই বলে যে,বন্ধুরা! মুহাম্মাদ যা-ই হোক না কেন সে আমাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করছে। অন্য কথায় মুহাম্মাদ আমাদের বন্ধুদের মধ্যে সৃষ্টি করছে বিচ্ছেদ ও বন্ধুদেরকে কেড়ে নিচ্ছে আমাদের একে-অপরের কাছ থেকে।


মহানবী (সা) কুরাইশদের এসব কথা অবগত হওয়ার পর ইসলাম প্রচারের গুরু-দায়িত্বের অত্যন্ত ভারী বোঝা ও ব্যাপক বাধা-বিপত্তির কথা ভেবে একটি আলখাল্লা বা লম্বা-ওভারকোট জাতীয় জামা গায়ে দিয়ে বিশ্রামে রত হলেন।


আর এ সময় ওহির ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আ) আসেন এবং তিনি বিশ্বনবীকে(সা) সুরা মুজাম্মিল পড়ে শোনান।এ সুরার প্রথম অংশে মহানবীকে (সা) রাতজেগে ইবাদত করার ও বিশেষ করে কুরআন তিলাওয়াতের আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে তিনি ইবাদতের এক বড় কর্মসূচি পালনের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন।


এরপর সুরা মুজাম্মিলে বিশ্বনবীকে (সা) ধৈর্যের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ইসলামের দাওয়াত প্রচারের এই প্রাথমিক পর্যায়ে বিরোধিদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-বিরোধ সুন্দরভাবে বা কৌশলে এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


এরপর সুরা মুজাম্মিলে পরকাল সম্পর্কে,খোদাদ্রোহী ফেরাউন ও তার দলবলের কাছে হযরত মুসাকে পাঠানোর বিষয়ে এবং ফেরউনকে শাস্তি দেয়া ও নৈশ-ইবাদত প্রসঙ্গে বক্তব্য এসেছে। নৈশ-ইবাদত প্রসঙ্গে রাত-জেগে কুরআন তিলাওয়াত করা ও নামাজ পড়া,জাকাত দেয়ার বিষয়ে এবং সামগ্রিকভাবে আল্লাহর রাস্তায় দান-খয়রাত করা ও তওবা সম্পর্কিত বক্তব্য পর্যায়ক্রমে এসেছে এই সুরায়। 


সুরা মুজাম্মিলের প্রথমে মহানবীর (সা) দাওয়াতকে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী সুরে তুলে ধরা হয়েছে। সুরটা এমন যেন মানবজাতির দিকে ধেয়ে আসছে ধ্বংসাত্মক জলচ্ছ্বাস বা সুনামি। আর এমন অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিশতি বা নৌকাগুলো যেন সন্ধান করছে নিরাপদ আশ্রয়।


আর এ অবস্থায় উথাল-পাতাল সাগরের আকাশচুম্বি ঢেউয়ের আঘাতে ডুবে পড়ার বিপদ থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে কেবল মহানবী (সা) এবং পবিত্র কুরআন নামক তাঁর কিশতি বা জাহাজ। তাই এই কিশতির কাণ্ডারি তথা মহা-ত্রাণকর্তাকে মানবজাতির মুক্তি দেয়ার লক্ষ্যের মত বিশাল গুরু-দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হতে রাত জেগে ইবাদত করতেই হবে।


সুরা মুজাম্মিলের প্রথম চার বাক্যে মহান আল্লাহ বলছেন:

'হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রিতে নামাজ বা ইবাদতের জন্য দাঁড়ান কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তারচেয়ে কিছু কম; অথবা এরচেয়ে কিছুটা বেশী এবং কোরআন আবৃত্তি করুন চিন্তা-সহকারে,পুরোপুরি নিখুঁত, সুললিত, সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে।


-রাত মানুষের জন্য প্রশান্তির মাধ্যম। প্রাত্যহিক নানা ব্যস্ততা ও চিন্তার প্রভাব থেকে মুক্তি দেয় রাতের বিশ্রাম। মহানবীর দৈনন্দিন কর্মসূচি ছিল প্রচার আর হেদায়াতসহ নানা জরুরি কাজ ও প্রচেষ্টায় ঠাসা।


মানুষের সামাজিক ও ব্যক্তিগত নানা সমস্যার সমাধানে তিনি ব্যস্ত থাকতেন বলে দিনের বেলায় তাঁর জন্য ইবাদতের সময় ছিল বেশ সংকীর্ণ বা মনের চাহিদা অনুযায়ী অপর্যাপ্ত। তাই আল্লাহর সর্বশেষ রাসুল ও সর্বশ্রেষ্ঠ খোদাপ্রেমিককে রাতের নীরব ও প্রশান্ত সময়কে বাড়তি ইবাদতের কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সময় ইবাদত করা যায় ভাবনার ছাপ বা ক্লেশমুক্ত মন নিয়ে।


রাতের এই ইবাদত কুরআন তিলাওয়াত, মুনাজাত ও নামাজ দিনের বড় বড় ধর্মীয় তৎপরতার জন্য যোগায় বাড়তি অনুপ্রেরণা বা মানসিক শক্তি। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে চিন্তা-ভাবনা ও আত্মিক প্রশিক্ষণের জন্য রাতই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সময়।

রাতের বেলায় কুরআন তিলাওয়াত নৈশ-ইবাদতের অন্যতম বড় দিক। কারণ, কুরআনে রয়েছে আত্মগঠনের সব ধরনের জরুরি শিক্ষা। কুরআন অধ্যয়ন মানুষের ঈমানকে করে শক্তিশালী এবং খোদাভীতির বিকাশ,ধৈর্য-সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি ও আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্যও কুরআন অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই।

গাফেল বা উদাসীন লোকদের মত সারা রাত ঘুমিয়ে থাকা খোদাপ্রেমিকদের জন্য শোভনীয় নয়। মধ্যরাত ও ভোররাতের ইবাদত অন্তরকে করে পরিচ্ছন্ন এবং তা খোদাপ্রেম ও এর নানা ভিত্তিকে করে মজবুত। ঈমানকে সজীব ও প্রাণবন্ত করার জন্য কুরআন তিলাওয়াতের যে ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে তা নানা হাদিসে ও ইসলামী বর্ণনায়ও বলা হয়েছে।


যেমন,বিশ্বনবীর আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আ) বলেছেন,তিনটি বিষয় মহান আল্লাহর অন্যতম প্রধান দয়া বা মহা-অনুগ্রহ। এসব হচ্ছে রাত জেগে ইবাদত করা,রোজাদারকে ইফতার দেয়া ও মুসলমান ভাইদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা।#

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ১৭



]]>
Tue, 12 Jul 2022 13:57:23 +0600 BD124.com
Surah mulk | সূরা মূল | সূরা মূলক এর ফজিলত https://bd124.com/post-183 https://bd124.com/post-183

হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রসূল (সাঃ) বলেছেন কুরআন কারীমে এমন একটি সূরা রয়েছে যা তার পাঠকের পক্ষ হতে আল্লাহ তা’আলার সাথে ঝগড়া ও তর্ক-বিতর্ক করে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। ওটা হলো সূরা মূলক। (এ হাদীসটি তিবরানী (রঃ)-এর হাফিয যিয়া মুকাদ্দসী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদে কিছুটা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) একজন লোককে বলেন এসো, আমি তোমাকে এমন একটি উপহার দিই যাতে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যেতে পার। তুমি মূলক সূরাটি পাঠ করবে এবং পরিবারবর্গকে, সন্তান- সন্তুতিকে এবং পাড়া-প্রতিবেশীকে এটা শিখিয়ে দিবে।

এ সূরাটি মুক্তিদাতা এবং সুপারিশকারী। কিয়ামতের দিন এটা এই পাঠকের পক্ষ হতে আল্লাহ তা'আলার নিকট সুপারিশ করে তাকে আগুনের শাস্তি হতে বাঁচিয়ে নিবে এবং কবরের আযাব হতেও রক্ষার ব্যবস্থা করবে। রসূল (সাঃ) বলেছেন আমি আকাক্ষা করি যে, আমার উম্মতের প্রত্যেকের অন্তরেই যেন এ সূরাটি থাকে।




সূরা মূলক এর অর্থ। 

১ বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত। আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। ২ যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।

৩ যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোন অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি? ৪ অতঃপর তুমি দৃষ্টি ফিরাও একের পর এক, সেই দৃষ্টি অবনমিত ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। 

৫ আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপপঞ্জু দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের আযাব। ৬ আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। আর কতইনা নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল!৭ যখন তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার বিকট শব্দ শুনতে পাবে। আর তা উথলিয়ে উঠবে। 

৮ ক্রোধে তা ছিন্ন ভিন্ন হবার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের নিকট কি কোন সতর্ককারী আসেনি’? ৯ তারা বলবে, ‘হ্যা, আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল। তখন আমরা (তাদেরকে) মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ’। 

১০ আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’। ১১ অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য। ১২ নিশ্চয় যারা তাদের রবকে না দেখেই ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান। ১৩ আর তোমরা তোমাদের কথা গোপন কর অথবা তা প্রকাশ কর, নিশ্চয় তিনি অন্তরসমূহে যা আছে সে বিষয়ে সম্যক অবগত। 

১৪ যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষদর্শী, পূর্ণ অবহিত। ১৫ তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিয্ক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান। ১৬ যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের সহ যমীন ধসিয়ে দেয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে? 

১৭ যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ, তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী? ১৮ আর অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল। ফলে কেমন ছিল আমার প্রত্যাখ্যান (এর শাস্তি)?১৯ তারা কি লক্ষ্য করেনি তাদের উপরস্থ পাখিদের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? পরম করুণাময় ছাড়া অন্য কেউ এদেরকে স্থির রাখে না। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর সম্যক দ্রষ্টা। 

২০ পরম করুণাময় ছাড়া তোমাদের কি আর কোন সৈন্য আছে, যারা তোমাদেরকে সাহায্য করবে ? কাফিররা শুধু তো ধোঁকায় নিপতিত। ২১ অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিয্ক দান করবে যদি আল্লাহ তাঁর রিয্ক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অহমিকা ও অনীহায় নিমজ্জিত হয়ে আছে। ২২ যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে ? 

২৩ বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তকরণসমূহ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর কর’। ২৪ বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে যমীনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে’। ২৫ আর তারা বলে, ‘সে ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’। ২৬ বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’। 

২৭ অতঃপর তারা যখন তা আসন্ন দেখতে পাবে, তখন কাফিরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং বলা হবে, ‘এটাই হল তা, যা তোমরা দাবী করছিলে’। ২৮ বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি’? যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তাহলে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে কে রক্ষা করবে’? 

২৯ বল, ‘তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে’? ৩০ বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে’ ?



 
]]>
Mon, 11 Jul 2022 20:54:22 +0600 BD124.com
যেভাবে দেখা যাবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা https://bd124.com/post-182 https://bd124.com/post-182 আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট সিরিজ। কিন্তু টাইগার ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য দুঃসংবাদ! কারণ এই সিরিজ  দেশীয় কোন চ্যানেলে দেখা যাবে না।  

২০০৩ সালে  বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ টিভিতে সম্প্রচার হয়নি। সেই সিরিজ না দেখার আক্ষেপ ছিলো টাইগার ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। দুই দশক পর আবার যেন তাই হতে চলেছে। 

উইন্ডিজ বোর্ডের কাছ থেকে প্রচার স্বত্ব কিনেছে  টোটাল স্পোর্টস মার্কেটিং ‘টিএসএম’। ‘টিএসএম’-এর কাছ থেকে  বাংলাদেশের  প্রাইভেট চ্যানেলগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার করে। কিন্তু  সিন্ডিকেটের একটি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বেই মূলত জটিলতার সৃষ্টি।

তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশায় আছে বিসিবি। হয়তো এই দ্বন্দ্ব মিটে যাবে। এমনটাই বিশ্বাস করেন বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটু। 

খেলা দেখানোর প্রসঙ্গে টিটু বলেন,  'খেলা শুরু হওয়ার আক পর্যন্ত যে আশা থাকে সেই আশায় আমরা সবাই বুক বেধে আছি। এটা আগেই বলেছি ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিকভাবে করার কিছু নেই। যেহেতু এটা বিদেশি সিরিজ তাই সেটা দুই পক্ষের মধ্যেই সমঝোতা  হতে হয়। তবে আমরা আশায় আছি যে শেষ মুহূর্তে যদি এটা ঠিক হয়ে যায়। এটা এমন একটা ব্যাপার যে  শেষ সময় সিদ্ধান্ত আসলেও টিভিতে আসতে খুব বেশি দেরি হবে না।' 

টিভিতে খেলা দেখা না গেলেও অনলাইনে খেলা দেখার একটা উপায় আছে বলে জানান টিটু, 'আমি যতটুকু জানি আইসিসি তাদের ওটিটি প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখাবে। সেখানে হয়তো রেজিস্ট্রার করে হয়তো দেখতে পারবেন। এই রকম একটা অপশন আইসিসি সবসময় রাখে।'  Install Now 

স্বাগতম আপনাকে Dora Tv App এর ডাউন-লোড Page এ।

ডোরাটিভি অ্যাপ বর্তমানে লাইভ টিভি দেখার সব থেকে ভালো অ্যাপ। আপনি সহযেই বাংলা, হিন্দি, ইংলিশ, এবং সব ধরনের খেলার চ্যানেল সহযেই দেখতে পারবেন। তাই দেরি না করে এখনি ডাউনলোড করুন ডোরাটিভি অ্যাপ টি।
DoraTv Apps Down-load করতে নিচে install Button এ Click করুন এবং 14সেকেন্ড অপেক্ষা করুন তারপর DoraTv App Download লেখার উপরে ক্লি-ক করুন।
কি ভাবে Dora Tv অ্যাপ টি ডাউনলোড এবং install করবেন? না বুঝলে নিচের Screenshot Flow করুন।
install Link A Click করলে নিচের Screenshot এর মতো Show করবে। আমি Just Download লেখার উপর Click করে দিবেন।
তারপর যে কোন একটা ব্রাউজার সিলেক্ট করে দিবেন। আমি Chrome Browser সিলেক্ট করে দিলাম।
Then Download লেখার উপর Click করে দিবেন।
তো আমি Download লেখায় ক্লিক করে দিলাম।
All Right এবার ডাউনলোড Start হবে যাবে এবং Complete হলে Just Apps এর উপর Click করে দিবেন
এখন আপনি INSTALL এ Click করবেন।
তারপর এরকম আসলে INSTALL ANYWAY লেখার উপর ক্লিক করে দিবেন।
Ok আপনার কাজ সেষ Apps Download And install Complete
এবার Unlimited Apps টি ব্যাবহার করতে থাকুন সম্পূর্ণ ফ্রিতে।
]]>
Sun, 10 Jul 2022 18:29:52 +0600 BD124.com
নিজের ছবি দিয়ে ঈদ পোস্টার বানাতে পারবেন ৯৯% গ্যারান্টি https://bd124.com/post-181 https://bd124.com/post-181 আসসালামু আলাইকুম, ঈদ মোবারক পোস্টার ও ব্যানার ডিজাইন পোস্টে আপনাদের স্বাগতম। ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন । ঈদে আমরা একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকি। এর জন্য প্রয়োজন হয় ব্যানার ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার, ঈদ মোবারক পোস্টার ডিজাইন।

দেশজুড়ে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে ঈদের উৎসব। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা এই দুটি ঈদকে ঘিরে আমাদের আনন্দের শেষ নেই। ঈদের প্রায় ১ মাস আগে থেকেই সকলের মনে জেগে উঠে প্রবিত্র ঈদের আনন্দ। তখন শুরু হয় ঈদ মোবারক পোস্টার বা ঈদ মোবারক ব্যানার দিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস। তাই এই পোস্টে eid mubarak poster design শেয়ার করবো।

পোস্টার ডিজাইন 01 

ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আপনার নিজের ছবি কিভাবে ঈদের পোস্টার ও ব্যানার এডিট করবেন তা জানতে আপনাকে নিচের কিছু পদ্ধতি শিখতে হবে। আপনি আপনার ছবি যুক্ত করে ঈদ মোবারক শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন বানিয়ে ফেসবুকে বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে নতুন উপায়ে ঈদ মোবারক শুভেচ্ছা জানাতে পারেন।

মোবাইল ফোন দিয়ে ঈদের পোস্টার ডিজাইন তৈরি করতে হলে PixeLab ফটো এডিটর এপটি প্লে স্টোর হতে ইনস্টল করে নিবেন। আপনার পছন্দের ছবিটি remove.bg ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভার সাইট থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড রিমোভ করে নিবেন। এবার নিচে দেওয়া আপনার পছন্দের ডিজাইনের PNG ফাইল টি PixeLab এপে Import করে এডিট করবেন।

ঈদ আগমনে শুরু হয়েছে ঈদের পোস্টার ডিজাইন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ও ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন করে তা বিনিময় করে থাকে। যাইহোক, আপনার যদি আকর্ষনীয় একটি ঈদ মোবারক পোস্টার ডিজাইন প্রয়োজন হয় তাহলে আপনার মোবাইল ফোনটি নিজেই তা ডিজাইন করতে পারবেন।

পোস্টার ডিজাইন 02

ঈদুল ফিতর পোস্টার ও ঈদুল আযহা পোস্টার এর PNG ফাইল থাকবে এই পোস্টে। ডিজাইন এর PNG ফাইলটি এডিট করে আপনার মোবাইল ফোনটি দিয়ে খুব সহজে, শুধুমাত্র আপনার ছবিটি এবং নামটি পরিবর্তন করে তৈরি করে নিতে পারবেন আকর্ষনীয় একটি পোস্টার।

পোস্টার ডিজাইন 03

ঈদ মোবারক পোস্টার ও ব্যানার ডিজাইন PNG File এর মাধ্যমে আপনি মোবাইল দিয়ে সুন্দর একটি ডিজাইন করে নিতে পারবেন। আপনি পিক্সেল ল্যাব এপের মাধ্যমে ইচ্ছেমতো ক্যানভাস ও লেয়ার যুক্ত করতে পারবেন। তাছাড়াও এই এপের ডিজাইন PNG ফাইল আকারে সেভ করে রাখতে পারবেন।

পোস্টার ডিজাইন 04

]]>
Sat, 09 Jul 2022 11:08:17 +0600 BD124.com
ঈদুল আযহার পোস্টার ডিজাইন,ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন 2022,eid ul adha poster design https://bd124.com/eid-ul-adha-poster-design https://bd124.com/eid-ul-adha-poster-design ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন (Eid mubarak) plp ডাউনলোড করুন ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড, পোস্টার ও ঈদ মোবারক ব্যানার পোস্ট হতে।

আস্সালামু আলাইকুম।  আজকের BD124.com এর পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক। স্বাগতম আজকের পোস্ট ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড, পোস্টার ও ঈদ মোবারক ব্যানার। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা এই ২টি ঈদকে গিড়ে আমাদের কতই না আনন্দ। আপনি যদি ঈদ মোবারক পোস্টার ডাউলোড করতে চান তাহলে এই Eid Mubarak card পোস্টটি আপনার জন্য।

ঈদের চাঁদ দেখা গেলেই শুরু হয়ে যায় ঈদের পোস্টার, কার্ড, ব্যানার ফেসবুকে আপলোড করা। ঈদে সবাই যেমন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর কাজে মেতে উঠে তেমনি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও স্ট্যাটাস দেওয়া শুরু হয়ে যায় ঈদ মোবারক পোস্টার ও ব্যানার ডিজাইন দিয়ে।

ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন

যারা ঈদ মোবারক পোস্টার ও ঈদ মোবারক ব্যানার ডিজাইন করতে চান তাদের জন্য psd ও plp file শেয়ার করবো। আপনারা সম্পূর্ন বিনামূল্যে ডাউনলোড করে নিজের মতো এডিট বা কাস্টমাইজ করে ব্যবহার করতে পারবেন।

ব্যানার বা পোস্টার তৈরির মূল লক্ষ্য হলো কোনকিছু প্রচার করা। ঈদ উপলক্ষে ব্যানার ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার দিয়ে ব্যক্তি প্রচার করার একটি বিশেষ রীতি ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযযোগ মাধ্যমে লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

মোবাইল দিয়ে ঈদের পোস্টার ডিজাইন করতে হলে একটি PixeLab ফটো এডিটর এপটি প্রয়োজন হবে। আপনার মোবাইলে ইনস্টল করা না থাকলে প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে নিন। আর remove.bg ওয়েবসাইট থেকে আপনার ছবির ব্যাকগ্রাউন্ট রিমোভ করে নিবেন। তারপর ঈদ মোবারক পোস্টার ডিজাইন PLP file গুলোতে আপনার ছবি ও নাম পরিবর্তন করে সুন্দর ১টি শুভেচ্ছা পোস্টার বানিয়ে নিতে পারবেন। 

PLP Download

এই PLP ফাইল টি দিয়ে আপনার পছন্দ মতো ছবি বসিয়ে কাস্টমাইজ করে একটি আকর্ষনীয় ঈদ মোবারক পোস্টার তৈরি করতে পারবেন। তাছাড়াও আমরা একটি জেপিজি ছবি দিয়েছি, যাতে আপনার অন্যান্য ফটো এডিটর এর মাধ্যমে ঈদের পোস্টার বানাতে পারেন। নিচে আরও একটি পোস্টার ডিজাইন দেওয়া হলো -

PLP Download

ঈদুল আজহার পোস্টার ডিজাইনঃ

কুরবানী ঈদ বা ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানাতে নিচে দুইটি পিএলপি ফাইল একত্রে ফোল্ডার আকরে দিয়েছি। আপনি ইচ্ছে মতো এডিট করে আপনার নাম এবং ছবি বসাতে পারবেন।

ঈদুল আযহার পোস্টার ডিজাইন - PLP Download

আশা করি, ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড, পোস্টার । ঈদ মোবারক ব্যানার গুলো থেকে ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন PLP ফাইল ডাউনলোড করে, আপনার পছন্দ মতো পোস্টার ডিজাইন করতে পেরেছেন।

]]>
Sat, 09 Jul 2022 00:10:54 +0600 BD124.com
ঈদ মোবারক পোস্টার ও ব্যানার ডিজাইন https://bd124.com/post-179 https://bd124.com/post-179 আসসালামু আলাইকুম, ঈদ মোবারক পোস্টার ও ব্যানার ডিজাইন পোস্টে আপনাদের স্বাগতম। ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন । ঈদে আমরা একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকি। এর জন্য প্রয়োজন হয় ব্যানার ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার, ঈদ মোবারক পোস্টার ডিজাইন।

দেশজুড়ে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে ঈদের উৎসব। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা এই দুটি ঈদকে ঘিরে আমাদের আনন্দের শেষ নেই। ঈদের প্রায় ১ মাস আগে থেকেই সকলের মনে জেগে উঠে প্রবিত্র ঈদের আনন্দ। তখন শুরু হয় ঈদ মোবারক পোস্টার বা ঈদ মোবারক ব্যানার দিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস। তাই এই পোস্টে eid mubarak poster design শেয়ার করবো।

ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আপনার নিজের ছবি কিভাবে ঈদের পোস্টার ও ব্যানার এডিট করবেন তা জানতে আপনাকে নিচের কিছু পদ্ধতি শিখতে হবে। আপনি আপনার ছবি যুক্ত করে ঈদ মোবারক শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন বানিয়ে ফেসবুকে বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে নতুন উপায়ে ঈদ মোবারক শুভেচ্ছা জানাতে পারেন।

মোবাইল ফোন দিয়ে ঈদের পোস্টার ডিজাইন তৈরি করতে হলে PixeLab ফটো এডিটর এপটি প্লে স্টোর হতে ইনস্টল করে নিবেন। আপনার পছন্দের ছবিটি remove.bg ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভার সাইট থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড রিমোভ করে নিবেন। এবার নিচে দেওয়া আপনার পছন্দের ডিজাইনের PLP ফাইল টি PixeLab এপে Import করে এডিট করবেন।

ঈদ মোবারক পোস্টার ডিজাইন ২০২২

ঈদ আগমনে শুরু হয়েছে ঈদের পোস্টার ডিজাইন। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ও ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন করে তা বিনিময় করে থাকে। যাইহোক, আপনার যদি আকর্ষনীয় একটি ঈদ মোবারক পোস্টার ডিজাইন প্রয়োজন হয় তাহলে আপনার মোবাইল ফোনটি নিজেই তা ডিজাইন করতে পারবেন।

ঈদুল ফিতর পোস্টার ও ঈদুল আযহা পোস্টার এর PLP ফাইল থাকবে এই পোস্টে। ডিজাইন এর PLP ফাইলটি এডিট করে আপনার মোবাইল ফোনটি দিয়ে খুব সহজে, শুধুমাত্র আপনার ছবিটি এবং নামটি পরিবর্তন করে তৈরি করে নিতে পারবেন আকর্ষনীয় একটি পোস্টার।

উপরের ঈদ মোবারক পোস্টার ডিজাইন এর - PLP ফাইল ডাউনলোড
ঈদ পোস্টার plp file গুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করে এবং নিজের মতো করে এডিট করে আকর্ষনীয় একটি পোস্টার আপনার জন্য তৈরি করে নিতে পারবেন। ঈদের শুভেচ্ছা ব্যানার । ঈদ মোবারক ব্যানার ডিজাইন
উপরের ঈদ ব্যানার ডিজাইন এর - PLP ফাইল ডাউনলোড
ঈদ মোবারক পোস্টার ও ব্যানার ডিজাইন PLP File এর মাধ্যমে আপনি মোবাইল দিয়ে সুন্দর একটি ডিজাইন করে নিতে পারবেন। আপনি পিক্সেল ল্যাব এপের মাধ্যমে ইচ্ছেমতো ক্যানভাস ও লেয়ার যুক্ত করতে পারবেন। তাছাড়াও এই এপের ডিজাইন PLP ফাইল আকারে সেভ করে রাখতে পারবেন।
আশা করি, ঈদ মোবারক পোস্টার ও ব্যানার ডিজাইন পোস্ট থেকে আপনি নিজের জন্য সুন্দর একটি Eid mubarak poster design করতে পেরেছেন। আজকেরফেক্ট.কম থেকে এরকম আরও পিএলপি ফাইল বিনামূল্যে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

]]>
Fri, 08 Jul 2022 22:46:52 +0600 BD124.com
কোরবানির মাসলা মাসায়েল https://bd124.com/Post-178 https://bd124.com/Post-178

কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে, ‘যার কুরবানীর সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’-মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৩৫১৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫


ইবাদতের মূলকথা হল আল্লাহ তাআলার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই যেকোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরি। ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং শরীয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল অনুযায়ী সম্পাদন করা। এ উদ্দেশ্যে এখানে কুরবানীর কিছু জরুরি মাসায়েল উল্লেখ হল।


কার উপর কুরবানী ওয়াজিব মাসআলা :

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যে ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।


আর নিসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে নিসাব হল এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্ত্ত মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৫


নাবালেগের বা বাচ্চাদের নামে, কুরবানী দেওয়া যাবে কি:

মাসআলা : ৪. নাবালেগ শিশু-কিশোর তদ্রূপ যে সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন নয়, নেসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। অবশ্য তার অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬


মুসাফিরের জন্য কুরবানী: 

মাসআলা : যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে) তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৪, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫


নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী:

মাসআলা : নাবালেগের পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া অভিভাবকের উপর ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব।-রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৫; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫


দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর হুকুম:

মাসআলা : দরিদ্র ব্যক্তির উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়; কিন্তু সে যদি কুরবানীর নিয়তে কোনো পশু কিনে তাহলে তা কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯২


কুরবানী করতে না পারলে:

মাসআলা : ৮. কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে ছিল, কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৪, ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৫


প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে:

মাসআলা : ৯. যেসব এলাকার লোকদের উপর জুমা ও ঈদের নামায ওয়াজিব তাদের জন্য ঈদের নামাযের আগে কুরবানী করা জায়েয নয়। অবশ্য বৃষ্টিবাদল বা অন্য কোনো ওজরে যদি প্রথম দিন ঈদের নামায না হয় তাহলে ঈদের নামাযের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম দিনেও কুরবানী করা জায়েয।-সহীহ বুখারী ২/৮৩২, কাযীখান ৩/৩৪৪, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৮


রাতে কুরবানী করা:

মাসআলা : ১০ ও ১১ তারিখ দিবাগত রাতেও কুরবানী করা জায়েয। তবে দিনে কুরবানী করাই ভালো। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৪৯২৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/২২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০, কাযীখান ৩/৩৪৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩


কুরবানীর উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত পশু সময়ের পর যবাই করলে

মাসআলা : কুরবানীর দিনগুলোতে যদি জবাই করতে না পারে তাহলে খরিদকৃত পশুই সদকা করে দিতে হবে। তবে যদি (সময়ের পরে) জবাই করে ফেলে তাহলে পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোশতের মূল্য যদি জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায় তাহলে যে পরিমাণ মূল্য হ্রাস পেল তা-ও সদকা করতে হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২০-৩২১


কোন কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে:

মাসআলা : ১২. উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫


নর ও মাদা পশুর কুরবানী:

মাসআলা : ১৩. যেসব পশু কুরবানী করা জায়েয সেগুলোর নর-মাদা দুটোই কুরবানী করা যায়। -কাযীখান ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৫


কুরবানীর পশুর বয়সসীমা :

মাসআলা : ১৪. উট কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬ মাস বয়সের হতে হবে। উল্লেখ্য, ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয হবে না। -কাযীখান


এক পশুতে শরীকের সংখ্যা:

মাসআলা : একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু কয়েকজন মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে। সাতের অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক ১/৩১৯, কাযীখান ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮


সাত শরীকের কুরবানী : 

মাসআলা : সাতজনে মিলে কুরবানী করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

মাসআলা : ১৭. উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭


কোনো অংশীদারের গলদ নিয়ত হলে :

মাসআলা : ১৮. যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯


কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ :

মাসআলা : ১৯. কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকীকার নিয়তে শরীক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই সহীহ হবে।-তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২


শরিকদের যদি টাকা হারাম হয় অন্য শরিকে কোরবানি কি হবে


মাসআলা : শরীকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না।


যদি কেউ পশু কেনে এবং কেনার পর শরিক রাখে তাহলে কোরবানি হবে কিনা।

মাসআলা : যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কুরবানী দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে একা কুরবানী করাই শ্রেয়। শরীক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি ওই ব্যক্তি এমন গরীব হয়, যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, তাহলে সে অন্যকে শরীক করতে পারবে না। এমন গরীব ব্যক্তি যদি কাউকে শরীক করতে চায় তাহলে পশু ক্রয়ের সময়ই নিয়ত করে নিবে।-কাযীখান ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০


কুরবানীর উত্তম পশু :

মাসআলা : কুরবানীর পশু হৃষ্টপুষ্ট হওয়া উত্তম।-মুসনাদে আহমদ ৬/১৩৬, আলমগীরী ৫/৩০০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৩


খোড়া পশুর কুরবানী :

মাসআলা : যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন পশুর কুরবানী জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩, আলমগীরী ৫/২৯৭


রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানী :

মাসআলা : এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, আলমগীরী ৫/২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪


দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী : 

মাসআলা : যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না এমন পশু দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫, আলমগীরী ৫/২৯৮


যে পশুর শিং ভেঙ্গে বা ফেটে গেছে

মাসআলা :যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশু কুরবানী করা জায়েয। -জামে তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪, আলমগীরী ৫/২৯৭


কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী :

মাসআলা : যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, মুসনাদে আহমদ ১/৬১০, ইলাউস সুনান ১৭/২৩৮, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ৫/২৯৭-২৯৮


অন্ধ পশুর কুরবানী : 

মাসআলা : ২৮. যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট সে পশু কুরবানী করা জায়েয নয়। -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪


নতুন পশু ক্রয়ের পর হারানোটা পাওয়া গেলে : 

মাসআলা : ২৯. কুরবানীর পশু হারিয়ে যাওয়ার পরে যদি আরেকটি কেনা হয় এবং পরে হারানোটিও পাওয়া যায় তাহলে কুরবানীদাতা গরীব হলে (যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়) দুটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব। আর ধনী হলে কোনো একটি কুরবানী করলেই হবে। তবে দুটি কুরবানী করাই উত্তম। -সুনানে বায়হাকী ৫/২৪৪, ইলাউস সুনান ১৭/২৮০, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯, কাযীখান ৩/৩৪৭


গর্ভবতী পশুর কুরবানী : 

মাসআলা : গর্ভবতী পশু কুরবানী করা জায়েয। জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায় তাহলে সেটাও জবাই করতে হবে। তবে প্রসবের সময় আসন্ন হলে সে পশু কুরবানী করা মাকরূহ। -কাযীখান ৩/৩৫০


পশু কেনার পর দোষ দেখা দিলে : 

মাসআলা : কুরবানীর নিয়তে ভালো পশু কেনার পর যদি তাতে এমন কোনো দোষ দেখা দেয় যে কারণে কুরবানী জায়েয হয় না তাহলে ওই পশুর কুরবানী সহীহ হবে না। এর স্থলে আরেকটি পশু কুরবানী করতে হবে। তবে ক্রেতা গরীব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই কুরবানী করতে পারবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, ফাতাওয়া নাওয়াযেল ২৩৯, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫


পশুর বয়সের ব্যাপারে বিক্রেতার কথা :

মাসআলা : যদি বিক্রেতা কুরবানীর পশুর বয়স পূর্ণ হয়েছে বলে স্বীকার করে আর পশুর শরীরের অবস্থা দেখেও তাই মনে হয় তাহলে বিক্রেতার কথার উপর নির্ভর করে পশু কেনা এবং তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে। -আহকামে ঈদুল আযহা,


বন্ধ্যা পশুর কুরবানী :

মাসআলা : বন্ধ্যা পশুর কুরবানী জায়েয। -রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫


নিজের কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা :

মাসআলা : ৩৪. কুরবানীর পশু নিজে জবাই করা উত্তম। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে পারবে। এক্ষেত্রে কুরবানীদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে তার উপস্থিত থাকা ভালো। -মুসনাদে আহমদ ২২৬৫৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২২-২২৩, আলমগীরী ৫/৩০০, ইলাউস সুনান ১৭/২৭১-২৭৪


 

নেসাবের মেয়াদ:

মাসআলা কুরবানীর নেসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়; বরং কুরবানীর তিন দিনের মধ্যে যে কোনো দিন থাকলেই কুরবানী ওয়াজিব হবে।-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২


কুরবানীর সময়

মাসআলা : মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়। যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা উত্তম। -মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮, ২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫




 

]]>
Mon, 04 Jul 2022 19:17:20 +0600 BD124.com
কুরবানির শর্ত ও নিয়মাবলি https://bd124.com/Post-177 https://bd124.com/Post-177

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও তার ইবাদতের জন্য পশু জবেহ করাই কুরবানি। ঈদুল আজহার দিন থেকে কুরবানির দিনগুলোতে নির্দিষ্ট প্রকারের গৃহপালিত পশু আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য জবেহ করাই হচ্ছে কুরবানি। ইসলামি শরিয়তে এটি ইবাদত হিসেবে সিদ্ধ। যা কুরআন, হাদিস ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত দ্বারা প্রমাণিত। কুরআন মাজিদে এসেছে- তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর ও কুরবানি কর।’ (সুরা কাউসার : আয়াত ২)


১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষ ও নারীর কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ৭ ভরি সোনা অথবা সাড়ে ৫২ তোলা রূপার মূল্য পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার কুরবানি করা ওয়াজিব।


টাকা-পয়সা, সোনা-রূপার অলঙ্কার, ব্যবসায়িক পণ্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, সৌখিন বা অপ্রয়োজনী আসবাবপত্র এসব কিছুর মূল্য কুরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।


কুরবানির শর্তাবলি
কুরবানি করার জন্য নির্দিষ্ট পশু রয়েছে। তবে এ সব পশুর বয়স এবং এক পশুতে কয়জন অংশগ্রহণ করতে পারবে এ সম্পর্কে ইসলামের অনেক দিকনির্দেশনা রয়েছে। আর তাহলো-


> কুরবানির পশু
এমন পশু দ্বারা কুরবানি দিতে হবে যা ইসলামি শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হল- উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এগুলোকে কুরআনের ভাষায় বলা হয় ‘বাহীমাতুল আনআম।’ হাদিসে এসেছে- ‘তোমরা অবশ্যই নির্দিষ্ট বয়সের পশু কুরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ-শাবক কুরবানি করতে পার।’


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো জন্তু কুরবানি করেননি ও কুরবানি করতে বলেননি। তাই কুরবানি শুধু এগুলো দিয়েই করতে হবে।


ইমাম মালিক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি'র মতে, কুরবানির জন্য সর্বোত্তম জন্তু হল শিংওয়ালা সাদা-কালো দুম্বা। কারণ রাসলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ধরনের দুম্বা কুরবানি করেছেন বলে বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে।


উট, গরু ও মহিষ সাত ভাগে কুরবানি দেয়া যায়। হাদিসে এসেছে- ‘আমরা হুদাইবিয়াতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। তখন আমরা উট ও গরু দ্বারা সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানি দিয়েছি।’ গুণগত দিক থেকে উত্তম হল- কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুঁত, দেখতে সুন্দর হওয়া।


> কুরবানির পশুর বয়স
কুরবানির পশু পরিপূর্ণ বয়সের হতে হবে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির পশুর বয়সের দিকটা খেয়াল রাখা জরুরি। আর তাহলো-
- উট : পাঁচ বছরের হতে হবে।
- গরু-মহিষ : দুই বছরের হতে হবে।
- ছাগল-ভেড়া-দুম্বা : এক বছর বয়সের হতে হবে।


> পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে
কুরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। হাদিসে এসেছে-
সাহাবি হজরত আল-বারা ইবনে আজেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন তারপর বললেন- চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে না। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে পরিপূর্ণ হবে না। (আর তাহলো)-
- অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট।
- রোগাক্রান্ত, যার রোগ স্পষ্ট।
- পঙ্গু, যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং
- আহত, যার কোনো অঙ্গ ভেঙ্গে গেছে। নাসাঈ'র বর্ণনা ‘আহত’ শব্দের স্থলে ‘পাগল’ উল্লেখ আছে।


> কুরবানি মাকরূহ হবে
আবার পশুর এমন কতগুলো ত্রুটি আছে যা থাকলে কুরবানি আদায় হবে কিন্তু তা মাকরূহ হবে। এ সব দোষত্রুটিযুক্ত পশু কুরবানি না করাই ভালো। আর তাহলো-
- পশুর শিং ভাঙ্গা।
- কান কাটা।
- লেজ কাটা।
- ওলান কাটা কিংবা লিঙ্গ কাটা ইত্যাদি।


> পরিপূর্ণ মালিকানা থাকা
কুরবানি দাতা যে পশুটি কুরবানি করবেন, তার উপর কুরবানি দাতার পরিপূর্ণ মালিকানাসত্ত্ব থাকতে হবে। যদি এ পশু বন্ধকের পশু, কর্জ করা পশু বা পথে পাওয়া পশু হয় তবে তা দ্বারা কুরবানি আদায় হবে না।


কুরবানির নিয়মাবলী
> মুখের উচ্চারণ দ্বারা নির্দিষ্ট করা যেতে পারে। এভাবে বলা যায় যে- ‘এ পশুটি আমার কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট করা হল।’ তবে ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট করা যাবে না। এমন বলা যে- ‘আমি এ পশুটি কুরবানির জন্য রেখে দেব।’


> কাজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা যায়। যেমন- কুরবানির নিয়তে পশু কেনা অথবা কুরবানির নিয়তে জবেহ করা। যখন পশু কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট করা হয় তখন কিছু বিষয় কার্যকর হয়ে যায়। আর তাহলো- প্রথমত : এ পশু কুরবানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। দান করা যাবে না। বিক্রি করা যাবে না। তবে কুরবানি ভালোভাবে আদায় করার জন্য তার চেয়ে উত্তম পশু দ্বারা পরিবর্তন করা যাবে।

- দ্বিতীয়ত : যদি পশুর মালিক মারা যায় তবে তার ওয়ারিশদের দায়িত্ব হল এ কুরবানি বাস্তবায়ন করা।

- তৃতীয়ত : এ পশুর থেকে কোনো ধরনের উপকার ভোগ করা যাবে না। যেমন- কুরবানির পশুর দুধ বিক্রি করা যাবে না। কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে না। সাওয়ারি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। পশম বিক্রি করা যাবে না। যদি পশম আলাদা করে তাবে তা সদকা করে দিতে হবে বা নিজের কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবে কিন্তু বিক্রি করা যাবে না।

- চতুর্থত : কুরবানি দাতার অবহেলা বা অযত্নের কারণে যদি কুরবানির নির্ধারিত পশুটি দোষযুক্ত হয়ে পড়ে, চুরি হয়ে যায় কিংবা হারিয়ে যায় তবে কুরবানি দাতার কর্তব্য হবে অনুরূপ বা তার চেয়ে ভাল একটি পশু ক্রয় করা। আর যদি অবহেলা বা অযত্নের কারণে না হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে দোষযুক্ত হয় তবে এ দোষযুক্ত পশু কুরবানি করা যাবে।

- যদি পশুটি হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়ে যায় আর কুরবানি দাতার উপর আগে থেকেই কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে সে কুরবানির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করবে।

- আর যদি আগে থেকে কুরবানি ওয়াজিব ছিল না কিন্তু সে কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে থাকে তবে চুরি হয়ে গেলে বা মরে গেলে অথবা হারিয়ে গেলে তাকে আবার পশু কিনে কুরবানি করতে হবে।

মুমিন মুসলমানের উচিত, উল্লেখিত শর্ত ও নিয়মগুলো মেনে কুরবানি করা প্রত্যেকের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

হে আল্লাহ! মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ শর্ত ও নিয়ম মেনে কুরবানির পশু কেনার ও কুরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



 

]]>
Fri, 01 Jul 2022 21:25:05 +0600 BD124.com
ayatul kursi bangla | আয়াতুল কুরসি | বাংলা এবং আরবি | উচ্চারণসহ শিখুন | https://bd124.com/ayatul-kursi-bangla https://bd124.com/ayatul-kursi-bangla

