জাহান্নামের বর্ণনা

জাহান্নামের বর্ণনা

জাহান্নামের বর্ণনা
জাহান্নামের বর্ণনা


মানুষকে সফলতা ও চীরস্থায়ী জান্নাতে যাওয়ার পথ ও পবিত্র কুরআনুল কারীমে এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরীফে বিষদভাবে আলোচনা করেছেন। কোরআন ও হাদীসে জাহান্নামের যে ভয়াবহতা ও আযাবের কথা উল্লেখ রয়েছে, কোন মানুষের পক্ষে তা সহ্য করা সম্ভব নয় ।তাই প্রকৃত বুদ্ধমান মানুষ কখনোই নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে না।



আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন এবং মানুষকে সফলতা ও চীরস্থায়ী জান্নাতে যাওয়ার পথ ও পবিত্র কুরআনুল কারীমে এবং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরীফে বিষদভাবে আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেনঃ

أنا هديناه السبيل اما شاكرا و اما كفورا

অর্থঃ আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।
(আল কুরআন ;আদ দাহ্‌র /৭৬:৩)

যে সকল মানুষ আল্লাহ তায়ালার এ সকল বানী শোনার পরও সতর্ক হবে না এবং নিজের জীবনের আত্মসংশোধন করবে না বরং গোনাহ ও আল্লাহর নামারমানিতে নিজের জীবন ব্যয় করবে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম। বস্তুত কোন বুদ্ধিমান মানুষ যদি জাহান্নামের অবস্থা সম্পর্কে জানে এবং একটু তার ভয়াবহতা ও আযাবের কথা চিন্তা করে তাহলে সে গোনাহের কাজ করতে সাহস পাবে না।

কেননা কোরআন ও হাদীসে জাহান্নামের যে ভয়াবহতা ও আযাবের কথা উল্লেখ রয়েছে, কোন মানুষের পক্ষে তা সহ্য করা সম্ভব নয়। তাই প্রকৃত বুদ্ধমান মানুষ কখনোই নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন, আমীন।

কোরআন ও হাদীসে জাহান্নামের যে পরিচয় ও চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, নিম্নে আমরা তার কিছু অংশ উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ্।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ

َ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يُؤْتَى بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لَهَا سَبْعُونَ أَلْفَ زِمَامٍ مَعَ كُلِّ زِمَامٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ يَجُرُّونَهَا ‏”‏ ‏.‏ ‏

আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যেদিন জাহান্নামকে উপস্থিত করা হবে সেদিন এর সত্তর হাজার লাগাম থাকবে। প্রতিটি লাগামের জন্য নিয়োজিত থাকবে সত্তর হাজার ফেরেশতা। তারা এগুলো ধরে এটাকে টানতে থাকবে।
(সহীহ মুসলিম ৮/১৪৯, জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৫৭৩)

، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يَخْرُجُ عُنُقٌ مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ تُبْصِرَانِ وَأُذُنَانِ تَسْمَعَانِ وَلِسَانٌ يَنْطِقُ يَقُولُ إِنِّي وُكِّلْتُ بِثَلاَثَةٍ بِكُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ وَبِكُلِّ مَنْ دَعَا مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَبِالْمُصَوِّرِينَ ‏”‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ ‏.‏‏

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাত দিবসে জাহান্নাম হতে একটি গর্দান (মাথা) বের হবে। এর দুটি চোঁখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখবে, দুটি কান থাকবে যা দিয়ে সে শুনবে এবং একটি জিহবা থাকবে যা দিয়ে সে কথা বলবে।

সে বলবে, তিন ধরনের লোকের জন্য আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছেঃ (১) প্রতিটি অবাধ্য অহংকারী যালিমের জন্য, (২) আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য কোন কিছুকে যে ব্যক্তি ইলাহ বলে ডাকে তার জন্য এবং (৩) ছবি নির্মাতাদের জন্য।
(সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ২৫৭৪)

