কি রহস্য মহাসাগরের তলদেশে

কি রহস্য মহাসাগরের তলদেশে,সমুদ্রের তলদেশের ছবি,সমুদ্রের নিচে কি আছে,সমুদ্র নিয়ে ক্যাপশন,সমুদ্র নিয়ে রোমান্টিক স্ট্যাটাস

কি রহস্য মহাসাগরের তলদেশে
কি রহস্য মহাসাগরের তলদেশে


মহাসাগরে অতল গহবরে লুকিয়ে আছে বিস্ময়কর সব রহস্য।কেনা জানতে চাই মহাসমুদ্রে কি আছে। ঠিক তাই, বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা করেছে, মহাসমুদ্রে কি লুকিয়ে আছে। বিজ্ঞানীদের তথ্য জানলে সত্যিই অবাক না হয়ে পারবেন না। চলুন আজকের অদ্ভুত রহস্য কি লুকিয়ে আছে দেখা যাক।


ভূপৃষ্ঠের ৭০ শতাংশ যেহেতু সমুদ্রের অন্তর্গত। তাই ভূপৃষ্ঠের ৭০ শতাংশ পৃষ্ঠ সমুদ্রের নিচে অবস্থিত। এবং এই পৃষ্ঠের অনেকটাই মানুষের চোখের বাইরে রয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আমরা যদিও সৌরজগতের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের গবেষনা চালিয়েছি। তবে সেই তুলনায় সমুদ্রের বিষয় নিয়ে গবেষণার পরিমাণ অনেক কম। আমরা সমুদ্রের বিভিন্ন স্থানের গভীরতা মাপতে সক্ষম হলেও সেখানে এখনো পৌঁছাতে পারিনি। তাই এখনও আমাদের কাছে সমুদ্রের তল অজানাই রয়ে গেছে। সমুদ্রের তল আমাদের কাছে বিস্ময়কর একটি রহস্য।


ওসিয়ান এক্সপ্লোরেশন ট্রাস্টের গবেষকরা ২০১৬ সালে সমুদ্রের নিচে একটি গবেষণা কার্যকরী চালনা করছিলেন। তাদের এক্সপ্লোরেশন জাহাজের নাম ছিল নটিলাস। তারা নটিলাসে করে ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্র তলদেশ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। হঠাৎ তাদের চোখ একটি বেগুনি রঙের অরব দিকে আটকে যায়। তারা অবাক বিস্ময় এই বেগুনি রঙের বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকেন। প্রাথমিক অবস্থায় তারা এটিকে মাকড়সার ডিমের থোলি বা ক্ষুদ্র আকৃতির অক্টোপাস বলে নিজেরা নিজেদের মধ্যে তামাশা করেন।পরবর্তীতে তারা এর একটি নমুনা সংগ্রহ করেন। তারা এখনও নিশ্চিত নয় এই জীবটি কিসের প্রজাতি। এই জীব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো রয়ে গেছে রহস্য।


বাল্টিক সাগরে এলিয়েনের স্পেসশিপ:

আমরা তো মহাকাশে অনেক জায়গায় এলিয়েনদের খুঁজলাম। পাওয়া গেল না। তবে কি সমুদ্রের তলায় তারা তাদের ঘাটি করতে পারে? ২০১১ সালে সমুদ্র অনুসন্ধানকারী দের একটি দল বাল্টিক সাগরের নিচে অদ্ভুত চিহ্নযুক্ত ডিম্বাকৃতির একটি বস্তু খুঁজে পায়।পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। অনেকই এটিকে এলিয়েনদের স্পেসশিপ বলে ধারণা করেন। বিজ্ঞানীরা অবশ্য তাদের সাথে একমত নয়। তাদের ধারণা এই অদ্ভুত গঠনটি মূলত হিমবাহ দ্বারা সৃষ্টি। অথবা খেয়ালী প্রকৃতি আপন-মনে সাজিয়েছে সাগরের তলদেশকে। তবে এটি আসলে কি? এবং কি থেকে সৃষ্টি এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্য।


ইউরোপ এবং উত্তর অ্যামেরিকার ২৪টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে। চলবে আগামী চার বছর ধরে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের এই গবেষণাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরের অজানা পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং এই মহাসাগরের স্রোতধারায় যে পরিবর্তন ঘটছে জলবায়ুর ওপর তার কি ধরনের প্রভাব পড়ছে সেটা সম্পর্কে জানা। এবিষয়ে এতো বড়ো ধরনের গবেষণা এর আগে কখনোই হয়নি।



বিশালাকৃতির স্কুইড:

আপনি কি পাইরেটস অফ দ্য ক্যারাবিয়ান দেখেছেন? তাহলে নিশ্চয়ই সমুদ্রের দানব ক্রাকেন সম্পর্কে জানেন। অথবা আপনি যদি জুল ভার্নের লেখা ২০০০ লীগ আন্ডার দা সি পড়ে থাকেন তাহলেও বিশালাকৃতির এই দানব সম্পর্কে আপনার ধারণা রয়েছে। বেশ কয়েকটি সমুদ্রে ডুবে যাওয়া জাহাজের বেঁচে যাওয়া নাবিকেরা বলেছেন যে বিশালাকৃতির স্কুইড তাদের জাহাজ আক্রমণ করে ডুবিয়ে দিয়েছে।