আসুন আমরা আয়াতুল কুরসি শিখি, আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে, আমাদের জন্য কি? ফজিলত আল্লাহ রেখেছেন । কোরআনে বর্ণনা করেছেন, চলুন জেনে নেই, আয়তুল কুরসী কেন শিখবেন। কিভাবে শিখবেন, কি কি ফজিলত ,বিস্তারিত জানুন এবং ভিডিওটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।




আয়াতুল কুরসী হচ্ছে কুরআন শরীফের সূরা আল বাকারা ২৫৫ তম আয়াত। এবং এটি হচ্ছে কুরআন শরীফের শ্রেষ্ঠতম আয়াত । এই আয়াত সমূহের মধ্যে মহান আল্লাহ্‌ তালার এমন কিছু পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি পেশ করা হয়েছে যার মতো আর পুরো কুরআন শরীফ এ নেই ।

যার জন্য হাদিস শরীফ আয়াতুল কুরসী ( Ayatul Kursi Bangla ) কে কুরআন শরীফের শ্রেষ্ঠ আয়াত বলে অভিহিত করেছে। আর এই জন্য আমরা প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি বেশি বার পাঠ করে থাকি।



আয়াতুল কুরসী বাংলা উচ্চারনঃ

আল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল-কাইয়্যুল, লা-তা’ খুযুহু সিনাতু ওয়া-লা নাউম । লাহু মা-ফীস সামাওয়াতি ওয়া-মা ফীল আরদি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা-বি-ইযনিহী, ইয়া’লামু মা- বাইনা আইদীহীম ওয়া-মা খলফাহুম, ওয়া-লা ইউহীতূনা বিশাইয়্যিম মিন ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসি’আ কুরসীয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া-লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলীয়্যুল আযী-ম। (সূরা আল বাকারাহ- ২৫৫ তম আয়াত)



আয়াতুল কুরসী বাংলা অর্থঃ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, আল্লাহ্‌ জীবিত,তিনি সবকিছুর ধারক। তাকে নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না এবং তন্দ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই কিছুর মালিক তিনি ।


কে আছো এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই কিছুই আল্লাহ্‌ জানেন।


তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত নভোমন্ডল ভূমন্ডল পরিবেষ্টিত করে আছে।


আর এইগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। আল্লাহই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। ( সূরা আল বাকারাহ- ২৫৫ তম আয়াত)



আয়াতুল কুরসীর আটটি গুনঃ
আল্লাহ তা-আলা এই আয়াতের মধ্যে আটটি গুনের কথা বলা বলেছেন। প্রথম গুনটি হচ্ছেঃ

আল্লাহ এক অদ্বিতীয় তিনি চিরস্থায়ী তিনি চিরঞ্জীবী আল্লাহ তা-আলা একজন। তার কোন শরীক নেই। আল্লাহর কোন অংশীদার নেই। তার মত বা তার কোন সমকক্ষওকেউ নেই। তিনি চিরস্থায়ী। তার নিজ সিংহাসন হতে আসমান জমিন নভোমন্ডল ভূমন্ডল সবকিছু তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি চিরঞ্জীবী তিনি যেমন আছেন তিনি তেমনি থাকবেন এবং আল্লাহর কখনোই মৃত্যু হবে না।


দ্বিতীয় গুণঃ

আল্লাহ তা-আলার কখনো ঘুম আসে না এবং তন্দ্রা আল্লাহ তালাকে স্পর্শ করেনা।


তূতীয় গুনঃ

আসমান জমিনে যারা আছে তারা সবিই আল্লাহ্‌র প্রশ্নংসা করেন।


চতুর্থ গুনঃ

আল্লাহ্‌ তা-আলা বলেন এমন কে আছো আমার অনুমতি ছাড়া আমার কাছে সুপারিশ করতে পারে? সকল সাফায়াতের চাবিকাঠি আল্লাহর হাতে ।আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আল্লাহর কাছে কেউই সুপারিশ করতে পারবে না।


পঞ্চম গুনঃ

আল্লাহ্‌ তালা সব কিছুই জানে । তিনি অন্তর জামি। এই পুরো নভোমন্ডল ভূমন্ডলে যত কিছু ঘটছে বা ঘটবে তিনি সব কিছুই জানেন।


ষষ্ঠ গুনঃ

আল্লাহ্‌ তা-আলা জ্ঞানের আধার। আল্লাহ্‌ তা-আলা যতোটুক ছেয়েছে আমাদেরকে ততো টুক জ্ঞান দান করেছেন। এর বেশি একটুক ও দেন নি।


সপ্তম গুনঃ

আল্লাহ্‌ তা-আলা নভোমন্ডল ভূমন্ডল সূষ্টি করেছেন আর আমরা এর ভিতরে বসবাস করেছি । আল্লাহ্‌ তা-লার কুরসীর মধ্যেই আমরা বসবা করছি আমরা চাইলেও এর বাহিরে যেতে পারবনা আর এই কথা মেনেই আমাদের বাঁচতে হবে।


অষ্টম গুনঃ

আর এই সব কিছু করতে আল্লাহ্‌ তা-আলা কখনো ক্লান্ত হন না। আল্লাহর কোন অবসাদ নেই । আর সব কিছুই মানলে আমাদের উপর আল্লাহ্‌ তা-আলা খুশি হবেন। আর আমাদের পক্ষে জান্নাত লাভ করা সহজ হবে।



এ ছাড়া আয়াতুল কুরসী পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ আমাদের অনেক অনেক ফজিলত লাভ করার সুযোগ করে দিয়েছেন।


আল্লাহ তা-আলা মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এমন এমন অনেক আয়াত মানবজাতির জন্য বিশেষত্ব দিয়েছেন যা আমল করে অনেক ফজিলত লাভ করা সম্ভব। আর সেই সব গুলো আয়াতের মধ্যে আয়াতুল কুরছি শ্রেষ্ঠতম। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতিদিন ফরজ নামাজ পড়ার পর আয়াতুল কুরছি পাঠ করবে তার মৃত্যুর সময় সহজভাবে জান কবজ করা হবে।


অন্য আরেক বর্ণনায় পাওয়া যায় যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতে যেতে আর কোনো বাধাই থাকবে না কেবলমাত্র মৃত্যু ছাড়া অর্থাৎ মৃত্যু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর জান্নাতের শান্তি উপভোগ করতে পারবে(সুবহানাল্লাহ)।


আরে থেকে বোঝা যায় আল্লাহ তাআলা কত মহান আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য নানারকম সুযোগ দিয়েছেন যেন তার বান্দা আল্লাহ তা-আলার ইবাদতে মশগুল থেকে খুব সহজভাবে জান্নাত লাভ করতে পারে।


আল্লাহ তালা দুনিয়াতে যে এই আয়াতের এতো ফজিলত দিয়েছেন যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করে গুমায় তাহলে আল্লাহ তা-আলা তার মাথার কাছে এমন একজন ফেরেস্তা পাহারা দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করে দেন যে ফেরেস্তা সারা রাত তাকে পাহারা দেয় এবং সকল রকম অনিষ্ট থেকে তাকে হেফাজত করে।


আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহ্‌ জ্বিন শয়তান এবং সকল রকম অনিষ্ট হতে রক্ষা করেঃ
হাদিসে পাওয়া যায় যে ব্যক্তি আয়াতুল কুরসী প্রতিদিন সন্ধায় পড়বে সে সকাল পযন্ত জ্বিন এবং শয়তান থেকে হেফাজতে থাকবে। আবার যে যে ব্যক্তি আয়াতুল কুরসী প্রতিদিন সকালে পড়বে সে সন্ধা পযন্ত জ্বিন এবং শয়তান থেকে হেফাজতে থাকবে।


এই সময়ের মধ্যে খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে জ্বিন এবং শয়তান তার কোন অনিষ্ট করতে পারে না। এবং হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলছেন আয়াতুল কুরসী পাঠকরে মাল- সম্পদ ফুক দিয়ে ঘুমায় তাহলে তার ওই সম্পদের কোন ক্ষতি হয় না। চোর সেই সম্পদ চুরি করতে পারে না।


এছাড়াও এই আয়াতুল কুরসী যে ব্যক্তি সব সময় পাঠ করবে আল্লাহ তা-আলা তার জন্য আটটি জান্নাতের সব গুলো দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সুযোগ দিবেন।(আলহামদুলিল্লাহ)

আর তাই আমাদের সকলের উচিত বেশি বেশি আয়াতুল কুরসী পড়া।আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যেন আল্লাহ্‌ তা-আলা আমাদের সকল গুনাহ মাপ করেন।



 

]]>
Wed, 29 Jun 2022 15:35:30 +0600 BD124.com
ইয়াজুজ মাজুজ কারা এবং ইয়াজুজ মাজুজ কখন আসবে? https://bd124.com/Post-175 https://bd124.com/Post-175

ইয়াজুজ মাজুজ এর পরিচয়


উলামাদের কেউ কেউ বলেন, আরবী আজ শব্দ থেকে ইয়াজুজ মাজুজ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে; যার অর্থ হচ্ছে দ্রুতগামী; ইয়াজুজ মাজুজ যখন পৃথিবীতে বের হবে; তখন তারা খুব দ্রুত সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। তাদের এই দ্রুতগামীতার জন্য তাদেরকে ইয়াজুজ মাজুজ বলা হয়; আবার কারো কারো মতে;

আরবী মওজ শব্দ থেকে ইয়াজুজ মাজুজ শব্দের উৎপত্তি; যার অর্থ হচ্ছে তরঙ্গ বা ঢেউ। ইয়াজুজ মাজুজ যখন পৃথিবীতে বের হবে; তখন তারা এতো বেশি সংখ্যক হবে যে; তারা তরঙ্গ বা ঢেউয়ের মতো ছুটতে থাকবে; এবং সারা পৃথিবীতে বিস্তার লাভ করবে।

এজন্য তাদেরকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। সঠিক কথা এটা হতে পারে যে; আজ শব্দ থেকে ইয়াজুজ আর মওজ শব্দ থেকে মাজুজ শব্দের উৎপত্তি; যার অর্থ হচ্ছে দ্রুতগামী ও তরঙ্গ। ইয়াজুজ মাজুজ যখন বের হবে; তখন তারা খুব দ্রুত ছুটে চলবে তরঙ্গের আকারে। তাই তাদেরকে ইয়াজুজ মাজুজ নামে নামকরণ করা হয়েছে।


মহান আল্লাহ বলেন,


অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যস্থলে পৌছলেন; তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন; যারা তার কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। তারা বলল, হে যুলকারনাইন; ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে;


আপনি বললে আমরা আপনার জন্য কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে; আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন; তিনি বললেন, আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর; আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব; তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও।


অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল; তখন তিনি বললেন, তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক; অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল; তখন তিনি বললেন, তোমরা গলিত তামা নিয়ে এসো; আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই। অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না; এবং তা ভেদ করতেও সক্ষম হল না।


যুলকারনাইন বললেন, এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ; যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেবেন; এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে; অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব। সূরা কাহাফ, আয়াত নং- ৯৩ – ৯৯।


আয়াতগুলি থেকে বুঝা যায়,


ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্প্রদায় ভূপৃষ্ঠের নিচে বসবাস করত এবং তারা পৃথিবীর উপরিভাগে এসে অশান্তি সৃষ্টি করত। দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যস্থলে ছিল তাদের প্রবেশ পথ যে পথ দিয়ে তারা উপরে উঠে আসত আবার ভেতরে প্রবেশ করত। কারন পৃথিবীর অভ্যন্তরে আরো ছয়টি জমিন রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,আল্লাহ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে, এসবের মধ্যে তার আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তার গোচরীভূত।

আমরা সপ্তম জমিনে বসবাস করছি আর হতে পারে ইয়াজুজ মাজুজ ষষ্ঠ জমিনে রয়েছে। তাই দেশবাসী যুলকারনাইনকে বলেছিল, ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্প্রদায় এবং তাদের মাঝে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দিতে যেন তারা তাদের মাঝে আসতে না পারে। প্রাচীরটি মূলত ঐ প্রবেশদ্বারের মুখে ঢাকনা স্বরূপ। যার উপর আরোহণ করা এবং যা ভেদ করা ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্প্রদায়ের জন্য সম্ভব নয় কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ তাদেরকে সেখান থেকে মুক্তি দিবেন। আর সবকিছু আল্লাহই ভাল জানেন।


ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন,


এক ব্যক্তি রাসুল (স) কে বলল, আমি ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর দেখেছি। রাসুল (স) বললেন, কেমন দেখেছ? সে বলল জমকালো চাদরের ন্যায়। অন্য বর্ণনায় আছে, সে বলল, ডোরাদার চাদরের ন্যায়, যার একটি ডোরা এবং অপরটি লাল ছিল। রাসুল (স) বললেন, আমিও তাই দেখেছি।


আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


তিনি বলেন, নবী (স) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, হে আদম! তিনি বলবেন, হে রব! আমার সৌভাগ্য, আমি হাজির। তারপর তাকে উচ্চৈঃস্বরে ডেকে বলা হবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমার বংশধর থেকে একদলকে বের করে জাহান্নামের দিকে নিয়ে আস। আদম (আ) বলবেন হে রব!


জাহান্নামী দলের পরিমাণ কী? আল্লাহ তায়ালা বলবেন প্রতি হাজার থেকে নয়শত নিরানব্বই, এ সময় গর্ভবতী মহিলা গর্ভপাত করবে, শিশুরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং তুমি মানুষকে দেখবে মাতাল; অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহ্‌র শাস্তি কঠিন। [পরে রাসুল (স) এ আয়াতটি পাঠ করলেন] । এ কথা লোকদের কাছে ভয়ানক মনে হল, এমনকি তাদের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল।


এরপর নবী (স) বললেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন তো ইয়াজুজ-মাজূজ থেকে নেয়া হবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন। আবার মানুষদের মধ্যে তোমাদের তুলনা হবে যেমন সাদা গরুর পার্শ্ব মধ্যে যেন একটি কালো পশম অথবা কালো গরুর পার্শ্বে যেন একটি সাদা পশম।


আমি অবশ্য আশা রাখি যে, জান্নাতবাসীদের মধ্যে তোমরাই হবে এক-চতুর্থাংশ। (রাবী বলেন) আমরা সবাই খুশীতে বলে উঠলাম, ‘আল্লাহু আকবার’। এরপর রাসুল (স) বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ। আমরা বলে উঠলাম, ‘আল্লাহু আকবার’। তারপর তিনি বললেন, তোমরা হবে জান্নাতবাসীদের অর্ধেক। আমরা বলে উঠলাম, ‘আল্লাহু আকবার’। সহিহ বুখারি। ইয়াজুজ মাজুজ এর আগমন অবধারিত
মহান আল্লাহ বলেন,

যেসব জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, তার অধিবাসীদের ফিরে না আসা অবধারিত। যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে। সূরা আম্বিয়া, আয়াত নং- ৯৫ ও ৯৬। 

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, যেসব জাতি আল্লাহর গজবে ধ্বংস হয়েছে অর্থাৎ মারা গেছে তারা ফিরে আসবে না অর্থাৎ জীবিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ইয়াজুজ মাজুজ বের হবে। আর আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন কিয়ামতের দিন। তাই এ কথা স্পষ্ট হয় যে, ইয়াজুজ মাজুজ বের না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না।


আবূ সারীহাহ হুযায়ফাহ বিন আসীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর এক হুজরা থেকে আমাদের দিকে উঁকি মেরে তাকালেন। আমরা তখন কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বলেনঃ দশটি নিদর্শন (আলামত) প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত হবে না।


পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, মাসীহ দাজ্জালের আবির্ভাব, ধোঁয়া নির্গত হওয়া, দাব্বাতুল আরদ প্রকাশ পাওয়া, ইয়াজুজ মাজুজের আবির্ভাব, ঈসা ইবনে মারিয়াম (আঃ) এর (উর্দ্ধজগত থেকে) অবতরণ, তিনটি ভূমিধ্বস প্রাচ্যদেশে একটি, পাশ্চাত্যে একটি এবং আরব উপদ্বীপে একটি, এডেনের নিম্নভূমি আব্য়ান এর এক কূপ থেকে অগ্ন্যুৎপাত হবে যা মানুষকে হাশরের ময়দানে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। তারা রাতে নিদ্রা গেলে এই আগুন থেমে থাকবে এবং তারা চলতে থাকলে আগুনও তাদের অনুসরণ করবে (তারা দুপুরে বিশ্রাম নিলে, আগুনও তখন তাদের সাথে থেমে থাকবে)। —–ইবনে মাজাহ।



যাইনাব বিনতু জাহশ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কোন একদিন রাসূল (স) ঘুম হতে জাগ্রত হলেন, তখন তাঁর মুখমন্ডল রক্তিমবর্ণ ধারণ করেছিল। তিনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে লাগলেন। তা তিনবার বলার পর তিনি বললেনঃ ঘনিয়ে আসা দুর্যোগে আরবদের দুর্ভাগ্য। আজ ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ ফাঁক হয়ে গেছে।


এই বলে তিনি তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলের সাহায্যে দশ সংখ্যার বৃত্ত করে ইঙ্গিত করেন। যাইনাব (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল (স) আমাদের মধ্যে সৎ লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা হবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন পাপাচারের বিস্তার ঘটবে। ——বুখারী, মুসলিম ইবনু মাজাহ।


আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ নিশ্চয় ইয়াজুজ মাজুজ প্রতিদিন সুড়ঙ্গ পথ খনন করতে থাকে। এমনকি যখন তারা সূর্যের আলোকরশ্মি দেখার মতো অবস্থায় পৌঁছে যায় তখন তাদের নেতা বলে, তোমরা ফিরে চলো, আগামী কাল এসে আমরা খনন কাজ শেষ করবো।


অতঃপর আল্লাহ তাআলা (রাতের মধ্যে) সেই প্রাচীরকে আগের চেয়ে মজবুত অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। যখন তাদের আবির্ভাবের সময় হবে এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মানবকুলের মধ্যে পাঠাতে চাইবেন, তখন তারা খনন কাজ করতে থাকবে। শেষে যখন তারা সূর্যরশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছবে তখন তাদের নেতা বলবে, এবার ফিরে চলো, ইনশাআল্লাহ আগামী কাল অবশিষ্ট খনন কাজ সম্পন্ন করবো। তারা ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার করবে।


সেদিন তারা ফিরে যাবে এবং প্রাচীর তাদের রেখে যাওয়া ক্ষীণ অবস্থায় থেকে যাবে। এ অবস্থায় তারা খনন কাজ শেষ করে লোকালয়ে বের হয়ে আসবে এবং সমুদ্রের পানি পান করে শেষ করবে। মানুষ তাদের ভয়ে পালিয়ে দূর্গের মধ্যে আশ্রয় নিবে। তারা আকাশপানে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে।

রক্তে রঞ্জিত হয়ে তা তাদের দিকে ফিরে আসবে। তখন তারা বলবে, আমরা পৃথিবীবাসীদের চরমভাবে পরাভূত করেছি এবং আসমানবাসীদের উপরও বিজয়ী হয়েছি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ঘাড়ে এক ধরনের কীট সৃষ্টি করবেন। কীটগুলো তাদের হত্যা করবে। রাসুল (সঃ) বলেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ভূপৃষ্ঠের গবাদি পশুগুলো সেগুলোর গোশত খেয়ে মোটাতাজা হয়ে মাংসল হবে। —–তিরমিযী।

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসুল (সঃ) বলেছেন, ইয়াজূজ ও মাজূজ বের হওয়ার পরও বাইতুল্লার হজ্জ ও ‘উমরাহ পালিত হবে। —– সহিহ বুখারি।


ইয়াজুজ মাজুজ কখন বের হবে


এটা স্পষ্ট যে, ইয়াজুজ মাজুজ কিয়ামতের একেবারে পূর্ব মূহুর্তে বের হবে। অনেকে মনে করেন ইয়াজুজ মাজুজ বের হয়ে গেছে। তাদের মতে তাতারীরাই হচ্ছে ইয়াজুজ মাজুজ। কিন্তু তাদের এ ধারনা একেবারেই ভুল।

মহান আল্লাহ বলেন,যুলকারনাইন বললেন, এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব। (সূরা কাহাফ আয়াত নং ৯৮ ও ৯৯)


নাওয়াস ইবনু সামআন (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


ঈসা আ. দাজ্জালকে হত্যা করবেন অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিকট ওহী প্রেরণ করবেন, “আমার বান্দাহদেরকে তূর পাহাড়ে সরিয়ে নাও। কেননা, আমি এমন একদল বান্দা অবতীর্ণ করছি যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারো নেই তিনি বলেন, তারপর আল্লাহ ইয়াজুজ মাজুজের দল পাঠাবেন।


আল্লাহ তা‘আলার বাণী অনুযায়ী তাদের অবস্থা হলো, “তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি হতে ছুটে আসবে (সূরাঃ আম্বিয়া আয়াত নং ৯৬)। তিনি বলেন, তাদের প্রথম দলটি (সিরিয়ার) তাবারিয়া উপসাগর অতিক্রমকালে এর সমস্ত পানি পান করে শেষ করে ফেলবে।এদের শেষ দলটি এ স্থান দিয়ে অতিক্রমকালে বলবে, নিশ্চয়ই এই জলাশয়ে কোন সময় পানি ছিল।


তারপর বাইতুল মাকদিসের পাহাড়ে পৌঁছার পর তাদের অভিযান সমাপ্ত হবে। তারা পরস্পর বলবে, আমরা তো দুনিয়ায় বসবাসকারীদের ধ্বংস করেছি, এবার চল আকাশে বসবাসকারীদের ধ্বংস করি। তারা এই বলে আকাশের দিকে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে।


আল্লাহ তা‘আলা তাদের তীরসমূহ রক্তে রঞ্জিত করে ফিরত দিবেন। তারপর ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) ও তাঁর সাথীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। তারা (খাদ্যভাবে) এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পতিত হবেন যে, তখন তাদের জন্য একটা গরুর মাথা তোমাদের এ যুগের একশত দীনারের চাইতে বেশি উত্তম মনে হবে।


তিনি বলেন, তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সাথীরা আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু হয়ে দুআ করবেন। আল্লাহ্ তা‘আলা তখন ইয়াজুজ মাজুজ বাহিনীর ঘাড়ে মহামারীরূপে ‘নাগাফ’ নামক কীটের উৎপত্তি করবেন। তারপর তারা এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে যেন একটি প্রাণের মৃত্যু হয়েছে।



তখন ঈসা (আঃ) তার সাথীদের নিয়ে (পাহাড় হতে) নেমে আসবেন।


সেখানে তিনি এমন এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও পাবেন না, যেখানে সেগুলোর পঁচা দুর্গন্ধময় রক্ত-মাংস ছড়িয়ে না থাকবে। তারপর তিনি সাথীদের নিয়ে আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট দু‘আ করবেন। আল্লাহ্ তা‘আলা তখন উটের ঘাড়ের ন্যায় লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি প্রেরণ করবেন।

সেই পাখি ওদের লাশগুলো তুলে নিয়ে গভীর গর্তে নিক্ষেপ করবে। এদের পরিত্যক্ত তীর, ধনুক ও তূণীরগুলো মুসলমানগণ সাত বছর পর্যন্ত জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করবে। তারপর আল্লাহ্ তাআলা এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যা সমস্ত ঘর-বাড়ী, স্থলভাগ ও কঠিন মাটির স্তরে গিয়ে পৌছবে এবং সমস্ত পৃথিবী ধুয়েমুছে আয়নার মতো ধকধকে হয়ে উঠবে। তারপর যামীনকে বলা হবে, তোর ফল ও ফসলসমূহ বের করে দে এবং বারকাত ও কল্যাণ ফিরিয়ে দে।



তখন এরূপ পরিস্থিতি হবে যে, একদল লোকের জন্য একটি ডালিম পর্যাপ্ত হবে এবং একদল লোক এর খোসার ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবে। দুধেও এরুপ বারকাত হবে যে, বিরাট একটি দলের জন্য একটি উটনীর দুধ, একটি গোত্রের জন্য একটি গাভীর দুধ এবং একটি ছোট দলের জন্য একটি ছাগলের দুধই যথেষ্ট হবে।

এমতাবস্থায় কিছুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর হঠাৎ আল্লাহ্ তা‘আলা এমন এক বাতাস প্রেরণ করবেন যা সকল ঈমানদারের আত্মা ছিনিয়ে নেবে এবং অবশিষ্ট থাকবে শুধুমাত্র দুশ্চরিত্রের লোক যারা গাধার মতো প্রকোশ্যে নারী সম্ভোগে লিপ্ত হবে। তারপর তাদের উপর কিয়ামাত সংঘটিত হবে। —–সহিহ মুসলিম।



 

]]>
Tue, 28 Jun 2022 16:32:25 +0600 BD124.com
বিশ্বের ৭টি রহস্যময় বিমান দুর্ঘটনা https://bd124.com/post-174 https://bd124.com/post-174

গত কয়েক বছরে বিমান নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিমানের রহস্যময় নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। ইতিহাসে এমন কয়টি বিমান দুর্ঘটনা এবং নিখোঁজের কাহিনী রয়েছে তার সঠিক হিসেব কারো কাছে নেই। গত বছর নিখোঁজ হওয়া মালয়েশিয়ার এয়ারলাইন্সের বিমানটির বিষয়ে এখনো রহস্য ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে। এটি নিখোঁজ কিংবা বিধ্বস্ত হতে পারে। চলুন জেনে নিই ইতিহাসের এমনই ৭টি রহস্যময় বিমান নিখোঁজ ও দুর্ঘটনা সম্পর্কে।



৭. ফ্লাইট-৫৭১ এর আন্দিজ পর্বতের দুর্যোগ:

উরুগুয়ান এয়ার ফোর্সের চার্টার বিমান ৪৫ জন যাত্রীসহ খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই যাত্রা শুরু করে আন্দিজ পর্বতের উপর দিয়ে। যাত্রার প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিধ্বস্ত হয় আন্দিজ পর্বতমালায়। বিধ্বস্তের সাথে সাথেই মারা যায় ১২জন যাত্রী। পরদিন মারা যায় আরও ছয়জন।

৮ জন যাত্রী প্লেন দুর্ঘটনার স্থান থেকে হাঁটতে থাকেন লোকালয়ের উদ্দেশ্যে। বাকি ১৬ জন বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন নরমাংসভক্ষণের মাধ্যমে। ৭২ দিন পর্যন্ত তাদের কেউ খুঁজে পায়নি। বেঁচে থাকে মাত্র দুইজন, যাদের খুঁজে পায় একজন গ্রাম্য ফেরিওয়ালা। সে কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়।

এছাড়াও বিএসএএ গ্রুপের আরেকটি ফ্লাইটে 'স্টার এরিয়াল' নামের একটি বিমান ১৯৪৯ সালে বারমুডা থেকে জ্যামাইকা যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ আজীবনের জন্য বিএসএএ স্টার গ্রুপের সব বিমান বন্ধ করে দেয়।



৬. রহস্যময় বিমান নাম্বার ১৯১:

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানের ইতিহাসে ১৯১ নাম্বারটা একটা দুর্যোগের নাম। ১৯৭৯ সালে ফ্লাইট-১৯১ উড্ডয়নের মিনিট খানিক পর বিধ্বস্ত হয়। মারা যায় ২৫৮ জন যাত্রী এবং ১৩ জন ক্রু। পাইলটের মৃত্যুর কারণে এক্স-১৫ ফ্লাইট ১৯১ নামের পরের বিমানটিও উড়ার কিছুক্ষণ পর বিধ্বস্ত হয়। মারা যায় অনেক যাত্রী। এমনকি ২০১২ সালের জেট ব্লু এয়ারওয়ে ফ্লাইট ১৯১ উড়ার মুহূর্তে পাইলট স্ট্রোক করে একে কোনোরকমে বিধ্বস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেন।



৫. বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে নিখোঁজ স্টার টাইগার প্লেন :

চিলির সান্তা মারিয়া থেকে এরপর রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ হয় বিএসএএ গ্রুপের স্টারটাইগার নামের একটি বিমান। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ২৫ জন যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়ে বিমানটি, এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম নায়ক স্যার আর্থার কোনিংহাম ছিলেন।

বিমান প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাতাসের বাধা এড়িয়ে কিছুটা নিচু হয়ে উড়ছিল। এটি মূলত বারমুডার উদ্দেশ্যেই যাচ্ছিল। কন্ট্রোল টাওয়ারে দেখা যাচ্ছিল বিমানটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছে কিন্তু সেই যাত্রাই ছিল তার অন্তিম যাত্রা। এরপর বিমানটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।



৪. স্টার ডাস্ট এবং রহস্যময় মোর্স কোড:

১৯৪৭ সালের আগস্টের ২ তারিখ আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ারস থেকে চিলির সান্তিয়াগোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে 'বিএসএএ স্টার ডাস্ট' নামের একটি যাত্রীবাহী বিমান। যাত্রার কিছুক্ষণ পরেই আকাশে স্টার ডাস্টের সর্বশেষ খবর জানান বৈমানিক।

এরপর কন্ট্রোল টাওয়ারের রেডিওতে আসে একটি রহস্যময় মোর্স কোড 'STENDEC' তারপর নিখোঁজ হয়ে যায় বিমানটি। কী ঘটে ছিল সেই বিমানের ভাগ্যে তা আজো অজানা। ধারণা করা হয়, বরফাচ্ছাদিত পর্বতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বরফ ধ্বসে বিধ্বস্ত হয় এবং বরফ চাপা পড়ে।



৩. বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে নিখোঁজ ফ্লাইট ১৯ :

১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর বিকেল। ইউএস নৌবাহিনীর বিমান ডিভিশনের ট্রেনিং সেশন চলছিল সেদিন। বিকেলবেলা ফ্লোরিডার মাটি থেকে আকাশে উড়লো একে একে ছয়টি বিমান, কিন্তু ফিরে আসেনি এর একটিও। এর ফলেই জন্ম নেয় এক অবিশ্বাস্য রহস্য- বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল।

এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিলো এই সেশন। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বৈমানিকদের আপডেট ছিল, তারা সামনে ঘন বায়ুস্তর ছাড়া কিছুই দেখছেন না এবং তাদের কম্পাস অনবরত ঘুরছে, কোনো দিক নির্দেশ করছে না। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য তাদের উদ্ধারে নৌবাহিনী থেকেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। এভাবেই সেই ছয়টি বিমান এবং তাদের বৈমানিকরা হারিয়ে যান চিরদিনের জন্য।



২. ইংলিশ চ্যানেলে নিখোঁজ বৈমানিক গ্লিন মিলারের বিমান:

গ্লিন মিলার ছিলেন ইউএস এয়ারফোর্সের বিগ ব্যান্ড পদক প্রাপ্ত একজন বৈমানিক। ১৯৪৪ সালের গ্রীষ্মে তিনি প্যারিসে বিমানবাহিনীর বার্ষিক প্রদর্শনীতে ছিলেন। ১৫ই ডিসেম্বর ১৯৪৪ সালে তিনি প্যারিস থেকে আকাশে উড়াল দেন এবং ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সময় নিখোঁজ হন। তার এই নিখোঁজ হওয়া নিয়ে অনেক গালগল্প প্রচলিত ছিল।

কেউ কেউ বলেন জার্মান বোম্বাররা তার বিমান ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে মজার মতবাদটি দেন একজন জার্মান সাংবাদিক। তিনি একটি জার্মান পত্রিকায় লিখেন মিলার বেঁচে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান প্যারিসের একটি পতিতালয়ে। এখন পর্যন্ত তার নিখোঁজের কারণটি অজানা।



১. পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে বিমান নিয়ে নিখোঁজ অ্যামিলিয়া ইয়ারহার্ট :

আমেরিকার বিমানচালনার পথপ্রদর্শক অ্যামিলিয়া ইয়ারহার্ট ১৯৩৭ সালে ২ জুলাই পৃথিবী প্রদক্ষিণকালে তার নেভিগেটরসহ নিখোঁজ হয়। তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা বিমানচালক যিনি আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের কাছাকাছি হাউল্যান্ড দ্বীপে এটি নিখোঁজ হয়ে যায়। অ্যামেচার গবেষকদের মতবাদ তার বিমানের জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি বিধ্বস্ত হয়। অন্যদের মতবাদ তিনি ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজবেল্টের গুপ্তচর ছিলেন বলে তাকে জাপানের সৈন্যরা ধরে নিয়ে গিয়েছে।

অন্যরা বলে থাকেন তিনি বিমান নিয়ে জাপানের কোন দ্বীপে বিধ্বস্ত হয়েছেন। আর সবচেয়ে মজার যে তথ্যটি পাওয়া যায় তা হলো, এলিয়েনরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এর সঠিক কারণ জানা যায়নি।



ইতিহাসের এমনই সাতটি বিমান দুর্ঘটনার রহস্য আজও সুরাহা হয়নি। জানা যায়নি পরবর্তীতে কী ঘটেছিল বিমানগুলোর ভাগ্যে।


বন্ধুরা কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন। কোন বিমান দুর্ঘটনা, আপনার রহস্যময়  মনে হল । কোন ঘটনাটি অদ্ভুত বলে মনে হয়। কোন ঘটনা অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর মনে হল। বিমানের কোন তথ্য জানার জন্য আপনি আগ্রহী । কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না ।

নতুন হয়ে থাকলে ,সাবস্ক্রাইব করে পাশের বেল Icon-এ ক্লিক করে রাখবেন। নিত্য নতুন অদ্ভুত এবং রহস্যময় ভিডিও পাওয়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।


 

]]>
Sat, 25 Jun 2022 14:44:02 +0600 BD124.com
কি রহস্য মহাসাগরের তলদেশে https://bd124.com/Post-173 https://bd124.com/Post-173

মহাসাগরে অতল গহবরে লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর সব রহস্য।কেনা জানতে চাই মহাসমুদ্রে কি আছে। ঠিক তাই, বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা করেছে, মহাসমুদ্রে কি লুকিয়ে আছে। বিজ্ঞানীদের তথ্য জানলে সত্যিই অবাক না হয়ে পারবেন না। চলুন আজকের অদ্ভুত রহস্য কি লুকিয়ে আছে দেখা যাক।


ভূপৃষ্ঠের ৭০ শতাংশ যেহেতু সমুদ্রের অন্তর্গত। তাই ভূপৃষ্ঠের ৭০ শতাংশ পৃষ্ঠ সমুদ্রের নিচে অবস্থিত। এবং এই পৃষ্ঠের অনেকটাই মানুষের চোখের বাইরে রয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আমরা যদিও সৌরজগতের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের গবেষনা চালিয়েছি। তবে সেই তুলনায় সমুদ্রের বিষয় নিয়ে গবেষণার পরিমাণ অনেক কম। আমরা সমুদ্রের বিভিন্ন স্থানের গভীরতা মাপতে সক্ষম হলেও সেখানে এখনো পৌঁছাতে পারিনি। তাই এখনও আমাদের কাছে সমুদ্রের তল অজানাই রয়ে গেছে। সমুদ্রের তল আমাদের কাছে বিস্ময়কর একটি রহস্য।


ওসিয়ান এক্সপ্লোরেশন ট্রাস্টের গবেষকরা ২০১৬ সালে সমুদ্রের নিচে একটি গবেষণা কার্যকরী চালনা করছিলেন। তাদের এক্সপ্লোরেশন জাহাজের নাম ছিল নটিলাস। তারা নটিলাসে করে ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্র তলদেশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। হঠাৎ তাদের চোখ একটি বেগুনি রঙের অরব দিকে আটকে যায়। তারা অবাক বিস্ময় এই বেগুনি রঙের বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকেন। প্রাথমিক অবস্থায় তারা এটিকে মাকড়সার ডিমের থোলি বা ক্ষুদ্র আকৃতির অক্টোপাস বলে নিজেরা নিজেদের মধ্যে তামাশা করেন।পরবর্তীতে তারা এর একটি নমুনা সংগ্রহ করেন। তারা এখনও নিশ্চিত নয় এই জীবটি কিসের প্রজাতি। এই জীব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো রয়ে গেছে রহস্য।


বাল্টিক সাগরে এলিয়েনের স্পেসশিপ:

আমরা তো মহাকাশে অনেক জায়গায় এলিয়েনদের খুঁজলাম। পাওয়া গেল না। তবে কি সমুদ্রের তলায় তারা তাদের ঘাটি করতে পারে? ২০১১ সালে সমুদ্র অনুসন্ধানকারী দের একটি দল বাল্টিক সাগরের নিচে অদ্ভুত চিহ্নযুক্ত ডিম্বাকৃতির একটি বস্তু খুঁজে পায়।পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। অনেকই এটিকে এলিয়েনদের স্পেসশিপ বলে ধারণা করেন। বিজ্ঞানীরা অবশ্য তাদের সাথে একমত নয়। তাদের ধারণা এই অদ্ভুত গঠনটি মূলত হিমবাহ দ্বারা সৃষ্টি। অথবা খেয়ালী প্রকৃতি আপন-মনে সাজিয়েছে সাগরের তলদেশকে। তবে এটি আসলে কি? এবং কি থেকে সৃষ্টি এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য।


ইউরোপ এবং উত্তর অ্যামেরিকার ২৪টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে। চলবে আগামী চার বছর ধরে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের এই গবেষণাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরের অজানা পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং এই মহাসাগরের স্রোতধারায় যে পরিবর্তন ঘটছে জলবায়ুর ওপর তার কি ধরনের প্রভাব পড়ছে সেটা সম্পর্কে জানা। এবিষয়ে এতো বড়ো ধরনের গবেষণা এর আগে কখনোই হয়নি।



বিশালাকৃতির স্কুইড:

আপনি কি পাইরেটস অফ দ্য ক্যারাবিয়ান দেখেছেন? তাহলে নিশ্চয়ই সমুদ্রের দানব ক্রাকেন সম্পর্কে জানেন। অথবা আপনি যদি জুল ভার্নের লেখা ২০০০ লীগ আন্ডার দা সি পড়ে থাকেন তাহলেও বিশালাকৃতির এই দানব সম্পর্কে আপনার ধারণা রয়েছে। বেশ কয়েকটি সমুদ্রে ডুবে যাওয়া জাহাজের বেঁচে যাওয়া নাবিকেরা বলেছেন যে বিশালাকৃতির স্কুইড তাদের জাহাজ আক্রমণ করে ডুবিয়ে দিয়েছে।


তবে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য মানতে নারাজ। তবে গভীর সমুদ্রের অনেক প্রাণী সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে বিজ্ঞানীরা জায়ান্ট স্কুইডের ছবি তুলতে সক্ষম হন। তবে এরা গভীর সমুদ্রের প্রাণী হওয়ায় এদের জীবনযাপন প্রণালী সম্পর্কে জানা যায়নি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে এরা আকৃতিতে প্রায় ৬৬-৭০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এটিও একটি রহস্যময় প্রাণী।



সর্ব বৃহত্তম জলপ্রপাত :

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক বৃহৎ জলপ্রপাত এর নাম কি? কি উত্তর দিবেন আপনি? নিশ্চয়ই আপনার মনে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের কথা মাথায় আসবে। তবে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে গভীর সমুদ্রের তলদেশে একটি বিশাল জলপ্রপাত রয়েছে।


যা পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম জলপ্রপাত এর চেয়েও প্রায় ৪ গুন বড়। চিন্তা করা যায় বিশাল জলপ্রপাত রয়েছে সমুদ্রের তলে। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যের বিষয় হলো সমুদ্রের তলে কিভাবে জলপ্রপাতের অস্তিত্ব বিদ্যমান। এর উত্তর তারা আজও জানতে পারেননি।



দুধময় সাগর :

শত শত বছর ধরে নাবিকেরা বলে আসছেন যে তারা যতদূর চোখ যায় সাগরে দুধের আভা দেখেছেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনো এর ব্যাখ্যা দিতে পারেননি, প্রকৃতপক্ষে ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত এ ঘটনা সত্য কিনা সে সম্পর্কেও তারা নিশ্চিত ছিলেন না।


২০০৬ সালে গবেষকরা দুধময় সাগরের একটি স্যাটেলাইট ইমেজ তুলতে সক্ষম হন এবং কিছু বছর পর আবিষ্কৃত হয় যে, সাগরকে দুধময় লাগার কারণ হলো আলো উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার আভা। এসব আভায় প্রলুব্ধ হয়ে মাছেরা ব্যাকটেরিয়াগুলো খেয়ে ফেলে এবং ব্যাকটেরিয়াগুলো মাছের পেটে বসতি গড়ে।


কিন্তু বিজ্ঞানীরা এটা নিশ্চিত নন যে কিভাবে বা কেন এত বেশি সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া একত্রিত হয়, যা মহাশূন্য থেকে দেখা যায়। এসব ব্যাকটেরিয়ার আভা নিরবচ্ছিন্ন থাকে। এরা ডাইনোফ্লাজিলেট নামক অণুজীবের মতো স্বল্পস্থায়ী আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করে না।



সমুদ্র তলদেশের ভূপৃষ্ঠ : 

আমরা মহাসাগরের ভূখণ্ড সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না, কিন্তু আমরা যা দেখেছি তা মনে বিস্ময়ের জোয়ার এনেছে, কারণ মহাসাগরের তলদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গে জলে অনাবৃত ভূখণ্ডের সাদৃশ্যতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্রাইন পুলস হলো মহাসাগরের তলদেশের এমন স্থান, যেখানে লবণাক্ত পানির ঘনত্ব চারপাশের মহাসাগরের চেয়ে বেশি এবং এটা দেখতে হ্রদের মতো।


পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতটি ডেনমার্ক প্রণালিতে পানির নিচে, যেখানে ১১,৫০০ ফুট উচ্চতা থেকে মহাসাগরের তলদেশে ঠান্ডা পানির পতন হয়, অন্যদিকে পানিতে অনাবৃত ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতটির উচ্চতা মাত্র ৩,২১২ ফুট।


পানির নিচেও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় হয়- এমনকি সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরিটি সম্প্রতি সক্রিয় হয়, যা বিজ্ঞানীদের প্রায় অগোচরে চলে যাচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা এসবকিছুর অস্তিত্ব জানলেও এগুলোর প্রকৃত মেকানিজম সম্পর্কে অবগত নন। মহাসাগরের এসব রহস্য উন্মোচনের জন্য তাদের আন্তরিক গবেষণা চলমান রয়েছে।



বন্ধুরা কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন। সমুদ্রে কোন জায়গা আপনার পছন্দ হয়েছে। কোন জায়গা রহস্যময় বলে মনে হল। কোন জায়গা অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর মনে হল। সমুদ্রের কোন তথ্য জানার জন্য আপনি আগ্রহী । কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না ।


নতুন হয়ে থাকলে ,সাবস্ক্রাইব করে পাশের বেল icon-এ ক্লিক করে রাখবেন। নিত্য নতুন অদ্ভুত এবং রহস্যময় ভিডিও পাওয়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। 

]]>
Fri, 24 Jun 2022 10:58:03 +0600 BD124.com
এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী https://bd124.com/Post-172 https://bd124.com/Post-172

তবে কি বাস্তবে দেখা গেল এলিয়েনকে ,বিজ্ঞান কি বলে। আদৌ কি এলিয়েন এই পৃথিবীতে রয়েছে, কিংবা ভিনগ্রহে। আসুন জেনে নেই এ ব্যাপারে বিজ্ঞান কি বলে । এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব আছে কি নাই।


বিচিত্র আকারের নভোযানের মত দেখতে এগুলো, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে উড়ে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। বৈমানিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত বহু জন এই রহস্যময় উড়ন্ত যান দেখার কথা বলেছেন, কিন্তু অনেকেই তাদের বর্ণনা বিশ্বাস করেন না।

এগুলো নিয়ে সিনেমা-টিভি ধারাবাহিক হয়েছে, কিন্তু এর রহস্যভেদ আজও হয়নি। অনেকে ধারণা, এগুলো গোপন কোন সামরিক বিমানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন, আবার কেউ বলেন এগুলো ভিনগ্রহ থেকে আসা বুদ্ধিমান প্রাণীদের নভোযান। আসলে এগুলো যে ঠিক কি - তা কেউই জানে না। অন্তত এখন পর্যন্ত।


তবে এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করতে যাচ্ছে মার্কিন সরকার, জুন মাস শেষ হবার আগেই। এ রিপোর্টটি এতদিন ক্লাসিফায়েড অর্থাৎ অতি গোপনীয় অবস্থায় ছিল। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকেই আকাশে ইউএফও দেখতে পাবার এত অসংখ্য রিপোর্ট এসেছে যে মার্কিন কংগ্রেস এই রিপোর্টটি চেয়ে পাঠিয়েছে।

অনেকে বলছেন, ইউএফওগুলো যে অন্য কোন গ্রহ থেকে এসেছে এমন মতবাদের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ খুবই কম। তাই রিপোর্টটি প্রকাশ করলেও মানুষের ধারণায় কতটা পরিবর্তন আসবে - তা দেখার বিষয়।

সামরিক নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এসব ইউএফওর যে প্রযুক্তি তা যদি অন্য কোন গ্রহের প্রাণীদের না-ও হয়, তা যুক্তরাষ্ট্রের বৈরি কোন দেশ - যেমন রাশিয়া বা চীনেরও হতে পারে।


রিপোর্টটি সম্পর্কে আমরা কী জানি?
গত বছরের আগস্ট মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর বা পেন্টাগন একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে - যার উদ্দেশ্য ছিল অজানা উড়ন্ত বস্তু দেখতে পাবার বিবরণগুলো পরীক্ষা করে দেখা।

এর নাম ছিল আনআইডেন্টিফায়েড এরিয়াল ফেনোমেনা টাস্ক ফোর্স। এর দায়িত্ব ছিল এসব ঘটনা 'চিহ্নিত করা, বিশ্লেষণ ও তালিকাভুক্ত করা। তা ছাড়া ইউএফও'র প্রকৃতি এবং উৎস সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা।


রিপোর্টটিতে গত দুই দশকের ১২০টি ইউএফও সংক্রান্ত ঘটনাকে বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল তিনটি ভিডিও যা গত বছর পেন্টাগন ডি-ক্লাসিফাই করে অর্থাৎ আগে গোপন রাখা হয়েছিল এমন অবস্থা থেকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে।


এই রিপোর্টের একটি গোপন সংস্করণ জুন মাসের প্রথম দিকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের হাতে দেয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে কিছু নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা বলেছেন - রিপোর্টে বলা হয়েছে যে "ভিনগ্রহের মানুষের কর্মকাণ্ডের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে এমন সম্ভাবনা বাতিল করেও দেয়া হয়নি।"


এ ছাড়াও আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, এতে বলা হয়েছে যে "ইউএফওগুলো কোন গোপন মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি নয়"। কিন্তু তাহলে এই "অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুগুলো" ঠিক কী - তা নিয়েও কোন সুনিদিষ্ট কোন সিদ্ধান্তে পৌছাতে পারেনি ওই রিপোর্টটি। বলা হচ্ছে - এ রিপোর্ট থেকে কোন দুনিয়া-কাঁপানো রহস্য উদ্ঘাটন হবে না।


তবে এ বিষয়ে যে একটি সরকারি রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে - তাতেই বোঝা যায় যে ইউএফও ইস্যুটি কল্পবিজ্ঞান ও পপ-সংস্কৃতির জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?


