সাহাবিদের কিছু অলৌকিক ঘটনা

সাহাবিদের কিছু অলৌকিক ঘটনা

সাহাবিদের কিছু অলৌকিক ঘটনা


নবী-রাসুল ছাড়াও বহু সৎকর্মশীল ব্যক্তির মাধ্যমেও অলৌকিক ঘটনা প্রকাশিত হয়। ইসলামের পরিভাষায় এটাকে কারামত বলা হয়। যেমন—মারিয়াম (আ.)-এর ঘটনা ও আসহাবে কাহফের ঘটনা পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। এখানে মহানবী (সা.)-এর কয়েকজন সম্মানিত সাহাবির কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা তথা কারামত তুলে ধরা হলো—



লাঠি থেকে আলোর বিচ্ছুরণ : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তাঁর কাছে এক অন্ধকার রাতে উসাইদ বিন হুজাইর (রা.) ও আব্বাদ বিন বিশর (রা.) অবস্থান করেন।


এরপর রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে তাঁরা বেরিয়ে যান। তখন তাঁদের একজনের লাঠি থেকে আলোর বিচ্ছুরণ শুরু হয়। উভয়ে সেই আলোতে চলতে থাকেন। যখন পথ ভিন্ন হয়ে পড়ে, তখন উভয়ে নিজের লাঠির আলোতে চলতে থাকেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮০৫)



কোরআন শুনতে ফেরেশতাদের ভিড় : উসাইদ বিন হুজাইর (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক রাতে তিনি কোরআনের সুরা বাকারা তিলাওয়াত করছিলেন। পাশেই তাঁর ঘোড়া বাঁধা। হঠাৎ ঘোড়াটি লাফিয়ে ওঠে।


তিনি চুপ করলে ঘোড়াও স্থির হয়। তিনি আবার পড়া শুরু করলে ঘোড়াও লাফিয়ে ওঠে। আবার চুপ হলে ঘোড়াও স্থির হয়। তিনি আবার পড়া শুরু করলে ঘোড়াও লাফিয়ে ওঠে। আবার চুপ হলে ঘোড়াও স্থির হয়। এবার তিনি থামলেন।


তাঁর ছেলে ইয়াহইয়া ঘোড়ার পাশে ছিল। ছেলের ক্ষতির আশঙ্কা করে তাকে দূরে সরিয়ে নেন। অতঃপর আকাশের দিকে মাথা তুলে কিছু একটা দেখেন। সকালে মহানবী (সা.)-এর কাছে তিনি পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। ঘটনা শুনে নবী করিম (সা.) বলেন, হে ইবনে হুজাইর! তুমি পড়তে থাকতে, হে ইবনে হুজাইর! তুমি পড়তে থাকতে।


তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমার ভয় হচ্ছিল, ঘোড়া আমার ছেলে ইয়াহইয়াকে পদদলিত করবে। কেননা সে ঘোড়ার কাছেই ছিল। তাই ছেলের কাছে যাই। এরপর আমি মাথা ওপরে তুলে আকাশে একটা কিছুর ছায়া দেখতে পাই। তাতে অনেক বাতি ছিল। এরপর আমি বের হলে আর কোনো কিছু দেখিনি।


রাসুল (সা.) বলেন, তুমি জানো এসব কী ছিল? তিনি বলেন, না। রাসুল (সা.) বলেন, তারা ফেরেশতা ছিল। তোমার আওয়াজ শুনে কাছে এসেছে। তুমি পড়তে থাকলে মানুষও তাদের দেখতে পেত। তারা মানুষের আড়ালে থাকত না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০১৮)


অমৌসুমি ফল দিয়ে বন্দি সাহাবির আহার : খুবাইব বিন আদি (রা.)-কে কুরাইশরা বন্দি করে। খুবাইব (রা.) বদর যুদ্ধে হারিস বিন আমির (রা.)-কে হত্যা করেছিলেন। বন্দি অবস্থায় বেশ কিছুদিন তাদের কাছে কাটান। হারিসের মেয়ে বলেছেন,


‘আল্লাহর শপথ, আমি খুবাইবের চেয়ে উত্তম কোনো বন্দিকে কখনো দেখিনি। আল্লহর শপথ, একদিন আমি তাঁকে আঙুরের থোকা থেকে আঙুর খেতে দেখিছি। অথচ তখন তাঁকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া মক্কায় কোনো ফলফলাদিও নেই। নিশ্চয়ই এ ফল আল্লাহর পক্ষ থেকে ছিল। খুবাইবের রিজিক হিসেবে তা পাঠিয়েছেন। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩০৪৫)


সাহাবির অভিশাপ বাস্তবায়ন : হিশাম বিন উরওয়াহ তাঁর বাবা থেকে বর্ণনা করেছেন, আরওয়া বিনতে উওয়াইস (রা.) অভিযোগ করেন যে সাইদ বিন জায়েদ (রা.) তাঁর কিছু জমি নিয়েছেন। তিনি মারওয়ান বিন হাকাম (রহ.)-এর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাইদ বলেন,


আপনি কি মনে করেন যে আমি রাসুল (সা.)-এর কথা শোনার পরও তাঁর জমির অংশ নেব? মারওয়ান জিজ্ঞেস করেন, আপনি রাসুল (সা.) থেকে কী শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে শুনেছি, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে জমির এক টুকরা নেবে, তাকে সাত স্তর পর্যন্ত জমির বেড়ি পরানো হবে।


মারওয়ান বলেন, এরপর আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করব না। সাইদ (রা.) বলেন, হে আল্লাহ! ওই নারী মিথ্যুক হলে আপনি তাকে অন্ধ করুন এবং নিজের ভূমিতে হত্যা করুন। এরপর ওই নারী দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। অতঃপর ওই নারী নিজের জমিতে হাঁটতে গিয়ে একটি গর্তে পড়ে মারা যায়। (সহিহ মুসলিম,


হাদিস : ১৬১০) মিথ্যা অভিযোগে বৃদ্ধের শাস্তি : জাবির বিন সামুরা (রা.) বর্ণনা করেন, ওমর (রা.)-এর শাসনামলে কুফার কিছু লোক সাদ (রা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে যে সাদ জিহাদে অংশ নেয় না, সমানভাবে বণ্টন করে না, ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার করে না। এ কথা শুনে সাদ (রা.)


বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি তিনটি দোয়া করছি। হে আল্লাহ, আপনার এই বান্দা লৌকিকতা ও অহংকারবশত মিথ্যা কথা বললে আপনি তার জীবন দীর্ঘ করুন, তার অভাব দীর্ঘ করুন এবং তাকে বিভিন্ন পরীক্ষায় নিপতিত করুন। ওই লোককে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলত, পরীক্ষায় নিপতিত অশীতিপর বৃদ্ধ।


সাদ আমাকে অভিশাপ দিয়েছে। আবদুল মালিক বর্ণনা করেন, পরে আমি ওই লোককে দেখেছি যে বার্ধক্যে তার ভ্রু চোখের ওপর নুয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সে রাস্তায় তরুণীদের চোখের ইশারায় চিমটি কাটত। (সহিহ বুখারি,হাদিস : ৭৫৫)