ফজরের নামাজ বা সালাত । কিভাবে আদায় করবেন ।

ফজরের নামাজ / সালাত কিভাবে আদায় করবেন..

ফজরের নামাজ  বা সালাত । কিভাবে আদায় করবেন ।
ফজরের নামাজ / সালাত কিভাবে আদায় করবেন..

নামাজ বা সালাত, কিভাবে আদায় করতে হয়। আমরা অনেকেই জানিনা, এই ভিডিওতে জানব। সহি শুদ্ধ ভাবে, নামাজ কিভাবে আদায় করতে হয়। আপনি কিভাবে 5 ওয়াক্ত নামাজ বা সালাত আদায় করবেন। সহি শুদ্ধভাবে ।কি সূরা বা দোয়া আপনাকে জানতে হবে। কিভাবে রুকু সেজদা ,সহিহ শুদ্ধ ভাবে দিতে হয়। অনেকেই জানিনা। আশা করি, আপনি কিংবা আপনার বন্ধু,আপনার পরিবার। এই ভিডিওর মাধ্যমে জানতে পারবেন সহি শুদ্ধভাবে নামাজ বা সালাত আদায় করার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম। 

ফজরের নামাজের গুরুত্বপূর্ণ,কিছু মাসআলা মাসায়েল। ফজরের নামাজ বা সালাত, বাসায় বা ঘরে আদায় করা সর্বোত্তম। ফজরের নামাজ বা সালাত, কয় রাকাত এবং কিভাবে আদায় করবেন। দুই রাকাত সুন্নত শেষে। দুই রাকাত ফরজ আদায় করুন । ফরজ নামাজ জামাতের সহিত আদায় করা সর্বোত্তম। উল্লেখযোগ্য,একাকীত্ব আদায় করার প্রয়োজন হলে। এই নিয়মাবলী অনুসরণ করে। ফজরের নামাজ বা সালাত আদায় করুন।

আমরা দুই রাকাত, সুন্নত আদায় করব ।

প্রথমে দুই রাকাত সুন্নত, আদায় করার নিয়তে দাঁড়িয়ে যান..অতঃপর পায়ের গোড়ালি এক বিঘাতের নেয়, ফাঁকা রেখে সমান করে দাঁড়িয়ে পড়ুন..

নামাজের নিয়ত করে (আল্লাহু আকবার বলে) উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠান। মনে রাখবেন, হাত কান পর্যন্ত উঠানোর সময়, হাতের তালু এবং আঙুলগুলো,কেবলা মুখী করে রাখুন।

তাকবীরে তাহারিমা বলার পর বাঁ-হাতের ওপর ডান-হাত রেখে নাভির নিচে রাখুন। বা বুকের উপরে রাখুন । এরপরে সানা পড়ুন । (সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।)

এরপর  (আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম ,বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) । 

এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧) 

সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন।  হানাফি মাজহাব মতে আমিন আস্তে পড়া উত্তম। তবে জোরে আমিন বলার ব্যাপারে ইমামদের মতামত পাওয়া যায়। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত।

তারপর যে কোন একটি সূরা পড়ুন। অথবা যে কোন সূরা থেকে তিন আয়াত সমতুল্য। কেরাত পাঠ করুন।  এই পরিমাণ তিলাওয়াত নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যক। তবে নামাজে কোরআন তিলাওয়াতের সুন্নত পরিমাণের বিবরণও ফিকহের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ١ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ٢ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ٣ وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّـٰثَـٰتِ فِى ٱلْعُقَدِ ٤ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ٥)

অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৯)

রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। উল্লেখযোগ্য , মাথা ও চোখের নজর, সেজদার স্থান বরাবর রাখুন। পিঠকে সোজাভাবে লম্বা করে রাখুন। রুকুতে কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’  পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)

এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পাঠ করুন। ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলুন। (  হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)

এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)  সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর উভয় হাতের মাঝে কপাল মাটিতে রাখুন। নিজের পেটকে রান থেকে এবং বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক করে রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুলকে কিবলামুখী করে রাখুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮৫) সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)

এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম আল্লাহু আকবার বলে, মাথা উঠিয়ে উভয় হাতকে রানের ওপর রেখে স্থিরতার সঙ্গে বসে পড়ুন। ( পাঠ করুন, উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি।) 

 এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)

 সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’পড়ুন। অতঃপর মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে এবং না বসে সরাসরি তাকবির আল্লাহু আকবার বলে ,দাঁড়িয়ে যান।  (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)

এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧)  

সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন।  অতঃপর অন্য একটি সূরা পাঠ করুন।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤)

অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৯)

রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। উল্লেখযোগ্য , মাথা ও চোখের নজর, সেজদার স্থান বরাবর রাখুন। পিঠকে সোজাভাবে লম্বা করে রাখুন।

এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান।  ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । (  হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) 

 এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)  সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর উভয় হাতের মাঝে কপাল মাটিতে রাখুন। নিজের পেটকে রান থেকে এবং বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক করে রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুলকে কিবলামুখী করে রাখুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮৫) সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)

এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, মাথা উঠিয়ে উভয় হাতকে রানের ওপর রেখে স্থিরতার সঙ্গে বসে পড়ুন। ( পাঠ করুন,  আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি।

এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন । ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’, অতঃপর  তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে,  মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে  বসে পড়ুন ।

এরপর বসুন । এবারে তাশাহুদ পাঠ করুন, ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা, আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ। ’

তাশাহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন।

তবে তাশাহুদের বাক্য ও আঙুল দিয়ে ইশারা করার বিষয়ে অন্য নিয়মেরও হাদিস পাওয়া যায়। তাই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি কাম্য নয়।

এরপরে দুরুদে ইব্রাহিম পাঠ করুন >

‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ  ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম। ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদ, ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম, ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। ’

এরপর দোয়ায়ে মাসুরা পাঠ করুন >

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম-মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম। ’

এরপর ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতে বলতে ডানে এবং বাঁয়ে মাথা ফেরাবেন। উল্লেখযোগ্য, সালাম ফেরানোর সময়, আপনার পাশের নামাজি ব্যক্তি এবং ফেরেশতাদের কথা স্মরণ করবেন।

আদায় করা হলো, সহি শুদ্ধভাবে,দুই রাকাত সুন্নত আদায় করা ।

দুই রাকাত ফজরের ফরজ নামাজ >

প্রথমে দুই রাকাত ফরজ নামাজ, আদায় করার নিয়তে দাঁড়িয়ে যান..অতঃপর পায়ের গোড়ালি এক বিঘাতের নেয়, ফাঁকা রেখে সমান করে দাঁড়িয়ে পড়ুন। নামাজের নিয়ত করে (আল্লাহু আকবার বলে) উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠান। উল্লেখযোগ্য , হাত কান পর্যন্ত উঠানোর সময়, হাতের তালু এবং আঙুলগুলো,কেবলা মুখী করে রাখুন।

তাকবীরে তাহারিমা বলার পর বাঁ-হাতের ওপর ডান-হাত রেখে নাভির নিচে রাখুন। বা বুকের উপরে রাখুন । এরপরে সানা পড়ুন । (সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।)

এরপর  (আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম ,বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) । 

এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧) 

সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন।  হানাফি মাজহাব মতে আমিন আস্তে পড়া উত্তম। তবে জোরে আমিন বলার ব্যাপারে ইমামদের মতামত পাওয়া যায়। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত।

তারপর যে কোন একটি সূরা পড়ুন। অথবা যে কোন সূরা থেকে তিন আয়াত সমতুল্য। কেরাত পাঠ করুন।  এই পরিমাণ তিলাওয়াত নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যক। তবে নামাজে কোরআন তিলাওয়াতের সুন্নত পরিমাণের বিবরণও ফিকহের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

আলাম তারা কাইফা ফাআ'লা রাব্বুকা বি আছহাবিল্ফীল। আলাম ইয়াজ্বআ'ল কাইদাহুম ফীতাদ্বলিলিওঁ ওয়া আরসালা আ'লাইহিম ত্বাইরান আবাবীল।তারমীহিম বিহিজ্বারাতিম মিনছিজ্জীলিন,ফাজ্বাআ'লাহুম কাআছফিম মা'কুল।

অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৯)

রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। উল্লেখযোগ্য , মাথা ও চোখের নজর, সেজদার স্থান বরাবর রাখুন। পিঠকে সোজাভাবে লম্বা করে রাখুন। রুকুতে কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’  পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)

এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পাঠ করুন। ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ বলুন। (  হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)

এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)  সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর উভয় হাতের মাঝে কপাল মাটিতে রাখুন। নিজের পেটকে রান থেকে এবং বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক করে রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুলকে কিবলামুখী করে রাখুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮৫) সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)

এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম আল্লাহু আকবার বলে, মাথা উঠিয়ে উভয় হাতকে রানের ওপর রেখে স্থিরতার সঙ্গে বসে পড়ুন। ( পাঠ করুন, উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি।) 

 এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)

 সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’পড়ুন। অতঃপর মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে এবং না বসে সরাসরি তাকবির আল্লাহু আকবার বলে ,দাঁড়িয়ে যান।  (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)

এবার সুরায়ে ফাতিহা পড়ুন >

(بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ١ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ ٢ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ ٣ مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ ٤ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ٥ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧)  

সুরা ফাতিহা শেষ হলে, আমিন বলুন।  অতঃপর অন্য একটি সূরা পাঠ করুন।

উদাহরণস্বরূপ তেলাওয়াত

(قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ٣ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌۢ ٤)

অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭২৯)

রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। উল্লেখযোগ্য , মাথা ও চোখের নজর, সেজদার স্থান বরাবর রাখুন। পিঠকে সোজাভাবে লম্বা করে রাখুন।

এবার রুকু থেকে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে মাথা ওঠান।  ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ । (  হামদান কাসিরান তাইয়িবান মুবারাকান ফিহ ) 

 এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪৭)  সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর উভয় হাতের মাঝে কপাল মাটিতে রাখুন। নিজের পেটকে রান থেকে এবং বাহুকে পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক করে রাখুন। হাত ও পায়ের আঙুলকে কিবলামুখী করে রাখুন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮৫) সিজদায় কমপক্ষে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পাঠ করুন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪২)

এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, মাথা উঠিয়ে উভয় হাতকে রানের ওপর রেখে স্থিরতার সঙ্গে বসে পড়ুন। ( পাঠ করুন,  আল্লাহুম্মাগ ফিরলি, ওয়ার হামনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াহদিনি, ওয়ারজুকনি।

এরপর তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে, দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায়ও কমপক্ষে তিনবার তাসবিহ পড়ুন । ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’, অতঃপর  তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলে,  মাটিতে হাত দ্বারা ঠেক না দিয়ে  বসে পড়ুন ।

এরপর বসুন । এবারে তাশাহুদ পাঠ করুন, ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তায়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা, আইয়্যুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ। ’

তাশাহুদ পড়ার সময় ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা’ পড়ার সময় শাহাদাত আঙুল উঁচু করে ইশারা করবেন। আর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙুল নামিয়ে ফেলবেন।

তবে তাশাহুদের বাক্য ও আঙুল দিয়ে ইশারা করার বিষয়ে অন্য নিয়মেরও হাদিস পাওয়া যায়। তাই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি কাম্য নয়।

এরপরে দুরুদে ইব্রাহিম পাঠ করুন >

‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ  ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম। ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মদ, ওয়ালা আলি মুহাম্মদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম, ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। ’

এরপর দোয়ায়ে মাসুরা পাঠ করুন >

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফিরলি মাগফিরাতাম-মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম। ’

এরপর ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলতে বলতে ডানে এবং বাঁয়ে মাথা ফেরাবেন। উল্লেখযোগ্য, সালাম ফেরানোর সময়, আপনার পাশের নামাজি ব্যক্তি এবং ফেরেশতাদের কথা স্মরণ করবেন।

আদায় করা হলো, সহি শুদ্ধভাবে,দুই রাকাত ফরজ  নামাজ । এরই সাথে শেষ হলো ফজরের নামাজ।  

ফজরের সুন্নত নামাজের গুরুত্ব >

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত— সুন্নত নামাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এর প্রভূত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যা অন্য সুন্নতের ক্ষেত্রে হয়নি। এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭২৫)

ফজরের ফরজ নামাজের গুরুত্ব >

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ফজরের নামাজ ও এশার নামাজ । এ দুই নামাজ  মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন। তোমরা যদি জানতে যে এই দুই নামাজে কী পরিমাণ সওয়াব নিহিত রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এ নামাজ আদায় করতে । ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৫৪)