এই কথিত ভিনগ্রহের প্রাণীদের নভোযানে চড়ে পৃথিবীতে আসার তত্ত্ব নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে নানা যুক্তি দিয়ে আসছেন একদল লোক - যাদের বলা হয় ইউএফওলজিস্ট। এরা বলেন, এই ইউএফও-র অস্তিত্বের অনেক প্রমাণ আছে, কিন্তু সরকার এগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে। এ কারণে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল -যেন তারা কথিত ভিনগ্রহের প্রাণীদের সম্পর্কে কী জানে - তা প্রকাশ করে।


আকাশপথে আসা সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করার লক্ষ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি কর্মসূচি আছে - যার সম্পর্কে লোকে খুব বেশি জানে না। এর নাম এ্যাডভান্সড এ্যারোস্পেস থ্রেট আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম। এরই আওতায় পেন্টাগন ২০০৭ সাল থেকেই ইউএফও সম্পর্কে উপাত্ত সংগ্রহ করে আসছে।

নেভাদা অঙ্গরাজ্যের সেনেটর হ্যারি রীড এই প্রকল্পের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তিনি একজন ডেমোক্র্যাট এবং তার নির্বাচনী এলাকার ভেতরেই পড়ে একটি আলোচিত জায়গা - যার নাম এরিয়া ফিফটি ওয়ান।


এরিয়া-৫১ হচ্ছে একটি সামরিক বাহিনীর জায়গা। ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করেন, রসওয়েল নামে এটি শহরে একবার একটি ইউএফও বিধ্বস্ত হয়েছিল। সেটা থেকে পাওয়া নমুনাগুলো ১৯৪৭ সাল থেকেই পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এই এরিয়া-৫১এ।


এ ব্যাপারে তথ্য প্রমাণ কী আছে?


বেশ কিছু মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইউএফও দেখার ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। এর মধ্যে অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য বর্ণনাগুলো এসেছে পাইলটদের কাছ থেকে। সামরিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাছাকাছি ইউএফও উড়ছে - এ দৃশ্য তারা ককপিট থেকেই দেখতে পেয়েছেন।


মার্চ মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, খবরে যতটুকু প্রকাশ করা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক ইউএফও দেখা গেছে।

"আমরা এমন সব বস্তুর কথা বলছি, যা নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীর পাইলটরা দেখেছে, অথবা যা উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে। এগুলো এমন কাজ করে যা ব্যাখ্যা করা কঠিন।" - বলেন তিনি।

"এগুলো এমনভাবে চলাচল করে যা (উড়ন্ত বস্তুর পক্ষে) খুবই কঠিন, যেভাবে চলার মত প্রযুক্তি আমাদের নেই। এরা শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে চলছে কিন্তু 'সনিক বুমে'র মত কোন শব্দ হচ্ছে না।"

গত মাসে সিবিএস নিউজের সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে সাবেক দুজন নৌবাহিনীর পাইলট বর্ণনা করেন প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশে একটি ইউএফও দেখার কথা। একজন পাইলট বর্ণনা করেন , জিনিসটা দেখতে ছিল মিন্ট বা টিক-ট্যাকের মত সাদা রঙের ছোট একটা বস্তু।

 


সাবেক নেভি পাইলট এ্যালেক্স ডিয়েট্রিখ বলেন, "জিনিসটা ঠিক টিক-ট্যাকের মতই দেখতে, কিন্তু এটা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কিন্তু পাগলের মত এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করছিল। "

"আমরা বুঝতে পারছিলাম না - এটা কোনদিকে যাবে, কী করবে, অথবা কী পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে জিনিসটা এমনভাবে উড়তে পারছে।" "এর কোন ধোঁয়া ছিল না বা একে পরিচালনার জন্য কোন ইঞ্জিনও দেখা যাচ্ছিল না। এটা যেভাবে বাঁক নিচ্ছিল, সেভাবে চলতে হলে যে ফ্লাইট কন্ট্রোল দরকার, সেরকম কিছুও ছিল না।"


ইউএফও'র ব্যাপারে অন্য দেশগুলো কী করছে?

সাবেক সেনেটর রীড ইউএফও কর্মর্সূচির জন্য ২ কোটি ২০ লাখ ডলার পেয়েছেন। তিনি বলছেন, চীনও এখন ইউএফও নিয়ে গবেষণা করছে। মি. রীড ২০১৯ সালে নেভাদা নিউজমেকার্সকে বলেছিলেন, "আমরা জানি যে চীন এ নিয়ে কাজ করছে।"

"আমরা জানি যে রাশিয়াও এ নিয়ে কাজ করছে এবং এর নেতৃত্ব দিচ্ছে কেজিবির ভেতরে থাকা কেউ একজন। তাই আমাদের নিজেদের ভালোর জন্যই এ ব্যাপারটার দিকে তাকানো দরকার।"

তিনি বলছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের গবেষণায় বলা হচ্ছে যে একজন দু-জন নয়, ১০-২০ জনও নয়, শত শত লোক আকাশে এসব ইউএফও দেখেছে, কখনো কখনো সবাই একসঙ্গে দেখতে পেয়েছে।


ভিনগ্রহের সাথে সম্পাদিত একটি চুক্তি?


গত ডিসেম্বর মাসে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মহাকাশ দফতরের সাবেক প্রধান হাইম এশেদ স্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, মি. ট্রাম্প "ভিনগ্রহের সাথে সম্পাদিত একটি চুক্তির অস্তিত্ব" প্রকাশ করার কাছাকাছি চলে এসেছিলেন, কিন্তু মানুষের মধ্যে এ নিয়ে বেশি হৈচৈ পড়ে যাবে - এই ভয়ে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসেন।


"মার্কিন সরকার এবং ভিনগ্রহের প্রাণীদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। তারা এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর জন্য একটি চুক্তি সই করেছে," - ইয়েদিওত আহারোনত পত্রিকাকে বলেন তিনি। এই বিবৃতি অবশ্য মানুষ বা ভিনগ্রহের প্রাণী - কেউই নিশ্চিত করেনি।


মার্কিন রাজনীতির শীর্ষ ব্যক্তিরাও কৌতুহলী এ নিয়ে


ইউএফও'র পেছনে আসল সত্যটা কী - তা নিয়ে কথা বলেছেন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা, এমনকি প্রেসিডেন্টরাও।

হিলারি ক্লিনটনের প্রচারাভিযানের ম্যানেজার জন পোডেস্ট দীর্ঘদিন ধরেই ইউএফও-র ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী। ২০১৬ সালে নির্বাচনের আগে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন যে হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হলে তিনি ভিনগ্রহের মানুষ সম্পর্কে গোপন সরকারি রিপোর্টগুলো প্রকাশ করবেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, এলিয়েন বা কথিত ভিনগ্রহের প্রাণীদের ব্যাপারে তিনি যা জানেন - তা তিনি তার পরিবারের কাছেও প্রকাশ করবেন না।


তিনি বলেছিলেন, "আমি যা জানি তা নিয়ে আপনাদের সাথে কথা বলবো না, তবে ব্যাপারটা খুবই ইন্টারেস্টিং।"

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মে মাসে এক টিভি অনুষ্ঠানে বলেন, "আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর জিজ্ঞেস করেছিলাম, এমন কোন ল্যাবরেটরি কি আছে যেখানে আমরা ভিনগ্রহের প্রাণী ও তাদের স্পেসশিপের নমুনা রেখেছি? তারা কিছু খোঁজখবর নিলো, তার পর জানালো, 'না'।"

তবে মি. ওবামা বলেন, " যেটা সত্যি তা হলো, আমি সিরিয়াস ভাবেই বলছি যে আকাশে উড়ন্ত কিছু বস্তুর ভিডিও ফুটেজ আছে কিন্তু সেগুলো কী - তা আমরা জানি না।"

"আমরা ব্যাখ্যা করতে পারছি না যে কীভাবে এগুলো ওড়ে, তাই এগুলো কী - তা বের করার জন্য গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা করা উচিত," - বলেন মি. ওবামা।

মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় শিবিরেরই এমন সদস্যরা আছেন যারা মনে করেন, এ ব্যাপারে গোপন রিপোর্টটি প্রকাশ করা হলে মার্কিন সৈন্যরা ব্যাখ্যাতীত কিছু দেখতে পেলে তা সিনিয়র অফিসারের কাছে - তা বলতে দ্বিধা করবেন না।


 

]]>
Fri, 24 Jun 2022 10:52:51 +0600 BD124.com
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং দ্রুতগামী গাড়ি কোনটি https://bd124.com/Post-169 https://bd124.com/Post-169

আপনি কি জানেন, পৃথিবীর দ্রুতগামী এবং সবচেয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কোনটি? হয়তো আপনার জানা নেই। এই ভিডিওতে আপনাকে জানাবো। পৃথিবীর সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং দ্রুতগামী, দশটি গাড়ি জানলে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না।


পকেটে খরচ করার মতো ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার থাকলে আপনি কী করতেন? এক গাড়ি সংগ্রাহক এই পরিমাণ টাকা খরচ করে একটি নতুন গাড়ি কিনেছেন। ‘নতুন’ বলছি, কারণ, নিলামে অ্যান্টিক গাড়ির দাম কখনো কখনো আকাশচুম্বী হতে পারে। তবে নতুন গাড়ির পেছনে এত অর্থ খরচ করার নজির দ্বিতীয়টি আর নেই। আর তাই ‘বুগাত্তি লা ভইতুর নোরে’ মডেলের গাড়িটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়িগুলোর তালিকার শীর্ষে আছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বের সবচেয়ে দামি ১০ গাড়ির ছবিসহ দাম ও গতি।


10 > লা ফেরারি এফএক্সএক্সকে :

লা ফেরারি এফএক্সএক্সকে গাড়িটির দাম প্রায় ১৬ কোটি টাকা। ফেরারি অ্যাপের্টা প্রতি ঘণ্টায় ৩২২ কিমি গতিবেগ তুলতে সময় নেয় আড়াই সেকেন্ড মতো! বাজারে রয়েছে মোট ৪০টি গাড়ি।


09 > লাইকান হাইপারস্পোর্টস :

জানা যায়, হলিউডের ‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিনেমায় এই গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছে। একটা দুর্দান্ত অ্যাকশন সিক্যুয়েন্সের সময় গাড়িটি ব্যবহার করা হয়। গাড়িটির দাম প্রায় ২৭ কোটি টাকা। দুবাইয়ের কোম্পানি ডব্লিউ মোটর্স প্রতি বছর সাতটি গাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে।


08 > অ্যাস্টন মার্টিন ভালকাইরে :

এই গাড়িটির দাম প্রায় ২৩ কোটি টাকা। এই গাড়ি যদি বিক্রি করে দেন মালিক, তা হলে ভবিষ্যতে আর নিজের নামে অন্য গাড়ি কিনতে পারবেন না তিনি। এমনটাই বলা হয়েছিল সংস্থার টুইটারে।


07 বুগাত্তি ভেরন :

বুগাত্তি ভেরন গাড়িটি যখন প্রথম বাজারে আসে, এটি ছিল দ্রুতগামী বৈধ গাড়ি। এই গাড়িটির দাম প্রায় ৩০ কোটি টাকা। ৩২.৬ সেকেন্ডে প্রতি ঘণ্টায় ৪০০ কিমি গতি তুলতে সক্ষম।


06 > ফেরারি পিনিনফারিনা সের্জিও :

এই গাড়িটি তৈরিই করা হয়েছিল মাত্র ছয়টি। গাড়িটির দাম ৩০ কোটি টাকা। ফেরারি ৪৫৮ স্পাইডারের আদলে গড়ে তোলা এর ইঞ্জিনটি।


05 > কোনিগসেগ সিসিএক্সআর ট্রেভিটা :

বিশ্বে এই গাড়ি আছে মাত্র দুটি। মাত্র তিন সেকেন্ডের মধ্যে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি তোলা যায় এতে। এই গাড়ি ঘণ্টায় ৪১০ কিলোমিটার গতিতেও চালানো যায়! গাড়িটির দাম প্রায় ৩৪ কোটি টাকা।


04 > মার্সেডিজ বেঞ্চ মেব্যাক :

এই গাড়িটি বছরে দু-তিনটির বেশি ছাড়া হয় না। গাড়িটির মূল্য প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। সাধারণত এই পর্যায়ের স্পোর্টস কারের দাম ৪০ কোটির আশপাশেই ঘোরাফেরা করে।


03 > ল্যাম্বারঘিনি ভেনেনো :

এই গাড়িটির দাম প্রায় ৬৭ কোটি টাকা। দুবাই পুলিশ এই গাড়ি কিনেছিল শুধুমাত্র গতিবেগের জন্য। এই ব্রান্ডের গাড়ি বাজারে ছাড়া হয় বছরে মাত্র তিনটি।



02 > রোলস রয়েস সোয়েপটেলস :

ইউনিক লাক্সারি গাড়িটি কিন্তু ২ সিটের! মাত্র একটি গাড়িই তৈরি করা হয়েছিল প্রথমে। গাড়িটির দাম প্রায় ৯০ কোটি টাকা।


01 > পাগানি জোন্ডা সিঙ্ক রোডস্টার :

এই গাড়িটি বাজারে আসতেই দাম নির্ধারণ করা হয় ১২২ কোটি টাকা। বিশ্বের অনন্য সাধারণ ও আকর্ষণীয় এই গাড়িটির ইঞ্জিনের ক্ষমতা ৫৯৮৭ সিসি।


বন্ধুরা কমেন্টে জানিয়ে দিবেন, কোন গাড়িটি আপনার ভালো লেগেছে । টাকা থাকলে আপনি কোন গাড়িটি কিনবেন। আর হ্যাঁ, এরকম রহস্য-রোমাঞ্চ ভরা,তথ্যবহুল ভিডিও পেতে, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে, পাশের বেল আইকনটি, বাজিয়ে দেবেন ,ভিডিও ছাড়ার সাথে সাথে, রহস্য-রোমাঞ্চ ভরা, ভিডিও আপনার কাছে পৌঁছে যাবে। ধন্যবাদ সবাইকে ভালো থাকবেন….

]]>
Thu, 23 Jun 2022 22:22:21 +0600 BD124.com
মারিয়ানা ট্রেঞ্চ: পৃথিবীর গভীরতম স্থান https://bd124.com/Post-168 https://bd124.com/Post-168

আপনি কি জানেন পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম স্থান। আপনি হয়তো জানেন না সেখানেও মানুষের অবতরণ ঘটেছে। আকাশ কিংবা সমুদ্রের তলদেশ। বিজ্ঞানীরা অনেক জায়গায় পৌঁছে গেছেন। আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে। চলুন জেনে নেই, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর এবং রহস্যময় জায়গা কেন অদ্ভুত এবং ভয়ানক।

আপনাকে যদি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি, এই প্রশ্নটি করা হয় তবে আমি নিশ্চিত আপনি তৎক্ষণাৎ উত্তরটি বলবেন -“মাউন্ট এভারেস্ট”। কিন্তু আপনি কি জানেন পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোনটি এবং কোথায় এটি অবস্থিত?



পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় ৮৮৫০ মিটার বা ২৯০৩৫ ফিট যা নেপাল ও চীনের সীমান্তরেখায় অবস্থিত। অপরদিকে সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত পৃথিবীর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা প্রায় ১১,০৩৪ মিটার (৩৬,২০১ ফিট) অর্থাৎ প্রায় ৭ মাইলের সমান! অর্থাৎ পুরো মাউন্টcএভারেস্টকেও যদি তুলে এনে এই জায়গায় ডুবিয়ে দেয়া হয় তারপরও এভারেস্ট শীর্ষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২১৩৩ মিটার (৭০০০ ফিট) নিচে থাকবে!


মারিয়ানা ট্রেঞ্চ প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের (Mariana Island) ঠিক পূর্বে অবস্থিত। মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের নামানুসারে এই সমুদ্রখাদটিকে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ নামকরণ করা হয়েছ। প্যাসিফিক প্লেট (Pacific Plate) এবং মারিয়ানা প্লেটের (Mariana Plate) সংঘর্ষে অধোগমন (Subduction) নামক এক ভৌগোলিক প্রক্রিয়ায় এই খাতটি তৈরি হয়েছে যা একটি বৃত্তচাপের আকারে উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২৫৫০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এবং এর গড় বিস্তার প্রায় ৭০ কিলোমিটার।


মারিয়া ট্রেঞ্চ এর গভীরতম অংশটির নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ (Challenger Deep) যেটি গুয়াম দ্বীপের (Guam Island) ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। চ্যালেঞ্জার ডিপ নামটি রাখা হয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ HMS Challenger এর নামানুসারে কেননা এই জাহাজের নাবিকরা এই অংশটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেছিলেন। ১৮৭৫ সালের অভিযানের পর ১৯৫১ সালে ব্রিটিশ জাহাজ H.M.S Challenger II প্রতিধ্বনি (Echo-Sounder) প্রযুক্তির মাধ্যমে এই গভীরতা পরিমাপ করে যা ১১ কিলোমিটারের (৭ মাইল) সমান!


মারিয়ানা ট্রেঞ্চের গভীরতা এতটাই বেশি যে এই জায়গাটা চির অন্ধকার এবং এটিই সাগরতলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার স্থান। এছাড়াও, পানির চাপ এতটাই যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের স্বাভাবিক বায়ুচাপের তুলনায় তা ১০০০ গুণেরও বেশি! এ কারণেই এখানে স্বাভাবিকের চেয়ে পানির ঘনত্বও প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। এতসব প্রতিকূলতার কারণে চ্যালেঞ্জার ডিপে মানুষের অবতরণ সহজ ছিল না।


আজ থেকে ৫০ বছর আগে প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জার ডিপে মানুষের অবতরণ হয়। ১৯৬০ সালে জ্যাক পিচার্ড (Jacques Piccard) এবং নৌবাহিনী লেফটেন্যান্ট ডন ওয়ালশ (Navy Lt. Don Walsh) ট্রিয়েস্ট (Trieste) নামক গভীর সমুদ্র তলে অনুসন্ধান যোগ্য জলযানে(Submersible) করে চ্যালেঞ্জার ডিপে পৌঁছান।


মারিয়ানা ট্রেঞ্চে অবতরণঃ

তাদের এই অবতরণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মতো সময় লাগে এবং তারা মাত্র ২০ মিনিট সেখানে অবস্থান করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষ, পলি দ্বারা সেখানকার পানি এতটাই ঘোলা হয়ে গিয়েছিলো যে তাদের পক্ষে সেখানকার কোনো ছবি তোলাও সম্ভব হয়নি।


সম্প্রতি ২০২১ সালের পহেলা মার্চ রিচার্ড গেরিয়ট (Richard Garriott) চ্যালেঞ্জার ডিপে অবতরণ করেন এবং এর মাধ্যমে তিনি বনে যান পৃথিবীর প্রথম ব্যক্তি যিনি একই সাথে পৃথিবীর উভয় মেরু, মহাকাশ এবং পৃথিবীর গভীরতম স্থানে গিয়েছেন। লিমিটিং ফ্যাক্টর (Limiting Factor) নামক জলযানে করে তাদের এই অভিযানটি ছিল প্রায় ১২ ঘন্টার! চ্যালেঞ্জার ডিপে অবতরণে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লেগেছিল, চারঘন্টা তারা সেখানে অবস্থান করেছিলেন এবং চার ঘণ্টা সময় ফিরে আসতে ব্যয় হয়েছে।


পিচার্ড এবং ওয়ালশের এই অবতরণের আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল এত উচ্চচাপে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের অভ্যন্তরে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু ট্রেঞ্চে অবতরণের পর ট্রিয়েস্টের ফ্লাডলাইটে আলোতে পিচার্ড ফ্লাটফিশ (Flatfish) এর মতো প্রাণী দেখেছিলেন যেটি সম্পর্কে পরবর্তীতে তিনি তাঁর এই অভিযান বিষয়ক একটি বইয়ে বর্ণনা করেন। কয়েক দশক ধরে জীববিজ্ঞানীদের করা প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর হিসেবে পিচার্ড লিখেছেন,


পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাদে প্রাণের অস্তিত্ব কি থাকতে পারে? হ্যাঁ, অবশ্যই পারে।

পিচার্ডের বর্ণনা অনুযায়ী এত উচ্চচাপে সেখানে আসলেই প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা সেটা নিয়ে বিজ্ঞানীরা সন্দেহ করেছিলেন। তবে প্রকৃতি এর অভিযোজনের অসাধারণ ক্ষমতার দরুণ বিজ্ঞানীদের এর আগেও বহুবার ভুল প্রমাণিত করেছে।


রিচার্ড গেরিয়ট তার সাম্প্রতিক অভিযানে চ্যালেঞ্জার ডিপের তলদেশে ক্রাস্টেশিয়ান উপপর্বের (Crustaceans) প্রাণী দেখেছিলেন যা থেকে সেখানে অন্যান্য আরো জৈব পদার্থের উপস্থিতির ধারণা পাওয়া যায়।


গেরিয়টের বিশ্বাস নতুন প্রজাতির অনেক প্রাণের অস্তিত্ব এখানে পাওয়া যাবে যেগুলো সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই বিশ্ববাসীর। সাধারণত সমুদ্রতলের গভীরে মৃত প্রাণীর কঙ্কাল খোলস জমা পড়তে থাকে। মারিয়ানার তলও আলাদা নয়। এখানকার পানির রং সেজন্যই খানিকটা হলুদ।


মারিয়ানা ট্রেঞ্চ থেকে গেরিয়টের নিয়ে আসা গভীর জলের এবং মাটির নমুনা পরীক্ষা করে Scripps Institute সেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছে। অর্থাৎ মানুষের অগোচরে থাকা এই জায়গাটাতেও প্লাস্টিক পৌঁছে গেছে!


মারিয়ানা ট্রেঞ্চে উপস্থিত আণুবীক্ষণিক জীবের উপর গবেষণা থেকে পৃথিবীতে জীবের উত্থান ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। সেখানকার মাটি পর্যবেক্ষণ করে আমাদের পৃথিবীর একেবারে প্রথম দিককার অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। এছাড়াও সেখানকার পাথর বা শিলা পর্যবেক্ষণ করলে ভূমিকম্প সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব ।


আপনিও আমাদের জানাতে পারেন। কোন ধরনের ভিডিও আপনার পছন্দ। বন্ধুরা কমেন্ট এর মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না । কোন রহস্যময় তথ্য আপনার ভালো লেগেছে । আর হ্যাঁ, এরকম রহস্য-রোমাঞ্চ ভরা,তথ্যবহুল ভিডিও পেতে, আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে, পাশের বেল আইকনটি, বাজিয়ে দেবেন ,ভিডিও ছাড়ার সাথে সাথে, রহস্য-রোমাঞ্চ ভরা, ভিডিও আপনার কাছে পৌঁছে যাবে। ধন্যবাদ সবাইকে ভালো থাকবেন….


 

]]>
Thu, 23 Jun 2022 21:09:52 +0600 BD124.com
দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা নিষেধ। আর দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পুরুষের যে সমস্ত মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে। https://bd124.com/post-166 https://bd124.com/post-166

মানবজীবনে শান্তি ও সুস্থ্যতায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা থেকে বরত থাকা জরুরি। ইসলাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করে। কারণ শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণের বিকল্প নেই।

ইসলামের প্রতিটি হুকুমই মানুষের জীবনে উপকার বয়ে আনে। অনেক সময় কল্যাণকর অনেক কাজ আমরা অবহেলায় করে গুরুত্ব দেই না। কিংবা জ্ঞানের স্বল্পতাবশত অনেকেই সুন্নাতের অনুসরণ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখে।



দেড়হাজার বছর আগে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে বলেছেন। ফিকহের পরিভাষায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করাকে মাকরূহে তাহরিমি বলে অভিহিত করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, তোমাদের মাঝে যারা বলে যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন, তাদের কথা বিশ্বাস করো না। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসেই প্রস্রাব করতেন।’ (তিরমিজি)

হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে, প্রস্রাবের কারণে মানুষের কবরে আজাব হয়। তাই প্রিয়নবি প্রস্রাবের অপবিত্রতা থেকে নিজেদেরকে হেফাজতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

দাাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ব্যাপারে প্রিয়নবির সে নিষেধাজ্ঞাকে বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান বিশেষভাবে সমর্থন করছে। শুধু তা-ই নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষনায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার অনেক ক্ষতিকর দিকও বেরিয়ে এসেছে-



01 > দাঁড়িয়ে প্রস্রাবের ফলে মূত্রথলির নিচে জমে থাকা দূষিত পদার্থগুলি শরীর থেকে বের হতে পারে না। বসে প্রস্রাব করলে মূত্রথলিতে চাপ লাগে, ফলে সহজেই ওসব দূষিত পদার্থ প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।


02 > দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের বেগ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ফলে তা ধরে রাখার ক্ষমতাও লোপ পায়।



03 > দাঁড়িয়ে প্রস্রাবের ফলে পেটের উপরের অংশে চাপ পড়ে না। ফলে পেটের দূষিত বায়ু বের হতে পারে না। উল্টে তা শরীরের উপর দিকে উঠে যায়। যে কারণে শরীরের অস্থিরতা, রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের মাত্রা বেড়ে যায়।



04 > দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ফলে দুষিত পদার্থগুলো মুত্রথলিতে জমতে থাকে; দীর্ঘদিন জমতে থাকা দুষিত পদার্থগুলো এক সময় কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে।



05 > দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পুরুষের যৌন শক্তি কমতে থাকে এবং পুরুষাঙ্গ নরম ও তেনা তেনা হয়ে যায় এবং সহজে । সোজা ও শক্ত হতে চায় না। উত্তেজনার সময় যদিও শক্ত হয় । কিছুক্ষন পর কিছু বের না হতেই তা আবার ছোট ও নরম হয়ে যায়।



06 > দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পরিবেশ দূষিত হয়। সেই দূষিত বায়ু। আমাদের দেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি করে।



07 > দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে তার ছিটা দেহে ও কাপড়ে লাগে ফলে তা দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে।



গবেষণায় দেখা যায়
যারা নিয়মিত দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে শেষ জীবনে তারা কিডনির বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। জন্ডিস ও ডায়াবেসিটস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সুতরাং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা থেকে বিরত থেকে সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ করে সুস্থ্য ও সুন্দর জীবন-যাপন করার জরুরি।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বলে উপরোক্ত দৈহিক সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমাদের অতি অবশ্যই বসে প্রস্রাব করা উচিত।

অথচ, সর্বশ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যবিজ্ঞানী আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স:) চৌদ্দশত বছর আগেই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন এবং বসে প্রস্রাব করার আদেশ দিয়েছেন।


আল্লাহ তাআলা সবাইকে দাঁড়িযে প্রস্রাব করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। সুন্নাতি গড়ে দুনিয়ার শান্তি ও পরকালের মুক্তির তাওফিক দান করুন। আমিন।



 

]]>
Wed, 22 Jun 2022 18:27:34 +0600 BD124.com
নামাজের মধ্যে আমরা যে ভুলগুলো করি https://bd124.com/Post https://bd124.com/Post

আজ আমরা জানব প্রতিনিয়ত আমরা নামাজে যে ভুলগুলো করে থাকি তার বিস্তারিত।তাহলে শুরু করা যাক….

নামাযের মধ্যে আমরা যে ভুল গুলি করি সেগুলি কি কি?



১-নামাযে “কিয়াম” বা দাঁড়ানো অবস্থায় দুই পায়ের মাঝে ফাকা রাখা = 

আমাদের দেশে নামায শিক্ষা দেওয়ার সময় বলা হয় – নামাযে “কিয়াম” বা দাঁড়ানো অবস্থায় পুরুষেরা দুই পায়ের মাঝে ৪ আঙ্গুল ফাকা রাখবে আর নারীরা দুই পা মিশিয়ে রাখবে। এইটা সম্পূর্ণ বানোয়াট একটা কথা, কুরআন অথবা সহীহ হাদীসের কোথাও এই কথা লিখা নাই।


সঠিক হচ্ছে নারী অথবা পুরুষ নিজের শরীরের গঠন অনুযায়ী আরাম ও স্বস্তিদায়ক হয় এমন পরিমান জায়গা দুই পায়ের মাঝে ফাঁকা রাখবে। এতে সে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে, খুব বেশি ফাঁকা রাখবেনা আবার দুই পা এমনভাবে মিশিয়েও রাখবেনা যাতে করে দাড়াতেই কষ্ট হয়।


২-সিজদাতে দুই বাহুকে শরীরের সাথে মিশিয়ে রাখা = 

নারী ও পুরুষের নামাযের নিয়ম, রুকু ও সিজদা একই রকম। যেই হাদীসগুলোতে আলাদা বলা হয়েছে মুহাদ্দিসিন একরাম সেইগুলোকে হয় জাল নয়তো জয়ীফ বলেছেন, তাই সেইগুলোর উপর আমল করা নাজায়েজ।অনেকে বিশেষ করে নারীরা সিজদার সময় মাটিতে দুই হাত বিছিয়ে দেয়। এই কাজটা হারাম।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তুমি যখন সিজদা করবে তখন তোমার হাতে তালুদ্বয় (যমীনে) রাখবে আর দুই কনুই উঁচু করে রাখবে।”সহীহ মুসলিম।

অন্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন দুই হাতকে কুকুরের মতো বিছিয়ে না দেয়।” বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী।


৩- সিজদার পুরো সময় পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে তুলে রাখা

সিজদার সময় অবশ্যই দুই পা, দুই হাটু, দুই হাতের কবজি ও মুখমন্ডল (কপাল ও নাকসহ) মাটিতে স্পর্শ করে রাখতে হবে। তবে হঠাত করে পা উঠে গেলে নামায বাতিল হবেনা, তবে সিজদার পুরো সময় পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে তুলে রাখলে নামায বাতিল হয়ে যেতে পারে। পায়ের পাতা সোজা করে রাখতে হবে, পায়ের অগ্রভাগ কিবলামুখী করে রাখতে হবে। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সিজদাতে দুই পায়ের গোড়ালি জোড়া লাগানো অবস্থায় দেখেছি।ইবনে খুজাইমা, সহীহ।

এই সময় পায়ের আংগুলগুলো একটু ভাজ করে কিবলার দিকে রাখতে হবে।বায়হাকী।


৪-সিজদার সময় নাক মাটিতে না লাগানো

আমরা সিজদা করার সময় অনেক সময় খেয়াল করিনা, তাই নাক মাটিতে না রেখেই সিজদা করি। সিজদার সময় নাক মাটিতে লাগিয়ে রাখতে হবে। “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নাক ও কপাল মাটিতে মজবুতভাবে ঠেকিয়ে রাখতেন।” আবু দাউদ, তিরমিযী, হাদীস সহীহ। “ঐ বান্দার নামায সহীহভাবে আদায় হয়না যে কপালের মতো করে নাক মাটিতে ঠেকায় না।” দারা কুতনী, তাবারানী ৩/১৪০/১।


৫- দু’ সিজদার মাঝে সোজা হয়ে না বসা

১ম সিজদা থেকে “আল্লাহু আকবার” বলে সোজা হয়ে উঠে বসবেন। এইসময় পিঠ সোজা করতে হবে, পিঠ বাকা রেখে দ্রুত দ্বিতীয় সিজদায় চলে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এইরকম করলে নামায কবুল হবেনা।

দুই সিজদার মাঝখানে দুয়া আছে –

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরয, সুন্নত, নফল যে কোনো সালাতের দুই সিজদার মাঝখানে বসা অবস্থায় এই দুআটি করতেনঃ রাব্বিগ ফিরলি, রাব্বিগ ফিরলি।

অর্থঃ হে আমার রব আমাকে ক্ষমা করা, হে আমার রব আমাকে ক্ষমা কর।আবু দাউদ ১/৩১, ইবনে মাজাহ, দুয়াটা সহীহ।


৬- তাশাহুদে নারী পুরুষ উভয়ে আলদা ভাবে বসা

১ম বৈঠকে আমাদের দেশে পুরুষেরা যেইভাবে বসে সেইভাবে বসা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সুন্নত। আর ৩/৪ রাকাত নামাযে ২য় বৈঠকে আমাদের দেশের নারীরা যেইভাবে বসে এইভাবে বসা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সুন্নত – বসার এই স্টাইলকে “তাওয়্যারুক” করা বলা হয়। নারী ও পুরুষের আলাদা বসার নিয়ম সহীহ হাদীস দিয়ে প্রমানিত না।



 

]]>
Sun, 19 Jun 2022 22:01:25 +0600 BD124.com
গুনাহ থেকে বেচে থাকার ৫টি উপায় জেনে নিন https://bd124.com/Post-164 https://bd124.com/Post-164

আজকে আমরা একটি গল্প শেয়ার করবো ডা ছিল একটি যুবকের তওবা। গল্পটি আত্তাওয়াবিন গ্রন্থের ২৮৭ থেকে ২৮৮ পৃষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

হযরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ছিলেন একজন সুফি সাধক ব্যক্তি। ক্ষমতা ও সম্পদের প্রভাবশালী হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।নিরহংকার জীবনে তিনি গুনাহমুক্ত জীবনের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট ছিলেন।

একদা একবার এক যুবক ব্যক্তি হযরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি কাছে আধ্যাত্নিক প্রশান্তি লাভের জন্য এসেছিলেন। এই ব্যক্তি হযরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) কে বললেন, আমি বড় অপরাধী। আমি নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি।আমাকে এমন কিছু উপদেশ দিন, যাতে আমি পাপাচার থেকে বিরত থাকতে পারি।আমাকে এমন কিছু শুনান যা আমাদের অন্তরে দাগ টেনে দিবে। আর আমি গুনাহ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।

তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন → যদি তুমি ৫ টি কথা গ্রহন করতে পারো এবং মানতে পারো তবে কখনো গুনাহ তোমার ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। আর দুনিয়ার ভোগ বিলাস তোমাকে ধ্বংস করতে পারবে না।তখন যুবক লোকটি বললো হে হযরত! বলুন কি সেই ৫টি কথা?

তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম এই ব্যক্তির উদ্দেশ্যে গুনাহমুক্ত জীবন যাপনের চমৎকার পাঁচটি উপদেশ তুলে ধরেছিলেন। তাহলো –



05 =  কিয়ামতের দিন জাহান্নামের ফেরেশতারা টেনে হিঁচড়ে তোমাকে জাহান্নামে যখন নিক্ষেপ করবে তখন তুমি কি জোর করে জাহান্নামে থেকে বেঁচে আসতে পারবে..? গুনাহ মুক্ত জীবন লাভে পরামর্শ চাওয়া সেই যুবকটি সর্বশেষ পরামর্শ শুনে মাত্রই কেঁদে উঠলেন। আর বললেন → তা কি করে সম্ভব..? জাহান্নামের দায়িত্বশীল ফেরেশতা আমাকে তো ছেড়ে দিবেনা আমার কোনো ওজর আপত্তি শুনবে না। জাহান্নামের সাজা থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।



04 =  মালাকাল মউত হযরত আজরাইল (আঃ) যখন তোমার যান কবজ করতে আসবে তখন তুমি তাঁকে বলবে, যে আমার কিছুদিন বা কিছুটা সময় দিন। যাতে করে আমি তওবা ও ভালো আমল করে নিতে পারি।বলোঃ তোমার এ কথা বলার অবকাশ আছে কি যা আমাকে আরও কিছু সময় দিন বা আমার প্রাণ হরণ করবেনা।

তখন যুবকটি বললোঃ তা কি করে সম্ভব..? না এ সুযোগ কখনোই থাকতে পারেনা। কখনোই মৃত্যুর ফেরেশতা তার দায়িত্ব পালনে দেরি করবেনা। তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন → যখন তুমি জানোই যে মালাকাল মউত কখনোই তোমাকে তওবা করতে বা নেক আমল করতে সামান্য সময় টুকুও দিবেনা, তাহলে তুমি নাজাত পাবে কি করে..?

সুতরাং মুক্তির পথ একটাই গুনাহমুক্ত জীবন যাপন করা। কারণ মৃত্যুর ফেরেশতা সবসময় প্রাণ নিতে প্রস্তত।যে কোনো সময় তোমার মৃত্যু হতে পারে। তাই গুনাহের কাজ ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়।



03 =  তখন তিনি তৃতীয় কথা বললেন যে, তুমি আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে চলে যাও! পাপ করার ইচ্ছে থাকলে তোমাকে আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে চলে যেতে হবে! এ কথা শুনেও এই যুবক ব্যক্তি বললেঃ এমন কোনো স্হান আছে কি যা মহান আল্লাহ তায়ালা দৃষ্টির বাইরে..? আল্লাহ তায়ালা তো ঘোর অন্ধকারের মাঝে পিপড়ার পদচারণা ও পদশব্দ দেখতে ও শুনেন।

তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন → যদি তোমার আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকে তবে গোনাহ বা অন্যায় ছেড়ে দেয়া ছাড়া তোমার আর কোন বিকল্প নেই আর কোনো উপায় নেই।তখন যুবকটি বললোঃ আপনি ঠিকই বলেছেন। তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন এইবার তুমি চতুর্থ কথাটি শোনো।



02 = এরপর তিনি দ্বিতীয় উপদেশ বললেন → আল্লাহর সাথে নাফরমানি করতে চাইলে তাঁর আসমান জমিন থেকে বেরিয়ে গিয়ে করো। অর্থ্যাৎ আল্লাহর আসমান জমিন থেকে বের হয়ে যাও। যদি তোমাকে পাপ করতেই হয় তবে আল্লাহর আসমান জমিন থেকে বের হয়ে গিয়ে পাপ করো।

এ কথা শুনে যুবকটি আগের চেয়েও বেশি হতবাক হয়ে বললঃ হে ইবরাহিম! তা কি করে সম্ভব..? উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু এবং পুরো মহাবিশ্বের সবকিছু মালিক তো একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালাই তাহলে আমি যাবো কোথায়..? তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন → এটা কেমন কথা! তাঁর রিজিক খেয়ে তাঁর জমিন থেকে তাঁর নাফরমানি করবে..? এটা কি ঠিক..?