জাহান্নামের গভীরতার বর্ণনা
عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِنَّ الصَّخْرَةَ الْعَظِيمَةَ لَتُلْقَى مِنْ شَفِيرِ جَهَنَّمَ فَتَهْوِي فِيهَا سَبْعِينَ عَامًا وَمَا تُفْضِي إِلَى قَرَارِهَا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ عُمَرُ يَقُولُ أَكْثِرُوا ذِكْرَ النَّارِ فَإِنَّ حَرَّهَا شَدِيدٌ وَإِنَّ قَعْرَهَا بَعِيدٌ وَإِنَّ مَقَامِعَهَا حَدِيدٌ ‏.‏

হাসান বাসরী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:‘উত্‌বাহ ইবনু গাযওয়ান (রাঃ) আমাদের এই বসরার মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জাহান্নামের এক প্রান্ত হতে বড় একটি পাথরকে গড়িয়ে ছেড়ে দেয়া হলে এটা সত্তর বছর পর্যন্ত গড়াতেই থাকবে তবু স্থির হবার জায়গায় আসতে পারবে না।
(সহীহ মুসলিম হাদীস নং ১৬১২)

নোটঃ
বর্ণনাকারী বলেন, ‘ হযরত ওমর‌(রাঃ) বলতেন, তোমরা বেশি বেশি জাহান্নামের কথা স্মরণ কর। কেননা এটার গরম তীব্র, এর গহ্বর অনেক গভীর এবং এর ডাণ্ডাগুলো লোহা দ্বারা নির্মিত।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৭৫)

عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لَوْ أَنَّ رُصَاصَةً مِثْلَ هَذِهِ وَأَشَارَ إِلَى مِثْلِ الْجُمْجُمَةِ أُرْسِلَتْ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ وَهِيَ مَسِيرَةُ خَمْسِمِائَةِ سَنَةٍ لَبَلَغَتِ الأَرْضَ قَبْلَ اللَّيْلِ وَلَوْ أَنَّهَا أُرْسِلَتْ مِنْ رَأْسِ السِّلْسِلَةِ لَصَارَتْ أَرْبَعِينَ خَرِيفًا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ قَبْلَ أَنْ تَبْلُغَ أَصْلَهَا أَوْ قَعْرَهَا ‏”‏ ‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُهُ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏‏

ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথার খুলীর দিকে ইশারা করে বলেছেনঃ এটার মতই একটি সীসা যদি আকাশ হতে যমিনের দিকে ছেড়ে দেয়া হয় তবে রাত হওয়ার পূর্বেই তা পৃথিবীতে পৌঁছে যাবে। অথচ এত দু’য়ের মাঝখানে পাঁচ শত বছরের পথের ব্যবধান রয়েছে।

আর জাহান্নামের জিঞ্জীরের অগ্রভাগ হতে সীসাটি নীচের দিকে নিক্ষেপ করা হলে তা চল্লিশ বছর ধরে রাত-দিন চলতে থাকবে, গর্তের শেষ সীমায় পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৮৮. মিশকাত ৫৬৮৮, তা’লীকুর রাগীব ৪/২৩২)

জাহান্নামীদের শারিরিক আকৃতি;
، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِنَّ غِلَظَ جِلْدِ الْكَافِرِ اثْنَانِ وَأَرْبَعُونَ ذِرَاعًا وَإِنَّ ضِرْسَهُ مِثْلُ أُحُدٍ وَإِنَّ مَجْلِسَهُ مِنْ جَهَنَّمَ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَن صحيح‏

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জাহান্নামে কাফির ব্যক্তির গাধ্যয়ের চামড়া হবে বিয়াল্লিশ গজ মোটা, তার মাড়ির দাঁত হবে উহ

ূদের সমান বড় এবং মক্কা-মদীনার দূরত্বের সমান বিস্তৃত হবে তার বসার জায়গা (নিতম্বদেশ)।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৮৯, সিলসিলাতুল আহাদিসুস সহীহাহ্‌ ১১০৫)

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ الصَّعُودُ جَبَلٌ مِنْ نَارٍ يُتَصَعَّدُ فِيهِ الْكَافِرُ سَبْعِينَ خَرِيفًا وَيَهْوِي فِيهِ كَذَلِكَ مِنْهُ أَبَدًا ‏‏

