পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ও ভয়ঙ্কর প্রাণী

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ও ভয়ঙ্কর প্রাণী
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ও ভয়ঙ্কর প্রাণী


পৃথিবীতে সাত-সাতটি মহাদেশ রয়েছে। রয়েছে অতলান্ত সমুদ্র, মহাসাগর, রয়েছে অজানা অরণ্যের ইতিকথা। সেখানে কত জানা-অজানা জীবের বাস, কত কিছু, তার কতটুকুই বা আমরা জানি? আর হিংস্র প্রাণীর কথা বললেই আমাদের চোখের সামনে উঠে আসে বাঘ-সিংহ জাতীয় প্রাণীর কথা। কিন্তু সত্যিই কি তাই? বাঘ-সিংহের মতো প্রাণীরাই কি এই বিশ্বের হিংস্র প্রাণীদের তালিকায় শীর্ষে? বাস্তব কিন্তু তা বলছে না, বরং পৃথিবীর সবচেয়ে হিংস্র 10 প্রাণীর তালিকা দেখলে চমকে ও অবাক হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। পৃথিবীর সবচেয়ে 10 হিংস্র প্রাণীর তালিকা রইল, জানুন আর অবাক হোন।



10 - সাইফু পিঁপড়ে!
দেখতে যত ছোট হোক ক্ষমতা অনেক বড় এই প্রাণীর। কোন দিন ভেবেছেন পিঁপড়েও প্রাণঘাতী হতে পারে? না ভেবে থাকলে এবার ভাবুন। সাইফু পিঁপড়ে নামে এক ধরনের পিঁপড়ে রয়েছে, এদেরকে ড্রাইভার পিঁপড়েও বলা হয় থাকে। এরা কিন্তু একলা নয়, বরং সবসময়ই ঝাঁকে-ঝাঁকে চলাফেরা করে থাকে। আর প্রতিটি ঝাঁকে থাকে প্রায় ৫ কোটি পিঁপড়ে।

মূলত দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এদের খুঁজে পাওয়া যায়। আমাদের বাড়ির পিঁপড়েকে যেমন আমরা চিনি বা যে কোনও খাবার নিয়ে সারি দিয়ে চলে যেতে দেখি, এরা কিন্তু তা নয়। বরং এরা মারাত্মক হারে মাংসাশী। এমনকী কয়েক কোটি পিঁপড়ে মিলে যে কোন বড় প্রাণীকেও এরা সাবাড় করে ফেলে।



09 - কেপ বাফেলো সাক্ষাৎ যমদূত!
কেপ বাফেলো নামের যে বুনো মহিষ আফ্রিকার তৃণভূমিতে রাজত্ব করে, তারা কিন্তু সাক্ষাৎ যমদূত! এক-একটি কেপ বাফেলোর ওজন কয়েক টন পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের শক্তি এদের শরীরের ওজন এবং বদ মেজাজ। এদের কেউ উত্যক্ত করলেই তার আর রক্ষে নেই!মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক এক প্রাণী বলে এদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আফ্রিকান সিংহের কথা বলা হয় বটে, কিন্তু ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে এরা সিংহের অনেক আগে রয়েছে।



08 - ব্ল্যাক মামবা কামড়েই মুহূর্তে মৃত্যু!
সাপ দেখলে আমরা কে না ভয় পাই! কিন্তু সব সাপ যেমন বিষাক্ত নয়। পৃথিবীর দ্রুততম, মারাত্মক বিষধর সাপের ব্ল্যাক মামবা। এরা যতটা মারাত্মক হিংস্র, ততটাই ভীতু। এরা তখনই প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে বসে, যখন এরা মারাত্মক ভয় পায়। আফ্রিকার পুরানে এদের নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে। সেই কারণেই ব্ল্যাক মামবাকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সাপ মনে করা হয়।

দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকার পাহাড়ি অঞ্চলে ব্ল্যাক মামবার আসল বাস। এটা আফ্রিকার দীর্ঘতম সাপ, যা লম্বায় গড়ে ৮.২ ফুটেরও (২.৫ মিটার) বেশি হয়ে থাকে। এদের গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার। ব্ল্যাক মামবার একবার কামড়েই মুহূর্তে মৃত্যু হতে পারে একটি হাতির। পৃথিবীর ভয়ঙ্কর প্রাণীদের মধ্যে ব্ল্যাক মামবা রয়েছে তৃতীয় স্থানে।