অর্থাৎ তুমি আল্লাহর আসমান জমিনে অবস্থান করে তাঁরই বিরুদ্ধাচারণ করবে..? না তা কোনোভাবে সম্ভব নয়। বরং আল্লাহর আসমান জমিনে বিচরণ করতে হলে অবশ্যই পাপ কাজ ছেড়ে দেয়ার বিকল্প নেই। তখন যুবকটি হতভম্ব হয়ে বললো, আচ্ছা জনাব আপনি তৃতীয় উপদেশ বলুন।



01 =  তুমি আল্লাহর নাফরমানি করতে চাইলে তাঁর রিজিক খাবেনা অর্থাৎ আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে তুমি বিরত থাকবে। অন্যায় বা অপরাধ করতে ইচ্ছা করলে আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে তুমি কিছুই খাবেনা।



এ কথা শুনে যুবকটি বিস্মিত হয়ে বলল – দুনিয়ার সব রিজিক তো মহান আল্লাহরই দেয়া। তাহলে তা না খেয়ে কি করে থাকা সম্ভব? তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম বলেন → এটা কেমন কথা! তোমার পক্ষে যদি তা সম্ভব না হয়, তবে তুমি আল্লাহর দেয়া রিজিক খেয়ে কিভাবে আল্লাহর সাথে নাফরমানি করতে পারো?

এটা কি তোমার কাছে ঠিক মনে হচ্ছে..? যুবকটি তখন বললোঃ না এটা তো ভালো কথা নয়।এটা তো ঠিক নয়।তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম বলেন → সুতরাং আল্লাহর দেয়া রিজিক খেতে হলে, তোমাকে অবশ্যই অন্যায় বা অপরাধ ছেড়ে দিতে হবে। কেননা তাঁর রিজিক খেয়ে তাঁর অবাধ্যতা করার কোনো সুযোগ নাই।



তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন → তাহলে তুমিই বলো যে তোমার নাজাতের উপায় কী..? এবার হযরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) কাছে পরামর্শ চাওয়া যুবক ব্যক্তিটি বলতে লাগলেন → হে ইবরাহিম! থামুন, যথেষ্ট হয়েছে। গুনাহমুক্ত জীবন লাভে, পাপাচার থেকে বিরত থাকতে আমার জন্য এ পাঁচটি উপদেশই যথেষ্ট।

আমি তওবা করছি। যাতে জীবনের অন্তিম মূহুর্তে পর্যন্ত সব পাপাচার থেকে বিরত থাকতে পারি। গুনাহমুক্ত জীবন গঠন করতে পারি।সুপ্রিয় পাঠক মন্ডলী শুধু সেই যুবকটি জন্যই নয়! বরং আমাদের কারো পক্ষেই সম্ভব নয় যে আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে বিরত থাকা।

কিংবা আল্লাহর আসমান ও জমিন থেকে চলে যাওয়ার অথবা আল্লাহর দৃষ্টির বাহিরে চলে যাওয়া বা মৃত্যুর ফেরেশতার কাছে সময় নেওয়া অথবা জাহান্নামের দায়িত্বশীল ফেরেশতাকে তার কাজ থেকে বিরত রাখার শক্তি ও সামর্থ আমাদের কারোর নেই, কোনোভাবেই নেই।

সুতরাং এ পাঁচটি উপদেশ যথাযথভাবে স্মরণ রেখে আমাদেরকে পাপ কাজ ছেড়ে দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। উল্লেখিত আদেশ গুলো যথাযথ মনে রেখে সমস্ত পাপ ছেড়ে দেয়াই মুমিন মুসলমানের প্রধান কর্তব্য।



আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর জমিনে বিচরণ করে, তাঁর দেয়া রিজিক খেয়ে এবং তাঁরই দৃষ্টির মধ্যে থেকে গুনাহমুক্ত জীবন যাপনের জন্য আমাদের যেন তাওফিক দান করুন আমিন।

]]>
Sun, 19 Jun 2022 21:29:54 +0600 BD124.com
বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ১০ সাপ https://bd124.com/Post-162 https://bd124.com/Post-162

সাপ পরিচিতি পেয়েছে এক ভয়ঙ্কর বিষাক্ত প্রাণী হিসেবে। তবে মজার ব্যাপার হলো, সব সাপই ভয়ঙ্কর বা বিষাক্ত নয়। বেশির ভাগ সময়ই এরা আত্মরক্ষার্থে আক্রমণ করে। সব সাপ ভয়ঙ্কর না হলেও পৃথিবীতে অন্তত এমন ১০ সাপ আছে যাদের ছোবলে মৃত্যু অনিবার্য।



১০) ডেথ এডারঃ 

ডেথ এডারও সাপ শিকার করে। মূলত অস্ট্রেলিয়া ও নিউ ঘানায় এদের সদলবল বসবাস। ডেথ এডার আকারে ছোট হলেও এর মাথার ভিন্নতার কারণে এটি দেখতে অনেকটা ভয়ঙ্কর। এদের মাথা অনেকটা ত্রিভুজাকৃতির। এদের শরীরও বেশ মোটাসোটা।

প্রাণীবিদরা জানান, এক ছোবলে এডার ৪০ থেকে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত বিষ ঢালতে পারে। কেউ কেউ এর বিষকেই সবচেয়ে বিষাক্ত বিষ বলে মনে করে থাকেন। এই সাপের বিষ মানুষের স্নায়ুতে আক্রমণ করে। এর কামড়ে মানুষের দেহ প্যারালাইসিস হতে পারে, এমনকি শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যে কেউ সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টার মধ্যে মারা যেতে পারেন। তবে সবচেয়ে আশ্চর্য হচ্ছে এর ছোবল দেওয়ার ক্ষমতা। এটি ০.১৩ সেকেন্ডের মধ্যে কামড় দিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। 



০৯) ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক

ধরুন, আপনি একটা ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেকের সামনে পড়লেন। সাপটি আপনাকে দেখে ফণা তুলে নাচতে লাগল। সে চাইছে আপনি তার দিকে এগিয়ে যান, আর তারপরই সে চোখের পলক পড়ার আগেই কাজ সেরে নেবে। আপনি ভুলেও সে কাজ করবেন না। এমন সাপের সামনে পড়লে নড়াচড়া না করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন। কারণ, এরা শুধু চলমান মানুষ বা বস্তুকেই আক্রমণ করে।

আর এর বিষ এতটাই বিপজ্জনক যে, এর এক ছোবল একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। ব্রাউন স্নেকের মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় বাদামি সাপই বেশি বিষধর। এটি অস্ট্রেলিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। এরা যেমন দ্রুত চলাফেরা করতে পারে তেমনি উপযুক্ত পরিবেশে হরহামেশাই আক্রমণ করে বসতে পারে। আরও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, এদের বিষ স্নায়ু ও রক্তে একসঙ্গে আক্রমণ করে। তবে এরা প্রতি দুই ছোবলে একবার বিষ প্রয়োগ করতে পারে। আর পারতপক্ষে এরা কামড়ায়ও না।



০৮) ব্লু ক্রেইট

ব্লু ক্রেইট এমনই হিংস্র যে, শিকার ছাড়াও নিজ প্রজাতির সাপও এদের হাত থেকে রেহাই পায় না। দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় এ সাপ বেশি পাওয়া যায়। এদের ছোবলে মৃত্যু অবধারিত। তবে সঙ্গে সঙ্গে সুচিকিৎসা দিলে মাঝে মধ্যে কেউ কেউ বেঁচেও যেতে পারেন। এই সাপের বিষ স্নায়ুকে আক্রান্ত করে। এর একটি কামড় কোবরার ১৬টি কামড়ের সমান বিষাক্ত। এদের বিষ খুব দ্রুত পেশিগুলোকে দুর্বল করে দেয় এবং নার্ভের গতি কমিয়ে দেয়। তবে লড়াইয়ের মাঝপথে এসব সাপের পালিয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে। এরা রাতে চলাচল ও শিকার করতে বেশি পছন্দ করে।



০৭) স্পিটিং কোবরা

বলতে পারেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সাপ কোনটি? এখন যার কথা বলছি, নিঃসন্দেহে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সাপ। স্পিটিং কোবরা। দেখতে এরা যেমন সুন্দর, এদের আচরণও অন্যদের তুলনায় শান্ত। স্পিটিং কোবরার স্বর্গরাজ্য সাউথ আফ্রিকা।

এরা কামড় দেওয়া থেকে বিষ ছুড়তেই বেশি পছন্দ করে। এমনকি ফণা না তুলে শুয়ে শুয়েই এরা আট ফুট দূরের শিকারকে বিষ ছুড়ে কাবু করতে পারে। এরা সাধারণত বিষ ছোড়ে মানুষের চোখ লক্ষ্য করে। এ বিষ চোখে গেলে অন্ধ হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তবে ত্বকে বা মুখের ভেতরেও এ বিষ গেলে তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

এরা যদি দাঁত ফুটিয়ে রক্তে বিষ প্রবেশ করিয়ে দেয় তাতে পঙ্গুত্ববরণ এমনকি হার্ট বন্ধ হয়ে যে কেউ মারাও যেতে পারে। গবেষকদের মতে, অত্যন্ত বিষধর হলেও স্পিটিং কোবরা শুধু আত্দরক্ষার জন্যই বিষ ছোড়ে। কাউকে চমকে দিয়ে পালানোর পথ করে নেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। এদের দৈর্ঘ্য ছয় ফুটের বেশি হয় না।



০৬) বেলচার সি স্নেক

ভয়ঙ্কর সাপের তালিকায় থাকা বেলচার সি স্নেককেও কেউ কেউ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সাপ বলে মনে করে থাকেন। এই সাপের মাত্র কয়েক মিলিগ্রাম বিষই ১০০০ মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এদের বিষের পরিমাণও বেশি। সাগরের গভীরে এদের বিচরণ থাকায় সাধারণত জেলেরা এই সাপের কামড়ের শিকার বেশি হন। জেলেরা যখন জাল তোলেন তখন সমুদ্রের তলদেশ থেকে এরা জালের সঙ্গে উঠে আসে। বেলচার উত্তর-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সাগরে বেশি দেখা যায়। তবে মজার ব্যাপার হলো একটু আদর পেলে এরা সহজেই বশ মানে।



০৫) ভাইপার

পৃথিবীতে মাত্র এক প্রজাতির সাপই আছে, যাদের বিষ মাংসকে গলিয়ে দিতে পারে। এর নাম ভাইপার। ভারতসহ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই এদের নানা প্রজাতি বাস করে। অপরিচ্ছন্ন বাড়ির আশপাশে বা নারকেল গাছের পাতার ভাঁজে এরা চুপচাপ বসে থাকতে ভালোবাসে।

তবে ভাইপারের মধ্যে র্যুসেল ভাইপার সবচেয়ে মারাত্দক। পৃথিবীতে বছরে এদের কামড়ে যত মানুষ মারা যায়, বাকি সব সাপ মিলেও এত মানুষ কামড়ায় না। এদের কামড়েই এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। গবেষকদরে মতে, এদের বিষ খুবই তীব্র হিমোলেটিভ ধরনের।

রক্ত এবং টিস্যুকে সরাসরি আক্রমণ করে। এরা নিশাচর প্রকৃতির সাপ। বৃষ্টির পরে রেইন ফরেস্টে এরা একা একা ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। এদের অনুভব শক্তি বেশ শক্তিশালী আর এরা ক্ষিপ্ত গতিরও হয়। সাধারণত পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্যের হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে এরাও পৃথিবীর ভয়ঙ্কর প্রজাতির সাপ।



০৪) কালকেটে

ভাবুন তো, যদি একটা ১৪ থেকে ১৫ ফুট লম্বা কালকেউটে ৩ থেকে ৪ ফুট উঁচু তুলে মস্ত হাঁ করে আপনার দিকে তেড়ে আসে। কেমন লাগবে তখন? হুম, এখন যার কথা বলছি, সে এমনই প্রকৃতির সাপ। কালকেউটেরা ১৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়।

আর ওরা শরীরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাটির ওপরে ফণা তুলতে পারে। আরেকটা অদ্ভুত ব্যাপার হলো ওই ফণা তোলা অবস্থায়ই এগিয়ে যেতে পারে। কালকেউটে পানির মধ্যেও দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। এদের শ্বাসনালিতে একটা ছিদ্র থাকে। তাতে কম্পনের ফলে ভয়ঙ্কর গর্জনের আওয়াজ হয়। পৃথিবীতে হাতেগোনা কয়েকটি সাপই এমন গর্জন করতে পারে। গর্জনের জন্য বিশাল প্রাণীটিকে আরও ভয়ঙ্কর লাগে। এ গর্জন সম্ভব হয় শক্তিশালী মাংসপেশির কারণে।

ইন্ডিয়ান র্যাট স্নেক এদের প্রিয় খাবার। প্রাণীবিদদের মতে, কালকেউটের বিষ উৎপাদনের ক্ষমতাও অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, সব সাপের থেকে এদের বিষের থলি বড়। এক ছোবলে এরা দুই চা চামচ পরিমাণ বিষ ছোড়তে পারে।

যা ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এদের বিষ যখন শরীরে ঢোকে তা নাভা সিস্টেমের নিউরনগুলোর মধ্যে ইলেকট্রিক্যাল ইমপার্লসকে আটকে দেয়। যার ফলে যে কেউ পঙ্গু বা হার্ট বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে। এর ছোবলে কয়েক মিনিট থেকে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু অনিবার্য। তবে এর বিষে অন্যান্য বিষাক্ত সাপের পরিমাণে টকসিকের পরিমাণ কম।



০৩)পাইথন

সর্প জগতের দৈত্য বলা হয় পাইথনকে। কারণ এটিই পৃথিবীর একমাত্র সাপ, যা আস্ত মানুষ অনায়াসেই খেয়ে ফেলতে পারে। কোনো ঘুমন্ত মানুষকে অনায়াসেই গিলে নাচতে নাচতে ঘরে চলে যেতে তার কোনোই সমস্যা হয় না। প্রায় একদিন পরে শিকারের দেহটাকে সে শরীর থেকে বাইরে বের করে দেয়। এ সাপ ২০ ফুটের মতো লম্বা হয়। এরা সাধারণত দুপুরের গরম এড়াতে গর্তে ঢুকে থাকে।

এরা একটু ঠাণ্ডা পেলে পানির মধ্যে শিকারের জন্য অপেক্ষা করে। তবে প্রথমেই এরা শিকারকে গিলে ফেলে না। প্রথমে চেষ্টা করে নিজের শরীরের পাকে পাকে শিকারকে কাবু করার। পাইথনের শরীর এতই শক্ত যে, এটা কাউকে পেঁচিয়ে ধরলে তার হার্ট ও রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে এবং সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। এরা যখন মানুষকে গিলে ফেলে তখন তাদের মুখ ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত খুলতে পারে।

আরও ভয়ঙ্কর কথা হচ্ছে, এরা নিজের শরীরের থেকেও বড় শিকারকে অবলীলায় গিলে ফেলতে পারে। তবে এদের কোনো বিষ নেই। বিষ না থাকার পরও দৈত্যাকৃতি ও গিলে ফেলার কারণে এ সাপ চলে এসেছে ভয়ঙ্কর সাপের তালিকায়।



০২) ব্ল্যাক মাম্বা

ভয়ঙ্কর আর বিষের দিক থেকে পৃথিবীর দ্বিতীয় সাপ ব্লাক মাম্বা। এর শরীরের উপরের দিকটা সাদা হলেও এর মুখের ভেতরটা কালো। এই ব্যতিক্রমী চেহারার জন্য এর নাম ব্লাক মাম্বা। বাস আফ্রিকায়। বিদ্যুতের মতো ক্ষিপ্ত ও প্রচণ্ড উত্তেজিত এ সাপের নিউরোটক্সিন বিষের ভাণ্ডার বেশ সমৃদ্ধ। এ সাপ ছোবল দিলে মাত্র কয়েক মিনিটেই যে কেউ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন। এরা এতই ভীতু যে, কাউকে দেখলেই নিজের ওপর আক্রমণের ভয়ে তার উপরে আক্রমণ চালায়। যে কারণে অন্য সাপ থেকে এ সাপ হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর। প্রাণীবিদদের মতে, এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম সাপ। যার গতি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার। তাছাড়া এটি একই সারিতে পরপর ১২ বার কামড় দিতে পারে।



০১) ইনল্যান্ড তাইপেন

ইনল্যান্ড তাইপেন পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপ। এর বিষ এই গ্রহের সবচেয়ে মারাত্মক। এই সাপ সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার প্রান্তদেশে দেখা যায়। লম্বায় এগুলো প্রায় আট ফুটের মতো হয়ে থাকে। এক ছোবলে তাইপেন এত বিষ ছোড়ে যা ৬০ থেকে ১০০ লোকের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট।

অথবা এতে মারা যেতে পারে এক লাখ ইঁদুর। প্রাণীবিদরা জানান, তাইপেনের এক ছোবল অন্তত ৫০টি কোবরার ছোবলের সমান। এদের বিষে আছে মারাত্মক ধরনের নিউরোটক্সিন। যা মানুষের শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পুরোপুরি বিকল করে দিতে পারে। এর ছোবল পেশি অবশ করে হার্ট বন্ধ করে দেয়। আরেকটি টক্সিন রক্ত জমাট করে ঘন স্যুপের মতো করে দেয়।

এদের বিষের আরেকটি ভয়ঙ্কর দিক হচ্ছে, এ বিষ মানুষের রক্তে মিশলে রক্ত শক্ত হয়ে যায়। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই সাপের মানুষ মারার কোনো রেকর্ড নেই। কারণ এগুলো অস্ট্রেলিয়ার এমন প্রান্ত এলাকায় বাস করে যেখানে লোকজন খুব একটা থাকে না। ভয়ঙ্কর বিষাক্ত হলেও স্বভাবে এরা খুব শান্ত। সব মিলিয়ে তাইপেনকেই সবচেয়ে বিষাক্ত সাপের মর্যাদা দিয়েছেন প্রাণীবিদরা।



 

]]>
Fri, 17 Jun 2022 15:55:13 +0600 BD124.com
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ও ভয়ঙ্কর প্রাণী https://bd124.com/06-17-2022-2 https://bd124.com/06-17-2022-2

পৃথিবীতে সাত-সাতটি মহাদেশ রয়েছে। রয়েছে অতলান্ত সমুদ্র, মহাসাগর, রয়েছে অজানা অরণ্যের ইতিকথা। সেখানে কত জানা-অজানা জীবের বাস, কত কিছু, তার কতটুকুই বা আমরা জানি? আর হিংস্র প্রাণীর কথা বললেই আমাদের চোখের সামনে উঠে আসে বাঘ-সিংহ জাতীয় প্রাণীর কথা। কিন্তু সত্যিই কি তাই? বাঘ-সিংহের মতো প্রাণীরাই কি এই বিশ্বের হিংস্র প্রাণীদের তালিকায় শীর্ষে? বাস্তব কিন্তু তা বলছে না, বরং পৃথিবীর সবচেয়ে হিংস্র 10 প্রাণীর তালিকা দেখলে চমকে ও অবাক হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। পৃথিবীর সবচেয়ে 10 হিংস্র প্রাণীর তালিকা রইল, জানুন আর অবাক হোন।



10 - সাইফু পিঁপড়ে!
দেখতে যত ছোট হোক ক্ষমতা অনেক বড় এই প্রাণীর। কোন দিন ভেবেছেন পিঁপড়েও প্রাণঘাতী হতে পারে? না ভেবে থাকলে এবার ভাবুন। সাইফু পিঁপড়ে নামে এক ধরনের পিঁপড়ে রয়েছে, এদেরকে ড্রাইভার পিঁপড়েও বলা হয় থাকে। এরা কিন্তু একলা নয়, বরং সবসময়ই ঝাঁকে-ঝাঁকে চলাফেরা করে থাকে। আর প্রতিটি ঝাঁকে থাকে প্রায় ৫ কোটি পিঁপড়ে।

মূলত দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এদের খুঁজে পাওয়া যায়। আমাদের বাড়ির পিঁপড়েকে যেমন আমরা চিনি বা যে কোনও খাবার নিয়ে সারি দিয়ে চলে যেতে দেখি, এরা কিন্তু তা নয়। বরং এরা মারাত্মক হারে মাংসাশী। এমনকী কয়েক কোটি পিঁপড়ে মিলে যে কোন বড় প্রাণীকেও এরা সাবাড় করে ফেলে।



09 - কেপ বাফেলো সাক্ষাৎ যমদূত!
কেপ বাফেলো নামের যে বুনো মহিষ আফ্রিকার তৃণভূমিতে রাজত্ব করে, তারা কিন্তু সাক্ষাৎ যমদূত! এক-একটি কেপ বাফেলোর ওজন কয়েক টন পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের শক্তি এদের শরীরের ওজন এবং বদ মেজাজ। এদের কেউ উত্যক্ত করলেই তার আর রক্ষে নেই!মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক এক প্রাণী বলে এদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আফ্রিকান সিংহের কথা বলা হয় বটে, কিন্তু ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে এরা সিংহের অনেক আগে রয়েছে।



08 - ব্ল্যাক মামবা কামড়েই মুহূর্তে মৃত্যু!
সাপ দেখলে আমরা কে না ভয় পাই! কিন্তু সব সাপ যেমন বিষাক্ত নয়। পৃথিবীর দ্রুততম, মারাত্মক বিষধর সাপের ব্ল্যাক মামবা। এরা যতটা মারাত্মক হিংস্র, ততটাই ভীতু। এরা তখনই প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে বসে, যখন এরা মারাত্মক ভয় পায়। আফ্রিকার পুরানে এদের নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে। সেই কারণেই ব্ল্যাক মামবাকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সাপ মনে করা হয়।

দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকার পাহাড়ি অঞ্চলে ব্ল্যাক মামবার আসল বাস। এটা আফ্রিকার দীর্ঘতম সাপ, যা লম্বায় গড়ে ৮.২ ফুটেরও (২.৫ মিটার) বেশি হয়ে থাকে। এদের গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার। ব্ল্যাক মামবার একবার কামড়েই মুহূর্তে মৃত্যু হতে পারে একটি হাতির। পৃথিবীর ভয়ঙ্কর প্রাণীদের মধ্যে ব্ল্যাক মামবা রয়েছে তৃতীয় স্থানে।



07 - মার্বেল শামুক
সাধারণ শামুক কিন্তু বিষাক্ত নয়, কিন্তু যে শামুকগুলো কোণ সেগুলো ভয়ানক বিষাক্ত হয়ে থাকে। কোণ শামুক দেখতে কোণ আইসক্রিমের মতোই। কোণ শামুক মানেই বিষাক্ত, কিন্তু মার্বেল কোণ শামুক পৃথিবীর বিষাক্ত প্রাণীদের তালিকায় রয়েছে দু নম্বরে। এদের খোলসটা দেখলে মনে হয়, মার্বেল পাথর দিয়ে মোজাইক করা হয়েছে। তাই এই শামুকের এমন অদ্ভূত নাম দেওয়া হয়েছে। মূলত অস্ট্রেলিয়ার গরম লবণাক্ত সামুদ্রিক জলে এদের দেখা মেলে। দেখতে যতই সুন্দর হোক, প্রাণীটি কিন্তু মারাত্মক প্রাণঘাতী। তা সে যতই কালো হোক...মৃত্যু অনিবার্য



06 প্রাণঘাতী বক্স জেলিফিশ!
সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণী অন্য কেউ নয়, অস্ট্রেলিয়ান বক্স জেলিফিশ! কী এই বক্স জেলিফিশ? বক্স জেলিফিশ হল সেই প্রাণী, যা সম্ভবত জেলিফিশের সকল প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দেখতে। সামুদ্রিক এই প্রাণীটি প্রায় ১৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। সেই প্রাণীই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী হিসেবে পরিচিত। এক একটি জেলিফিশে যে পরিমান বিষ থাকে, তাতে ৬০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে।



05 - প্লেসিওসৌর Plesiosaur

জুরাসিক পার্কের দৌলতে ডাইনোসরের সঙ্গে কম বেশি আলাপ পরিচয় আছে সিনেপ্রেমীদের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং হিংস্র মাংসাশী প্রাণী ছিল এগুলো। যার মধ্যে অন্যতম ছিল টিরানোসরাস রেক্স। কিন্তু টিরানোসরাসদের থেকেও ভয়ঙ্কর প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল! তার নাম প্লিওসর।

সম্প্রতি ১৫ কোটি বছর পুরনো সেই প্লিওসরের জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশালাকার সেই জীবাশ্ম দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন তারা। এই নতুন অনুসন্ধানের কথা ‘প্রসেডিংস অব দ্য জিওলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই আবিস্কার গবেষণার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। পোল্যান্ডের সুইতোকার্জিকির কাছে একটি ভুট্টা খেতের মধ্যে প্লিওসরের এই জীবাশ্ম পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সে সময়ের একটি বিশালাকার সরীসৃপ প্রাণী ছিল প্লিওসররা। খোঁজ পাওয়া প্লিওসরটি প্রায় ৩৩ ফুট লম্বা। তবে সে সময়ে এর থেকে আরও অনেক বড় প্লিওসর ছিল বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এদের চোয়ালে দাঁতের বিন্যাস ছিল অনেকটা কুমিরের মতো। টিরানোসরাসের থেকেও পাঁচ গুণ বেশি শক্ত ছিল এদের চোয়াল। দাঁতও ছিল ভীষণ ধারালো। এরা যা পেত, তাই খেত। এরা এতটাই ক্ষমতাশালী ছিল যে, প্রয়োজনে টিরানোসরাসদেরও চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারত তারা! তবে বিশালাকার এই প্লিওসররা সমুদ্রে বাস করত। সাঁতারের সুবিধার জন্য তাদের পাগুলো ছিল মাছের পাখনার মতো।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের সমস্ত প্রাণী, এমনকি তিমিদেরও খেয়ে ফেলত তারা। প্লিওসরদের পেশি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সমুদ্রের উপরে জলের কাছাকাছি উড়ে যাওয়া বড় আকারের পাখিদেরও এরাজল থেকে ঝাঁপিয়ে সহজেই ধরে ফেলতে পারত।

প্লিওসরের জীবাশ্মের মধ্যে আবার সে সময়কার বিশাল সামুদ্রিক কচ্ছপের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক কচ্ছপের খোলকের উপর প্লিওসরের ধারালো দাঁতের চিহ্ন দেখা গেছে। খোঁজ পাওয়া প্লিওসরটি ওই সামুদ্রিক কচ্ছপকেও খেয়েছিল বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের। পোল্যান্ডে এই অঞ্চলটিতে প্রচুর জীবাশ্মের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর আগে সেখান থেকে ৮০ কোটি বছরের পুরনো এক বিশাল সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। 


04 - মোরেইঃ সাপ আকৃতির

শক্তিশালী দেহের অধিকারী এই প্রাণীটি লম্বায় ২ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর চোখ ছোট এবং চোয়াল বেশ চওড়া। সব ধরনের মাছ ও সমুদ্রের প্রাণী এর প্রধান খাদ্য । শিকার ধরার জন্য সে দিনরাত সমুদ্র পৃষ্ঠে অবস্থিত পাহাড়ের ফাটল ও গর্তের ভেতর ঘাপটি মেরে বসে থাকে এবং তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করা সব শিকারকে নিমিষেই গলধকরণ করে।

এই মাছের চোয়াল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দাঁতগুলো তীক্ষ্ণ ধারালো। তাছাড়া এদের দাঁত ব্যাক্টেরিয়ায় পরিপূর্ণ। এই কারণে শিকার কোনভাবে এর হাত থেকে রক্ষা পেলেও তীক্ষ্ণদাঁতের কামড়ে ক্ষতস্থানে পঁচনের সৃষ্টি হয় এবং ফলশ্রুতিতে তার মৃত্যু ঘটে। প্রকৃতপক্ষে এই মাছটি মানুষকে আক্রমন করে না কিন্তু যদি তাকে ভয় দেখানো হয় বা সে যদি আক্রান্ত বোধ করে তাহলে মানুষের উপর চড়াও হতে পিছুপা হয় না।



03 - স্টিংরে 

 স্টিংরেঃ ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বখ্যাত কুমির শিকারী স্টিভ ইরউইনকে হত্যা করার মধ্যদিয়ে সাগরের ভয়ঙ্কর প্রাণী হিসেবে এই প্রাণীটি আত্মপ্রকাশ করে। আবার অনেকেই এই প্রাণীটির ভয়ানক রূপ দেখে সমুদ্রের ত্রাস হাঙ্গরের খালাত ভাই বলেও একে আক্ষা দিয়ে থাকেন।

এই প্রাণীর লেজের প্রথম এক তৃতীয়াংশে শক্তিশালী ধারালো করাতের ন্যায় খাঁজকাটা বিষাক্ত হুল রয়েছে। যখনই এই প্রাণীটি হুমকির সম্মুক্ষিন হয় বা আক্রান্ত হয় তখনই এই হুলটি কঠিন হয়ে ধারালো ছুরির আকার ধারণ করে। এই বিষাক্ত ছুরির আঘাতের ফলে প্রচন্ড যন্ত্রণাসহ রোগীর স্বাসযন্ত্র ও হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগী মারা যায়।



02 - সী ক্রোকোডাইল

সী ক্রোকোডাইলঃ সমুদ্রপৃষ্ঠে যে সকল নিষ্ঠুর ও হিংস্র প্রাণী রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম নিষ্ঠুর লুন্ঠনকারী ও হিংস্রপ্রাণী হচ্ছে এই কুমির। লম্বায় ৬ মিটার এবং ১টন ওজনের এই প্রাণীর শিকার সদূরপ্রসারী। বানর, ক্যাঙ্গারু ,বুফালো এমনকি হাঙ্গর পর্যন্ত এদের শিকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। এদের যে তীক্ষ্ণ ধারালো দাঁত রয়েছে সেগুলো খাদ্য কাটা বা চিবানোর জন্য ব্যবহার করে না, মূলত শিকার ধরার জন্য এরা দাঁতগুলো ব্যবহার করে। শিকার বড় হলে তার দেহ নরম করার জন্য গভীর পানির নিচে নিয়ে যায়, আবার কোনো সময় চিবানো বাদে আস্ত শিকারকে গিলে ফেলে।



02.লায়নফিসঃ ১৩টি বিষাক্ত কাঁটা দিয়ে পরিবেষ্টিত এই মাছটির দেহ। এই কাঁটার আঘাতে ভিকটিমের দেহে প্রচন্ড বিষক্রিয়া ও জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হতে পারে, তবে জ্বালাযন্ত্রণার তীব্রতা শরীরের ভেতর প্রবেশ করা বিষের পরিমানের উপর নির্ভর করবে। অবশ্য এই মাছকে হুমকি প্রদর্শন করা না হলে এরা কখনই মানুষকে আক্রমন করে না। সাধারনত এই মাছের কাটার আঘাতে শরীরে যে সকল প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তার মধ্যে শরীরে দাহ, রক্তক্ষরণ, বমিবমিভাব, মাথাব্যথা, অবশতা, স্বাসকষ্ট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।



 

]]>
Fri, 17 Jun 2022 15:23:35 +0600 BD124.com
জাহান্নামের বর্ণনা https://bd124.com/06-17-2022 https://bd124.com/06-17-2022

মানুষকে সফলতা ও চীরস্থায়ী জান্নাতে যাওয়ার পথ ও পবিত্র কুরআনুল কারীমে এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরীফে বিষদভাবে আলোচনা করেছেন। কোরআন ও হাদীসে জাহান্নামের যে ভয়াবহতা ও আযাবের কথা উল্লেখ রয়েছে, কোন মানুষের পক্ষে তা সহ্য করা সম্ভব নয় ।তাই প্রকৃত বুদ্ধমান মানুষ কখনোই নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে না।



আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন এবং মানুষকে সফলতা ও চীরস্থায়ী জান্নাতে যাওয়ার পথ ও পবিত্র কুরআনুল কারীমে এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরীফে বিষদভাবে আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেনঃ

أنا هديناه السبيل اما شاكرا و اما كفورا

অর্থঃ আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।
(আল কুরআন ;আদ দাহ্‌র /৭৬:৩)

যে সকল মানুষ আল্লাহ তায়ালার এ সকল বানী শোনার পরও সতর্ক হবে না এবং নিজের জীবনের আত্মসংশোধন করবে না বরং গোনাহ ও আল্লাহর নামারমানিতে নিজের জীবন ব্যয় করবে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম। বস্তুত কোন বুদ্ধিমান মানুষ যদি জাহান্নামের অবস্থা সম্পর্কে জানে এবং একটু তার ভয়াবহতা ও আযাবের কথা চিন্তা করে তাহলে সে গোনাহের কাজ করতে সাহস পাবে না।

কেননা কোরআন ও হাদীসে জাহান্নামের যে ভয়াবহতা ও আযাবের কথা উল্লেখ রয়েছে, কোন মানুষের পক্ষে তা সহ্য করা সম্ভব নয়। তাই প্রকৃত বুদ্ধমান মানুষ কখনোই নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন, আমীন।

কোরআন ও হাদীসে জাহান্নামের যে পরিচয় ও চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, নিম্নে আমরা তার কিছু অংশ উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ্।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ

َ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا ‏”‏ ‏.‏ ‏

আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে সেদিন এর সত্তর হাজার লাগাম থাকবে। প্রতিটি লাগামের জন্য নিয়োজিত থাকবে সত্তর হাজার ফেরেশতা। তারা এগুলো ধরে এটাকে টানতে থাকবে।
(সহীহ মুসলিম ৮/১৪৯, জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৫৭৩)

، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يَخْرُجُ عُنُقٌ مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ تُبْصِرَانِ وَأُذُنَانِ تَسْمَعَانِ وَلِسَانٌ يَنْطِقُ يَقُولُ إِنِّي وُكِّلْتُ بِثَلاَثَةٍ بِكُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ وَبِكُلِّ مَنْ دَعَا مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَبِالْمُصَوِّرِينَ ‏”‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ ‏.‏‏

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাত দিবসে জাহান্নাম হতে একটি গর্দান (মাথা) বের হবে। এর দুটি চোঁখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে, দুটি কান থাকবে যা দিয়ে সে শুনবে এবং একটি জিহবা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে।

সে বলবে, তিন ধরনের লোকের জন্য আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছেঃ (১) প্রতিটি অবাধ্য অহংকারী যালিমের জন্য, (২) আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য কোন কিছুকে যে ব্যক্তি ইলাহ বলে ডাকে তার জন্য এবং (৩) ছবি নির্মাতাদের জন্য।
(সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ২৫৭৪)

জাহান্নামের গভীরতার বর্ণনা
عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِنَّ الصَّخْرَةَ الْعَظِيمَةَ لَتُلْقَى مِنْ شَفِيرِ جَهَنَّمَ فَتَهْوِي فِيهَا سَبْعِينَ عَامًا وَمَا تُفْضِي إِلَى قَرَارِهَا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ عُمَرُ يَقُولُ أَكْثِرُوا ذِكْرَ النَّارِ فَإِنَّ حَرَّهَا شَدِيدٌ وَإِنَّ قَعْرَهَا بَعِيدٌ وَإِنَّ مَقَامِعَهَا حَدِيدٌ ‏.‏

হাসান বাসরী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:‘উত্‌বাহ ইবনু গাযওয়ান (রাঃ) আমাদের এই বসরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জাহান্নামের এক প্রান্ত হতে বড় একটি পাথরকে গড়িয়ে ছেড়ে দেয়া হলে এটা সত্তর বছর পর্যন্ত গড়াতেই থাকবে তবু স্থির হবার জায়গায় আসতে পারবে না।
(সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৬১২)

নোটঃ
বর্ণনাকারী বলেন, ‘ হযরত ওমর‌(রাঃ) বলতেন, তোমরা বেশি বেশি জাহান্নামের কথা স্মরণ কর। কেননা এটার গরম তীব্র, এর গহ্বর অনেক গভীর এবং এর ডাণ্ডাগুলো লোহা দ্বারা নির্মিত।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৭৫)

عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لَوْ أَنَّ رُصَاصَةً مِثْلَ هَذِهِ وَأَشَارَ إِلَى مِثْلِ الْجُمْجُمَةِ أُرْسِلَتْ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ وَهِيَ مَسِيرَةُ خَمْسِمِائَةِ سَنَةٍ لَبَلَغَتِ الأَرْضَ قَبْلَ اللَّيْلِ وَلَوْ أَنَّهَا أُرْسِلَتْ مِنْ رَأْسِ السِّلْسِلَةِ لَصَارَتْ أَرْبَعِينَ خَرِيفًا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ قَبْلَ أَنْ تَبْلُغَ أَصْلَهَا أَوْ قَعْرَهَا ‏”‏ ‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُهُ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏‏

ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথার খুলীর দিকে ইশারা করে বলেছেনঃ এটার মতই একটি সীসা যদি আকাশ হতে যমিনের দিকে ছেড়ে দেয়া হয় তবে রাত হওয়ার পূর্বেই তা পৃথিবীতে পৌঁছে যাবে। অথচ এত দু’য়ের মাঝখানে পাঁচ শত বছরের পথের ব্যবধান রয়েছে।

আর জাহান্নামের জিঞ্জীরের অগ্রভাগ হতে সীসাটি নীচের দিকে নিক্ষেপ করা হলে তা চল্লিশ বছর ধরে রাত-দিন চলতে থাকবে, গর্তের শেষ সীমায় পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৮৮. মিশকাত ৫৬৮৮, তা’লীকুর রাগীব ৪/২৩২)

জাহান্নামীদের শারিরিক আকৃতি;
، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِنَّ غِلَظَ جِلْدِ الْكَافِرِ اثْنَانِ وَأَرْبَعُونَ ذِرَاعًا وَإِنَّ ضِرْسَهُ مِثْلُ أُحُدٍ وَإِنَّ مَجْلِسَهُ مِنْ جَهَنَّمَ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَن صحيح‏

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জাহান্নামে কাফির ব্যক্তির গাধ্যয়ের চামড়া হবে বিয়াল্লিশ গজ মোটা, তার মাড়ির দাঁত হবে উহ

ূদের সমান বড় এবং মক্কা-মদীনার দূরত্বের সমান বিস্তৃত হবে তার বসার জায়গা (নিতম্বদেশ)।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৮৯, সিলসিলাতুল আহাদিসুস সহীহাহ্‌ ১১০৫)

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ الصَّعُودُ جَبَلٌ مِنْ نَارٍ يُتَصَعَّدُ فِيهِ الْكَافِرُ سَبْعِينَ خَرِيفًا وَيَهْوِي فِيهِ كَذَلِكَ مِنْهُ أَبَدًا ‏‏

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জাহান্নামের মধ্যে ‘সাঊদ’ নামে আগুনের একটি পাহাড় আছে। কাফিরগণ সত্তর বছরে এর উপর উঠবে এবং সত্তর বছরে গড়িয়ে পড়বে। তারা তাতে অনন্তকাল ধরে উঠবে ও নামবে।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৭৬)

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জাহান্নামে কাফিরদের দু‘ কাঁধের মাঝখানে দ্রুতগামী আরোহী ব্যক্তির তিন দিনের দূরত্বের পথ হবে।
(ই.ফা. ৬৯২৩, ই.সে. ৬৯৮০, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭০৭৮)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ ضِرْسُ الْكَافِرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِثْلُ أُحُدٍ وَفَخِذُهُ مِثْلُ الْبَيْضَاءِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ مَسِيرَةَ ثَلاَثٍ مِثْلُ الرَّبَذَةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ ‏”‏ وَمِثْلُ الرَّبَذَةِ ‏”‏ كَمَا بَيْنَ الْمَدِينَةِ وَالرَّبَذَةِ ‏.‏ وَالْبَيْضَاءُ جَبَلٌ مِثْلُ أُحُدٍ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাত দিবসে কাফির ব্যক্তির মাড়ির দাঁত হবে উহূদ পাহাড়সম বড়, তার ঊরু হবে ‘বাইযা’ পাহাড়সম বিশাল এবং তার নিতম্বদেশ হবে রাবাযার মতো তিনদিন চলার পথের দূরত্বের সমান বিস্তৃত।
(সুনানে তিরমিযি ২৫৭৭)

، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّ الْكَافِرَ لَيُسْحَبُ لِسَانُهُ الْفَرْسَخَ وَالْفَرْسَخَيْنِ يَتَوَطَّؤُهُ النَّاسٍ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (কিয়ামাতের দিন) কাফির ব্যক্তি তার জিহ্বা এক-দুই ফারসাখ পরিমান জায়গা জুড়ে বিছিয়ে রাখবে। লোকেরা তা পদদলিত করবে।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৮০)

নোটঃ
মাসালুর রাবাযা’ অর্থ মাদীনা ও রাবাযা নামক স্থানের মাঝাখানের দূরত্বের সমান। আর ‘বাইযা’ একটি পাহাড়ের নাম যা উহূদ পাহাড়ের সমতুল্য।
(সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ২৫৭৮)

জাহান্নামীদের পানীয় এর বিবরণ;
জাহান্নামিরা পিপাসার্ত হয়ে পরিচিত জান্নাতিদের কাছে পানি প্রার্থনা করে । তাদের ঐ কথোপকথন পবিত্র কুরআনুল কারীমে এভাবে ইরশাদ করেছেন।

وَنَادَىٰ أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ ۚ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ

জাহান্নামবাসীরা জান্নাতিদের ডেকে বলবে; আমাদের কে কিছু পানি দাও অথবা আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে যে নেয়ামত দান করেছেন তার কিছু দাও,তখন জান্নাতবাসী বলবে; আল্লাহ তায়ালা এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে হারাম করে দিয়েছেন।
(সুরা আরাফ ৫০)

অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন;