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জাহান্নামের মধ্যে ‘সাঊদ’ নামে আগুনের একটি পাহাড় আছে। কাফিরগণ সত্তর বছরে এর উপর উঠবে এবং সত্তর বছরে গড়িয়ে পড়বে। তারা তাতে অনন্তকাল ধরে উঠবে ও নামবে।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৭৬)

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জাহান্নামে কাফিরদের দু‘ কাঁধের মাঝখানে দ্রুতগামী আরোহী ব্যক্তির তিন দিনের দূরত্বের পথ হবে।
(ই.ফা. ৬৯২৩, ই.সে. ৬৯৮০, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭০৭৮)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ ضِرْسُ الْكَافِرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِثْلُ أُحُدٍ وَفَخِذُهُ مِثْلُ الْبَيْضَاءِ وَمَقْعَدُهُ مِنَ النَّارِ مَسِيرَةَ ثَلاَثٍ مِثْلُ الرَّبَذَةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ ‏”‏ وَمِثْلُ الرَّبَذَةِ ‏”‏ كَمَا بَيْنَ الْمَدِينَةِ وَالرَّبَذَةِ ‏.‏ وَالْبَيْضَاءُ جَبَلٌ مِثْلُ أُحُدٍ ‏.‏

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ক্বিয়ামাত দিবসে কাফির ব্যক্তির মাড়ির দাঁত হবে উহূদ পাহাড়সম বড়, তার ঊরু হবে ‘বাইযা’ পাহাড়সম বিশাল এবং তার নিতম্বদেশ হবে রাবাযার মতো তিনদিন চলার পথের দূরত্বের সমান বিস্তৃত।
(সুনানে তিরমিযি ২৫৭৭)

، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّ الْكَافِرَ لَيُسْحَبُ لِسَانُهُ الْفَرْسَخَ وَالْفَرْسَخَيْنِ يَتَوَطَّؤُهُ النَّاسٍ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (কিয়ামাতের দিন) কাফির ব্যক্তি তার জিহ্বা এক-দুই ফারসাখ পরিমান জায়গা জুড়ে বিছিয়ে রাখবে। লোকেরা তা পদদলিত করবে।
(সুনানে তিরমিযি হাদিস নং ২৫৮০)

নোটঃ
মাসালুর রাবাযা’ অর্থ মাদীনা ও রাবাযা নামক স্থানের মাঝাখানের দূরত্বের সমান। আর ‘বাইযা’ একটি পাহাড়ের নাম যা উহূদ পাহাড়ের সমতুল্য।
(সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ২৫৭৮)

জাহান্নামীদের পানীয় এর বিবরণ;
জাহান্নামিরা পিপাসার্ত হয়ে পরিচিত জান্নাতিদের কাছে পানি প্রার্থনা করে । তাদের ঐ কথোপকথন পবিত্র কুরআনুল কারীমে এভাবে ইরশাদ করেছেন।

وَنَادَىٰ أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ ۚ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ

জাহান্নামবাসীরা জান্নাতিদের ডেকে বলবে; আমাদের কে কিছু পানি দাও অথবা আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে যে নেয়ামত দান করেছেন তার কিছু দাও,তখন জান্নাতবাসী বলবে; আল্লাহ তায়ালা এই উভয় বস্তু কাফেরদের জন্যে হারাম করে দিয়েছেন।
(সুরা আরাফ ৫০)

অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন;

.تصلى نارا حامية. تسقى من عين انية. ليس لهم طعام الا من ضريع
.لا يسمن ولا يغني من جوع

তারা জলন্ত আগুনে পতিত হবে। তাদেরকে ফুটন্ত নহর থেকে পান করানো হবে। যরি ব্যতীত তাদের জন্যে অন্য কোন খাবারের ব্যবস্থা নেই। আর (যরি) তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং ক্ষুধা নিবারণে কোন উপকার ও করবে না।
(সূরা গাশিয়াহ ৪-৭)