বিশ্বের ৭টি রহস্যময় বিমান দুর্ঘটনা

বিশ্বের ৭টি রহস্যময় বিমান দুর্ঘটনা,বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কে,বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ,বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ২০২১ তালিকা

বিশ্বের ৭টি রহস্যময় বিমান দুর্ঘটনা
বিশ্বের ৭টি রহস্যময় বিমান দুর্ঘটনা

গত কয়েক বছরে বিমান নিখোঁজের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিমানের রহস্যময় নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। ইতিহাসে এমন কয়টি বিমান দুর্ঘটনা এবং নিখোঁজের কাহিনী রয়েছে তার সঠিক হিসেব কারো কাছে নেই। গত বছর নিখোঁজ হওয়া মালয়েশিয়ার এয়ারলাইন্সের বিমানটির বিষয়ে এখনো রহস্য ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে। এটি নিখোঁজ কিংবা বিধ্বস্ত হতে পারে। চলুন জেনে নিই ইতিহাসের এমনই ৭টি রহস্যময় বিমান নিখোঁজ ও দুর্ঘটনা সম্পর্কে।



৭. ফ্লাইট-৫৭১ এর আন্দিজ পর্বতের দুর্যোগ:

উরুগুয়ান এয়ার ফোর্সের চার্টার বিমান ৪৫ জন যাত্রীসহ খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই যাত্রা শুরু করে আন্দিজ পর্বতের উপর দিয়ে। যাত্রার প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিধ্বস্ত হয় আন্দিজ পর্বতমালায়। বিধ্বস্তের সাথে সাথেই মারা যায় ১২জন যাত্রী। পরদিন মারা যায় আরও ছয়জন।

৮ জন যাত্রী প্লেন দুর্ঘটনার স্থান থেকে হাঁটতে থাকেন লোকালয়ের উদ্দেশ্যে। বাকি ১৬ জন বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন নরমাংসভক্ষণের মাধ্যমে। ৭২ দিন পর্যন্ত তাদের কেউ খুঁজে পায়নি। বেঁচে থাকে মাত্র দুইজন, যাদের খুঁজে পায় একজন গ্রাম্য ফেরিওয়ালা। সে কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়।

এছাড়াও বিএসএএ গ্রুপের আরেকটি ফ্লাইটে 'স্টার এরিয়াল' নামের একটি বিমান ১৯৪৯ সালে বারমুডা থেকে জ্যামাইকা যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ আজীবনের জন্য বিএসএএ স্টার গ্রুপের সব বিমান বন্ধ করে দেয়।



৬. রহস্যময় বিমান নাম্বার ১৯১:

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানের ইতিহাসে ১৯১ নাম্বারটা একটা দুর্যোগের নাম। ১৯৭৯ সালে ফ্লাইট-১৯১ উড্ডয়নের মিনিট খানিক পর বিধ্বস্ত হয়। মারা যায় ২৫৮ জন যাত্রী এবং ১৩ জন ক্রু। পাইলটের মৃত্যুর কারণে এক্স-১৫ ফ্লাইট ১৯১ নামের পরের বিমানটিও উড়ার কিছুক্ষণ পর বিধ্বস্ত হয়। মারা যায় অনেক যাত্রী। এমনকি ২০১২ সালের জেট ব্লু এয়ারওয়ে ফ্লাইট ১৯১ উড়ার মুহূর্তে পাইলট স্ট্রোক করে একে কোনোরকমে বিধ্বস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেন।



৫. বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে নিখোঁজ স্টার টাইগার প্লেন :

চিলির সান্তা মারিয়া থেকে এরপর রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ হয় বিএসএএ গ্রুপের স্টারটাইগার নামের একটি বিমান। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ২৫ জন যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়ে বিমানটি, এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম নায়ক স্যার আর্থার কোনিংহাম ছিলেন।

বিমান প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাতাসের বাধা এড়িয়ে কিছুটা নিচু হয়ে উড়ছিল। এটি মূলত বারমুডার উদ্দেশ্যেই যাচ্ছিল। কন্ট্রোল টাওয়ারে দেখা যাচ্ছিল বিমানটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছে কিন্তু সেই যাত্রাই ছিল তার অন্তিম যাত্রা। এরপর বিমানটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।



৪. স্টার ডাস্ট এবং রহস্যময় মোর্স কোড:

১৯৪৭ সালের আগস্টের ২ তারিখ আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ারস থেকে চিলির সান্তিয়াগোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে 'বিএসএএ স্টার ডাস্ট' নামের একটি যাত্রীবাহী বিমান। যাত্রার কিছুক্ষণ পরেই আকাশে স্টার ডাস্টের সর্বশেষ খবর জানান বৈমানিক।

