গুনাহ থেকে বেচে থাকার ৫টি উপায় জেনে নিন

গুনাহ থেকে বেচে থাকার ৫টি উপায় জেনে নিন

গুনাহ থেকে বেচে থাকার ৫টি উপায় জেনে নিন
গুনাহ থেকে বেচে থাকার ৫টি উপায় জেনে নিন


আজকে আমরা একটি গল্প শেয়ার করবো ডা ছিল একটি যুবকের তওবা। গল্পটি আত্তাওয়াবিন গ্রন্থের ২৮৭ থেকে ২৮৮ পৃষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

হযরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ছিলেন একজন সুফি সাধক ব্যক্তি। ক্ষমতা ও সম্পদের প্রভাবশালী হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।নিরহংকার জীবনে তিনি গুনাহমুক্ত জীবনের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট ছিলেন।

একদা একবার এক যুবক ব্যক্তি হযরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি কাছে আধ্যাত্নিক প্রশান্তি লাভের জন্য এসেছিলেন। এই ব্যক্তি হযরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) কে বললেন, আমি বড় অপরাধী। আমি নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি।আমাকে এমন কিছু উপদেশ দিন, যাতে আমি পাপাচার থেকে বিরত থাকতে পারি।আমাকে এমন কিছু শুনান যা আমাদের অন্তরে দাগ টেনে দিবে। আর আমি গুনাহ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো।

তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম বললেন → যদি তুমি ৫ টি কথা গ্রহন করতে পারো এবং মানতে পারো তবে কখনো গুনাহ তোমার ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। আর দুনিয়ার ভোগ বিলাস তোমাকে ধ্বংস করতে পারবে না।তখন যুবক লোকটি বললো হে হযরত! বলুন কি সেই ৫টি কথা?

তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম এই ব্যক্তির উদ্দেশ্যে গুনাহমুক্ত জীবন যাপনের চমৎকার পাঁচটি উপদেশ তুলে ধরেছিলেন। তাহলো –



05 =  কিয়ামতের দিন জাহান্নামের ফেরেশতারা টেনে হিঁচড়ে তোমাকে জাহান্নামে যখন নিক্ষেপ করবে তখন তুমি কি জোর করে জাহান্নামে থেকে বেঁচে আসতে পারবে..? গুনাহ মুক্ত জীবন লাভে পরামর্শ চাওয়া সেই যুবকটি সর্বশেষ পরামর্শ শুনে মাত্রই কেঁদে উঠলেন। আর বললেন → তা কি করে সম্ভব..? জাহান্নামের দায়িত্বশীল ফেরেশতা আমাকে তো ছেড়ে দিবেনা আমার কোনো ওজর আপত্তি শুনবে না। জাহান্নামের সাজা থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।



04 =  মালাকাল মউত হযরত আজরাইল (আঃ) যখন তোমার যান কবজ করতে আসবে তখন তুমি তাঁকে বলবে, যে আমার কিছুদিন বা কিছুটা সময় দিন। যাতে করে আমি তওবা ও ভালো আমল করে নিতে পারি।বলোঃ তোমার এ কথা বলার অবকাশ আছে কি যা আমাকে আরও কিছু সময় দিন বা আমার প্রাণ হরণ করবেনা।

তখন যুবকটি বললোঃ তা কি করে সম্ভব..? না এ সুযোগ কখনোই থাকতে পারেনা। কখনোই মৃত্যুর ফেরেশতা তার দায়িত্ব পালনে দেরি করবেনা। তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন → যখন তুমি জানোই যে মালাকাল মউত কখনোই তোমাকে তওবা করতে বা নেক আমল করতে সামান্য সময় টুকুও দিবেনা, তাহলে তুমি নাজাত পাবে কি করে..?

সুতরাং মুক্তির পথ একটাই গুনাহমুক্ত জীবন যাপন করা। কারণ মৃত্যুর ফেরেশতা সবসময় প্রাণ নিতে প্রস্তত।যে কোনো সময় তোমার মৃত্যু হতে পারে। তাই গুনাহের কাজ ছেড়ে দেয়াই শ্রেয়।



03 =  তখন তিনি তৃতীয় কথা বললেন যে, তুমি আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে চলে যাও! পাপ করার ইচ্ছে থাকলে তোমাকে আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে চলে যেতে হবে! এ কথা শুনেও এই যুবক ব্যক্তি বললেঃ এমন কোনো স্হান আছে কি যা মহান আল্লাহ তায়ালা দৃষ্টির বাইরে..? আল্লাহ তায়ালা তো ঘোর অন্ধকারের মাঝে পিপড়ার পদচারণা ও পদশব্দ দেখতে ও শুনেন।

তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন → যদি তোমার আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকে তবে গোনাহ বা অন্যায় ছেড়ে দেয়া ছাড়া তোমার আর কোন বিকল্প নেই আর কোনো উপায় নেই।তখন যুবকটি বললোঃ আপনি ঠিকই বলেছেন। তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন এইবার তুমি চতুর্থ কথাটি শোনো।