.تصلى نارا حامية. تسقى من عين انية. ليس لهم طعام الا من ضريع
.لا يسمن ولا يغني من جوع

তারা জলন্ত আগুনে পতিত হবে। তাদেরকে ফুটন্ত নহর থেকে পান করানো হবে। যরি ব্যতীত তাদের জন্যে অন্য কোন খাবারের ব্যবস্থা নেই। আর (যরি) তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং ক্ষুধা নিবারণে কোন উপকার ও করবে না।
(সূরা গাশিয়াহ ৪-৭)

]]>
Fri, 17 Jun 2022 15:14:47 +0600 BD124.com
কেয়ামতের আগে যে 10 আলামত প্রকাশ পাবে https://bd124.com/06-08-2022 https://bd124.com/06-08-2022

কেয়ামতের আগে যে 10 আলামত প্রকাশ পাবে  । কেয়ামত হবে এটা মহান প্রভুর ঘোষণা। সেদিন মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। কোরআনে এসেছে- ‘জমিনের উপর যা কিছু রয়েছে, সবই ধ্বংস হয়ে যাবে; একমাত্র আপনার মহিমায় এবং মহানুভব পালনকর্তা ছাড়া।’ (সুরা আর-রাহমান : আয়াত ২৬-২৭)

কেয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে 10 টি ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাবে। সব শেষে যে ঘটনাটি ঘটবে; তা হবে খুবই ভয়ংকর ব্যাপার! একজন পুরুষের পেছনে ৪০/৫০ জন নারী আশ্রয় চাইবে। সেসময় পুরুষের সংখ্যা কমে যেতে থাকবে আর নারীর সংখ্যা ক্রমাগত ব্যাপক হারে বাড়তে থাকব। শুধু এ সম্পর্কেই হাদিসে এসেছে-


হজরত আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, (এমন একটা সময় আসবে যখন) একজন পুরুষকে দেখতে পাবে তার পেছনে চল্লিশজন নারী অনুসরণ করছে আশ্রয়ের জন্য। কেননা, তখন পুরুষের সংখ্যা অনেক কমে যাবে আর নারীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে।’ (বুখারি)

হাদিসের ধারাক্রম অনুযায়ী এটি হলো সর্বশেষ আলামত। কেয়ামতের আগে আরও 10 টি ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাবে। সেটিও ওঠে এসেছে হাদিসের বর্ণনায়-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে বর্ণনা করেছেন, আমি তোমাদের কাছে একটি হাদিস বর্ণনা করব; যা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনেছি এবং আমি ছাড়া আর কেউ সে হাদিস বলতে পারবে না। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি; কেয়ামতের আলামতের মধ্যে রয়েছে-


১. ইলম ওঠে যাবে: 

কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে দ্বীনী ইলমের শিক্ষা ও চর্চা কমে যাবে এবং মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে দ্বীনী বিষয়ে মূর্খতা বিরাজ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَثْبُتَ الْجَهْلُ

‘‘কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং মানুষের মাঝে অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে’’।[1] এখানে ইল্ম বলতে ইলমে দ্বীন তথা কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান উদ্দেশ্য। তিনি আরো বলেনঃ

إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا

‘‘আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তর থেকে ইল্মকে টেনে বের করে নিবেন না; বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইল্ম উঠিয়ে নিবেন। এমনকি যখন কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবেনা তখন লোকেরা মূর্খদেরকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে কোন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বিনা ইলমেই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরা গোমরাহ হবে এবং মানুষদেরকেও গোমরাহ করবে’’।[2]

ইমাম যাহাবী (রঃ) বলেনঃ বর্তমানে দ্বীনী ইল্ম কমে গেছে। অল্প সংখ্যক মানুষের মাঝেই ইলম চর্চা সীমিত হয়ে গেছে। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ইলমের আরো কমতি হবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে।

ইমাম যাহাবীর যামানায় যদি এই অবস্থা হয়ে থাকে তাহলে বর্তমানকালের অবস্থা কেমন হতে পারে তা আমরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি। বর্তমানে ইলমে দ্বীনের চর্চা কমে গেছে। কুরআন-সুন্নার আলেমের সংখ্যা খুবই নগণ্য। যার ফলে শির্ক-বিদআতে অধিকাংশ মুসলিম সমাজ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মোটকথা কিয়ামতের এই আলামতটি অনেক আগেই প্রকাশিত হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।


১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমন ও মৃত্যু বরণ:

কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর আগমণ। কেননা তিনি হলেন সর্বশেষ নবী। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবীর আগমণ হবেনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর দুনিয়াতে আগমণের অর্থ হলো, দুনিয়ার বয়স শেষ হয়ে আসছে, কিয়ামত অতি নিকটবর্তী হয়ে গেছে। তিনি বলেনঃ

بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ قَالَ وَضَمَّ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى

‘‘আমি এবং কিয়ামত এক সাথে প্রেরিত হয়েছি। একথা বলে নবী (ﷺ) হাতের শাহাদাত আঙ্গুল এবং মধ্যমা আঙ্গুলকে একত্রিত করে দেখালেন’’।[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিয়ামতের আলামত।



২) চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া:

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ اقْتَرَبَتْ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ‘‘কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে এবং চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়েছে’’। (সূরা কামারঃ ১)

হাফেয ইবনে রজব বলেনঃ ‘‘আল্লাহ তাআলা চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়াকে কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম আলামত হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।[1]

আলেমদের সর্বসম্মত অভিমত হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর যামানায় চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার ঘটনা সংঘটিত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে একাধিক সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। আনাস (রাঃ) বলেনঃ মক্কাবাসীরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কাছে নবুওয়াতের প্রমাণ চাইল তখন তিনি চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করে দেখালেন’’।[2]  [1] - الحكم الجديرة بالإذاعة: ص ১৯ [2] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ সিফাতুল মুনাফিকীন। 



৩) বায়তুল মাকদিস (ফিলিস্তিন) বিজয়:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি বস্ত্ত গণনা করো। তার মধ্যে বায়তুল মাকদিস বিজয় অন্যতম।[1]

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)এর শাসনামলে হিজরী ১৬ সালে বায়তুল মাকদিছ বিজয়ের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎ বাণী বাস্তবায়িত হয়েছে।

[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল জিযইয়্যাহ।



৪) ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে:

কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে মানুষের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। ফকীর-মিসকীন খুঁজে পাওয়া যাবেনা। সাদকা ও যাকাতের টাকা নিয়ে খুঁজা-খুঁজি করেও নেয়ার মত কোন লোক পাওয়া যাবেনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ وَحَتَّى يَعْرِضَهُ فَيَقُولَ الَّذِي يَعْرِضُهُ عَلَيْهِ لَا أَرَبَ لِي

‘‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা যতক্ষণ না মানুষের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। মানুষ যাকাতের মাল নিয়ে সংকটে পড়বে। যাকাতের মাল মানুষের কাছে পেশ করা হলে সে বলবেঃ এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই’’।[1]

কিয়ামতের এই আলামতটি একাধিক সময়ে প্রকাশিত হবে। উমার ইবনে আব্দুল আযীযের শাসন আমলে তা প্রকাশিত হয়েছিল।

ইয়াকূব ইবনে সুফিয়ান বলেনঃ ‘‘উমার ইবনে আব্দুল আযীযের শাসন আমলে লোকেরা প্রচুর সম্পদ নিয়ে আমাদের কাছে আগমণ করতো। তারা আমাদেরকে বলতঃ তোমরা যেখানে প্রয়োজন মনে কর সেখানে এগুলো বিতরণ করে দাও। গ্রহণ করার মত লোক না পাওয়া যাওয়ার কারণে তাদের কাছ থেকে কেউ মাল গ্রহণ করতে রাজী হতোনা। পরিশেষে মাল ফেরত নিতে বাধ্য হত। মোট কথা তাঁর শাসন আমলে যাকাত নেয়ার মত লোক ছিলনা’’।[2] কিয়ামতের এই আলামতটি ইমাম মাহদীর আমলে পুনরায় প্রকাশিত হবে। [1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুয্ যাকাত। [2] - ফাতহুল বারী, (১৩/৮৩)



৫) কিয়ামতের পূর্বে অনেক ফিতনার আবির্ভাব হবে:

ফিতনা শব্দটি বিপদাপদ, বিশৃংখলা, পরীক্ষা করা ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে। অতঃপর শব্দটি প্রত্যেক অপছন্দনীয় বস্তু ও বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘এই উম্মতের প্রথম যুগের মুমিনদেরকে ফিতনা থেকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। আখেরী যামানায় এই উম্মতকে বিভিন্ন ধরণের ফিতনায় ও বিপদে ফেলে পরীক্ষা করা হবে। প্রবৃত্তির অনুসরণ ফির্কাবন্দী এবং দলাদলির কারণে ফিতনার সূচনা হবে। এতে সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যাবে এবং ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হবে। একে অপরের উপর তলোয়ার উঠাবে। ব্যাপক রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল ফিতনা সম্পর্কে উম্মতকে সাবধান করেছেন এবং তা থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিয়েছেন।

আমর বিন আখতাব (রাঃ) বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফজর নামায পড়লেন। অতঃপর মিম্বারে উঠে যোহর নামায পর্যন্ত ভাষণ দিলেন। যোহর নামায আদায় করে পুনরায় ভাষণ শুরু করে আসর নামায পর্যন্ত ভাষণ দান করলেন। অতঃপর আসর নামায শেষে ভাষণ শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ভাষণ দিলেন। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত যা হবে সবই বলে দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে জ্ঞানী তারাই এগুলো মুখস্থ রেখেছেন’’।[1]

ফিতনাগুলো একটি অপরটির চেয়ে ভয়াবহ হবে। এমনকি ফিতনায় পড়ে মানুষ দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَأَنَّهَا قِطَعُ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيَبِيعُ فِيهَا أَقْوَامٌ خَلَاقَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا

‘‘নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বে অন্ধকার রাত্রির মত ঘন কালো অনেক ফিতনার আবির্ভাব হবে। সকালে একজন লোক মুমিন অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হবে। বিকালে সে কাফেরে পরিণত হবে। বহু সংখ্যক লোক ফিতনায় পড়ে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে তাদের চরিত্র ও আদর্শ বিক্রি করে দিবে।[2] অপর বর্ণনায় এসেছে, তোমাদের একজন দুনিয়ার সামান্য সম্পদের বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে দিবে’’।[3]



 ৬) ভন্ড ও মিথ্যুক নবীদের আগমণ হবে :

আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ নবী ও রাসূল। কিয়ামতের পূর্বে আর কোন নবীর আগমণ ঘটবেনা। এটি ইসলামী আকীদার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে অনেক মিথ্যুক মিথ্যা নবুওয়াতের দাবী করে মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করবে। তাই এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতকে যথাসময়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ

لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُبْعَثَ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ قَرِيبٌ مِنْ ثَلَاثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ

‘‘ত্রিশজন মিথ্যুক আগমণের পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। তারা সকলেই দাবী করবে যে, সে আল্লাহর রাসূল’’।[1] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ

لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى يَعْبُدُوا الْأَوْثَانَ وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي ثَلَاثُونَ كَذَّابُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لَا نَبِيَّ بَعْدِي

‘‘আমার উম্মতের একদল লোক মুশরিকদের সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বে এবং মূর্তি পূজায় লিপ্ত হওয়ার পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। আর আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যুকের আগমণ ঘটবে। তারা সকলেই নবুওয়াতের দাবী করবে। অথচ আমি সর্বশেষ নবী। আমার পর কিয়ামতের পূর্বে আর কোন নবী আসবেনা’’।[2]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎবাণী সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর শেষ বয়সের দিকে মুসায়লামা কায্যাব নবুওয়াতের দাবী করেছিল। তার অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ইয়ামামার যুদ্ধে আবু বকর (রাঃ)এর খেলাফতকালে সাহাবীগণ এই ফিতনার অবসান ঘটান। এমনিভাবে যুগে যুগে আরো অনেকেই নবুওয়াতের দাবী করেছে। তাদের মধ্যে আসওয়াদ আনাসী, সাজা নামক জনৈক মহিলা, মুখতার আছ-ছাকাফী, হারিছ আল-কায্যাব অন্যতম।

নিকটবর্তী অতিতে ভারতে মীর্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী নবুওয়াতের দাবী করেছিল। তার অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ভারত বর্ষের অনেক আলেম তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন এবং মুসলমানদেরকে পরিস্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সমস্ত ভন্ড এবং মিথ্যুক নবী থেকে উম্মাতকে সতর্ক করেছেন সে তাদেরই একজন।

আল্লামা ছানাউল্লাহ অম্রিতসরী অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তার প্রতিবাদ করেন। এতে মিথ্যুক কাদিয়ানী শায়খ ছানাউল্লাহর সাথে চ্যালেঞ্জ করলে উভয় পক্ষের মাঝে ১৩২৬ হিজরী সালে এক মুনাযারা (বিতর্ক) অনুষ্ঠিত হয়। তাতে এই মর্মে মুবাহালা হয় যে, দু’জনের মধ্যে যে মিথ্যুক সে যেন অল্প সময়ের মধ্যে এবং সত্যবাদীর জীবদ্দশাতেই কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে হালাক হয়ে যায়। আল্লাহ তা’আলা শায়খ ছানাউল্লাহর দু’আ কবূল করলেন। এই ঘটনার এক বছর এক মাস দশদিন পর মিথ্যুক কাদীয়ানী ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।[3]

এমনিভাবে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত একের পর এক মিথ্যুকের আগমণ ঘটে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ঘোষিত ত্রিশ সংখ্যা পূর্ণ হবে।



৭) হেজায অঞ্চল থেকে বিরাট একটি আগুন বের হবে:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, কিয়ামতের পূর্বে হেজাযের (আরব উপদ্বীপের) যমিন থেকে বড় একটি আগুন বের হবে। এই আগুনের আলোতে সিরিয়ার বুসরা নামক স্থানের উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত হয়ে যাবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَخْرُجَ نَارٌ مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ تُضِيءُ أَعْنَاقَ الْإِبِلِ بِبُصْرَى

‘‘হেজাযের ভূমি থেকে একটি অগ্নি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবেনা। উক্ত অগ্নির আলোতে বুসরায় অবস্থানরত উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত হবে’’।[1]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎবাণী সত্যে পরিণত হয়েছে। ইমাম নববী (রঃ) বলেনঃ ৬৫৪ হিজরীতে আমাদের যামানায় উল্লেখিত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এটি ছিল বিরাট একটি আগুন। পবিত্র মদ্বীনার পূর্ব দিক থেকে তা প্রকাশিত হয়েছিল। একমাস পর্যন্ত আগুনটি স্থায়ী ছিল।



৮) আমানতের খেয়ানত হবে:

আমানত শব্দটি খেয়ানত শব্দের বিপরীত। আমানতের হেফাযত করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমানতের খেয়ানত করা মুনাফেকের লক্ষণ। আখেরী যামানায় আমানতের খেয়ানত ব্যাপাকভাবে দেখা দিবে। অযোগ্য লোককে কোন কাজের দায়িত্ব দেয়াও আমানতের খেয়ানতের অন্তর্ভূক্ত।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন এক মজলিসে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় একজন গ্রাম্য লোক এসে নবীজীকে এই বলে প্রশ্ন করলো যে, কিয়ামত কখন হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কথা চালিয়ে যেতে থাকলেন।

কিছু লোক মন্তব্য করলোঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকটির এই প্রশ্নকে অপছন্দ করেছেন। আবার কিছু লোক বললোঃ তিনি তাঁর কথা শুনতেই পান নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলোচনা শেষে বললেনঃ প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? সে বললোঃ এই তো আমি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ

إِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ

‘‘যখন আমানতের খেয়ানত হবে তখন কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে বলে মনে করবে। লোকটি আবার প্রশ্ন করলোঃ কিভাবে আমানতের খেয়ানত করা হবে? নবীজী বললেনঃ যখন অযোগ্য লোকদেরকে দায়িত্ব দেয়া হবে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করতে থাকো’’।[1]

আখেরী যামানায় যখন আমানতদারের সংখ্যা কমে যাবে তখন বলা হবে অমুক গোত্রে একজন আমানতদার লোক আছে। লোকেরা একথা শুনে তার প্রশংসা করবে এবং বলবেঃ সে কতই না বুদ্ধিমান! সে কতই না মজবুত ঈমানের অধিকারী! অথচ তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও নেই।[2]



৯) দ্বীনী ইল্ম উঠে যাবে এবং মূর্খতা বিস্তার লাভ করবে:

কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে দ্বীনী ইলমের শিক্ষা ও চর্চা কমে যাবে এবং মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে দ্বীনী বিষয়ে মূর্খতা বিরাজ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَثْبُتَ الْجَهْلُ

‘‘কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং মানুষের মাঝে অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে’’।[1] এখানে ইল্ম বলতে ইলমে দ্বীন তথা কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান উদ্দেশ্য। তিনি আরো বলেনঃ

إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا

‘‘আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তর থেকে ইল্মকে টেনে বের করে নিবেন না; বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইল্ম উঠিয়ে নিবেন। এমনকি যখন কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবেনা তখন লোকেরা মূর্খদেরকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে কোন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বিনা ইলমেই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরা গোমরাহ হবে এবং মানুষদেরকেও গোমরাহ করবে’’।[2]

ইমাম যাহাবী (রঃ) বলেনঃ বর্তমানে দ্বীনী ইল্ম কমে গেছে। অল্প সংখ্যক মানুষের মাঝেই ইলম চর্চা সীমিত হয়ে গেছে। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ইলমের আরো কমতি হবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে।

ইমাম যাহাবীর যামানায় যদি এই অবস্থা হয়ে থাকে তাহলে বর্তমানকালের অবস্থা কেমন হতে পারে তা আমরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি। বর্তমানে ইলমে দ্বীনের চর্চা কমে গেছে। কুরআন-সুন্নার আলেমের সংখ্যা খুবই নগণ্য। যার ফলে শির্ক-বিদআতে অধিকাংশ মুসলিম সমাজ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মোটকথা কিয়ামতের এই আলামতটি অনেক আগেই প্রকাশিত হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।



১০) অন্যায়ভাবে যুলুম-নির্যাতনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আখেরী যামানায় এই উম্মতের মধ্যে একদল লোক আসবে, যাদের হাতে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে। তারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে সকাল বেলা ঘর থেকে বের হবে এবং আল্লাহর ক্রোধ নিয়েই বিকাল বেলা ঘরে ফিরবে’’।[1]

বর্তমানে আমরা যদি ইসলামী অঞ্চলগুলোর দিকে দৃষ্টি দেই তবে দেখতে পাবো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণীটি বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখতে পাওয়া যায় যে, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অন্যায়ভাবে জনগণের উপর যুলুম-নির্যাতন করে থাকে। প্রায়ই সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমে জনগণের উপর পুলিশের বেধড়ক লাঠি চার্জের সংবাদ পাওয়া যায়।

[1] - মুসনাদে আহমাদ, ইমামম আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন সহীহুল জামে হাদীছন নং- ৩৫৬০।



 

]]>
Wed, 08 Jun 2022 23:12:11 +0600 BD124.com
ইসলাম ধর্মের স্তম্ভসমূহ https://bd124.com/2022 https://bd124.com/2022

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম মানুষকে বিপদ ও অশান্তি থেকে মুক্তির পথ প্রদর্শন করে। মানুষের জীবনে ইসলাম ধর্মের ভিত্তিগুলোর প্রতিফলন ঘটলে জীবন সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক ভাবে পরিচালিত হয়।



ইসলাম ধর্মের কিছু মূল বিষয় রয়েছে যেগুলো এর ভিত্তি বা স্তম্ভ নামে পরিচিত। একজন মুসলমানের জীবনে এগুলোর প্রভাব ও গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম ধর্মের স্তম্ভ বা ভিত্তি মূলত পাঁচটি। যথা -



(১) কালেমা,

(২) নামাজ,

(৩) রোজা,

(৪) হজ্জ্ব, ও

(৫) যাকাত।

হাদিস ও গুরুত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় ইসলামের এই স্তম্ভগুলোর ক্রম পরিবর্তিত হয়। নিচে স্তম্ভগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :


কালেমা: ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে কালেমা। একজন মুসলমান হওয়ার পূর্ব শর্ত হচ্ছে কালেমা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নাই এবং মুহাম্মাদ (সা.) তার রাসূল’ মুখে বলা ও অন্তরে বিশ্বাস করা। ইসলামের চার কালেমায় বিশ্বাস স্থাপন করে ঈমান আনা কালেমার মূল উদ্দেশ্যে। মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে যতো নবী রাসূলগণ প্রেরণ করেছেন, তাদের সকলের দাওয়াতের মূল বিষয় ছিলো তাওহীদ। আর এই তাওহীদের ওপর বিশ্বাস প্রতিস্থাপনের নামই হলো ঈমান।


একজন মুসলমানের কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ঈমান। যা তার প্রাণের চেয়েও প্রিয়। ঈমানদার মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই ঈমানকে ছাড়তে পারে না। ঈমান শুধু মুখে কালেমা পড়ার নাম নয়, ইসলামকে তার সকল অপরিহার্য অনুষঙ্গসহ মনেপ্রাণে মানা ও বিশ্বাস করা। ঈমান হলো অটল ও দৃঢ় বিশ্বাসের নাম।



কোনো বিষয়কে শুধু মহান আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে মেনে নেয়ার নাম ঈমান। পবিত্র কোরআন মাজীদে মহান আল্লাহ তায়ালা সাক্ষ্য দেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও; আল্লাহ ন্যায়নীতিতে প্রতিষ্ঠিত, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আর এটাই কালেমার মূল বিষয়।


নামাজ:

نَماز বা সালাত হলো ইসলাম ধর্মের অন্যতম ইবাদত। নামাজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। কালেমার পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ। পবিত্র কোরআন মাজীদে মহান আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন মাজীদে বলেছেন, ‘আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। অতএব আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম কর।’’ (সূরা ত্বোয়া-হা: ১৫)


অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে যে, ‘এই কিতাব হতে যা তোমার প্রতি ওহী করা হয় তা তুমি আবৃতি কর এবং নামাজ কায়েম কর। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর।’ (সূরা আনকাবুত: ৪৬)


রাসূলুল্লাহ (সা.) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বার বার নামাজের তাগিদ পেয়েছেন। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ।


তাই প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজকে কালেমার পরেই স্থান দিয়েছেন। মহানবী (সা.) নামাজের গুরুত্ব ও ফায়দা সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের সামনে অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো-


আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! (সা.) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘নামাজ’।’ (সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম)


মুসলমানদের ওপর দৈনিক পাঁচবার নামাজ পড়া ফরজ। নামাজের এই বিধান কার্যকর হয় মেরাজের রাত্রে। ইসলামের একমাত্র বিধান হলো নামাজ যা মেরাজের রাত্রিতে মহান আল্লাহ কার্যকর করেন। ঈমান আর কুফরের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো নামাজ।

প্রিয় নবী (সা.) নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে হাদিসের মাধ্যমে একটি উপমা প্রদান করেছেন। হজরত আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সময় শীতকালে বাইরে তাশরিফ আনলেন। তখন গাছের পাতা ঝরার সময় ছিল। নবী (সা.) গাছের একটি ডালে হাত দিয়ে ধরলেন। ফলে তার পাতা আরো বেশি ঝরতে লাগল।


অত:পর তিনি বললেন, হে আবু যর! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি উপস্থিত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-


মুসলমান বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করে, তখন তার থেকে পাপসমূহ ঝরে পড়ে; যেমন এ গাছের পাতা ঝরে পড়ছে। (মুসনাদে আহমদ)

পরিশেষে…নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া মুমিন মুসলমানের ঈমানের দাবি ও ফরজ ইবাদত। নামাজি ব্যক্তিই হলো সফল। যার সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন প্রিয়নবী। তিনি বলেছেন-

‘যে ব্যক্তি নামাজের প্রতি যত্নবান থাকে; কেয়ামতের দিন ওই নামাজ তার জন্য নূর হবে এবং হিসেবের সময় তার জন্য দলিল হবে এবং তার জন্য নাজাতের কারণ হবে।

পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নামাজের প্রতি যত্নবান হবে না তার জন্য নাজাতের কোনো সনদও থাকবে না। বরং ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালফের সঙ্গে তার হাশর হবে।’


রোজা: روزہ বা রোজা ফারসি শব্দ এবং সাউম صوم ‌ বা সিয়াম আরবি শব্দ। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের তৃতীয় স্তম্ভ হচ্ছে রোজা। সূর্যোদ্বয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার খাবার ও পানীয় এবং যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, প্রতিটি সুস্থ মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ فرض যার অর্থ অবশ্যই পালনীয়। রোজা কেবল উম্মাতে মোহাম্মাদীর ওপরই ফরজ না, এর আগের উম্মতদের ওপরও তা ফরজ ছিলো।



মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে , যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ (সূরা বাকারা ২, আয়াত-১৮৪)


অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ পাক বলেন, ‘রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশনা আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে;’ (সূরা বাকারা:


১৮৬) (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৬) রমজান মাসে সাওম পালন করা ফরজে আইন। যদি কোনো মুসলমান রমজান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা পরিত্যাগ করে, তাহলে সে বড় গুনাহগার ও দ্বীনের মৌলিক বিধান লঙ্ঘনকারী এবং ঈমান-ইসলামের খেয়ানতকারী হিসেবে পরিগণিত হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গকারীদের জন্য হাদিস শরিফে কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে ।


আবু উমামা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম আমার কাছে দুইজন ব্যক্তি আসলেন। তারা আমার বাহু ধরে আমাকে দূর্গম এক পাহাড়ে নিয়ে এলেন। এরপর আমাকে বললেন, আপনি পাহাড়ের ওপরে উঠুন। আমি বললাম, আমি উঠতে পারবো না। তারা বললো, আমরা আপনাকে সাহায্য করবো। আমি ওপরে উঠলাম।


যখন আমি পাহাড়ের সমতল ভূমিতে পৌঁছালাম, হঠাৎ ভয়ংকর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, এটা কিসের আওয়াজ? তারা বললেন, এটা জাহান্নামীদের আর্তনাদ। তারা আমাকে নিয়ে এগিয়ে চলল। হঠাৎ কিছুলোক দেখতে পেলাম, তাদেরকে পেশী দ্বারা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তা থেকে তাদের রক্ত ঝরছে। আমি বললাম, এরা কারা? তারা বলল, যারা ইফতারের পূর্বেই রোজা ভেঙ্গে ফেলতো তারা এরা।


আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকির সওয়াব দশগুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।’

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কিন্তু রোজার বিষয়টা আলাদা। কেননা তা আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করবো। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে।’


হজ: حج‎ আরবি শব্দ। হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ইচ্ছা’ বা ‘সংকল্প’ করা। হজ ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের চতুর্থ স্তম্ভ। ইসলাম ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ মুসলমানদের জন্য হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিক দিক থেকে সক্ষম হলেই প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ সম্পাদন করা ফরজ বা আবশ্যিক। আরবি জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজর জন্য নির্ধারিত সময়। হজ পালনের জন্য বর্তমান সৌদী আরবের মক্কা নগরীর কাবাঘর, সন্নিহিত মিনা, আরাফাত প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান আবশ্যক। এটি মুসলমানদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাৎসরিক তীর্থযাত্রা।


মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন মাজীদে বলেন, ‘এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ। আর যে ব্যক্তি কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকূল থেকে অমুখাপেক্ষী।’ (সূরা- আলে ইমরান, আয়াত-৯৭)


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ আদায় করো।’

তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত হজ ফরজ হওয়ার শর্তগুলো পূর্ণ হলেই অনতিবিলম্বে হজ আদায় করা। কেননা প্রত্যেকটি ফরজ আমল অনতিবিলম্বে আদায় করা বাধ্যতামূলক।

আবু হোরায়রা (রা.) এক হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে হজ থেকে এমন অবস্থায় ফিরে আসে যেন মাত্র মায়ের গর্ভ থেকে বের হয়েছে। অর্থাৎ সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর মত নিষ্পাপ।’


জাকাত: زكاة ‎আরবি শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে ‘পরিশুদ্ধ করে’ আরো আরবি زكاة ألمال‎, ‘সম্পদের জাকাত’। জাকাত ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, এটি একটি জীবনব্যবস্থা। এতে রয়েছে সমাজনীতি,পররাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধনীতি, অর্থনীতি। জাকাত হলো ইসলামী অর্থনীতির একটি বুনিয়াদ।



প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ জাকাত দিতে হয়। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ এবং জাকাতই শুধুমাত্র শর্তসাপেক্ষ যে, তা সম্পদশালীদের জন্য ফরজ বা আবশ্যিক হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে ‘জাকাত’ শব্দের উল্লেখ এসেছে ৩২ বার। পবিত্র কোরআনে নামাজের পরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পূর্ন বিষয় হিসাবে উল্লেখ্য এই জাকাত।


জাকাত শব্দের অর্থ পরিচ্ছন্নতা। নিজের আয় থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ গরীব দু:খী মানুষকে দান করে নিজের আত্মার পরিশুদ্ধিই হলো জাকাত। শরীয়তের ভাষ্যমতে, বাৎসরিক আয়ের ২.৫% অংশ মহান আল্লাহের পথে দান করার নামই জাকাত। এতে সম্পদ হালাল এবং আত্মার পরিশুদ্ধি হয়।


রাসূল (সা.) এর মতে, ‘যে ব্যক্তি জাকাত দিল তার থেকে যেন শয়তান নির্মূল হয়ে গেল।’ এক বছর যাবত নির্দিষ্ট পরিমাণ(নিসাব পরিমাণ) সম্পদের মালিক থাকলে তাকে মোট অর্থের শতকরা ২.৫% হারে জাকাত পরিশোধ করতে হবে।


আর জাকাত পাওয়ার জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে শরিয়তে বিশেষ বিধান রয়েছে। শরীয়ত মোতাবেক যারা জাকাত পাবার যোগ্য, তারা হলেন–

ফকির (যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই), মিসকিন বা নি:স্ব ব্যক্তি (যার কাছে একবেলা খাবারও নেই), ঋণগ্রস্ত মুসলিম, অসহায় মুসাফির, জাকাত উত্তোলন, সংরক্ষণ ও বন্টনের কার্যে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, ইসলাম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক অমুসলিম, নতুন মুসলিম যার ঈমান এখনো পরিপক্ক হয়নি, ক্রীতদাস/বন্দী মুক্তি।

তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, ফকির বা মিসকিন যেন মুসলমান হয় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হয়।
জাকাত বান্দাকে স্রষ্টার নিকটে আসতে সহায়তা করে। সমাজে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি বৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গঠনে অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে জাকাত।


পরিশেষে বলা যায়, আলোচ্য বিষয় গুলোর চর্চা ও এগুলোর ওপর আমল করায় ইসলামের মূল দিকনির্দেশনা। একজন মুসলমানের জীবনে এই বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটলে তবেই তার জীবন পরিপূর্ণ আদর্শে সার্থকতা লাভ করবে ।


 

 

]]>
Tue, 07 Jun 2022 22:42:28 +0600 BD124.com
প্রসঙ্গ ইসলাম ॥ পৃথিবী ধ্বংস পূর্ব সময়ে দাজ্জালের আগমন https://bd124.com/11-157 https://bd124.com/11-157

দুনিয়া নিয়ে আজকের যুগের লোকজন এত বেশি ব্যস্ত থাকে যে, কিয়ামত/পরকাল নিয়ে ভাববার ফুরসতই পায় না। কিন্তু হঠাৎ করে গত কিছুদিন ধরে ‘পৃথিবী ধ্বংস হবে’- এ নিয়ে নানা অভিমত শোনার পর মানুষের জিজ্ঞাসা ও উৎকণ্ঠার শেষ নেই।

পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতিষ যুক্তি-তর্ক যেমন রয়েছে, তেমনি এ বিষয়ে রয়েছে ব্যাপক ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও পূর্বাভাস। কোরান-হাদিসের বর্ণনা মতে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার পূর্বে এখানে বহুমাত্রিক ও নানা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। এখানে আবির্ভূত হবে দাজ্জাল নামের এক ভণ্ড ও জালিম। আসবেন ঈসা নবী (আ.)। নিম্নক্ত দীর্ঘ হাদিসের মাধ্যমেই সেসব বিষয়ে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করব।



সাহাবী নাওয়াস ইবনে সাময়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ‘দাজ্জাল’ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি কখনও বিষয়টিকে অবজ্ঞার সুরে প্রকাশ করলেন আবার কখনও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করলেন। এমনকি আমাদের ধারণা হলো দাজ্জাল খেজুর বাগানের কোন এক স্থানে লুকিয়ে আছে। যখন আমরা তার কাছ থেকে ফিরে যাচ্ছিলাম তখন তিনি আমাদের প্রকৃত অবস্থা বুঝে ফেললেন।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কি হয়েছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আপনি সকাল বেলা দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। আপনি তা কখনও অবজ্ঞাভাবে এবং কখনও গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করেছিলেন। এতে আমাদের ধারণা হয়েছিল সম্ভবত ওই সময়ে সে খেজুর বাগানের কোথাও অবস্থান করছে।



তখন তিনি বললেন : তোমাদের ব্যাপারে আমি দাজ্জালের ফেতনার খুব একটা আশঙ্কা করি না। যদি আমার উপস্থিতিতে সে আত্মপ্রকাশ করে তবে আমি নিজে তোমাদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াব। আর যদি আমার অবর্তমানে সে আত্মপ্রকাশ করে তবে প্রত্যেকে নিজেরাই তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। আল্লাহ আমার অবর্তমানে তোমাদের রক্ষক।



(এরপর মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) দীর্ঘ হাদিসে আরও বলেন) দাজ্জাল ছোট কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট একজন যুবক। তার চোখ হবে ফোলা। আমি তাকে আবদুল উয্যা ইবনে কাতানসদৃশ্য মনে করি। যে ব্যক্তি তার সাক্ষাত পাবে সে যেন ‘সূরা কাহাফে’র প্রাথমিক আয়াতগুলো পাঠ করে। দাজ্জাল সিরিয়া ও ইরাকের সঙ্গে সংযোগ রক্ষাকারী রাস্তায় আত্মপ্রকাশ করবে।


সে তার ডানে ও বাঁয়ে হত্যা, ধ্বংস ও ফিতনা-ফ্যাসাদ ছড়াবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ। অটল ও স্থির হয়ে থাক। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! সে কত সময় পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে? তিনি বললেন : চল্লিশদিন। এর প্রথম একদিন হবে এক বছরের সমান (দ্বিতীয়) একদিন হবে এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিনটি হবে এক সপ্তাহের সমান।


অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের এই দিনের মতোই দীর্ঘ হবে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! যে দিনটি এক বছরের সমান হবে সে দিনের কি একদিনের নামাজই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন : না, বরং অনুমান করেই নামাজের সময় ঠিক করে নিতে হবে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে রাসূলাল্লাহ (সা.)! পৃথিবীতে দাজ্জাল কত দ্রæতগতিসম্পন্ন হবে? তিনি বললেন, ব্যথাতাড়িত মেঘের মতো দ্রæত গতিসম্পন্ন হবে।


সে এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে এবং তাদের নিজের দিকে আহ্বান করবে। তারা তার প্রতি (ভয় ও বিভ্রান্ত হয়ে) ইমান আনবে এবং তার হুকুমের অনুসরণ করবে। সে আসমানকে নির্দেশ দেবে। আসমান তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করবে। সে জমিনকে হুকুম দেবে এবং জমিন উদ্ভিদ উৎপাদন করবে (সরল প্রাণ মানুষ তার জাদুকরী কর্মকাণ্ডে সহসাই প্রভাবিত হবে, মুমিনদের পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তার জবানে বিভ্রান্তিকর শক্তি দান করবেন)।


তার সময় মানুষের গৃহপালিত জন্তুগুলো সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরবে। এগুলোর কুঁজ সুউচ্চ, দুধের বাঁটগুলো লম্বা এবং স্ফীত হবে। অতঃপর সে আরেক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে এবং তাদের নিজের দিকে আহ্বান করবে। তারা তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করবে। দাজ্জাল তাদের কাছ থেকে চলে যাবে। তারা অতি দ্রæত অজন্ম ও দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হবে।


তাদের হাতে ধন-সম্পদ কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। দাজ্জাল এই বিধ্বস্ত এলাকা দিয়ে অতিক্রম করার সময় বলবে, তোমার গচ্ছিত সম্পদরাজি বের করে দাও। সঙ্গে সঙ্গে সে এলাকার ধন-সম্পদ মধু মক্ষিকার ন্যায় তার অনুসরণ করবে। অতঃপর সে পূর্ণ বয়স্ক এক যুবককে আহ্বান করবে।


(কিন্তু সে তাকে অস্বীকার করবে)। দাজ্জাল তাকে তরবারি দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলবে। অতঃপর টুকরো দুটোকে পৃথকভাবে একটি তীরের পাল্লা পরিমাণ দূরত্বে রাখবে। অতঃপর সে ডাকবে এবং টুকরো দুটো চলে আসবে। তার চেহারা তখন প্রফুল্ল ও হাস্যময় হবে। (মানুষের ইমানী দৃঢ়তা পরীক্ষা করার জন্য কানা দাজ্জালকে এমন আজগুবি চরিত্র দিয়ে প্রেরণ করা হবে)।



ইত্যবসরে আল্লাহ তায়ালা মাসীহ ইবনে মরিয়াম আলাইহিস সালামকে পাঠাবেন। তিনি দামেস্কের পূর্ব অংশে সাদা মিনারের ওপরে হালকা জাফরানি (হলুদ) রঙের কাপড় পরিহিত অবস্থায় ফেরেশতাদের কাঁধে ভর দিয়ে নেমে আসবেন।


যখন তিনি মাথানত করবেন তখন মনে হবে যেন তার মাথায় মুক্তার মতো পানির বিন্দু টপকাচ্ছে। যখন তিনি মাথা উঠাবেন তখনও তার মাথা থেকে মুক্তার দানার মতো ঝরছে বলে মনে হবে। যে অবিশ্বাসীর গায়ে তার নিশ্বাস লাগবে তার বেঁেচ থাকা সম্ভব হবে না। (সঙ্গে সঙ্গে মরে যাবে)। তার দৃষ্টি যতদূর যাবে তার নিশ্বাসও ততদূর পৌঁছবে। তিনি দাজ্জালকে পিছু ধাওয়া করবেন এবং লুদ নামক স্থানে তাকে হত্যা করবেন।



অতঃপর ঈসা (আ.) ওইসব লোকের কাছে আসবেন যাদের আল্লাহ দাজ্জালের ফ্যাতনা থেকে নিরাপদ রেখেছেন। তিনি তাদের চেহারা থেকে মলিনতা দূর করে দেবেন এবং বেহেশতে তাদের যে মর্যাদা হবে তা বর্ণনা করবেন। ইত্যবসরে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন ঈসার (আ.) নিকট এই মর্মে নির্দেশ পাঠাবেন যে, আমি এমন একদল বান্দা পাঠিয়েছি যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার শক্তি কারও হবে না।


তুমি আমার এসব বান্দাকে নিয়ে তূর পাহাড়ে চলে যাও। এরপর আল্লাহ তায়ালা ইয়াজুজ মাজুজের সম্প্রদায়কে পাঠাবেন। তারা প্রত্যেক উচ্চ ভূমি থেকে দ্রæতবেগে বেরিয়ে আসবে। তাদের অগ্রবর্তী দলগুলো তাবারিয়া হ্রদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। তারা এ হ্রদের সব পানি পান করে ফেলবে। তাদের পরবর্তী দলও এই এলাকা দিয়ে অতিক্রম করবে। তারা বলবে এখানে কোন এক সময় পানি ছিল।



আল্লাহর নবী ঈসা (আ.) ও তার সাথীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে ন। এ সময় তাদের কাছে গরুর একটি মাথা এত মূল্যবান হবে যেমন তোমরা বর্তমানে এক শ’ দীনারকে মূল্যবান মনে কর। তখন আল্লাহর নবী ঈসা (আ.) ও তার সঙ্গীরা (রা.) আল্লাহর কাছে কাতরভাবে প্রার্থনা করবেন।


আল্লাহ তায়ালা তাদের (ইয়াজুজ-মাজুুজ) প্রত্যেকের ঘাড়ে এক ধরনের কীট সৃষ্টি করে দেবেন। ফলে তারা সবাই একসঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর আল্লাহর নবী ঈসা (আ.) ও তার সঙ্গীগণ (রা.) পাহাড় থেকে জনপদে নেমে আসবেন। কিন্তু তারা পৃথিবীতে এক ইঞ্চি জায়গাও ইয়াজুজ-মাজুজের লাশ ও এর দুর্গন্ধ ছাড়া খালি পাবে না।



অতঃপর আল্লাহর নবী ঈসা (আ.) ও তার সঙ্গীরা (রা.) আল্লাহর কাছে কাতরভাবে প্রার্থনা করবেন। আল্লাহ তায়ালা বুখতি উটের কুঁজসদৃশ্য পাখী পাঠাবেন। এসব পাখি লাশগুলোকে আল্লাহ যেখানে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেবেন সেখানে ফেলে দেবে। অতঃপর মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ এমন বৃষ্টি পাঠাবেন যা প্রতিটি স্থান, তা মাটিরই হোক বা বালির, ধুয়ে আয়নার মতো পরিষ্কার করে দেবে।


পরবর্তীতে মাটিকে বলা হবে : তোমার ফল উৎপাদন কর এবং বরকত ফিরিয়ে নাও (এতে বরকত, কল্যাণ ও প্রাচুর্য দেখা দেবে)। একটি ডালিম খেয়ে পূর্ণ একটি দল পরিতৃপ্ত হবে এবং ডালিমের খোসাটি এত বড় হবে যে, তার ছায়ায় তারা আশ্রয় নিতে পারবে। গবাদিপশুতেও এত বরকত দেয়া হবে যে, একটি মাত্র দুধেল উটের দুধ হবে একটি বড় দলের জন্য যথেষ্ট।