তবে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য মানতে নারাজ। তবে গভীর সমুদ্রের অনেক প্রাণী সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে বিজ্ঞানীরা জায়ান্ট স্কুইডের ছবি তুলতে সক্ষম হন। তবে এরা গভীর সমুদ্রের প্রাণী হওয়ায় এদের জীবনযাপন প্রণালী সম্পর্কে জানা যায়নি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে এরা আকৃতিতে প্রায় ৬৬-৭০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এটিও একটি রহস্যময় প্রাণী।



সর্ব বৃহত্তম জলপ্রপাত :

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক বৃহৎ জলপ্রপাত এর নাম কি? কি উত্তর দিবেন আপনি? নিশ্চয়ই আপনার মনে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের কথা মাথায় আসবে। তবে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে গভীর সমুদ্রের তলদেশে একটি বিশাল জলপ্রপাত রয়েছে।


যা পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম জলপ্রপাত এর চেয়েও প্রায় ৪ গুন বড়। চিন্তা করা যায় বিশাল জলপ্রপাত রয়েছে সমুদ্রের তলে। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যের বিষয় হলো সমুদ্রের তলে কিভাবে জলপ্রপাতের অস্তিত্ব বিদ্যমান। এর উত্তর তারা আজও জানতে পারেননি।



দুধময় সাগর :

শত শত বছর ধরে নাবিকেরা বলে আসছেন যে তারা যতদূর চোখ যায় সাগরে দুধের আভা দেখেছেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখনো এর ব্যাখ্যা দিতে পারেননি, প্রকৃতপক্ষে ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত এ ঘটনা সত্য কিনা সে সম্পর্কেও তারা নিশ্চিত ছিলেন না।


২০০৬ সালে গবেষকরা দুধময় সাগরের একটি স্যাটেলাইট ইমেজ তুলতে সক্ষম হন এবং কিছু বছর পর আবিষ্কৃত হয় যে, সাগরকে দুধময় লাগার কারণ হলো আলো উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার আভা। এসব আভায় প্রলুব্ধ হয়ে মাছেরা ব্যাকটেরিয়াগুলো খেয়ে ফেলে এবং ব্যাকটেরিয়াগুলো মাছের পেটে বসতি গড়ে।


কিন্তু বিজ্ঞানীরা এটা নিশ্চিত নন যে কিভাবে বা কেন এত বেশি সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া একত্রিত হয়, যা মহাশূন্য থেকে দেখা যায়। এসব ব্যাকটেরিয়ার আভা নিরবচ্ছিন্ন থাকে। এরা ডাইনোফ্লাজিলেট নামক অণুজীবের মতো স্বল্পস্থায়ী আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করে না।



সমুদ্র তলদেশের ভূপৃষ্ঠ : 

আমরা মহাসাগরের ভূখণ্ড সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না, কিন্তু আমরা যা দেখেছি তা মনে বিস্ময়ের জোয়ার এনেছে, কারণ মহাসাগরের তলদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গে জলে অনাবৃত ভূখণ্ডের সাদৃশ্যতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্রাইন পুলস হলো মহাসাগরের তলদেশের এমন স্থান, যেখানে লবণাক্ত পানির ঘনত্ব চারপাশের মহাসাগরের চেয়ে বেশি এবং এটা দেখতে হ্রদের মতো।


পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতটি ডেনমার্ক প্রণালিতে পানির নিচে, যেখানে ১১,৫০০ ফুট উচ্চতা থেকে মহাসাগরের তলদেশে ঠান্ডা পানির পতন হয়, অন্যদিকে পানিতে অনাবৃত ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতটির উচ্চতা মাত্র ৩,২১২ ফুট।


পানির নিচেও আগ্নেয়গিরি সক্রিয় হয়- এমনকি সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরিটি সম্প্রতি সক্রিয় হয়, যা বিজ্ঞানীদের প্রায় অগোচরে চলে যাচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা এসবকিছুর অস্তিত্ব জানলেও এগুলোর প্রকৃত মেকানিজম সম্পর্কে অবগত নন। মহাসাগরের এসব রহস্য উন্মোচনের জন্য তাদের আন্তরিক গবেষণা চলমান রয়েছে।



বন্ধুরা কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিবেন। সমুদ্রে কোন জায়গা আপনার পছন্দ হয়েছে। কোন জায়গা রহস্যময় বলে মনে হল। কোন জায়গা অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর মনে হল। সমুদ্রের কোন তথ্য জানার জন্য আপনি আগ্রহী । কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না ।


নতুন হয়ে থাকলে ,সাবস্ক্রাইব করে পাশের বেল icon-এ ক্লিক করে রাখবেন। নিত্য নতুন অদ্ভুত এবং রহস্যময় ভিডিও পাওয়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না।