এরপর কন্ট্রোল টাওয়ারের রেডিওতে আসে একটি রহস্যময় মোর্স কোড 'STENDEC' তারপর নিখোঁজ হয়ে যায় বিমানটি। কী ঘটে ছিল সেই বিমানের ভাগ্যে তা আজো অজানা। ধারণা করা হয়, বরফাচ্ছাদিত পর্বতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বরফ ধ্বসে বিধ্বস্ত হয় এবং বরফ চাপা পড়ে।



৩. বারমুডা ট্রায়াঙ্গালে নিখোঁজ ফ্লাইট ১৯ :

১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর বিকেল। ইউএস নৌবাহিনীর বিমান ডিভিশনের ট্রেনিং সেশন চলছিল সেদিন। বিকেলবেলা ফ্লোরিডার মাটি থেকে আকাশে উড়লো একে একে ছয়টি বিমান, কিন্তু ফিরে আসেনি এর একটিও। এর ফলেই জন্ম নেয় এক অবিশ্বাস্য রহস্য- বারমুডা ট্রায়াঙ্গাল।

এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিলো এই সেশন। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বৈমানিকদের আপডেট ছিল, তারা সামনে ঘন বায়ুস্তর ছাড়া কিছুই দেখছেন না এবং তাদের কম্পাস অনবরত ঘুরছে, কোনো দিক নির্দেশ করছে না। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য তাদের উদ্ধারে নৌবাহিনী থেকেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। এভাবেই সেই ছয়টি বিমান এবং তাদের বৈমানিকরা হারিয়ে যান চিরদিনের জন্য।



২. ইংলিশ চ্যানেলে নিখোঁজ বৈমানিক গ্লিন মিলারের বিমান:

গ্লিন মিলার ছিলেন ইউএস এয়ারফোর্সের বিগ ব্যান্ড পদক প্রাপ্ত একজন বৈমানিক। ১৯৪৪ সালের গ্রীষ্মে তিনি প্যারিসে বিমানবাহিনীর বার্ষিক প্রদর্শনীতে ছিলেন। ১৫ই ডিসেম্বর ১৯৪৪ সালে তিনি প্যারিস থেকে আকাশে উড়াল দেন এবং ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সময় নিখোঁজ হন। তার এই নিখোঁজ হওয়া নিয়ে অনেক গালগল্প প্রচলিত ছিল।

কেউ কেউ বলেন জার্মান বোম্বাররা তার বিমান ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে মজার মতবাদটি দেন একজন জার্মান সাংবাদিক। তিনি একটি জার্মান পত্রিকায় লিখেন মিলার বেঁচে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান প্যারিসের একটি পতিতালয়ে। এখন পর্যন্ত তার নিখোঁজের কারণটি অজানা।



১. পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে বিমান নিয়ে নিখোঁজ অ্যামিলিয়া ইয়ারহার্ট :

আমেরিকার বিমানচালনার পথপ্রদর্শক অ্যামিলিয়া ইয়ারহার্ট ১৯৩৭ সালে ২ জুলাই পৃথিবী প্রদক্ষিণকালে তার নেভিগেটরসহ নিখোঁজ হয়। তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা বিমানচালক যিনি আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের কাছাকাছি হাউল্যান্ড দ্বীপে এটি নিখোঁজ হয়ে যায়। অ্যামেচার গবেষকদের মতবাদ তার বিমানের জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি বিধ্বস্ত হয়। অন্যদের মতবাদ তিনি ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজবেল্টের গুপ্তচর ছিলেন বলে তাকে জাপানের সৈন্যরা ধরে নিয়ে গিয়েছে।

অন্যরা বলে থাকেন তিনি বিমান নিয়ে জাপানের কোন দ্বীপে বিধ্বস্ত হয়েছেন। আর সবচেয়ে মজার যে তথ্যটি পাওয়া যায় তা হলো, এলিয়েনরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এর সঠিক কারণ জানা যায়নি।



ইতিহাসের এমনই সাতটি বিমান দুর্ঘটনার রহস্য আজও সুরাহা হয়নি। জানা যায়নি পরবর্তীতে কী ঘটেছিল বিমানগুলোর ভাগ্যে।


বন্ধুরা কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন। কোন বিমান দুর্ঘটনা, আপনার রহস্যময়  মনে হল । কোন ঘটনাটি অদ্ভুত বলে মনে হয়। কোন ঘটনা অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর মনে হল। বিমানের কোন তথ্য জানার জন্য আপনি আগ্রহী । কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না ।

নতুন হয়ে থাকলে ,সাবস্ক্রাইব করে পাশের বেল Icon-এ ক্লিক করে রাখবেন। নিত্য নতুন অদ্ভুত এবং রহস্যময় ভিডিও পাওয়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।