একটি দুধের গাভীর দুধ একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি দুধের বকরি একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট হবে। এই সময় আল্লাহ তায়ালা পবিত্র বাতাস প্রবাহিত করবেন। এই বাতাস তাদের বগলের নিচ পর্যন্ত লাগবে। ফলে সমস্ত মুমিন ও মুসলমানের রুহু কবজ হয়ে যাবে। শুধু খারাপ লোকেরাই বেঁচে থাকবে। তারা গাধার মতো প্রকাশ্যে ব্যভিচার করবে। তাদের বর্তমানেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইমাম মুসলিম এই দীর্ঘ হাদিসটি বর্ণনা করেন)।



বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত আছে যে, কিয়ামত নিকটবর্তী সময় যখন দাজ্জাল বের হয়ে দুনিয়ার অধিকাংশ লোককে গোমরাহ করে ফেলবে তখন হজরত ঈসা (আ.) পৃথিবীতে পুনরায় আগমন করবেন। তিনি এসে মুমিন লোকদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে দাজ্জাল ও তার অনুসারীদের হত্যা করবেন। অন্য লোকদের দ্বীনে মোহাম্মদীর প্রতি দাওয়াত দেবেন এবং নিজেও ওই দীনের আইনকানুন অনুসরণ করে চলবেন।



 

]]>
Thu, 02 Jun 2022 14:05:41 +0600 BD124.com
রূহ কি এবং মৃত্যুর পর কোথায় থাকে? https://bd124.com/22 https://bd124.com/22

মৃত্যুর পর মানুষকে কবরস্থ করা হয়। প্রচলিত অর্থে গর্তকেই কবর বলে। প্রকৃতপক্ষে কবর হচ্ছে ওই জায়গার নাম, যেখানে মানুষ আলমে বরজখে থাকে। মানুষ মারা যাওয়ার পর থেকে কিয়ামত সঙ্ঘটিত হওয়ার মধ্যবর্তী যে সময় রয়েছে, তা-ই আলমে বরজখ।


এই আলমে বরজখে মানুষ যেখানে থাকে, সেটাই তার জন্য কবর। মৃত্যুর পর কাউকে যদি সমুদ্রে ফেলে দেয়া হয়, সমুদ্রই তার কবর। বাঘ বা অন্য কোনো হিংস্র প্রাণীও যদি কাউকে গিলে ফেলে, ওই প্রাণীর পেটই তার জন্য কবর হবে। সেখানেই তার ওপর আজাব কিংবা নেয়ামতের ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে যায়। এ আল্লাহর এমন এক বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা, যাতে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি পৌঁছাতে অক্ষম।



একটা উদাহরণের মাধ্যমে আমরা বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারি। ধরুন, কোনো ঘুমন্ত ব্যক্তি এমন দুঃস্বপ্ন দেখল যে, কেউ একজন তাকে আঘাত করছে। সেও তা অনুভব করছে। কিন্তু তার পার্শ্বস্থ জাগ্রত ব্যক্তিটি তা টের পায় না। ঘুমন্ত ব্যক্তিটি ঠিক যেভাবে কষ্ট অনুভব করতে পারে, তার পাশে থাকা জাগ্রতরা অনুভব করতে পারে না। অনুরূপ কবরে থাকা ব্যক্তির ওপর যা বয়ে যায়, তা অন্যরা অনুভব করতে পারে না। এটা আল্লাহর একটি রহস্য, রূহের সংযোগ দেহের সাথে এমনভাবে করে দেয়া হয়, যাতে মৃত ব্যক্তিটি আজাবের কষ্ট বা নেয়ামতের স্বাদ অনুভব করতে পারে।



মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তার দেহের সাথে রূহের সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন হয়ে যায় না। সাময়িকভাবে ছিন্ন হলেও পুনরায় সংযোগ স্থাপন করে দেয়া হয়। কিন্তু সেই সংযোগ পার্থিব সংযোগের মতো নয়। যেমনভাবে জীবন্ত অবস্থায় পৃথিবীর সম্পর্কগুলো প্রতিষ্ঠিত থাকে। কিন্তু এমনভাবে করে দেয়া হয়, যেন দেহটির সাথে রূহের বিশেষ সম্পর্ক বজায় থাকে।


যার ফলে মৃত ব্যক্তি আজাব ও নেয়ামত অনুভব করতে পারে। ইসলামের সহিহ আকিদা হলো, কেউ মারা গেলে আল্লাহ তায়ালা তার দেহের কোনো অঙ্গে বিশেষভাবে প্রাণ সঞ্চারিত করে দেন। এতে সে অনুভূতিশক্তি ফিরে পায়। এটা অপরিহার্য নয় যে, রূহটিকে পুরোপুরিভাবে দেহে ফিরিয়ে দেয়া হয়। যার কারণে লাশটি নড়াচড়া, চলাফেরা করতে পারে, এমন কিছু নয়।



আমাদের আকিদা হলো, মুসলমানদের রূহ তাদের মর্যাদা অনুসারে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে। কারো কারো রূহ থাকে কবরে। কারো কারো থাকে জমজম কূপে। কারো আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী কোথাও। কারো থাকে প্রথম আসমানে, কারো দ্বিতীয়, আবার কারো তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আসমানে।


আবার কারো রূহ অবস্থান করে আলা ইল্লিয়্যিনে, এমনটাই এসেছে বিভিন্ন হাদিসে। ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি রহ: তার ‘শরহুস সুদুর বিশারহি হালিল্ মাওতা ওয়াল কুবুর’ গ্রন্থে এ ব্যাপারে হাদিসের কিতাবসমূহ থেকে বেশ কিছু হাদিস একত্র করেছেন। সেখান থেকে কিছু উল্লেখ করার চেষ্টা করছি।



উক্ত গ্রন্থের ২৬২-২৬৩ পৃষ্ঠায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা: হতে এই হাদিসটি বর্ণিত আছে, তিনি বলেন : ‘নিঃসন্দেহে মানুষকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন থেকে প্রত্যহ সকাল-সন্ধ্যা তাকে জান্নাত কিংবা জাহান্নাম থেকে তার ঠিকানা দেখানো হয়।’



উক্ত গ্রন্থের ২৩৭ পৃষ্ঠায় আরো আছে, হজরত আলী রা: হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : ‘মুমিনদের রূহ জমজম কূপে রাখা হয়। অনুরূপ ২৩৬ পৃষ্ঠায় মুগিরা ইবনে আবদুল্লাহ রা: থেকে বর্ণিত : ‘মৃত ব্যক্তির রূহ আসমান এবং জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে রাখা হয়। অতঃপর সেখান থেকে মৃত ব্যক্তির দেহে ফিরিয়ে দেয়া হয়।’



২৩৫ পৃষ্ঠায় হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত আছে, নবী করিম সা: ইরশাদ করেছেন : নিঃসন্দেহে মুমিনদের রূহসমূহ সপ্তম আসমানে থাকে। সেখান থেকে তাঁরা জান্নাতের দৃশ্যাবলি অবলোকন করেন।’
সুনানে আবু দাউদের ২৫২০ নং হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, নবী কারিম সা: বলেছেন : ‘যখন তোমাদের কোনো ভাই মৃত্যুবরণ করে, তখন আল্লাহ তায়ালা তার রূহকে সবুজ পাখির পেটে রেখে দেন।’



ইমাম নবভী রহ: সহিহ মুসলিম শরিফের এক হাদিসের ‘রফিকুল আলা’ শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দ্বিতীয় খণ্ডের ২৮৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন : ‘কিছু মুমিনের রূহ রফিকুল আলার (উত্তম সাথী) সাথে থাকবেন। রফিকুল আলা হচ্ছেন আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম। যাঁদের রুহ ইল্লিয়্যিনে থাকে।’



সুতরাং হাদিসের আলোকে মুমিনদের রূহ মর্যাদা অনুসারে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে। বিপরীতে কাফেরদের রূহ থাকে সিজ্জিনে। যেখানে তাদের রাখা হয় বন্দী অবস্থায়। তারা আজাবের কষ্ট অনুভব করতে থাকে। মুসনাদে আহমদে এমন একটি হাদিস রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দেন, ‘তাকে (কাফেরের রূহকে) সিজ্জিনে পৌঁছিয়ে দাও।’
লেখক : চেয়ারম্যান, উলুমুল কুরআন ফাউন্ডেশন



 

]]>
Tue, 31 May 2022 21:58:51 +0600 BD124.com
মৃত্যুর পর মানবদেহে কী হয়? https://bd124.com/111 https://bd124.com/111

মৃত্যু এক চিরন্তন সত্য। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তো জীবন শেষ। মৃত্যু নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক শঙ্কা কাজ করে স্বাভাবিকভাবেই; কিন্তু মৃত্যু ঘটবেই, একে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায়ও তাই নেই। মৃত্যুর পর নশ্বর দেহতে কিছু পরিবর্তন ঘটে প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গেই।


জানলে অবাক হবেন, মানুষ মারা যাওয়ার পরও তার কিছুদিন পর্যন্ত হাতের নখ ও চুল বৃদ্ধি পায় বলে মনে হয়! এ তো গেল অন্য কথা, তবে আজীবন বয়ে বেড়ানো শরীর মৃত্যুর পর প্রকৃতির সঙ্গেই মিশে যায় ধীরে ধীরে। মেন্টাল ফ্লস নামের একটি ওয়েবসাইটে মৃত্যুর পর নশ্বর মানবদেহের পর্যায়ভিত্তিক পরিণতির বিবরণ দেওয়া হয়েছে।




১. মৃত্যুর পর মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এটি ঘটবে সেকেন্ডের ব্যবধানে।

২. শরীরের তাপমাত্রা শীতল হয়ে যাবে।

৩. অক্সিজেনের অভাবে কোষগুলোর মৃত্যু ঘটতে আরম্ভ করবে। সে সঙ্গে কোষগুলোয় ভাঙন ধরবে, যা পচন প্রক্রিয়ার আগ পর্যন্ত চলবে। এটি ঘটবে মিনিটের ব্যবধানে।

৪. শরীর প্রসারিত হওয়ার কারণে পেশির মধ্যে ক্যালসিয়াম তৈরি হতে থাকে। এটি ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। এটি ঘটবে ঘণ্টার ব্যবধানে।

৫. পেশিগুলো শিথিল হয়ে যায়।

৬. ত্বক শুষ্ক, সংকুচিত দেখায়। এর কারণে চুল ও নখ বড় হয়ে যাবে বলে মনে হবে।

৭. মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে রক্তে টান পড়বে। এতে করে শরীরের চামড়ায় কালশিটে পড়া বা অনেকটা দাগের মতো দেখা যাবে।

৮. শরীরের এনজাইমগুলো নিজেদের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো হজম করতে শুরু করে, প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি। এটি ঘটবে দিনের ব্যবধানে।

৯. পচনশীল দেহের থেকে পিউট্রিসিন বা ক্যাডাভেরিন নামের রাসায়নিক উপাদান নির্গত হওয়ার কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হবে।

১০. এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ শরীর খেয়ে ফেলতে থাকবে। সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ঘটতে শুরু করবে।

১১. শরীর বেগুনি থেকে কালো হয়ে যাবে, কারণ ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে শরীরের বিয়োজন অব্যাহত থাকবে।

১২. চুল ঝরতে শুরু করে।

১৩. চার মাসের মধ্যে বাকি রইবে শুধু কঙ্কাল, বাকি সবটাই মিশে যাবে মাটির সঙ্গে।



 

]]>
Tue, 31 May 2022 21:56:04 +0600 BD124.com
একজন সাহাবির একটি হৃদয় বিদারক ও শিক্ষণীয় ঘটনা https://bd124.com/একজন-সাহাবির-একটি-হৃদয়-বিদারক-ও-শিক্ষণীয়-ঘটনা https://bd124.com/একজন-সাহাবির-একটি-হৃদয়-বিদারক-ও-শিক্ষণীয়-ঘটনা

একজন সাহাবির একটি হৃদয় বিদারক ও শিক্ষণীয় ঘটনা!
আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর প্রিয় সাহাবী ছা’লাবা অনুতপ্ত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর কাছে ফিরে গেলেনঃ
রাসূল (সঃ) এর একজন প্রিয় সাহাবী, যার নাম ছা’লাবা (ثعلبه) । মাত্র ষোল বছর বয়স। রাসূল (সাঃ) এর জন্য বার্তাবাহক হিসেবে এখানে সেখানে ছুটোছুটি করে বেড়াতেন তিনি।
একদিন উনি মদীনার পথ ধরে চলছেন, এমন সময় একটা বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁর চোখ পড়ল দরজা খুলে থাকা এক ঘরের মধ্যে। ভিতরে গোসলখানায়একজন মহিলা গোসলরত ছিলেন, এবং বাতাসে সেখানের পর্দা উড়ছিল, তাই ছা’লাবার চোখ ঐ মহিলার উপর যেয়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে উনি দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন।
কিন্তু ছা’লাবার মন এক গভীর অপরাধবোধে ভরে গেল। প্রচন্ড দুঃখ তাকে আচ্ছাদন করল। তার নিজেকে মুনাফিক্বের মত লাগছিল। তিনি ভাবলেন, ‘কিভাবে আমি রাসূল (সাঃ) এর সাহাবী হয়ে এতোটা অপ্রীতিকর কাজ করতে পারি? মানুষের গোপনীয়তাকে নষ্ট করতে পারি? যেই আমি কিনা রাসূল (সাঃ) এর বার্তা বাহক হিসেবে কাজ করি,
কেমন করে এই ভীষণ আপত্তিজনক আচরণ তার পক্ষে সম্ভব?’ তাঁর মন আল্লাহর ভয়ে কাতর হয়ে গেল। তিনি ভাবলেন, ‘না জানি আল্লাহ আমার এমন আচরণের কথা রাসূল (সাঃ) এর কাছে প্রকাশ করে দেয়!’ ভয়ে, রাসূল (সাঃ) এর মুখোমুখি হওয়ার লজ্জায়, তিনি তৎক্ষণাৎ ঐ স্থান থেকে পালিয়ে গেলেন।
এভাবে অনেকদিন চলে গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়ালাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য সাহাবাদের কে ছা’লাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই থাকতেন। কিন্তু সবাই জানাল কেউ-ই ছা’লাবাকে দেখেনি। এদিকে রাসূল (সাঃ) এর দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়ছিল।
তিনি উমর (রাঃ), সালমান আল ফারিসি সহ আরো কিছু সাহাবাদের পাঠালেন ছা’লাবার খোঁজ আনার জন্য। মদীনা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ছা’লাবার দেখা মিলল না। পরে মদীনার একেবারে সীমানাবর্তী একটা স্থানে, মক্কা ও মদীনার মধ্যখানে অবস্থিত পর্বতময় একটা জায়গায় পৌঁছে কিছু বেদুঈনের সাথে দেখা হল তাদের।
দেখানে এসে তারা ছা’লাবার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে শুরু করলেন। ‘তোমরা কি লম্বা, তরুণ, কম বয়সী একটা ছেলেকে এদিকে আসতে দেখেছ? বেদুঈনগুলো মেষ চড়াচ্ছিল। তারা জবাব দিল, সে খবর তারা জানেনা, তবে তারা জিজ্ঞেস করল, ‘তোমরা কি ক্রন্দনরত বালকের সন্ধানে এসেছ?’ একথা শুনে সাহাবারা আগ্রহী হয়ে উঠলেন এবং তার বর্ণনা জানতে চাইলেন।
উত্তরে ওরা বলল, ‘আমরা প্রতিদিন দেখি মাগরিবের সময় এখানে একটা ছেলে আসে, সে দেখতে এতো লম্বা, কিন্তু খুব দুর্বল, সে শুধুই কাঁদতে থাকে। আমরা তাকে খাওয়ার জন্য এক বাটি দুধ দেই, সে দুধের বাটিতে চুমুকদেয়ার সময় তার চোখের পানি টপটপ করে পড়ে মিশে যায় দুধের সাথে,
কিন্তু সেদিকে তার হুঁশ থাকেনা!’ তারা জানালো চল্লিশ দিন যাবৎ ছেলেটা এখানে আছে। একটা পর্বতের গুহার মধ্যে সে থাকে, দিনে একবারই সে নেমে আসে, কাঁদতে কাঁদতে; আবার কাঁদতে কাঁদতে, আল্লাহর কাছে সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে উপরে চলে যায়।
সাহাবারা বর্ণনা শুনেই বুঝলেন, এ ছা’লাবা না হয়ে আর যায় না। তবে তাঁরা উপরে যেয়ে থা’লাবা ভড়কে দিতে চাচ্ছিলেন না, এজন্য নিচেই অপেক্ষা করতে লাগলেন। যথাসময়ে প্রতিদিনের মত আজও ছা’লাবা ক্রন্দনরত অবস্থায় নেমে আসলেন, তাঁর আর কোনদিকে খেয়াল নাই।
কী দুর্বল শরীর হয়ে গেছে তাঁর! বেদুঈনদের কথামত তাঁরা দেখতে পেলেন, ছা’লাবা দুধের বাটিতে হাতে কাঁদছে, আর তাঁর অশ্রু মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তাঁর চেহারায় গভীর বিষাদের চিহ্ন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। সাহাবারা তাকে বললেন, ‘আমাদের সাথে ফিরে চল’; অথচ ছা’লাবা যেতে রাজি হচ্ছিলেন না।
তিনি বারবার সাহাবাদেরকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, ‘আল্লাহ কি আমার মুনাফেক্বী বিষয়ক কোন সূরা নাযিল করেছে?’ সাহাবারা উত্তরে বললেন, ‘না আমাদের জানামতে এমন কোন আয়াত নাযিল হয় নাই।’ উমর (রাঃ) বললেন, রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে তোমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। তুমি যদি এখন যেতে রাজি না হও, তাহলে তোমাকে আমরা জোর করে ধরে নিয়ে যাব।
রাসূল (সাঃ) এর কথা অমান্য করবেন এমন কোন সাহাবা ছিল না। কিন্তু ছা’লাবা এতোটাই লজ্জিত ছিলেন যে ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন নাহ। এরপর সাহাবারা তাকে রাসূল (সাঃ) এর কাছে মদীনায় নিয়ে আসেন। মহানবী (সাঃ) এর কাছে এসে ছা’লাবা আবারও একই প্রশ্ন করে, ‘আল্লাহ কি আমাকে মুনাফিক্বদের মধ্যে অন্তর্গত করেছেন অথবা এমন কোন আয়াত নাযিল করেছেন যেখানে বলা আমি মুনাফিক্ব?’ রাসূল (সাঃ) তাকে নিশ্চিত করলেন যে এমন কিছুই নাযিল হয়নি।
তিনি ছা’লাবার দুর্বল পরিশ্রান্ত মাথাটা নিজের কোলের উপর রাখলেন। থা’লাবা কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, এমন গুনাহগার ব্যক্তির মাথা আপনার কোল থেকে সরিয়ে দিন।’ উনার কাছে মনে হচ্ছিল যেন সে এসব স্নেহের যোগ্য নাহ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিতেই থাকলেন। আল্লাহর রহমত আর দয়ার উপর ভরসা করতে বললেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন। এমন সময় ছা’লাবা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল আমার এমন মনে হচ্ছে যেন আমার হাড় আর মাংসের মাঝখানে পিঁপড়া হেঁটে বেড়াচ্ছে।’ রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘ওটা হল মৃত্যুর ফেরেশতা। তোমার সময় এসেছে ছা’লাবা, শাহাদাহ পড়’।
ছা’লাবা শাহাদাহ বলতে থাকলেন, ‘আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য আর কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’ উনি শাহাদাহ বলতে থাকলেন… বলতেই থাকলেন… এমনভাবে তাঁর রুহ শরীর থেকে বের হয়ে গেল।
মহানবী (সাঃ) ছা’লাবাকে গোসল করিয়ে জানাজার পর কবর দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আরো অনেক সাহাবা ছা’লাবাকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মহানবী (সাঃ) পা টিপে টিপে অনেক সাবধানে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। উমর রাদিয়ালাহু আনহু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনিএভাবে কেন হাঁটছেন যেন ভিড়ের মাঝে হেঁটে চলেছেন.. কতো রাস্তা ফাঁকা পরে আছে, আপনি আরাম করে কেন চলছেন না ইয়া রাসুল?’
উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘হে উমর, আমাকে অনেক সাবধানে চলতে হচ্ছে। সমস্ত রাস্তা ফেরেশতাদের দ্বারা ভরে গেছে। ছা’লাবার জন্য এতো ফেরেশতা এসেছে যে আমি ঠিকমত হাঁটার জায়গা পাচ্ছি না।’
সুবহানাল্লাহ!


]]>
Sat, 28 May 2022 22:46:13 +0600 BD124.com
প্রিয় নবীর এক খাদেমের ঘটনা ও এক ইহুদী সাহাবীর জান্নাতে যাওয়া হযরত মুসা (আ:) কর্তৃক হযরত আজরাইল কে থাপ্পড় মারা https://bd124.com/11-152 https://bd124.com/11-152

ইয়াসরিব তখনো মদিনা হয়নি। এটা ছিল ইহুদিদের আদি নিবাস। নবীজি (সা.) হিজরত করে সেখানে এলেন। সত্যের আলোয় আলোকিত করে দিলেন ইয়াসরিববাসীর হৃদয়জগৎ।


তার উত্তম চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আসতে লাগল। পৃথিবীর মানচিত্রে স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ এক ভূস্বর্গের আবিষ্কার হলো। ‘মদিনাতুর রাসুল’ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শহর।
সেই শহরের এক ছোট বালক।

সবেই শুনেছে নবাগত নবী মুহাম্মদের নাম। তিনি নাকি ছোটদের খুব স্নেহ করেন। আদর করে কাছে টেনে নেন। পরম ভালোবাসায় হাত বুলিয়ে দেন তাদের মাথায়। তাঁকে খুব দেখতে ইচ্ছা হলো বালকের।


মনের অজান্তেই দুজনের মধ্যে এক অকৃত্রিম ভালোবাসা সৃষ্টি হলো। ভালো লাগে নবীজির পাশে পাশে থাকতে। নবীজির মুখের দিকে চেয়ে তাঁর কথা শুনতে। তাঁর সাহচর্যলাভে পূর্ণ হতে। তাঁর খেদমত করে ধন্য হতে।

কিন্তু বাধা একটাই। অনেক বড় বাধা। তার মধ্যে আর নবীজির মধ্যে ধর্মের এক বিশাল প্রাচীর। সে তো ইহুদি। তার মা-বাবাও ইহুদি। তাহলে...?

বালক তার বাবার সঙ্গে এ নিয়ে অনেক কথাই বলেছে। বলেছে নবীজি (সা.)-এর সুন্দর চরিত্রের কথা। তাঁর স্নেহ ও প্রীতির কথা। কিন্তু বাবা ইসলামের কথা মানতেই নারাজ।


এত দিনে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে তার সম্পর্কেরও বেশ উন্নতি হয়েছে। এখন তো সে নিয়মিত নবীজির খাদেম। তিনি অজু করতে চাইলে পানি নিয়ে আসে এই বালক। তিনি মসজিদে প্রবেশের সময় জুতা তুলে নেওয়া, বের হওয়ার সময় জুতা নিয়ে হাজির হওয়া বালকের প্রতিদিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ কিছুদিন হলো বালকের দেখা নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পাওয়া গেল না তাকে। প্রিয় নবী খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন।

নবীজি মসজিদ-ই-নববীতে বসে আছেন। একজন লোক হন্তদন্ত হয়ে মসজিদে প্রবেশ করল। দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা নিয়ে এসেছে।


হে আল্লাহর রাসুল! আপনার সেই ইহুদি খাদেমের সন্ধান পেয়েছি। বেশ কিছুদিন ধরে সে খুব অসুস্থ ছিল। একেবারে মৃত্যুশয্যায়।

জবাবে নবীজি কিছুই বললেন না। তত্ক্ষণাৎ উঠে মসজিদ থেকে বেরিয়ে বালকের বাড়ির পথ ধরলেন। উপস্থিত সাহাবিরাও কিছু না বুঝেই নবীজির পিছু পিছু ছুটলেন। তাঁরা আগে কখনো নবীজিকে এতটা অস্থির হতে দেখেননি। যেন তাঁর আপন কেউ অসুস্থ। যেন তাঁর পরিবারের কেউ অন্তিমশয্যায় শায়িত।


নবীজি দোর ঠেলে ঘরে ঢুকলেন। ধীর পায়ে হেঁটে গিয়ে বালকের শিয়রের কাছে বসলেন। পরম স্নেহে তার মাথায় রহমতের হাতদুটি বুলিয়ে দিলেন। ততক্ষণে বালক নবীজিকে একনজর দেখে নিয়েছে। চোখ বুজে নবীজির হাতের উষ্ণ পরশ উপভোগ করছে। যেন সারা শরীর রহমতের জোয়ারে আন্দোলিত হচ্ছে।


পাশেই তার বাবা বসে আছেন। দেখছেন নবীজি (সা.)-কে। এই কি সেই আরবের নবী মুহাম্মদ (সা.)। এত নুরানি চেহারা। এত সুন্দর মাধুর্য তাঁর। এত মমতায় ভরা তাঁর মন। শুনেছি সে নাকি মুসলমানদের সর্দার। তদুপরি আমার ছোট বাচ্চাকে দেখতেই ছুটে এসেছেন!

নবীজি (সা.)-এর এদিকে কোনো ধ্যান নেই। তিনি ভাবছেন অন্য কিছু। ভাবছেন তার মুক্তির উপায়। ছেলেটি যে এখনো ঈমান আনেনি। এখনো তো সে কালেমা পড়েনি। এই অবস্থায় যদি সে মারা যায় পরকালে কী হবে তার?


নবীজি তার মুখখানা বালকের কানের কাছে নিয়ে গেলেন। বিড়বিড় করে তার কানে ঢেলে দিলেন পবিত্র কলেমার দাওয়াত। উভয় জাহানের সফলতার সোপান। চিরমুক্তির পয়গাম। ‘আসলিম’, হে বালক—ইসলাম গ্রহণ করে নাও! একবার কলেমা পড়ে নাও, যাতে আমি পরকালে তোমায় শাফায়াত করতে পারি। হাউজে কাউসারের পাড়ে যেন তোমার আমার আবার মিলন হয়। মাটির পৃথিবীতে যেমন তুমি আমার সঙ্গে থাকতে। দুজন যেন হতে পারি আখিরাতের সাথি।


বালক ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু সামনেই নিজের বাবাকে দেখে থমকে গেল। অপলক নেত্রে চেয়ে রইল বাবার দিকে। চোখের ভাষায় বাবাকে বোঝাতে চেষ্টা করল জীবনের শেষ ইচ্ছার কথা। একটিবারের জন্য মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র কলেমাটি পড়তে চাই। আমি মুসলমান হয়ে মরতে চাই।


বাবা অনুমতি দিয়ে বলেন, ‘আতি আবাল কাসিম (সা.)’ অর্থাৎ আবুল কাসিম নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কথা মেনে নাও। বালকের বাবার এই কথায় সব নীরবতার অবসান হলো। অসুস্থ বদনখানি কোনো রকম সামলে নিয়ে একফালি হাসি ফোটাল ঠোঁটের কোনায়। চোখের পানি মুছতে মুছতে পবিত্র কলেমা পাঠ করল শরীরের সবটুকু শক্তি উজাড় করে। সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় নবীজি (সা.) বলে উঠলেন, ‘শুকরিয়া মহান আল্লাহর, যিনি তাকে আগুন থেকে মুক্ত করলেন। ’ (সহিহ বুখারির ১৩৫৬ নম্বর হাদিস অবলম্বনে)



 



হযরত মুসা (আ:) কর্তৃক হযরত আজরাইল (আ:) -কে থাপ্পড় মারার ঘটনা ।

 

একবার ছুটিতে গ্রামের এক ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলাম। সেখানে এক ওয়ায়েজের মুখে শুনলাম, হাদীসে নাকি আছে, হযরত আযরাঈল আ. যখন মূসা আ.-এর রূহ কবজ করতে এসেছিলেন তখন মূসা আ. তাকে এতো জোরে থাপ্পড় মেরেছিলেন যে, তার চক্ষু বের হয়ে গিয়েছিল।


এ সংক্রান্ত হাদীসটি কোন কিতাবে আছে এবং তা বিশুদ্ধ কি না? জ্বী, ঘটনাটি সত্য এবং এ সংক্রান্ত হাদীসটি সহীহ। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মালাকুল মাউত (জান কবজকারী ফেরেশতা) কে মূসা আ.-এর নিকট প্রেরণ করা হল।


তিনি যখন এলেন তখন মূসা আ. তাকে জোরে থাপ্পড় মারলেন। যার ফলে মালাকুল মাউতের চক্ষু বের হয়ে পড়ল। তখন তিনি আল্লাহ তাআলার নিকট আরজ করলেন, আপনি আমাকে এমন বান্দার নিকট প্রেরণ করেছেন যিনি মওত চান না। আল্লাহ তাআলা তখন (নিজ কুদরতে) তার চক্ষু আপন স্থানে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি আবার যাও এবং তাকে বল-আপনি একটি ষাড়ের পিঠে হাত রাখুন।


ঐ হাতের নিচে যত পশম পড়বে আপনি চাইলে এর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে আপনার হায়াত এক বছর করে দীর্ঘায়িত হবে। মূসা আ. এ কথা শুনে বললেন, এরপর কী হবে? আল্লাহ তাআলা বললেন, মৃত্যুই আসবে। মূসা আ. বললেন, তাহলে এখনি মৃত্যু দিন।


[সহীহ বুখারী হাদীস : ৩৪০৭; সহীহ মুসলিম হাদীস : ২৩৭২ উল্লেখ্য, বিখ্যাত হাদীস-বিশারদগণ বলেন, মালাকুল মাওত মূসা আ.-এর অনুমতি না নিয়েই মানুষের বেশে তাঁর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন। তখন তিনি তাকে না চিনতে পেরে বিনা অনুমতিতে ঘরে প্রবেশ করার কারণে চপেটাঘাত করেন।-ফাতহুল বারী ৬/৫০৮; শরহে নববী ১৫/১২৯]


 

]]>
Sat, 28 May 2022 17:02:22 +0600 BD124.com
ইতিহাসের স্মরণীয় ভয়ঙ্কর বছরগুলো: আকাশে মাসের পর মাস রহস্যজনক কুয়াশা, প্লেগে বিশ কোটি মৃত্যু https://bd124.com/ইতিহাসের-স্মরণীয়-ভয়ঙ্কর-বছরগুলো-আকাশে-মাসের-পর-মাস-রহস্যজনক-কুয়াশা-প্লেগে-বিশ-কোটি-মৃত্যু https://bd124.com/ইতিহাসের-স্মরণীয়-ভয়ঙ্কর-বছরগুলো-আকাশে-মাসের-পর-মাস-রহস্যজনক-কুয়াশা-প্লেগে-বিশ-কোটি-মৃত্যু

করোনাভাইরাস মহামারি এবং তার ফলে বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক ধসের কারণে ২০২০ সালকে মানুষ যেমন ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের একটা বছর হিসাবে মনে রাখবে, তেমনি ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যাবে এমন আরও ভয়ঙ্কর ও বিপর্যয়ের বছর মানুষ অতীতে প্রত্যক্ষ করেছে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিসংখ্যান বলছে জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ১৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সংকলিত তথ্য অনুযায়ী বিশ্ব জুড়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ মানুষ এবং মারা গেছে ১৬ লাখ।



কিন্ত ইতিহাসে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর মহামারির ঘটনা অতীতে ঘটেছে। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারি

01 বিউবোনিক প্লেগের প্রার্দুভাব।

 বিউবোনিক প্লেগের প্রার্দুভাব। ১৩৪৬ সালে প্রথম প্লেগের প্রার্দুভাব ছড়াতে শুরু করে। ব্ল্যাক ডেথ বা কালো মৃত্যু নামে ইতিহাসে পরিচিত ওই মহামারি পরবর্তী কয়েক বছরে কেড়ে নিয়েছিল শুধু ইউরোপেই আড়াই কোটি জীবন- সারা পৃথিবীতে ওই প্লেগে মারা যায় বিশ কোটি মানুষ। ইতিহাস বলে প্রায় অর্ধেক ইউরোপ উজাড় হয়ে গিয়েছিল ওই ভয়ঙ্কর মড়কে।



02 গুটি বসন্ত রোগ

স্পেন ও পর্তুগাল থেকে ১৫২০ সালে অভিযাত্রীরা আমেরিকায় নিয়ে যায় গুটি বসন্ত রোগ। ওই মড়কে আমেরিকার আদি জনগোষ্ঠীর ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ উজাড় হয়ে যায়।

এরপর ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু থেকেও পৃথিবীতে মারা গিয়েছিল পাঁচ কোটি মানুষ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ঘরে ফেরা সৈন্যদের থেকে এই ফ্লু ভাইরাস ছড়িয়েছিল। ওই মহামারিতে গোটা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩ থেকে ৫% প্রাণ হারায়।



03 এইচআইভি এইডস মহামারি

এইচআইভি এইডস যখন মহামারি আকারে প্রথম ছড়িয়েছিল ১৯৮০র দশকে, তখন সেই মহামারিতেও প্রাণহানি ঘটেছিল তিন কোটি ২০ লাখ মানুষের।



04 রহস্যজনক কুয়াশা

যদিও এই ইতিহাস খুবই প্রাচীন, কিন্তু ঐতিহাসিক মাইকেল ম্যাকরমিক বলছেন ৫৩৬ সালে আঠারো মাস ধরে বিশ্বের বিরাট একটি অঞ্চলে আকাশ ছিল অন্ধকার।

আমেরিকার হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যযুগ বিষয়ে ইতিহাসবিদ এবং নৃতত্ত্ববিদ মি. ম্যাকরমিক বলছেন ঐ বছর একটা রহস্যজনক কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছিল ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্য ও এশিয়ার অনেক জায়গার আকাশ। 

যেসব দেশের আকাশে এই কুয়াশা নেমে এসেছিল সেসব দেশে ১৮ মাস একনাগাড়ে সূর্যের আলো দেখা যায়নি। সূর্যকে আঠারো মাস ধরে ঢেকে রেখেছিল ঐ কুয়াশার চাদর।

একজন ইতিহাসবিদ লিখেছেন ঐ ১৮ মাস সূর্যের আলো ছিল চাঁদের আলোর মত স্তিমিত ও ঠাণ্ডা।

মাইকেল ম্যাকরমিক বলছেন, "সেটা সবচেয়ে ভয়াবহ ও দুঃস্বপ্নের সময় ছিল, বেঁচে থাকার জন্য এত খারাপ সময়" পৃথিবীর ওই দেশগুলো আর কখনও পার করেনি।

পৃথিবীর একটা বিস্তীর্ণ এলাকার আকাশ গ্রাস করেছিল ওই রহস্যজনক কুয়াশা। দীর্ঘ অতগুলো মাস সূর্য তাপ ছড়াতে না পারায় তাপমাত্রা নেমে যায়। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়, মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। 

বিগত ২৩০০ বছরের মধ্যে সেই সময়টাই ছিল সবচেয়ে শীতল যুগ। এই শীতলতম যুগ ও রহস্যময় কুয়াশার কথা ইতিহাসবিদরা অনেক দিন থেকেই জানতেন। কিন্তু এর সঠিক কারণ জানা ছিল না।

মাইকেল ম্যাকরমিক বলছেন তাদের গবেষণা থেকে তারা ধারণা করছেন আইসল্যান্ড অথবা উত্তর আমেরিকার কোথাও একটি ভয়াবহ অগ্নুৎপাত থেকে সম্ভবত এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। এই বিশাল অগ্নুৎপাতের ফলে আগ্নেয়গিরি থেকে উত্তর গোলার্ধে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে ব্যাপক পরিমাণ ছাই।

গবেষকদের ধারণা আগ্নেয়গিরির ওই উদ্গীরণ থেকে সৃষ্ট কুয়াশা বাতাসের সাথে ছড়িয়ে গিয়েছিল ইউরোপে এবং পরে মধ্য প্রাচ্য ও এশিয়ার অনেকগুলো দেশে। এর থেকেই প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও শীতল যুগের বিপর্যয় নেমে এসেছিল দেশগুলোর ওপর।



05 - অর্থনৈতিক ধস

করোনা মহামারি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কম বেশি অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। কোটি কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। কিন্তু বেকারত্বের ভয়াবহতা ১৯২৯ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত 'গ্রেট ডিপ্রেশন' বা বিশ্বব্যাপী 'মহা মন্দা'কে এখনও ছুঁতে পারেনি।

এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল ১৯৩৩ সাল। বলা হয় আমেরিকায় দেড় কোটির মত লোক এ মন্দার কবলে বেকার হয়ে পড়েন। ওই অর্থনৈতিক মন্দার কারণে জার্মানিতে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন বেকার হয়েছিল। ওই বছরই সেসময়কার জনপ্রিয় রাজনীতিক ও তখন দেশটির চান্সেলার অ্যাডল্ফ হিটলার জার্মানির ক্ষমতায় আসেন।



06 - মহা খরা ও মনুষ্য জাতি 

ইতিহাসের পাতায় আরেকটি সময় বিশেষ করে এই করোনা মহামারির বছরে সামনে এসেছে। সেটি হল চলাচল নিষিদ্ধ করে মানুষকে এক জায়গায় আবদ্ধ রাখার একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যে অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আমাদের পূর্ব পুরুষরা গিয়েছিলেন বলে নৃতত্ত্ববিদরা মনে করেন।

সেটি ছিল এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগের ঘটনা। তখন এমন এক ঠাণ্ডা ও শুষ্ক যুগের শুরু হয়েছিল ইতিহাসের পাতায় যে যুগের উল্লেখ আছে 'মেরিন আইসোটোপ স্টেজ সিক্স' নামে।

নৃতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কার্টিস ম্যারিয়ান এবং আরও কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন আবহাওয়ার ঐ বিপর্যয়কর পরিস্থিতির ফলে যে মহা খরা দেখা দিয়েছিল তা মানবজাতিকে প্রায় নিশ্চিহ্ণ করে দেবার মত পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

অধ্যাপক কার্টিস ম্যারিয়ান বলছেন সেসময় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে মনুষ্য প্রজাতির বহু মানুষ একসঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল আফ্রিকার একেবারে দক্ষিণ উপকূলে সমুদ্রের ধারের সম্ভবত কোন এক গুহায়।

সেখানে তারা আবদ্ধ অবস্থায় যে জায়গায় একসঙ্গে ছিলেন সে জায়গায় তার নাম কালক্রমে দেয়া হয় "ইডেনের উদ্যান"।

সেখানে মানুষ প্রজাতি তখন সামুদ্রিক প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করতে শেখে বলে বলছেন অধ্যাপক ম্যারিয়ান। এবং মানুষ প্রজাতির এই মানুষগুলোকে সেসময় বাঁচানো না গেলে মানবজাতি সেসময় পুরো বিলুপ্ত হয়ে যেত।



07 বিস্ফোরণ বিপর্যয়

এবছর অর্থাৎ ২০২০য়ে বৈরুতের বন্দরে অবৈধভাবে মজুত রাখা ২,৭৫০টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরিত হয়ে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, তাতে মারা যায় ১৯০জন এবং আহত হয় ৬ হাজারের বেশি মানুষ। 

এই ঘটনার পর ইতিহাসের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলেন বৈরুতের এই বিস্ফোরণ ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ অপারমাণিক বিস্ফোরণ।

তারা বলছেন এই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরকের ক্ষমতা ছিল এক কিলো টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমান যা হিরোশিমা বোমার শক্তির বিশভাগের এক ভাগ।

তবে ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতের ভোপাল শহরে মার্কিন কীটনাশক কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করা হয়।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী ঐ দুর্ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই মারা যায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ এবং এ পরবর্তী বছরগুলোতে ঐ দুর্ঘটনা থেকে ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আরও ১৫ হাজারের বেশি মানুষের।

রাসায়নিক থেকে বিষাক্ত যে ধোঁয়া সৃষ্টি হয়েছিল তা পরবর্তী কয়েক দশক ধরে শহরের আবহাওয়ায় ছড়িয়েছিল। ঐ বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে এখনও জীবন কাটাচ্ছে বহু মানুষ, বিধ্বস্ত হয়ে গেছে বহু মানুষের জীবন।

সবশেষে আরেকটি অন্য ধরনের বিস্ফোরণের কথা।

সেপ্টেম্বর ১৯২৩য়ে জাপানে একটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের ফলে একটা বিধ্বংসী আগুনের ঝড় সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার থেকে এমনকি ভয়ঙ্কর একটা অগ্নি-ঘূর্ণিঝড় বয়ে গিয়েছিল টোকিও আর ইয়োকোহামা শহরের মধ্যে। আর এতে মারা গিয়েছিল এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ।



 

]]>
Thu, 26 May 2022 15:53:19 +0600 BD124.com
বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো মসজিদ https://bd124.com/বিশ্বের-সবচেয়ে-পুরনো-মসজিদ https://bd124.com/বিশ্বের-সবচেয়ে-পুরনো-মসজিদ

যুগে যুগে ইসলামের আলো ছড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে পবিত্র ধর্মালয় মসজিদ। মুসলিম বুজুর্গ ব্যক্তিরা এগিয়ে এসেছেন এসব মসজিদ নির্মাণে। মসজিদের মাধ্যমে সব মানুষকে ডাকা হয়েছে শান্তির ধর্মের ছায়াতলে। এসব মসজিদের মাধ্যমে প্রসার ঘটেছে ইসলাম ধর্মের।

ইসলামের ডাকে বহু মানুষ সাড়া দিয়েছে। বদলে গেছে সেখানকার সামাজিক, ধর্মীয় ও নীতি-নৈতিকতার চালচিত্র। নানারকম ঘটনার সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে সে সব মসজিদ। আজকের রকমারি আয়োজনে থাকছে বিশ্বের পুরনো মসজিদ সম্পর্কে বিস্তারিত



09 - হুয়াইশেং মসজিদ চীন (৬২৭ সালে) 

চীনের গুয়াংজোর প্রধান মসজিদ হুয়াইশেং। তাং রাজ বংশের রাজত্বকালে ৬২৭ সালে রসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাচা হজরত সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি ‘লাইটহাউস বা বাতিঘর মসজিদ’ নামেও পরিচিত। হুয়াইশেং শব্দটির অর্থ হলো ‘জ্ঞানী লোককে স্মরণ’।