07 - মার্বেল শামুক
সাধারণ শামুক কিন্তু বিষাক্ত নয়, কিন্তু যে শামুকগুলো কোণ সেগুলো ভয়ানক বিষাক্ত হয়ে থাকে। কোণ শামুক দেখতে কোণ আইসক্রিমের মতোই। কোণ শামুক মানেই বিষাক্ত, কিন্তু মার্বেল কোণ শামুক পৃথিবীর বিষাক্ত প্রাণীদের তালিকায় রয়েছে দু নম্বরে। এদের খোলসটা দেখলে মনে হয়, মার্বেল পাথর দিয়ে মোজাইক করা হয়েছে। তাই এই শামুকের এমন অদ্ভূত নাম দেওয়া হয়েছে। মূলত অস্ট্রেলিয়ার গরম লবণাক্ত সামুদ্রিক জলে এদের দেখা মেলে। দেখতে যতই সুন্দর হোক, প্রাণীটি কিন্তু মারাত্মক প্রাণঘাতী। তা সে যতই কালো হোক...মৃত্যু অনিবার্য



06 প্রাণঘাতী বক্স জেলিফিশ!
সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণী অন্য কেউ নয়, অস্ট্রেলিয়ান বক্স জেলিফিশ! কী এই বক্স জেলিফিশ? বক্স জেলিফিশ হল সেই প্রাণী, যা সম্ভবত জেলিফিশের সকল প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দেখতে। সামুদ্রিক এই প্রাণীটি প্রায় ১৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। সেই প্রাণীই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী হিসেবে পরিচিত। এক একটি জেলিফিশে যে পরিমান বিষ থাকে, তাতে ৬০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে।



05 - প্লেসিওসৌর Plesiosaur

জুরাসিক পার্কের দৌলতে ডাইনোসরের সঙ্গে কম বেশি আলাপ পরিচয় আছে সিনেপ্রেমীদের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং হিংস্র মাংসাশী প্রাণী ছিল এগুলো। যার মধ্যে অন্যতম ছিল টিরানোসরাস রেক্স। কিন্তু টিরানোসরাসদের থেকেও ভয়ঙ্কর প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল! তার নাম প্লিওসর।

সম্প্রতি ১৫ কোটি বছর পুরনো সেই প্লিওসরের জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশালাকার সেই জীবাশ্ম দেখে অবাক হয়ে গিয়েছেন তারা। এই নতুন অনুসন্ধানের কথা ‘প্রসেডিংস অব দ্য জিওলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’ নামক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই আবিস্কার গবেষণার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। পোল্যান্ডের সুইতোকার্জিকির কাছে একটি ভুট্টা খেতের মধ্যে প্লিওসরের এই জীবাশ্ম পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সে সময়ের একটি বিশালাকার সরীসৃপ প্রাণী ছিল প্লিওসররা। খোঁজ পাওয়া প্লিওসরটি প্রায় ৩৩ ফুট লম্বা। তবে সে সময়ে এর থেকে আরও অনেক বড় প্লিওসর ছিল বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এদের চোয়ালে দাঁতের বিন্যাস ছিল অনেকটা কুমিরের মতো। টিরানোসরাসের থেকেও পাঁচ গুণ বেশি শক্ত ছিল এদের চোয়াল। দাঁতও ছিল ভীষণ ধারালো। এরা যা পেত, তাই খেত। এরা এতটাই ক্ষমতাশালী ছিল যে, প্রয়োজনে টিরানোসরাসদেরও চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারত তারা! তবে বিশালাকার এই প্লিওসররা সমুদ্রে বাস করত। সাঁতারের সুবিধার জন্য তাদের পাগুলো ছিল মাছের পাখনার মতো।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের সমস্ত প্রাণী, এমনকি তিমিদেরও খেয়ে ফেলত তারা। প্লিওসরদের পেশি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, সমুদ্রের উপরে জলের কাছাকাছি উড়ে যাওয়া বড় আকারের পাখিদেরও এরাজল থেকে ঝাঁপিয়ে সহজেই ধরে ফেলতে পারত।

প্লিওসরের জীবাশ্মের মধ্যে আবার সে সময়কার বিশাল সামুদ্রিক কচ্ছপের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। সামুদ্রিক কচ্ছপের খোলকের উপর প্লিওসরের ধারালো দাঁতের চিহ্ন দেখা গেছে। খোঁজ পাওয়া প্লিওসরটি ওই সামুদ্রিক কচ্ছপকেও খেয়েছিল বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের। পোল্যান্ডে এই অঞ্চলটিতে প্রচুর জীবাশ্মের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর আগে সেখান থেকে ৮০ কোটি বছরের পুরনো এক বিশাল সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। 