02 = এরপর তিনি দ্বিতীয় উপদেশ বললেন → আল্লাহর সাথে নাফরমানি করতে চাইলে তাঁর আসমান জমিন থেকে বেরিয়ে গিয়ে করো। অর্থ্যাৎ আল্লাহর আসমান জমিন থেকে বের হয়ে যাও। যদি তোমাকে পাপ করতেই হয় তবে আল্লাহর আসমান জমিন থেকে বের হয়ে গিয়ে পাপ করো।

এ কথা শুনে যুবকটি আগের চেয়েও বেশি হতবাক হয়ে বললঃ হে ইবরাহিম! তা কি করে সম্ভব..? উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু এবং পুরো মহাবিশ্বের সবকিছু মালিক তো একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালাই তাহলে আমি যাবো কোথায়..? তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন → এটা কেমন কথা! তাঁর রিজিক খেয়ে তাঁর জমিন থেকে তাঁর নাফরমানি করবে..? এটা কি ঠিক..?

অর্থাৎ তুমি আল্লাহর আসমান জমিনে অবস্থান করে তাঁরই বিরুদ্ধাচারণ করবে..? না তা কোনোভাবে সম্ভব নয়। বরং আল্লাহর আসমান জমিনে বিচরণ করতে হলে অবশ্যই পাপ কাজ ছেড়ে দেয়ার বিকল্প নেই। তখন যুবকটি হতভম্ব হয়ে বললো, আচ্ছা জনাব আপনি তৃতীয় উপদেশ বলুন।



01 =  তুমি আল্লাহর নাফরমানি করতে চাইলে তাঁর রিজিক খাবেনা অর্থাৎ আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে তুমি বিরত থাকবে। অন্যায় বা অপরাধ করতে ইচ্ছা করলে আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে তুমি কিছুই খাবেনা।



এ কথা শুনে যুবকটি বিস্মিত হয়ে বলল – দুনিয়ার সব রিজিক তো মহান আল্লাহরই দেয়া। তাহলে তা না খেয়ে কি করে থাকা সম্ভব? তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম বলেন → এটা কেমন কথা! তোমার পক্ষে যদি তা সম্ভব না হয়, তবে তুমি আল্লাহর দেয়া রিজিক খেয়ে কিভাবে আল্লাহর সাথে নাফরমানি করতে পারো?

এটা কি তোমার কাছে ঠিক মনে হচ্ছে..? যুবকটি তখন বললোঃ না এটা তো ভালো কথা নয়।এটা তো ঠিক নয়।তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম বলেন → সুতরাং আল্লাহর দেয়া রিজিক খেতে হলে, তোমাকে অবশ্যই অন্যায় বা অপরাধ ছেড়ে দিতে হবে। কেননা তাঁর রিজিক খেয়ে তাঁর অবাধ্যতা করার কোনো সুযোগ নাই।



তখন ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন → তাহলে তুমিই বলো যে তোমার নাজাতের উপায় কী..? এবার হযরত ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) কাছে পরামর্শ চাওয়া যুবক ব্যক্তিটি বলতে লাগলেন → হে ইবরাহিম! থামুন, যথেষ্ট হয়েছে। গুনাহমুক্ত জীবন লাভে, পাপাচার থেকে বিরত থাকতে আমার জন্য এ পাঁচটি উপদেশই যথেষ্ট।

আমি তওবা করছি। যাতে জীবনের অন্তিম মূহুর্তে পর্যন্ত সব পাপাচার থেকে বিরত থাকতে পারি। গুনাহমুক্ত জীবন গঠন করতে পারি।সুপ্রিয় পাঠক মন্ডলী শুধু সেই যুবকটি জন্যই নয়! বরং আমাদের কারো পক্ষেই সম্ভব নয় যে আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে বিরত থাকা।

কিংবা আল্লাহর আসমান ও জমিন থেকে চলে যাওয়ার অথবা আল্লাহর দৃষ্টির বাহিরে চলে যাওয়া বা মৃত্যুর ফেরেশতার কাছে সময় নেওয়া অথবা জাহান্নামের দায়িত্বশীল ফেরেশতাকে তার কাজ থেকে বিরত রাখার শক্তি ও সামর্থ আমাদের কারোর নেই, কোনোভাবেই নেই।

সুতরাং এ পাঁচটি উপদেশ যথাযথভাবে স্মরণ রেখে আমাদেরকে পাপ কাজ ছেড়ে দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। উল্লেখিত আদেশ গুলো যথাযথ মনে রেখে সমস্ত পাপ ছেড়ে দেয়াই মুমিন মুসলমানের প্রধান কর্তব্য।



আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর জমিনে বিচরণ করে, তাঁর দেয়া রিজিক খেয়ে এবং তাঁরই দৃষ্টির মধ্যে থেকে গুনাহমুক্ত জীবন যাপনের জন্য আমাদের যেন তাওফিক দান করুন আমিন।