বিশ্বনবী (সা.)-কে স্মরণ করে মসজিদটির নামকরণ করা হয় হুয়াইশেং মসজিদ। ৮১৩ বছরের প্রাচীন এ মসজিদটি এখন পর্যন্ত অনেকবার সংস্করণ করা হয়েছে। তবে অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে চীনের ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশৈলী। মসজিদটির ভিতরের অংশটি অত্যন্ত চমৎকার কারুকার্য ও আরবি ক্যালিওগ্রাফিতে সৌন্দর্যমন্ডিত ও আকর্ষণীয়।

এর রয়েছে ১১৮ ফুট উচ্চতার সরু মিনার, যেটিকে মসজিদের আলোক বুরুজও বলা হয়। বুরুজের ভিতরে রয়েছে সিঁড়িপথ। একসময় এ আলোক বুরুজটিকে ঝুজিয়াং নদীতে চলাচলকারী নৌকার জন্য আলোকস্তম্ভ হিসেবে ব্যবহার হতো।



08 - গ্রেট মস্ক অব আলেপ্পো সিরিয়া (৭১৫ সাল) 

মধ্যযুগীয় সিরীয় প্রতীক ‘গ্রেট মস্ক অব আলেপ্পো’। এর নির্মাণ শুরু হয় অষ্টম শতকের শুরুর দিকে। মসজিদটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় ৭১৫ সালে। একাদশ শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত মসজিদে অনেক কিছুর সংযোজন ঘটে। কয়েক শতক ধরে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব ও ভূমিকম্প সহ্য করে এলেও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে ২০১৩ সালে মসজিদটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তবে আশার কথা এই যে, কয়েক শত বছরের পুরনো মসজিদটির মিনারগুলো শুধু ধ্বংস হয়েছে। মসজিদের বাড়তি শোভাবর্ধনকারী এই মিনারগুলো নির্মাণ হয়েছিল ১০৯০ সালে। কবে নাগাদ এটি সংস্কার করা হবে তা অজানা।



07 - মসজিদ আল-কুফা নাজাফ, ইরাক (৬৭০ সাল) 

সপ্তম শতাব্দীতে নির্মিত মসজিদ আল-আজম বিশ্বের পুরনো মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি ইরাকের নাজাফ প্রদেশের কুফা এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় মসজিদ আল-কুফা নামে সর্বাধিক পরিচিত। বর্তমানে ভবনটির আয়তন প্রায় ১১ হাজার মিটার। নয় কক্ষবিশিষ্ট এই মসজিদে চারটি মিনার এবং পাঁচটি গেট রয়েছে। মসজিদটি সাজানো হয়েছে সোনা, রুপা এবং বহু মূল্যবান পাথর হীরা, রুবি দিয়ে। মসজিদের ভিতরে সোনার অক্ষরে কোরআনের আয়াতের চারুলিপি রয়েছে। পুরো মসজিদে ব্যবহৃত মার্বেল এবং টাইলস গ্রিস থেকে আমদানি করা হয়েছে। এই টাইলসগুলো মক্কার কাবাতুল্লাহতেও ব্যবহার করতে দেখা যায়।



06 - আল আজহার মসজিদ কায়রো, মিশর (৯৭২ সালের) 

ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজ লিদিনাল্লাহর তত্ত্বাবধানে আল আজহার মসজিদের নির্মাণ কাজ চলে ৯৭০-৭২ সাল পর্যন্ত। এটি মিসরের কায়রোতে অবস্থিত প্রথম মসজিদ। ৯৮৯ সালে এখানে ৩৫ জন আলেম নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর মসজিদটি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে। নিরবচ্ছিন্নভাবে শিক্ষাদানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ শরিয়া শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসার অংশ হিসেবে মসজিদের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৬১ সালে এটি জাতীয়করণ এবং স্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষিত হয়।



05 - চেরামান জামে মসজিদ কেরালা, ভারত (৬২৯ সাল)

ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদ ভারতের কেরালা রাজ্যের ত্রিসুর অঞ্চলের চেরামান জামে মসজিদ। মসজিদের সামনে স্থাপিত শিলালিপি অনুযায়ী ৬২৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় মুসলমানরা এটিকে ‘চেরামান জুমা মসজিদ’ও বলে থাকে।

একাদশ শতাব্দীতে মসজিদটির সংস্কার ও পুনর্র্নির্মাণ করা হয়। ক্রমান্বয়ে মুসল্লি বৃদ্ধির ফলে ১৯৭৪, ১৯৯৪ ও ২০০১ সালে মসজিদের সামনের অংশ ভেঙে আয়তন সম্প্রসারিত করা হয়। প্রাচীন মসজিদের অভ্যন্তরীণ অংশ, মিহরাব ও মিনার এখনো আগের মতো অক্ষত রয়েছে।

মসজিদের বহির্ভাগ কংক্রিট দিয়ে তৈরি হয়। অজু করার জন্য ব্যবহার হয় পুকুর। মসজিদের পাশঘেঁষা খালি জায়গায় দুটি কবর বিদ্যমান। ধারণা করা হয়, একটি হাবিব ইবনে মালিকের, অন্যটি তাঁর স্ত্রী মুহতারামা হুমায়রার। রমজান মাসে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ইবাদত-বন্দেগির উদ্দেশ্যে এ মসজিদে আগমন করে থাকেন।



04 - আল-আকসা জেরুজালেম (হজরত সুলাইমানের আমলে)

ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসা। এই মসজিদ প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। পুরো স্থানটি ‘হারাম আল শরিফ’ নামে পরিচিত।

এ ছাড়াও স্থানটি ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলে পরিচত। হাদিস অনুযায়ী মুহাম্মদ (সা.) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসে ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন। মুসলিম প-িতদের মতে, সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটিই নবী সুলাইমান (আ.) তৈরি করেছিলেন যা পরবর্তীতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মুসলমানরা বিশ্বাস করে, নির্মাণের পর থেকে এটি ঈসা (আ.)সহ অনেক নবীর আল্লাহর উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

খলিফা উমর এই পবিত্র স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের যুগে মসজিদটি পুনর্নির্র্মিত ও সম্প্রসারিত হয়। এই সংস্কার ৭০৫ সালে তার ছেলে খলিফা প্রথম আল ওয়ালিদের শাসনামলে শেষ হয়।



03 - উকবা মসজিদ তিউনিশিয়া (৬৭০ সাল)

ঐতিহাসিক একটি মসজিদ ‘উকবা মসজিদ’। এই মসজিদ তিউনিশিয়ার কাইরুয়ান নগরীতে অবস্থিত। এ কারণে বিশ্বের কাছে মসজিদটি কাইরুয়ান জামে মসজিদ নামেও বহুল পরিচিত। ৬৭০ সালে আরব সেনানায়ক উকবা ইবনে নাফি কাইরুয়ান নগরীতে এটি নির্মাণ করেন।

পরে বহুবার এর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়। এর বিস্তৃতি প্রায় ৯ হাজার বর্গমিটার। মসজিদে পাঁচটি গম্বুজ ও নয়টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। মসজিদের প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে ইট ও পাথর দিয়ে। পরবর্তীকালে এটি মাগরেবে অবস্থিত অন্যান্য মসজিদের মডেল হিসেবে গণ্য হয়।

প্রাচীনতম এই মসজিদটি বিশ্বের খ্যাতিমান কয়েকটি মসজিদের মধ্যে অন্যতম। উকবা মসজিদ উত্তর আফ্রিকার চিত্তাকর্ষক ও বৃহৎ স্থাপনার একটি। সমসাময়িক প-িতরা এই মসজিদকে ইসলামিক চিন্তাধারা এবং বিজ্ঞান শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করতেন।



02 - কুবা মসজিদ সৌদি আরব (৬২২ সাল)

মসজিদে কুবা বা কুবা মসজিদ সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। এটি ইসলামের প্রথম মসজিদ। ‘কুবা’ একটি কূপের নাম। এই কূপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে কুবা মহল্লা। নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রথম দিন কুবায় অবস্থানকালে এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন।

ইতিহাসবিদরা বলেন, মহানবী (সা.) যখন এর ভিত্তি স্থাপন করেন তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন। মসজিদটি শুরু থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্কার হয়। সবশেষ ১৯৮৬ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। পুরো মসজিদ নির্মাণে এক ধরনের সাদা পাথর ব্যবহার করা হয়। এতে চারটি উঁচু মিনার, ছাদে একটি বড় গম্বুজ এবং পাঁচটি অপেক্ষাকৃত ছোট গম্বুজ রয়েছে।

এ ছাড়া ছাদের অন্য অংশে রয়েছে গম্বুজের মতো ছোট ছোট অনেক অবয়ব। রয়েছে জমজম পানির ব্যবস্থা। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। এখানে নারী ও পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজের ব্যবস্থা।



01 মসজিদ আল-হারাম সৌদি আরব মহানবীর (সা.) মক্কা বিজয়ের পর থেকে ৬৯২ সাল

পবিত্র কাবা শরিফকে ঘিরে অবস্থিত মসজিদ আল-হারাম বা মসজিদে হারাম। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সৌদি আরবের মক্কা শহরের এই মসজিদটি সবচেয়ে পবিত্র স্থান। মসজিদের যে কোনো স্থান থেকে নামাজ পড়ার সময় মুসল্লিরা কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, হজরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) দুজন একত্রে কাবা নির্মাণ করেন। শুরুর দিকে মসজিদ আল হারামসহ কাবাচত্বর একটি খোলা স্থান ছিল। সংস্কারে ছাদসহ দেয়াল দিয়ে এলাকাটি ঘিরে দেওয়া হয়। অষ্টম শতাব্দীর শেষ নাগাদ মসজিদের পুরনো কাঠের স্তম্ভগুলোর বদলে মার্বেলের স্তম্ভ দেওয়া হয়। তখন নামাজের স্থান বৃদ্ধিসহ মিনার যুক্ত করা হয়।

প্রতি বছর হাজীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মসজিদে আরও সংস্কার করা হয়। ১৫৭০ সালে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় সেলিম প্রধান স্থপতি মিমার সিনানকে মসজিদ পুনর্র্নির্মাণের আদেশ দেন। এই সময় সমতল ছাদগুলোর বদলে ক্যালিওগ্রাফি সংবলিত গম্বুজ ও নতুন স্তম্ভ স্থাপন করা হয়।

এগুলো বর্তমান মসজিদের সবচেয়ে পুরনো প্রত্ননিদর্শন। ভিতরে ও বাইরে নামাজের স্থান মিলে মসজিদের বর্তমান কাঠামো প্রায় ৮৮.২ একর। মসজিদটি সার্বক্ষণিক খোলা থাকে। হজের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর বৃহত্তম মানব সমাবেশের অন্যতম।

এখানে একসঙ্গে ১০ লাখ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে। হজের সময় প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ এখানে উপস্থিত হয়। হজ ও উমরাহর জন্যও মসজিদ আল হারামে যেতে হয়। মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা বিজয়ের পর কাবায় পৌত্তলিকতার চর্চা বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর বিভিন্ন সময় মসজিদ আল-হারামের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ৬৯২ সালে মসজিদে প্রথম বড় আকারের সংস্কার সাধিত হয়। ২০০৭ সালে মসজিদ আল-হারামের চতুর্থ সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়, যা ২০২০ সাল নাগাদ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



 

]]>
Wed, 25 May 2022 19:20:22 +0600 BD124.com
পবিত্র কোরআনে কারিমে বর্ণিত নবীদের নাম https://bd124.com/11-148 https://bd124.com/11-148

হজরত আবু জর গিফারি রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নবীদের সংখ্যা কত? তিনি জবাব দিলেন, ১ লাখ ২৪ হাজার। তাদের মধ্যে ৩১৫ জন হচ্ছেন রাসূল।


তবে কোরআনে কারিমে মাত্র ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কারও কারও আলোচনা বিভিন্ন সূরায় একাধিক জায়গায় স্থান পেয়েছে। আবার কারও কারও নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এর সংখ্যা মাত্র ৫টি।


কোরআনে কারিম যেহেতু হেদায়েতের বাণী ও উপদেশগ্রন্থ, তাই অতীতকালের জাতি ও সম্প্রদায়ের ঘটনাবলি, তাদের ভালো-মন্দ আমল ও তার পরিণতি বর্ণনার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ধারা বর্ণনাপদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি। বরং সত্য প্রচারের লক্ষ্যে দাওয়াত প্রদানের মুখ্যতম পন্থাই গ্রহণ করা হয়েছে।


যাতে প্রাচীনকালের সম্প্রদায় ও তাদের প্রতি প্রেরিত পয়গম্বরদের আলোচনা বারবার শ্রবণ করার ফলে শ্রোতাদের অন্তরে দৃঢ়ভাবে গেঁথে যেতে পারে এবং তা শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ উপযোগীও বটে। কোরআনে কারিমে বর্ণিত ২৫ জন নবীর নাম হলো


১. হজরত আদম আলাইহিস সালাম। মোট ৯টি সূরার ২৫ জায়গায় তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সর্বপ্রথম মানুষ ও নবী ছিলেন।


২. হজরত ইদরিস আলাইহিস সালাম। কোরআনের দু’টি সূরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। তিনি সর্বপ্রথম কলম দ্বারা লিখেছেন। আল্লাহতায়ালা তাকে সিদ্দিক হিসেবে কোরআনে আখ্যা দিয়েছেন এবং তিনি সর্বপ্রথম কাপড় সেলাই করে পরিধান করা শুরু করেন।


৩. হজরত নুহ আলাইহিস সালাম। ২৮টি সূরায় ৪৩ বার উল্লেখ করা হয়েছে এই নবীর নাম। তিনি নিজ জাতিকে সাড়ে ৯শ’ বছর দাওয়াত দিয়েছেন। তার ছেলে কেনানকে কুফরির কারণে আল্লাহতায়ালা মহাপ্লাবনে ডুবিয়ে মেরেছিলেন।


৪. হজরত হুদ আলাইহিস সালামের নাম তিনটি সূরায় সাতবার উল্লেখিত হয়েছে। তাকে আদ জাতির নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল। নূহ (আ.)-এর সম্প্রদায়কে প্লাবন দ্বারা ধ্বংস করার পর সর্বপ্রথম তার সম্প্রদায়ের লোকেরা মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয় এবং আল্লাহ তাদেরকে প্রচন্ড ঝড় দ্বারা ধ্বংস করে দেন।


৫. হজরত সালেহ আলাইহিস সালামের নাম চারটি সূরায় ৯ স্থানে উল্লেখ আছে। তাকে ছামূদ জাতির নিকট প্রেরণ করা হয়। সালেহ (আ.)-এর মুজেযা ছিল উটনি।


৬. হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নাম ২৫ সূরায় ৬৯ বার উল্লেখ হয়েছে। তিনি ইরাকে জন্মগ্রহণ করেন ও ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন করেন। পরে আল্লাহতায়ালার হুকুমে স্ত্রী ও শিশু সন্তান ইসমাঈলকে জনমানবহীন মক্কায় রেখে আসেন। 

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে আবুল আম্বিয়া বা নবীদের পিতা বলা হয়। তিনি ছেলে ইসমাঈলকে সঙ্গে নিয়ে কাবা ঘর নির্মাণ করেন ও সর্বপ্রথম মানুষকে বায়তুল্লাহর হজ করার জন্য আহবান করেন।


৭. হজরত লুত আলাইহিস সালাম। চৌদ্দটি সূরায় ২৭ বার উল্লেখ করা হয়েছে তার নাম। তার স্ত্রী কাফের ছিল। তার সম্প্রদায়ের লোকেরা সমকামিতার মতো পাপে লিপ্ত ছিলো। ফলে আল্লাহতায়ালা তাদের কঠোর শাস্তি প্রদান করেন।


৮. হজরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম। আট সূরায় ১২ জায়গায় উল্লেখ হয়েছে এই নবীর নাম। জন্মের পূর্বেই তাকে বিজ্ঞ বলে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল।


৯. হজরত ইসহাক আলাইহিস সালাম। কোরআনের ১২টি সূরায় মোট ১৭ বার আলোচিত হয়েছে তার নাম। তিনি ও ইসমাঈল (আ.) সম্পর্কে ভাই ছিলেন।


১০. হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম। ১০টি সূরায় ১৬ বার আলোচিত হয়েছে তার নাম। তার আরেক নাম হলো- ইসরাইল। তার নামানুসারে বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের নামকরণ করা হয়েছে।


১১. হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। তিনটি সূরায় ২৭ বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। এ ছাড়া সূরা ইউসুফ নামে হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা সম্বলিত একটি স্বতন্ত্র সূরা রয়েছে কোরআনে। তিনি নিজে নবী ছিলেন এবং তার পিতা ইয়াকুব (আ.), তার দাদা ইসহাক (আ.) ও পরদাদা ইবরাহীম (আ) নবী ছিলেন।


১২. হজরত শোয়াইব আলাইহিস সালাম। চার সূরায় ১১ বার উল্লেখ করা হয়েছে তার নাম। তার সম্প্রদায়ের লোকেরা মাপে বা ওজনে কম দেওয়ার প্রেক্ষিতে আজাবপ্রাপ্ত হয়েছিল।


১৩. হজরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম। চারটি সূরার চার জায়গায় আলোচিত হয়েছে তার নাম। আল্লাহতায়ালা তাকে দীর্ঘকাল কঠিন অসুখ দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ধৈর্যধারণ করে ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।


১৪. হযরত যুলকিফল আলাইহিস সালাম। দু‍’টি সূরায় দু’বার আলোচিত হয়েছে তার নাম।


১৫. হজরত মুসা আলাইহিস সালাম। পবিত্র কোরআনে সবচেয়ে বেশি বার তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৪টি সূরায় ১৩৭ বার আলোচিত হয়েছেন তিনি। বনী ইসরাঈলের প্রথম নবী ছিলেন তিনি। জন্মের পর মুসা আলাইহিস সালামকে তার মা বাক্সে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন।

আল্লাহর কুদরত হিসেবে পরে তিনি জালেম বাদশা ফেরাউনের বাড়ীতে লালিত-পালিত হন। নবী মূসাকে আল্লাহতায়ালা অনেকগুলো মুজেযা দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে একটি হলো- মূসা (আ.) তার হাতের লাঠি মাটিতে রেখে দিলে তা বিশাল বড় সাপে পরিণত হতো। পরে তিনি সেটা হাতে নিলে আবার লাঠি হয়ে যেত।


১৬. হজরত হারুন আলাইহিস সালাম। ১৩টি সূরায় ২০ বার আলোচিত হয়েছেন তিনি। তিনি নবী মূসা (আ.)-এর ভাই ছিলেন। বাগ্মীতার পারদর্শী ছিলেন তিনি।


১৭. হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম। ৯টি সূরায় ১৬ বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। তিনি নিজে রোজগার করে সংসার চালাতেন। তাকে যাবুর কিতাব প্রদান করা হয়েছিল। তিনি একদিন রোজা রাখতেন, আরেকদিন রাখতেন না।


১৮. হজরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম। সাতটি সূরায় ১৭ বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। তিনি সারা পৃথিবীর বাদশাহ ছিলেন। পশু-পাখীদের ভাষা বুঝাসহ মুজেযাস্বরূপ বাতাস নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পেয়েছিলেন তিনি।


১৯. হজরত ইলিয়াস আলাইহিস সালাম। দু’টি সূরায় তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে তার নাম।


২০. হজরত ইয়াসা আলাইহিস সালাম। কোরআনে কারিমের দু’টি সূরায় দু’বার অালোচনা করা হয়েছে তার প্রসঙ্গ।


২১. হজরত ইউনুস আলাইহিস সালাম। দু’টি সূরায় দু’বার উল্লেখ হয়েছে তার নাম। তাকে মাছে গিলে ফেলেছিল। পরে তিনি দোয়া করার পর আল্লাহতায়ালা তাকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি নিনুওয়া এলাকার লোকদের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন। পূর্ববর্তী সমস্ত নবীর অধিকাংশ উম্মত তাদের সঙ্গে কুফরি করলেও ইউনুস (আ.)-এর সম্প্রদায়ের সবাই তার প্রতি ঈমান এনেছিলেন।


২২. হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম। চারটি সূরায় সাতবার উল্লেখ হয়েছে পেশায় কাঠুরে এই নবীর নাম।


২৩. হজরত ইয়াইয়া আলাইহিম সালাম। চারটি সূরায় পাঁচবার উল্লেখ হয়েছে তার প্রসঙ্গ। তাকে কিশোর অবস্থাতেই আল্লাহ জ্ঞানী করেছিলেন এবং তাকে তাওরাতের শিক্ষা দিয়েছিলেন।


২৪. হজরত ঈসা আলাইহি সালাম। ১১টি সূরায় ২৫ বার উল্লেখ হয়েছে তার প্রসঙ্গে। তিনি বনী ইসরাইল সম্প্রদায়ের সর্বশেষ নবী। তার আরেক নাম মাসিহ।


২৫. হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। চারটি সূরায় মাত্র চার জায়গায় তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য স্থানে তার গুণবাচক নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অথবা আইয়ুহান নবী কিংবা আইয়ুহার রাসূল বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এটা বিশ্বনবীর সম্মান ও মর্যাদার পরিচয় বহন করে।


 

]]>
Wed, 25 May 2022 17:58:07 +0600 BD124.com
জেনে নিন জান্নাতি ১০ সাহাবির পরিচয় https://bd124.com/জেনে-নিন-জান্নাতি-১০-সাহাবির-পরিচয় https://bd124.com/জেনে-নিন-জান্নাতি-১০-সাহাবির-পরিচয়

দুনিয়াতে অনেক সাহাবিই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিণ্ন সময় বলতেন, তোমরা যদি জান্নাতি লোক দেখতে চাও; তবে এ লোকটিকে দেখো। তাছাড়াও দশজন সম্মানিত সাহাবি দুনিয়াতেই বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। তাদের পরিচয় তুলে ধরা হলো-



১. ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর আসল নাম আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন আমর। তাঁর উপাধি আতিক, সিদ্দিক। পুরুষদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। তার মাধ্যমেই হজরত উসমান বিন আফফান, হজরত যুবাইর, হজরত তালহা, হজরত আবদুর রহমান বিন আউফ প্রমুখ বড় বড় সাহাবি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হিজরতের সাথী ছিলেন। তিনি ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।



২. ইসলামে দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনিই সর্বপ্রথম আমিরুল মুমিনীন খেতাবে ভূষিত হন। তার খেলাফতকাল ছিল দশ বছর ছয় মাস চার দিন। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বারা ইসলামকে শক্তিশালী করেছেন এবং অর্ধ্বজাহানব্যাপী ইসলামের পতাকাকে উড্ডীন করেছেন।



৩. ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান বিন আফফান বিন আবিল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি ছিলেন দানশীল এবং আল্লাহর ভয়ে অধিক ক্রন্দনকারী।



৪. ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলি বিন আবু তালিব বিন আবদুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। বালকদের মধ্যে সর্ব প্রথম সাত বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তবুক ছাড়া তাঁর সময়কালে সংঘটিত সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামাতা।



৫. হজরত তলহা বিন উবাইদুল্লাহ বিন উসমান বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু। উহুদ যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তিনি অত্যন্ত মজবুতভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং শরীরের চব্বিশ স্থানে আঘাত পেয়েছিলেন। তখন বিশ্বনবি তাঁর নাম রেখেছিলেন ত্বালহাতুল খায়র। তিনি জামাল যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন।



৬. হজরত যুবাইর ইবনে আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর জীবদ্দশায় সংঘটিত ইসলামের সকল যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি আল্লাহর রাহে সর্বপ্রথম তরবারি পরিচালনা করেন এবং হাবশায় হিজরত করেন। তাঁর আকৃতিতেই ফেরেশতাগণ বদর যুদ্ধে অবতরণ করেছিলেন। তিনিও জামাল যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন।



৭. হজরত আবদুর রহমান বিন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি হাবশায় হিজরত করেছিলেন এবং সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।



৮. হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর রাহে তীর নিক্ষেপকারী। উহুদ যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, তোমার ওপর আমার মা, বাবা কুরবান হোক, তীর নিক্ষেপ কর। তিনি সকল যুদ্ধে শরীক হয়েছেন।



৯. হজরত সাঈদ বিন যায়েদ ইবনে উমর বিন নুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহু। বদর যুদ্ধ ছাড়া অন্য সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।



১০. হজরত আবু উবাইদাহ আমের বিন আবদুল্লাহ বিন জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনিই উহুদ যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোয়ালে বিঁধে যাওয়া লৌহবর্ম দাঁত দিয়ে বের করেছিলেন। তখন তার সামনের দুই দাঁত পড়ে গিয়েছিল।



আল্লাহ তাআলা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে এ সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবায়ে কেরামের চারিত্রিক জজবা বা প্রেরণা দান করুন। আমিন।



 

]]>
Wed, 25 May 2022 14:48:24 +0600 BD124.com
ইসলাম বিবাহের অনুমতি এবং বিধান https://bd124.com/Permission and provisions of Islam marriage https://bd124.com/Permission and provisions of Islam marriage

বিয়ে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত ও রাসুল (সা.) এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। চারিত্রিক অবক্ষয় রোধের অনুপম হাতিয়ার। আদর্শ পরিবার গঠন, মানুষের জৈবিক চাহিদাপূরণ ও মানবিক প্রশান্তি লাভের প্রধান উপকরণ। বিয়ে ইসলামী শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান।


পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো— তিনি তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জীবনসঙ্গিনী, যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। ’ (সুরা রুম, আয়াত :২১)



ইসলামে বিয়ের যাবতীয় নিয়ম-কানুন এবং বিধান-শর্ত ও আনুসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো। ইসলামে বিয়ের রুকন বা মৌলিক ভিত্তি এক. বর-কনে উভয়ে বিয়ে সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত হওয়া।



দুই. ইজাব বা প্রস্তাবনা: এটি হচ্ছে বরের কাছে মেয়ের অভিভাবক বা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব উপস্থান করা। যেমন, ‘আমি অমুককে তোমার কাছে বিয়ে দিলাম’ অথবা এ ধরনের অন্য কোনভাবে প্রস্তাব পেশ করা।



তিন: কবুল বা গ্রহণ করা: এটি বর বা তার প্রতিনিধির সম্মতিসূচক বাক্য। যেমন, ‘আমি কবুল বা গ্রহণ করলাম’ ইত্যাদি।


বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার শর্ত
(১) বর-কনে উভয়কে গ্রহণযোগ্যভাবে নির্দিষ্ট করে নেয়া।
(২) বর-কনে একে অন্যের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া। রাসুল (সা.) বলেন, ‘স্বামীহারা নারী (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা)-কে তার সিদ্ধান্ত ছাড়া (অর্থাৎ পরিষ্কারভাবে তাকে বলে তার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে) বিয়ে দেয়া যাবে না।


কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি (কথার মাধ্যমে অথবা চুপ থাকার মাধ্যমে) ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! কেমন করে তার সম্মতি জানব? তিনি বললেন, চুপ করে (লজ্জার দরুন) থাকাটাই তার সম্মতি। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৪৭৪১)


(৩) বিয়ের আকদ (চুক্তি) করানোর দায়িত্ব মেয়ের অভিভাবককে পালন করতে হবে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা বিয়ে দেয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যে অবিবাহিত নারী-পুরুষদের বিবাহ দাও। ’ (সুরা নুর, ২৪:৩২)


রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল। ’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ১০২১)


(৪) বিয়ের আকদের সময় সাক্ষী রাখতে হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই। ’ (সহিহ জামে, হাদিস নং : ৭৫৫৮)

সাক্ষী এমন দুইজন পুরুষ (স্বাধীন) সাক্ষী বা একজন পুরুষ (স্বাধীন) ও দুইজন মহিলা সাক্ষী হতে হবে, যারা প্রস্তাবনা ও কবুল বলার উভয় বক্তব্য উপস্থিত থেকে শুনতে পায়। (আদ-দুররুল মুখতার-৩/৯; ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৮)


বিয়ের প্রচারণা নিশ্চিত করাও জরুরি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা কর। ’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ১০৭২)


কনের অভিভাবক হওয়ার জন্য শর্ত
১. সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।
৩. দাসত্বের শৃঙ্খল হতে মুক্ত হওয়া।
৪.অভিভাবক কনের ধর্মানুসারী হওয়া। সুতরাং কোনো অমুসলিম ব্যক্তি মুসলিম নর-নারীর অভিভাবক হতে পারবে না।


৫. ন্যায়পরায়ণ হওয়া। অর্থাৎ ফাসেক না হওয়া। কিছু কিছু আলেম এ শর্তটি আরোপ করেছেন। অন্যেরা বাহ্যিক ‘আদালত’কে (ধর্মভীরুতা) যথেষ্ট বলেছেন। আবার কারো কারো মতে, যাকে তিনি বিয়ে দিচ্ছেন তার কল্যাণ বিবেচনা করার মত যোগ্যতা থাকলেও চলবে।


৬.পুরুষ হওয়া। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘এক নারী অন্য নারীকে বিয়ে দিতে পারবে না। অথবা নারী নিজে নিজেকে বিয়ে দিতে পারবে না। ব্যভিচারিনী নিজে নিজেকে বিয়ে দেয়। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ১৭৮২; সহিহ জামে : ৭২৯৮)


৭. বিয়ের ক্ষেত্রে বর-কনের ‘কুফু’ বা সমতা ও অন্যান্য কল্যাণের দিক বিবেচনা করতে পারার যোগ্যতাবান হওয়া।
ফিকাহবিদরা অভিভাবকদের ধারা নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং কাছের অভিভাবক থাকতে দূরের অভিভাবকের অভিভাবকত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। কাছের অভিভাবক না থাকলে দূরের অভিভাবক গ্রহণযোগ্য হবে।



 

]]>
Wed, 25 May 2022 14:32:06 +0600 BD124.com
টিকটক ব্যবহারের বিধান এবং তার সঠিক পদ্ধতি এবং তার ভয়াবহতা https://bd124.com/টকটক-বযবহরর-বধন-এব-তর-সঠক-পদধত-এব-তর-ভযবহত https://bd124.com/টকটক-বযবহরর-বধন-এব-তর-সঠক-পদধত-এব-তর-ভযবহত প্রশ্ন: Tiktok Apps ব্যবহার কি হারাম? ইসলামিক উপায়ে এর সঠিক ব্যবহার পদ্ধতি জানতে‌ চাই। [বি:দ্র: আমি মূলত টেকনোলজি নিয়ে কাজ করি। তাই টেকনিক্যাল ভিডিও আপলোড দিতে চাই]

উত্তর:
বর্তমান যুগ ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। এই ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে যথার্থ ভাবে কাজে লাগিয়ে যেমন নানাভাবে উপকৃত হওয়া যায় বা অবারিত সওয়াব অর্জন করা যায় ঠিক তেমনি এর অপব্যবহার এর ফলে মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে অধঃপতনের অতল তলায় হারিয়ে যায় এবং নিত্য নতুন পাপ-পঙ্কিলতা দ্বারা নিজের আমলনামাকে পঙ্কিল ও নিকষ অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তোলে।

যাহোক, বর্তমান সময় Tiktok app এমনই একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া। এখানে মানুষ নিজেরা ইচ্ছে মত ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে পাবলিশ করতে‌ পারে।

অতএব কেউ যদি এতে এমন ভিডিও শেয়ার করে বা এর মাধ্যমে এমন কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচার-প্রসার করে
– যা মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহিত করে,
– অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করে,
– সচ্চরিত্র ও নীতি নৈতিকতা শেখায়,
– মানব কল্যাণ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে,
– হালাল ব্যবসার অ্যাডভার্টাইজমেন্ট করা হয়,
– বা এর মাধ্যমে উপকারী টেননিক্যাল বিষয়, উপদেশ মূলক কথাবার্তা ও শিক্ষণীয় বিষয়াদি প্রকাশ করা হয় তাহলে তাতে কোনও সমস্যা নেই ইনশাআল্লাহ।
– অনুরূপভাবে এর মাধ্যমে যদি কুরআন-সুন্নাহ ও বিশুদ্ধ আকিদা নির্ভর ওয়াজ,
– বিজ্ঞ আলেমদের বক্তৃতার অডিও-ভিডিও ক্লিপ,
-কারীদের কুরআন তিলাওয়াত ও তরজমা,
– অমুসলিম, নাস্তিক ও অজ্ঞেয়বাদীদের পক্ষ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের উত্তর ইত্যাদি বিষয় ছড়িয়ে দেয়া হয় তাহলে তা দাওয়াতি কাজ ও দীন প্রচারে অংশ গ্রহণের শামিল হিসেবে গণ্য হবে-যাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া যাবে অবারিত সওয়াব
ইনশাআল্লাহ।

পক্ষান্তরে টিকটিক, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব সহ আধুনিক কোন সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন প্লাটফর্ম এ যদি অশ্লীলতা, নাটক, সিনেমা ও গান-বাজনার ভিডিও ক্লিপ প্রচার করা হয়, মানুষকে হেয় ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য মূলক পোস্ট করা হয়, ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড, দেশ ও মানবতা বিরোধী প্রচারণা, সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হয় এবং মিথ্যা, প্রতারণা ও প্রোপাগান্ডা মূলক কিছু প্রচার ও শেয়ার করা হয় তাহলে তা নি:সন্দেহে হারাম।

আমাদের অজানা‌ নয় যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন কিছু প্রকাশ করা হলে যেহেতু তা খুব সহজে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে অসংখ্য-অগণিত মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং ইন্টারনেটের এই মহাযজ্ঞের মাঝে তা স্থায়ী রূপ লাভ করে। তাই এখানে কিছু প্রকাশ করার আগে শতবার চিন্তা করা দরকার।

এখানে ভালো, কল্যাণকর ও ইসলামের পক্ষে কোনো কিছু প্রকাশ করা হলে তা যেমন সদকায়ে জারিয়া এবং স্থায়ী সওয়াব অর্জন এর কারণ হতে পারে ঠিক তেমনি খারাপ, ক্ষতিকর ও শরিয়ত বিরোধী কোন কিছু প্রকাশ করা হলে তা গুনাহে জারিয়া ও স্থায়ী গুনাহ অর্জনের কারণে পরিণত হতে পারে। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

من سن فى الإسلام سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها بعده من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سن في الإسلام سنة سيئة فله وزرها ووزر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أوزارهم شيء. (رواه مسلم عن جرير بن عبد الله رضي الله عنهما.

“যে ব্যক্তি ইসলামে কোন ভাল পদ্ধতি প্রচলন করল, সে তার সওয়াব পাবে এবং সেই পদ্ধতি অনুযায়ী যারা কাজ করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে। তাতে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন খারাপ পদ্ধতি প্রবর্তন করবে সে তার পাপ বহন করবে এবং যারা সেই পদ্ধতি অনুসরণ করবে তাদের পাপও সে বহন করবে। তাতে তাদের পাপের কোন কমতি হবে না।” [সহিহ‌ মুসলিম]

ঘটে যাওয়া কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা তুলে ধরলাম

তবে এই অ্যাপস এর বিরুদ্ধে ভয়ানক অভিযোগ রয়েছে। এই অ্যাপস এর মাধ্যমে ,তরুণ-তরুণীরা অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। তরুণ-তরুণীদের ভিতর খুনের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। আরো অভিযোগ রয়েছে। তরুণীরা ছেলে,মেয়ে মা-বাবা,রেখে অন্য তরুণদের হাত ধরে, অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি তরুণরা, বিবাহিত স্ত্রী রেখে, অন্য তরুণীদের কে, নিয়ে অবৈধ সম্পর্ক । তারপরে খুন, এরকম ঘটনা, ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

তরুণীর দলবদ্ধ হয়ে। দেশ থেকে অন্য দেশে পাচার হয়েছে। এমনকি সে, দেশে গিয়ে। নিজের দেহ বিক্রি করে জীবন কে নষ্ট করে দিয়েছে। কিছু কিছু তরুণী জীবন হারিয়ে ফেলেছে। কেউ আবার যান নিয়ে, দেহ বিক্রি করে, কোন রকমে পালিয়ে এসেছে।  স্কুলের ছেলেমেয়েরা এই অ্যাপের মাধ্যমে, মারাত্মকভাবে সেক্সুয়াল ইফেক্টের জড়িয়ে পড়েছে । এমনকি সেক্সচুয়াল ভিডিও ভাইরাল করে। জীবন নষ্ট করতে ,  আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। এভাবে অনেক মানুষের জীবন নষ্ট হয়ে গেছে।

তাই আসুন, অনলাইনে নিজেকে, সতর্ক অবস্থানে রাখি এবং নিজের জীবন নিরাপদ করি। এমনকি ছেলেমেয়েদের, মোবাইল ফোন কিনে দেয়ার ব্যাপারেও সচেতন হন। ছেলেমেয়েরা কোথায় কি? ব্রাউজ করছেন, নজর রাখুন। না হলে জীবন নষ্ট হয়ে গেলে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আগে থেকেই সতর্ক হয়ে , আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের মাধ্যমে সন্তানকে রক্ষা করা সম্ভব।

অনলাইন একটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর স্বর্গরাজ্য হতে পারে । আপনি হয়তো জানেন না। এই অনলাইনে প্রতিদিন ভয়ঙ্কর, হ্যাকাররা উৎপেতে থাকে। আপনার দিকে ভয়ঙ্কর রোবটিক, সিস্টেমগুলো , তাক করে থাকে। কখন আপনি ভুল করবেন। এই একটা ভুল এই হতে পারে। জীবন সংসার ,ব্যাঙ্ক ব্যালান্স,বাড়ি-গাড়ি এমনকি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হতে পারে। তাই সঠিক পদক্ষেপ এবং সঠিক ব্রাউজি হতে পারে আপনার জীবনের নিরাপত্তা।

তরুণী আপনি কি চিন্তা করেছেন। আপনার বাবার থেকে কে, আপনাকে বেশি ভালোবাসে। তরুণী আপনি কি চিন্তা করেছেন। আপনার বাবার থেকে কে, আপনাকে বেশি ভালোবাসে, তরুণী আপনি কি চিন্তা করেছেন। আপনার মার থেকে কে, আপনাকে বেশি ভালোবাসে। তরুণী আপনি কি চিন্তা করেছেন। আপনার ভাইয়ের থেকে কে, আপনাকে বেশি ভালোবাসে । মায়ের থেকে যে, বেশি ভালোবাসে সে, নাকি ডাইনি হয়।

 তাই কখনোই চিন্তা করবেন না। মা-বাবা ভাই-বোন। তার থেকে হয়তো সে, বেশি আপনাকে উন্নত জীবনের আশা আকাঙ্ক্ষা দেখাতে পারে। কারণ আপনাকে এই কথার মাধ্যমেই পটাতে হবে এ কথার মাধ্যমেই আপনাকে ভোগ করতে হবে । তাই এই কথা দিয়েই আপনাকে ভয়ংকরভাবে ফাসাবে। একবার ফাঁদে পা দিলে।কখনোই আর নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন না। নিজেকে কখনোই ভয়ঙ্কর স্বর্গরাজ্যে দিবেন না। প্রতিটি পদক্ষেপেই নিজেকে রক্ষা করতে পারেন।

অনলাইনে বেশিভাগ তরুণীদেরকে টার্গেট করে থাকে। যদি আপনার বাড়ি,গাড়ি,কোনটা না থাকে, তাহলে আপনার সুন্দর দেহটা ভোগ করবে। কিবা আপনাকে দিয়ে, দেহব্যবসা করাবে। যখন আপনার দেহ ভোগ করা হয়ে যাবে । ভয়ংকরভাবে আপনাকে ছুড়ে ফেলে দিবে। এটা আবেগ নয়,এটাই হলো বাস্তবতা ।  

কখনই ভাববেন না মা-বাবার থেকে, বেশি কেউ আপনাকে ভালবাসে।  মা-বাবা আপনাকে, জন্ম দিয়েছে। মা বাবা আপনাকে সারা জীবন সুখে, দুঃখে, পাশে রেখেছে। এমনকি আপনার জীবন, চাহিদা মেটানোর জন্য, মা-বাবা না খেয়ে না পরে। ভ্যান চালিয়ে, মানুষের বাসায় কাজ করে।

আপনার চাহিদা মিটিয়ে ছে। আপনি যখন, যৈবন পা দিবেন। যৈবন চাহিদা মেটানোর জন্য মা-বাবা আপনাকে, ভালো একটা পাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দেয়। যাতে আপনি যৌবন চাহিদা মেটাতে পারেন। যাতে আপনি সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারেন। এটাই হল, প্রকৃতিক শান্তি কিংবা স্বর্গরাজ্য যেটা, আল্লাহর তরফ থেকে, মা-বাবার মাধ্যমে আপনার উপর অর্পিত হয়।


আল্লাহ আমাদেরকে সর্বাধুনিক ও সুন্দরতম পন্থায় ইসলামের পক্ষে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দিন করুন‌ এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ ও পাপ-পঙ্কিলতা থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

]]>
Fri, 20 May 2022 13:16:29 +0600 BD124.com
বিশ্বের সেরা 10টি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রাণী: https://bd124.com/বশবর-সর-10ট-বনধতবপরণ-পরণ https://bd124.com/বশবর-সর-10ট-বনধতবপরণ-পরণ গ্রহ পৃথিবীতে প্রায় দুই মিলিয়ন প্রাণীর প্রজাতি রয়েছে, তবে তাদের সবগুলি হিংস্র এবং বিপজ্জনক প্রাণী নয়। তাদের মধ্যে কিছু সুপার স্মার্ট, কিছু স্রেফ বোবা, কিছু অলস এবং কিছু প্রাণী অবিশ্বাস্যভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ। এখানে আমরা বিশ্বের সেরা 10টি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রাণীর দিকে নজর দিই। এগুলি বন্ধুত্বপূর্ণ, সদয়, প্রফুল্ল এবং দরকারী।

10- রাজহাঁস

বাঁকা ঘাড়ের রাজহাঁসগুলি প্রেম এবং আনুগত্যের প্রতীক কারণ তারা সর্বদা তাদের সঙ্গীর প্রতি অনুগত থাকে। এই পাখিগুলো Cygnus গণের মধ্যে Anatidae পরিবারের অন্তর্গত। হাঁস এবং গিজ তাদের নিকটাত্মীয়। রাজহাঁস জল এবং জমি উভয়ই খাওয়ায়। যতক্ষণ না আপনি তাদের অংশীদার এবং যুবকদের আঘাত না করেন ততক্ষণ তারা বন্ধুত্বপূর্ণ।