04 - মোরেইঃ সাপ আকৃতির

শক্তিশালী দেহের অধিকারী এই প্রাণীটি লম্বায় ২ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর চোখ ছোট এবং চোয়াল বেশ চওড়া। সব ধরনের মাছ ও সমুদ্রের প্রাণী এর প্রধান খাদ্য । শিকার ধরার জন্য সে দিনরাত সমুদ্র পৃষ্ঠে অবস্থিত পাহাড়ের ফাটল ও গর্তের ভেতর ঘাপটি মেরে বসে থাকে এবং তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করা সব শিকারকে নিমিষেই গলধকরণ করে।

এই মাছের চোয়াল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দাঁতগুলো তীক্ষ্ণ ধারালো। তাছাড়া এদের দাঁত ব্যাক্টেরিয়ায় পরিপূর্ণ। এই কারণে শিকার কোনভাবে এর হাত থেকে রক্ষা পেলেও তীক্ষ্ণদাঁতের কামড়ে ক্ষতস্থানে পঁচনের সৃষ্টি হয় এবং ফলশ্রুতিতে তার মৃত্যু ঘটে। প্রকৃতপক্ষে এই মাছটি মানুষকে আক্রমন করে না কিন্তু যদি তাকে ভয় দেখানো হয় বা সে যদি আক্রান্ত বোধ করে তাহলে মানুষের উপর চড়াও হতে পিছুপা হয় না।



03 - স্টিংরে 

 স্টিংরেঃ ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বখ্যাত কুমির শিকারী স্টিভ ইরউইনকে হত্যা করার মধ্যদিয়ে সাগরের ভয়ঙ্কর প্রাণী হিসেবে এই প্রাণীটি আত্মপ্রকাশ করে। আবার অনেকেই এই প্রাণীটির ভয়ানক রূপ দেখে সমুদ্রের ত্রাস হাঙ্গরের খালাত ভাই বলেও একে আক্ষা দিয়ে থাকেন।

এই প্রাণীর লেজের প্রথম এক তৃতীয়াংশে শক্তিশালী ধারালো করাতের ন্যায় খাঁজকাটা বিষাক্ত হুল রয়েছে। যখনই এই প্রাণীটি হুমকির সম্মুক্ষিন হয় বা আক্রান্ত হয় তখনই এই হুলটি কঠিন হয়ে ধারালো ছুরির আকার ধারণ করে। এই বিষাক্ত ছুরির আঘাতের ফলে প্রচন্ড যন্ত্রণাসহ রোগীর স্বাসযন্ত্র ও হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগী মারা যায়।



02 - সী ক্রোকোডাইল

সী ক্রোকোডাইলঃ সমুদ্রপৃষ্ঠে যে সকল নিষ্ঠুর ও হিংস্র প্রাণী রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম নিষ্ঠুর লুন্ঠনকারী ও হিংস্রপ্রাণী হচ্ছে এই কুমির। লম্বায় ৬ মিটার এবং ১টন ওজনের এই প্রাণীর শিকার সদূরপ্রসারী। বানর, ক্যাঙ্গারু ,বুফালো এমনকি হাঙ্গর পর্যন্ত এদের শিকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। এদের যে তীক্ষ্ণ ধারালো দাঁত রয়েছে সেগুলো খাদ্য কাটা বা চিবানোর জন্য ব্যবহার করে না, মূলত শিকার ধরার জন্য এরা দাঁতগুলো ব্যবহার করে। শিকার বড় হলে তার দেহ নরম করার জন্য গভীর পানির নিচে নিয়ে যায়, আবার কোনো সময় চিবানো বাদে আস্ত শিকারকে গিলে ফেলে।



02.লায়নফিসঃ ১৩টি বিষাক্ত কাঁটা দিয়ে পরিবেষ্টিত এই মাছটির দেহ। এই কাঁটার আঘাতে ভিকটিমের দেহে প্রচন্ড বিষক্রিয়া ও জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হতে পারে, তবে জ্বালাযন্ত্রণার তীব্রতা শরীরের ভেতর প্রবেশ করা বিষের পরিমানের উপর নির্ভর করবে। অবশ্য এই মাছকে হুমকি প্রদর্শন করা না হলে এরা কখনই মানুষকে আক্রমন করে না। সাধারনত এই মাছের কাটার আঘাতে শরীরে যে সকল প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তার মধ্যে শরীরে দাহ, রক্তক্ষরণ, বমিবমিভাব, মাথাব্যথা, অবশতা, স্বাসকষ্ট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।