9- গিনি পিগ

গৃহপালিত গিনিপিগ হল Caviidae পরিবারের অন্তর্গত ইঁদুর। তারা বুদ্ধিমান এবং বন্ধুত্বপূর্ণ প্রাণী, যদিও তারা অনেক মনোযোগ চায়। তারা ইঁদুর, শূকর নয়। কিন্তু তারা তাদের চেহারার কারণে গিনিপিগ নামটি অর্জন করেছে। এরা তৃণভোজী প্রাণী যার জীবনকাল চার বছর পর্যন্ত। সারা জীবন তাদের দাঁত গজায়।

8- ভেড়া

ভেড়া বিশ্বের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রাণীদের মধ্যে একটি। তারা বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অ-আক্রমনাত্মক। তারা মানুষের বিস্ময়কর সঙ্গী। এই স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সাধারণত পশু হিসাবে রাখা হয়। কৃষি কাজের জন্য গৃহপালিত পশুদের মধ্যে ভেড়াই প্রথম। তাদের 12 বছর পর্যন্ত জীবনকাল রয়েছে।

7- ঘোড়া

এই মহিমান্বিত প্রাণীগুলি শতাব্দী ধরে মানুষের জন্য দরকারী প্রমাণিত হয়েছে। তারা বন্ধুত্বপূর্ণ, সামাজিক এবং অনুগত এবং মানুষের মতো একই আবেগ রয়েছে। কিন্তু আপনি যদি সতর্ক না হন, তাহলে তারা লাথি মেরে আপনাকে কিছু গুরুতর জখম করতে পারে। পৃথিবীতে প্রায় 300 ধরনের ঘোড়া রয়েছে এবং তাদের প্রায় সবই বন্ধুত্বপূর্ণ। এই প্রাণীদের সম্পর্কে যা আকর্ষণীয় তা হল তারা যখন একটি দলে থাকে, তখন পুরো দল একই সময়ে ঘুমায় না। তাদের মধ্যে অন্তত একজন যে কোনো সময়ে জেগে থাকে।

6- দৈত্য পান্ডা

দৈত্য পান্ডা অবিশ্বাস্যভাবে চতুর এবং মজা-প্রেমময়। মাংসাশী হলেও এরা প্রায় একচেটিয়াভাবে বাঁশ খায়। মধ্য চীনের পাহাড়ে বিশালাকার পান্ডা পাওয়া যায়। তারা বিশ্বের সবচেয়ে অপ্রীতিকর প্রাণীদের মধ্যে একটি। এ বিষয়ে কিছু না করলে অদূর ভবিষ্যতে তারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দৈত্য পান্ডা 300 পাউন্ড পর্যন্ত ওজন হতে পারে। তারাও চমৎকার সাঁতারু।

5- খরগোশ

খরগোশ Leporidae পরিবারের অন্তর্গত। তারা একটু দুষ্টু কিন্তু সুন্দর এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। তারা বিশ্বের বন্ধুত্বপূর্ণ পোষা প্রাণী এক. খরগোশ তৃণভোজী, বেশিরভাগই ঘাস খায়। তাদের শক্তিশালী পিছনের অঙ্গ, লম্বা সামনের দাঁত এবং বড় কান রয়েছে। তাদের আপনার মনোযোগ এবং চারপাশে খেলার জন্য প্রচুর স্থান প্রয়োজন।

4- বিড়াল

বিড়ালগুলি কৌতুকপূর্ণ, যত্ন-মুক্ত, দুষ্টু এবং কখনও কখনও মনকাড়া। তারা বন্ধুত্বপূর্ণ প্রাণীদের মধ্যেও হতে পারে। বিড়াল অত্যন্ত বুদ্ধিমান বলে পরিচিত। আপনি যদি তাদের সাথে সতর্ক না হন তবে আপনি মাঝে মাঝে স্ক্র্যাচ পেতে পারেন। বিড়ালরা নিজেদের এবং তাদের প্রিয়জনের চারপাশে পরিষ্কার রাখতে পছন্দ করে। মানুষ তাদের শিকারের ক্ষমতার জন্য প্রায় 3,000 বছর আগে বিড়ালকে গৃহপালিত করেছিল।

3- ডলফিন

ডলফিন গ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে একটি। এই জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীরা মানুষ সহ অন্যান্য প্রাণীর চারপাশে অত্যন্ত কৌতুকপূর্ণ। ডলফিনের শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণই নয়, উন্নত সামাজিক দক্ষতাও রয়েছে। তারা প্রকৃতিতেও নিরীহ। অনেক সময় সাগরে জাহাজ ও নৌকাকে অনুসরণ করতে দেখা যায়। তারা সাধারণত বড় দলে চলাফেরা করে।

2- কুকুর

কুকুর নিঃসন্দেহে বিশ্বের বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রাণীদের মধ্যে একটি। তাদের নিষ্পাপ কুকুরছানা মুখ আপনার হৃদয় গলে পারে. তারা প্রায়ই একজন মানুষের সেরা বন্ধু হিসাবে উল্লেখ করা হয়, এবং ভাল কারণে. তারা আপনার আবেগ এবং অনুভূতি বুঝতে ভাল. কুকুরগুলিও অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় অপরিচিতদের বিশ্বাস করার সম্ভাবনা বেশি। কুকুর নেকড়ে হিসাবে একই বংশের অন্তর্গত। মানুষ হাজার হাজার বছর আগে তাদের গৃহপালিত করা শুরু করে।

1- ক্যাপিবারা

ভয়ঙ্কর আকার সত্ত্বেও ক্যাপিবারা বিশ্বের সবচেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রাণী। এই আধা-জলজ প্রাণীরা অত্যন্ত সামাজিক, ভদ্র এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এবং মধ্য আমেরিকার স্থানীয়, এটি বিশ্বের বৃহত্তম ইঁদুর, যার ওজন 65 কেজি পর্যন্ত। তারা বড় দলে বাস করে এবং 12 বছর পর্যন্ত জীবনকাল থাকে।

]]>
Thu, 19 May 2022 18:03:31 +0600 BD124.com
কেয়ামতের আগে দাজ্জালের আবির্ভাব https://bd124.com/06-16-2022 https://bd124.com/06-16-2022

দাজ্জাল শব্দটি দাজলুন থেকে নির্গত, অর্থ হক ও বাতিলের মধ্যে সংমিশ্রন। এ ছাড়াও ধোঁকা, ষড়যন্ত্র, বাতিলকে সুসজ্জিত করে দেখানো এবং মিথ্যা বিভিন্ন অর্থ দাজ্জাল শব্দের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে।


দাজ্জালের গুণবাচক নাম মাসিহ। অপরদিকে নবী ঈসা (আ.)-এরও গুণবাচক নাম মাসিহ। তবে উভয়ের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। মাসিহ শব্দটি দাজ্জালের সঙ্গে যুক্ত করে আনা হয়। বলা হয়-মাসিহুদ-দাজ্জাল। আর ঈসা (আ.)-এর সঙ্গে যুক্ত করে আনা হয় না।

বলা হয়-মাসিহ আলাইহিস সালাম কিংবা ঈসা আল-মাসিহ। আবার অর্থগত দিক দিয়েও উভয়ের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। যেমন-দাজ্জালের চোখ সমতলবিশিষ্ট হওয়ার দরুণ মাসিহ বলা হয়, আর ঈসা (আ.)- কে মাসিহ বলার কারণ হলো, তিনি জন্মগত অন্ধকে হাত বুলিয়ে দিলে দৃষ্টিশক্তি এসে যেত। তাছাড়া দাজ্জাল কল্যাণ মুছে দেবে, আর ঈসা (আ.) অকল্যাণ মুছে দেবেন । (উমদাতুল কারি : ১০/২৪২-২৪৩)।

দাজ্জাল এমন একজন পথভ্রান্ত ব্যক্তি শেষ জমানায় যার আবির্ভাব হবে। তার আবির্ভাব শেষ জমানায় অনেক বড় বিপর্যয়ের কারণ হবে। সব নবী-রাসুলরা তার ফেতনা থেকে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। কেননা অনেক আশ্চর্যজনক কিছু বিষয় আল্লাহ তার দ্বারা ঘটাবেন এবং সে তার সময়কালে মানুষের আকিদায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে ছাড়বে।

দাজ্জালের আবির্ভাব কেয়ামতের বড় আলামত। তার ফেতনা থেকে মহানবী (সা.)ও খুব সতর্ক করেছেন। নাওয়াস ইবনে সামআন বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) একদিন সকাল বেলা দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনার শুরুতে তিনি তার ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেন।

পরে বেশ গুরুত্ব সহকারে পেশ করেন। যাতে তাকে আমরা ওই খেজুর বাগানের নির্দিষ্ট এলাকায় (যেখানে তার আবাসস্থল) কল্পনা করতে লাগলাম। এরপর যখন সন্ধায় আমরা তার কাছে গেলাম তখন তিনি আমাদের মনোভাব বুঝতে পেরে জিজ্ঞস করলেন, তোমাদের ব্যাপার কী? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, সকাল বেলা আপনি দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন।

প্রথমে তাকে খুব তুচ্ছ করে তুলে ধরেছেন, যাতে আমরা তাকে খেজুর বাগানের ওই নির্দিষ্ট এলাকায় কল্পনা করতে থাকি (যেখানে সে খুব জাঁকজমক সহকারে অবস্থান করছে)। তখন তিনি বললেন, আমি তো তোমাদের জন্য দাজ্জাল ছাড়া অন্য বিষয়কে অধিকতর আতঙ্কের কারণ মনে করছি।

যদি আমি তোমাদের মাঝে বেঁচে থাকাকালীন সে আত্মপ্রকাশ করে তবে আমি তোমাদের সামনে তার সঙ্গে বাকযুদ্ধে অবতীর্ণ হব, আর যদি সে আত্মপ্রকাশ করে আর আমি তোমাদের মধ্যে না থাকি, তবে প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তি নিজেই তর্কে লিপ্ত হবে এবং আমার পরে মহান আল্লাহই প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির একমাত্র তত্ত্বাবধানকারী।’ (মুসলিম : ২৯৭৩)।

মহানবী (সা.) দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় চাইতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সা.) দোয়া করতেন-আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি ওয়া ফিতনাতিন-নারি ওয়া ফিতনাতিল কাবরি ওয়া শাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল,

ওয়া শাররি ফিতনাতিল গিনা ওয়া শাররি ফিতনাতিল ফাকরি, আল্লাহুম্মা ইগসিল খাতায়ায়া বিমায়িস সালজি ওয়াল বারাদি ওয়া নাক্কি কালবি মিনাল খাতায়া কামা নাক্কায়তাস সাওবাল আবয়াদা মিনাদ দানাস।’ (নাসায়ি : ৫৪৯২)।

দাজ্জাল কি মানুষ না জিন? এ বিষয়ে গবেষকদের মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, সে মানুষ। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সে হবে শয়তানের অন্তর্ভুক্ত। তবে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো সে মানুষই হবে। নওয়াস ইবনে সামআন (রা.)

থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসে আছে, ‘সে (দাজ্জাল) হবে একজন যুবক, মাথার চুল কোঁকড়ান, ফোলা চোখবিশিষ্ট। আমি তাকে [ইহুদি] আবদুল উজ্জা ইবনে কাতানের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। সুতরাং যে কেউ তাকে পাবে, সে যেন তার সম্মুখে সুরা কাহাফের শুরুর আয়াতগুলো পাঠ করে।’ (মুসলিম : ২৯৩৬)

দাজ্জালের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য : তার পরিচয়ে বহু হাদিস বিবৃত হয়েছে। মহানবী (সা.) তার পরিচয় প্রদান করে মানুষকে সতর্ক করেছেন যেন কেউ তার খপ্পরে না পড়ে যায়। সে হবে কানা। হোজাইফা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘দাজ্জালের বাম চক্ষু কানা, মাথার কেশ হবে অত্যধিক।’ (মুসলিম : ২৯৩৪)।

তার দুচোখের মধ্যখানে কাফের লেখা থাকবে। হাদিসে এসেছে, ‘তার চোখের ওপর নখ পরিমাণ মোটা চামড়া থাকবে, চক্ষুদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে লেখা থাকবে কাফের। প্রত্যেক শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মোমিন তা পড়তে পারবে।’ (মুসলিম : ২৯৩৪)।

সে নিজেকে মিথ্যা খোদা দাবি করবে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার পরিচিতি তোমাদের কাছে গোপন নয়। নিশ্চয় আল্লাহ কানা নন, কিন্তু দাজ্জালের ডান চোখ কানা হবে। তার এই চোখটি হবে ফোলা আঙ্গুরের মতো।’ (বোখারি : ৩৪৩৯)। কোনো কোনো বর্ণনায় বাম চোখ কানা হওয়ার কথাও রয়েছে যা উপরে বর্ণিত হয়েছে।

দাজ্জালের ফেতনা : দাজ্জালের ফেতনা হবে অনেক বড় ফেতনা যা মুসলমানদের গ্রাস করবে। আল্লাহ তার হাতে এমন কিছু আশ্চর্যজনক ক্ষমতা দান করবেন যার দ্বারা মানুষ পরীক্ষায় পড়ে যাবে। ইমরান ইবনে হোসাইন (রা.)

বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আদম (আ.)-এর সৃষ্টি হতে কেয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত দাজ্জালের ফেতনা অপেক্ষা কোনো ফেতনা বৃহত্তর নয়।’ (মুসলিম : ২৯৪৬)। উম্মে শারিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘লোকেরা দাজ্জালের [ফেতনা] হতে পালাবে, এমনকি পাহাড়-পর্বতসমূহে গিয়ে আশ্রয় নেবে।’ (মুসলিম : ২৯৪৫)।

সে জমিনে চলার সময় তাকে সত্যায়ন করার জন্য মানুষকে আহ্বান করবে। কতক মানুষ তাকে অস্বীকার করবে, তাকে কোনো রকম বিশ্বাস করবে না। ফলে তাদের ভূমি বিরান হয়ে যাবে। খেত-ফসল সব পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।

কোনো কিছু এতে ফলবে না। অপর আরেক দল মানুষের কাছে অতিক্রম করলে তারা তাকে বিশ্বাস করবে ও অনুসরণ করবে। ফলে তাদের ভূমিতে ফল-ফসলে ভরে যাবে। তাদের গবাদি-পশুর সংখ্যা বেড়ে যাবে। এভাবে মানুষ তার ফেতনায় পড়ে যাবে।

সে জমিনের খনিজ পদার্থ সব বের করে ফেলবে। হাদিসে আছে, ‘যে তার অবাধ্যতা করবে তাকে আগুনে ফেলে দেবে অথচ সেটি প্রকৃতপক্ষে জান্নাত। যে তাকে অনুসরণ করবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে যা প্রকৃতপক্ষে জাহান্নাম। আল্লাহ পানাহ! (মুসলিম : ২৯৩৮)।

দাজ্জালের অনুসারী : তার অধিকাংশ অনুসারী হবে ইহুদি, অনারব ও তুর্কীদের মধ্য হতে। আবু বকর সিদ্দিক

(রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘দাজ্জাল পূর্বাঞ্চলের খোরাসান এলাকা হতে বের হবে, এমন এক সম্প্রদায় তার আনুগত্য গ্রহণ করবে যাদের চেহারা হবে ঢালের ন্যায় চেপ্টা।’ (তিরমিজি : ২২৩৭)।

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের ৭০ হাজার লোক দাজ্জালের অনুসরণ করবে, তাদের মাথায় থাকবে সবুজ বর্ণের নেকাব।’ (শরহুস সুন্নাহ লিলবাগাবি : ৪২৬৫)।



দাজ্জাল বের হওয়ার স্থান : নবী (সা.) বলেন, দাজ্জাল পূর্বাঞ্চলের খোরাসান এলাকা থেকে বের হবে।’ (তিরমিজি : ২১৬৩)। খোরাসান মধ্য এশিয়ার একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল। অতীতে ইরানের পূবদিকে খোরাসান নামের একটি বিশাল-বিস্তৃত প্রদেশ ছিল।


যার সীমান্ত ‘মা-ওয়ারাউন নাহার’ এর সঙ্গে যুক্ত হতো। খোরাসানের সবচেয়ে বড় নগরীর নাম ছিল বালখ (বাখতার)। এর বাইরে সারাখস, হেরাত, মার্ভ, তুস ও নিশাপুর নামের জনপদগুলোও বিখ্যাত। বর্তমানে খোরাসান নামে যেই পূর্বাঞ্চলী প্রদেশ রয়েছে, তা সীমিত অঞ্চল নিয়ে গঠিত। (সীরাত বিশ্বকোষ, মাকতাবাতুল আযহার অনুদিত : ১/৫৯৭)।


একটি হাদিসে খোরাসানের প্রসিদ্ধ এলাকা ইসফাহানকে দাজ্জাল আবির্ভাবের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘দাজ্জাল ইসফাহানের ইহুদিয়া থেকে বের হবে।’ (মুসলিম : ৫২২৮)। ইসফাহান বর্তমান ইরানের অন্যতম জনবহুল একটি নগরী যা জাগ্রোস পর্বতমালার পাদদেশে জায়েন্দে নদীর তীরে অবস্থিত।


এমন কোনো এলাকা থাকবে না যেখানে সে প্রবেশ করবে না, তবে মক্কা ও মদিনায় গন্তব্য হলেও সে সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। ফেরেশতারা শহর দুটিকে হেফাজত করে রাখবে। আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মদিনায় কানা দাজ্জালের ভীতি কখনও পৌঁছবে না। সে সময় মদিনার সাতটি দরজা থাকবে এবং প্রত্যেক দরজায় দুজন করে ফেরেশতা [প্রহরায়] থাকবেন।’ (বোখারি : ১৮৭৯)।


দাজ্জালের অবস্থানকাল : দাজ্জাল বের হয়ে নিহত হওয়া পর্যন্ত ৪০ দিন অবস্থান করবে। আসমা বিনতে ইয়াজিদ ইবনে সাকান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘দাজ্জাল ৪০ দিন জমিনে অবস্থান করবে। এক বছর হবে মাসের মতো, মাস হবে সপ্তাহের মতো এবং সপ্তাহ হবে একদিনের মতো। আর দিন হবে খেজুরের একটি শুকনা ডাল আগুনে জ্বলে নিঃশেষ হওয়ার মতো।’ (শরহুস সুন্নাহ লিলবাগাভি : ৪২৬৪)।


দাজ্জাল নিহত হওয়ার স্থান : দাজ্জালের শেষ সময়ে ঈসা (আ.) পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। তার হাতেই হবে দাজ্জালের সলিল সমাধি। নবী (সা.) বলেন, ‘ঈসা ইবনে মারিয়াম দামেশক শহরের পূর্বে অবস্থিত সাদা মিনারের উপরে অবতরণ করবেন।


অতঃপর তাকে বাবে লুদে পেয়ে হত্যা করবেন।’ (আবু দাউদ : ৪১২১)। লুদ হচ্ছে বাইতুল মাকদিসের পশ্চিমে উপকূলীয় নগরী তেল আবিব ইয়াফু থেকে রামাল্লাহগামী রাজপথের ধারে ফিলিস্তিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী। বর্তমানে ইসরাঈল সেখানে একটি বিশাল বিমানবন্দর বানিয়ে রেখেছে। (সীরাত বিশ্বকোষ, মাকতাবাতুল আযহার অনুদিত : ১/৫৪১)।


আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, মাসিহে দাজ্জাল পূর্বদিক হতে আগমন করে মদিনায় প্রবেশ করতে চাইবে। এমনকি সে উহুদ পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।

অতঃপর ফেরেশতারা তার চেহারা [গতি] সিরিয়ার দিকে ফিরিয়ে দেবেন এবং সেখানেই সে [ঈসা (আ.)-এর হাতে] ধ্বংস হবে।’ (মুসলিম ১৩৮০)। আল্লাহ আমাদের সবাইকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।



 

]]>
Thu, 19 May 2022 15:25:25 +0600 BD124.com
সাহাবিদের কিছু অলৌকিক ঘটনা https://bd124.com/সহবদর-কছ-অলকক-ঘটন https://bd124.com/সহবদর-কছ-অলকক-ঘটন

নবী-রাসুল ছাড়াও বহু সৎকর্মশীল ব্যক্তির মাধ্যমেও অলৌকিক ঘটনা প্রকাশিত হয়। ইসলামের পরিভাষায় এটাকে কারামত বলা হয়। যেমন—মারিয়াম (আ.)-এর ঘটনা ও আসহাবে কাহফের ঘটনা পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। এখানে মহানবী (সা.)-এর কয়েকজন সম্মানিত সাহাবির কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা তথা কারামত তুলে ধরা হলো—



লাঠি থেকে আলোর বিচ্ছুরণ : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তাঁর কাছে এক অন্ধকার রাতে উসাইদ বিন হুজাইর (রা.) ও আব্বাদ বিন বিশর (রা.) অবস্থান করেন।


এরপর রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে তাঁরা বেরিয়ে যান। তখন তাঁদের একজনের লাঠি থেকে আলোর বিচ্ছুরণ শুরু হয়। উভয়ে সেই আলোতে চলতে থাকেন। যখন পথ ভিন্ন হয়ে পড়ে, তখন উভয়ে নিজের লাঠির আলোতে চলতে থাকেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮০৫)



কোরআন শুনতে ফেরেশতাদের ভিড় : উসাইদ বিন হুজাইর (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক রাতে তিনি কোরআনের সুরা বাকারা তিলাওয়াত করছিলেন। পাশেই তাঁর ঘোড়া বাঁধা। হঠাৎ ঘোড়াটি লাফিয়ে ওঠে।


তিনি চুপ করলে ঘোড়াও স্থির হয়। তিনি আবার পড়া শুরু করলে ঘোড়াও লাফিয়ে ওঠে। আবার চুপ হলে ঘোড়াও স্থির হয়। তিনি আবার পড়া শুরু করলে ঘোড়াও লাফিয়ে ওঠে। আবার চুপ হলে ঘোড়াও স্থির হয়। এবার তিনি থামলেন।


তাঁর ছেলে ইয়াহইয়া ঘোড়ার পাশে ছিল। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কা করে তাকে দূরে সরিয়ে নেন। অতঃপর আকাশের দিকে মাথা তুলে কিছু একটা দেখেন। সকালে মহানবী (সা.)-এর কাছে তিনি পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। ঘটনা শুনে নবী করিম (সা.) বলেন, হে ইবনে হুজাইর! তুমি পড়তে থাকতে, হে ইবনে হুজাইর! তুমি পড়তে থাকতে।


তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমার ভয় হচ্ছিল, ঘোড়া আমার ছেলে ইয়াহইয়াকে পদদলিত করবে। কেননা সে ঘোড়ার কাছেই ছিল। তাই ছেলের কাছে যাই। এরপর আমি মাথা ওপরে তুলে আকাশে একটা কিছুর ছায়া দেখতে পাই। তাতে অনেক বাতি ছিল। এরপর আমি বের হলে আর কোনো কিছু দেখিনি।


রাসুল (সা.) বলেন, তুমি জানো এসব কী ছিল? তিনি বলেন, না। রাসুল (সা.) বলেন, তারা ফেরেশতা ছিল। তোমার আওয়াজ শুনে কাছে এসেছে। তুমি পড়তে থাকলে মানুষও তাদের দেখতে পেত। তারা মানুষের আড়ালে থাকত না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০১৮)


অমৌসুমি ফল দিয়ে বন্দি সাহাবির আহার : খুবাইব বিন আদি (রা.)-কে কুরাইশরা বন্দি করে। খুবাইব (রা.) বদর যুদ্ধে হারিস বিন আমির (রা.)-কে হত্যা করেছিলেন। বন্দি অবস্থায় বেশ কিছুদিন তাদের কাছে কাটান। হারিসের মেয়ে বলেছেন,


‘আল্লাহর শপথ, আমি খুবাইবের চেয়ে উত্তম কোনো বন্দিকে কখনো দেখিনি। আল্লহর শপথ, একদিন আমি তাঁকে আঙুরের থোকা থেকে আঙুর খেতে দেখিছি। অথচ তখন তাঁকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া মক্কায় কোনো ফলফলাদিও নেই। নিশ্চয়ই এ ফল আল্লাহর পক্ষ থেকে ছিল। খুবাইবের রিজিক হিসেবে তা পাঠিয়েছেন। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০৪৫)


সাহাবির অভিশাপ বাস্তবায়ন : হিশাম বিন উরওয়াহ তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেছেন, আরওয়া বিনতে উওয়াইস (রা.) অভিযোগ করেন যে সাইদ বিন জায়েদ (রা.) তাঁর কিছু জমি নিয়েছেন। তিনি মারওয়ান বিন হাকাম (রহ.)-এর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাইদ বলেন,


আপনি কি মনে করেন যে আমি রাসুল (সা.)-এর কথা শোনার পরও তাঁর জমির অংশ নেব? মারওয়ান জিজ্ঞেস করেন, আপনি রাসুল (সা.) থেকে কী শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে শুনেছি, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে জমির এক টুকরা নেবে, তাকে সাত স্তর পর্যন্ত জমির বেড়ি পরানো হবে।


মারওয়ান বলেন, এরপর আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করব না। সাইদ (রা.) বলেন, হে আল্লাহ! ওই নারী মিথ্যুক হলে আপনি তাকে অন্ধ করুন এবং নিজের ভূমিতে হত্যা করুন। এরপর ওই নারী দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। অতঃপর ওই নারী নিজের জমিতে হাঁটতে গিয়ে একটি গর্তে পড়ে মারা যায়। (সহিহ মুসলিম,


হাদিস : ১৬১০) মিথ্যা অভিযোগে বৃদ্ধের শাস্তি : জাবির বিন সামুরা (রা.) বর্ণনা করেন, ওমর (রা.)-এর শাসনামলে কুফার কিছু লোক সাদ (রা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে যে সাদ জিহাদে অংশ নেয় না, সমানভাবে বণ্টন করে না, ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার করে না। এ কথা শুনে সাদ (রা.)


বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি তিনটি দোয়া করছি। হে আল্লাহ, আপনার এই বান্দা লৌকিকতা ও অহংকারবশত মিথ্যা কথা বললে আপনি তার জীবন দীর্ঘ করুন, তার অভাব দীর্ঘ করুন এবং তাকে বিভিন্ন পরীক্ষায় নিপতিত করুন। ওই লোককে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলত, পরীক্ষায় নিপতিত অশীতিপর বৃদ্ধ।


সাদ আমাকে অভিশাপ দিয়েছে। আবদুল মালিক বর্ণনা করেন, পরে আমি ওই লোককে দেখেছি যে বার্ধক্যে তার ভ্রু চোখের ওপর নুয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সে রাস্তায় তরুণীদের চোখের ইশারায় চিমটি কাটত। (সহিহ বুখারি,হাদিস : ৭৫৫)


 

]]>
Wed, 18 May 2022 17:38:24 +0600 BD124.com
কিভাবে এশারের নামাজ আদায় করবেন। কয় রাকাত এবং কি নিয়মে। https://bd124.com/কিভাবে--এশারের-নামাজ-আদায়-করবেন।-কয়-রাকাত-এবং-কি-নিয়মে। https://bd124.com/কিভাবে--এশারের-নামাজ-আদায়-করবেন।-কয়-রাকাত-এবং-কি-নিয়মে।

নামাজ বা সালাত, কিভাবে আদায় করতে হয়। আমরা অনেকেই জানিনা, এই ভিডিওতে জানব। সহি শুদ্ধ ভাবে, নামাজ কিভাবে আদায় করতে হয়। আপনি কিভাবে 5 ওয়াক্ত নামাজ বা সালাত আদায় করবেন। সহি শুদ্ধভাবে ।কি সূরা বা দোয়া আপনাকে জানতে হবে। কিভাবে রুকু সেজদা ,সহিহ শুদ্ধ ভাবে দিতে হয়। অনেকেই জানিনা। আশা করি, আপনি কিংবা আপনার বন্ধু,আপনার পরিবার। এই ভিডিওর মাধ্যমে জানতে পারবেন সহি শুদ্ধভাবে নামাজ বা সালাত আদায় করার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম। 


(এ বিষয়ে ইসলামিক ভিডিও পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন (Subscribe now)


এশার নামাজের গুরুত্বপূর্ণ,কিছু মাসআলা মাসায়েল। এশার নামাজ বা সালাত, কয় রাকাত এবং কিভাবে আদায় করবেন। প্রথমে চার রাকাত ফরজ আদায় করুন । তারপর দুই রাকাত সুন্নত আদায় করুন । তারপর দুই রাকাত সালাতুল বেতের আদায় করুন । ফরজ নামাজ জামাতের সহিত আদায় করা সর্বোত্তম। উল্লেখযোগ্য,একাকীত্ব আদায় করার প্রয়োজন হলে। এই নিয়মাবলী অনুসরণ করে। এশার নামাজ বা সালাত আদায় করুন। 


এশার  নামাজ কত রাকাত । 

এশার নামাজ 9 রাকাত । চার রাকাত ফরজ। দুই রাকাত সুন্নত। তিন রাকাত সালাতুল বেতের।


এবার চার  রাকাত ফরজ। আদায় করুন >

চার রাকাত ফরজ, আদায় করার নিয়তে দাঁড়িয়ে যান । অতঃপর পায়ের গোড়ালি এক বিঘাতের নেয়, ফাঁকা রেখে সমান করে দাঁড়িয়ে পড়ুন..

এশারের ফরজ নামাজ,নিয়ত করে (আল্লাহু আকবার বলে) উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠান। মনে রাখবেন, হাত কান পর্যন্ত উঠানোর সময়, হাতের তালু এবং আঙুলগুলো,কেবলা মুখী করে রাখুন।

তাকবীরে তাহারিমা বলার পর বাঁ-হাতের ওপর ডান-হাত রেখে নাভির নিচে রাখুন। বা বুকের উপরে রাখুন । এরপরে সানা পড়ুন । (সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।)


এরপর (আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম ,বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) ।


এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧) 

সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন।  হানাফি মাজহাব মতে আমিন আস্তে পড়া উত্তম। তবে জোরে আমিন বলার ব্যাপারে ইমামদের মতামত পাওয়া যায়। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত।

তারপর যে কোন একটি সূরা পড়ুন। অথবা যে কোন সূরা থেকে তিন আয়াত সমতুল্য। কেরাত পাঠ করুন। এই পরিমাণ তিলাওয়াত নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যক। তবে নামাজে কোরআন তিলাওয়াতের সুন্নত পরিমাণের বিবরণও ফিকহের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ١ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ٢ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ٣ وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّـٰثَـٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ ٤ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ٥)


অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৯)  রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। উল্লেখযোগ্য , মাথা ও চোখের নজর, সেজদার স্থান বরাবর রাখুন। পিঠকে সোজাভাবে লম্বা করে রাখুন। রুকুতে কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)


এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পাঠ করুন। ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । ( হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)


এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)  সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর উভয় হাতের মাঝে কপাল মাটিতে রাখুন। নিজের পেটকে রান থেকে এবং বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক করে রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুলকে কিবলামুখী করে রাখুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮৫) সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)


এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম আল্লাহু আকবার বলে, মাথা উঠিয়ে উভয় হাতকে রানের ওপর রেখে স্থিরতার সঙ্গে বসে পড়ুন। ( পাঠ করুন, উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি।)


এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭) সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’পড়ুন। অতঃপর মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে এবং না বসে সরাসরি তাকবির আল্লাহু আকবার বলে ,দাঁড়িয়ে যান। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)


এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >


(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧)

সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন। অতঃপর অন্য একটি সূরা পাঠ করুন।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤)

অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৯) রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। উল্লেখযোগ্য , মাথা ও চোখের নজর, সেজদার স্থান বরাবর রাখুন। পিঠকে সোজাভাবে লম্বা করে রাখুন। এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান। ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । ( হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ )


এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭) সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর উভয় হাতের মাঝে কপাল মাটিতে রাখুন। নিজের পেটকে রান থেকে এবং বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক করে রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুলকে কিবলামুখী করে রাখুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮৫) সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)


এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, মাথা উঠিয়ে উভয় হাতকে রানের ওপর রেখে স্থিরতার সঙ্গে বসে পড়ুন। ( পাঠ করুন, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি।)


এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন । ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’, অতঃপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে বসে পড়ুন ।


এবারে তাশাহুদ পাঠ করুন, ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা, আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ। ’


তাশাহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে সরাসরি দাঁড়িয়ে পড়ুন।


এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧)  

এবার আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে জান । রুকুতে পাঠ করুন। সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম। এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান।

‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । ( হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করুন।

এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে,মাথা উঠিয়ে বসে পড়ুন। আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনী, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি।  এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন । ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’, অতঃপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে বসে পড়ুন ।


এবারে তাশাহুদ পাঠ করুন >

‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা, আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।’


তাশাহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন।


এরপরে দুরুদে ইব্রাহিম পাঠ করুন >


‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম। ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদ, ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম, ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’


এরপর দোয়ায়ে মাসুরা পাঠ করুন >

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম-মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।


এবার সালাম ফিরানো >

‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতে বলতে ডানে এবং বাঁয়ে মাথা ফেরাবেন। সালাম ফেরানোর সময় আপনার পাশের নামাজি ব্যক্তি এবং ফেরেশতাদের কথা স্মরণ করবেন। 


হয়ে গেল সহিসালামতে মাগরিবের তিন রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা। এবার মাগরিবের দুই রাকাআত সুন্নাত আদায় করুন।


এশারের দুই রাকাত সুন্নত >

দুই রাকাত সুন্নাত, আদায় করার নিয়তে দাঁড়িয়ে যান । অতঃপর পায়ের গোড়ালি এক বিঘাতের নেয়, ফাঁকা রেখে সমান করে দাঁড়িয়ে পড়ুন..

এশারের দুই রাকাআত সুন্নাত নামাজ,নিয়ত করে (আল্লাহু আকবার বলে) উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠান। মনে রাখবেন, হাত কান পর্যন্ত উঠানোর সময়, হাতের তালু এবং আঙুলগুলো,কেবলা মুখী করে রাখুন।


তাকবীরে তাহারিমা বলার পর বাঁ-হাতের ওপর ডান-হাত রেখে নাভির নিচে রাখুন। বা বুকের উপরে রাখুন । এরপরে সানা পড়ুন । (সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।)


এরপর (আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম ,বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) ।

এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >


(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧)


সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন। অতঃপর অন্য একটি সূরা পাঠ করুন।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤)


এবার আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে জান । রুকুতে পাঠ করুন। সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম। এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান। ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । ( হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করুন।


এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে,মাথা উঠিয়ে বসে পড়ুন। আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনী, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি। এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন । ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’, অতঃপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন ।


এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন > 

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧)


সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন। অতঃপর অন্য একটি সূরা পাঠ করুন।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤)

এবার আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে জান । রুকুতে পাঠ করুন। সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম। এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান। ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । ( হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করুন।


এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে,মাথা উঠিয়ে বসে পড়ুন। আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনী, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি। এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন । ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’, অতঃপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে বসে পড়ুন ।


এবারে তাশাহুদ পাঠ করুন >

‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা, আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।’


তাশাহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন।


এরপরে দুরুদে ইব্রাহিম পাঠ করুন >

‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম। ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদ, ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম, ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’


এরপর দোয়ায়ে মাসুরা পাঠ করুন >

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম-মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।


এবার সালাম ফিরানো >

‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতে বলতে ডানে এবং বাঁয়ে মাথা ফেরাবেন। সালাম ফেরানোর সময় আপনার পাশের নামাজি ব্যক্তি এবং ফেরেশতাদের কথা স্মরণ করবেন।


এবার তিন রাকাত সালাতুল বেতের >

তিন রাকাত সালাতুল বেতের, আদায় করার নিয়তে দাঁড়িয়ে যান ।  তিন রাকাত সালাতুল বেতের নামাজ,নিয়ত করে (আল্লাহু আকবার বলে) উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠান।  


তিন রাকাত সালাতুল বেতের, আদায় করার নিয়তে দাঁড়িয়ে যান ।  তিন রাকাত সালাতুল বেতের নামাজ,নিয়ত করে (আল্লাহু আকবার বলে) উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠান। 


এরপর (আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম ,বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) ।

এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >


(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧)


সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন। অতঃপর অন্য একটি সূরা পাঠ করুন।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤)


 এবার আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে জান । রুকুতে পাঠ করুন। সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম। এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান। ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । ( হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করুন।


এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে,মাথা উঠিয়ে বসে পড়ুন। আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনী, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি। এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন । ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’, অতঃপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ুন ।


 এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন > 

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧)


সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন। অতঃপর অন্য একটি সূরা পাঠ করুন।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤)


এবার আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে জান । রুকুতে পাঠ করুন। সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম। এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান। ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । ( হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করুন।


এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে,মাথা উঠিয়ে বসে পড়ুন। আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনী, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি। এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন । ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’, অতঃপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে বসে পড়ুন ।


এবারে তাশাহুদ পাঠ করুন >

‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা, আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।’

তাশাহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন।


এবার মাটিতে হাত না দিয়ে সরাসরি দাঁড়িয়ে পড়ুন ।  এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন > 

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧)


সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন। অতঃপর অন্য একটি সূরা পাঠ করুন।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

 (قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤)


এবার (আল্লাহু আকবার বলে) উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠান। তাকবীর বলার পর বাঁ-হাতের ওপর ডান-হাত রাখুন ।

এবার দোয়ায়ে কুনুত পাঠ করুন।  


দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ > 

আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্‌তাঈ’নুকা, ওয়া নাস্‌তাগ্‌ফিরুকা, ওয়া নু’’মিনু বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু ‘আলাইকা, ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশ কুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ’, ওয়া নাতরুকু মাঁই ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া লাকানুসল্লী, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস’আ, – ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা – আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্‌ফারি মুলহিক্ব।


‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । ( হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করুন।

হয়ে গেল সহিসালামতে এশারের দুই রাকাআত সুন্নাত আদায় করা । এরই সাথে,এশারের ফরজ এবং সুন্নত সহিহ শুদ্ধ ভাবে আদায় করা হলো। (নামাজ শিক্ষা সবগুলো পোষ্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন) Link


]]>
Wed, 18 May 2022 16:13:01 +0600 BD124.com
মাগরিবের নামাজের নিয়ম । কয় রাকাত এবং কি নিয়মে। মাগরিবের নামাজ মোট কত রাকাত । https://bd124.com/কিভাবে-মাগরিবের-নামাজ-আদায়-করবেন।-কয়-রাকাত-এবং-কি-নিয়মে। https://bd124.com/কিভাবে-মাগরিবের-নামাজ-আদায়-করবেন।-কয়-রাকাত-এবং-কি-নিয়মে।

নামাজ বা সালাত, কিভাবে আদায় করতে হয়। আমরা অনেকেই জানিনা, এই ভিডিওতে জানব। সহি শুদ্ধ ভাবে, নামাজ কিভাবে আদায় করতে হয়। আপনি কিভাবে 5 ওয়াক্ত নামাজ বা সালাত আদায় করবেন। সহি শুদ্ধভাবে ।কি সূরা বা দোয়া আপনাকে জানতে হবে। কিভাবে রুকু সেজদা ,সহিহ শুদ্ধ ভাবে দিতে হয়। অনেকেই জানিনা। আশা করি, আপনি কিংবা আপনার বন্ধু,আপনার পরিবার। এই ভিডিওর মাধ্যমে জানতে পারবেন সহি শুদ্ধভাবে নামাজ বা সালাত আদায় করার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম। 


(এ বিষয়ে ইসলামিক ভিডিও পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন (Subscribe now)


মাগরিবের নামাজের গুরুত্বপূর্ণ,কিছু মাসআলা মাসায়েল। মাগরিবের নামাজ বা সালাত, কয় রাকাত এবং কিভাবে আদায় করবেন। তিন রাকাত ফরজ আদায় করুন । ফরজ নামাজ জামাতের সহিত আদায় করা সর্বোত্তম। উল্লেখযোগ্য,একাকীত্ব আদায় করার প্রয়োজন হলে। এই নিয়মাবলী অনুসরণ করে। মাগরিবের নামাজ বা সালাত আদায় করুন। 


মাগরিবের নামাজ কত রাকাত । 

মাগরিবের নামাজ বা সালাত পাঁচ রাকাত। প্রথমে তিন রাকাত, ফরজ আদায় করুন । দ্বিতীয়তে দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করুন ।


এবার তিন  রাকাত ফরজ। আদায় করুন >

তিন রাকাত ফরজ, আদায় করার নিয়তে দাঁড়িয়ে যান । অতঃপর পায়ের গোড়ালি এক বিঘাতের নেয়, ফাঁকা রেখে সমান করে দাঁড়িয়ে পড়ুন..

মাগরিবের ফরজ নামাজ,নিয়ত করে (আল্লাহু আকবার বলে) উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠান। মনে রাখবেন, হাত কান পর্যন্ত উঠানোর সময়, হাতের তালু এবং আঙুলগুলো,কেবলা মুখী করে রাখুন।

তাকবীরে তাহারিমা বলার পর বাঁ-হাতের ওপর ডান-হাত রেখে নাভির নিচে রাখুন। বা বুকের উপরে রাখুন । এরপরে সানা পড়ুন । (সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।)


এরপর (আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম ,বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) ।


এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧) 

সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন।  হানাফি মাজহাব মতে আমিন আস্তে পড়া উত্তম। তবে জোরে আমিন বলার ব্যাপারে ইমামদের মতামত পাওয়া যায়। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত।

তারপর যে কোন একটি সূরা পড়ুন। অথবা যে কোন সূরা থেকে তিন আয়াত সমতুল্য। কেরাত পাঠ করুন। এই পরিমাণ তিলাওয়াত নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যক। তবে নামাজে কোরআন তিলাওয়াতের সুন্নত পরিমাণের বিবরণও ফিকহের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ١ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ٢ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ٣ وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّـٰثَـٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ ٤ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ٥)


অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৯)  রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। উল্লেখযোগ্য , মাথা ও চোখের নজর, সেজদার স্থান বরাবর রাখুন। পিঠকে সোজাভাবে লম্বা করে রাখুন। রুকুতে কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’‘স